ওজন কমাতে দৌড়ানো। কিভাবে ১ মাসে কমাবেন ৫ কেজি ওজন? 

ওজন কমাতে দৌড়ানো। কিভাবে ১ মাসে কমাবেন ৫ কেজি ওজন? 

running

নিয়ন্ত্রিত ওজন রোগমুক্ত ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা দেয়ার পাশাপাশি আমাদেরকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। নিজেকে স্লিম রাখতে আমরা ব্যস্ত জীবনেও কিছুটা সময় বের করে টুকটাক ডায়েটিং, হাঁটাহাঁটি, একটু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে থাকি। কিন্তু হুট করে সামনে একটা ওকেশন এসে পড়লো,  এখন চিন্তা কম সময়ে কিভাবে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে স্লিম হবো! এই শুরু হল নেটে সার্চ দেয়া “কিভাবে কম সময়ে ওজন কমাতে পারি?” অনেকসময় ভুলভাল ডায়েট প্ল্যান, অতিরিক্ত ওয়ার্ক আউট, বাজারের তথাকথিত হারবাল-টি এগুলো আমাদের শরীরের যথেষ্ট ক্ষতি করে ফেলে। ফিট তো থাকতেই হবে কিন্তু শরীরকে অত্যাচার করে নয়। আবার এটাও মনে রাখবেন ওজন কমানোর কোনো শর্টকাট ওয়ে নেই। কিন্তু ওজন কমাতে দৌড়ানো খুবই কার্যকরী একটা উপায়। দৌড়ানোর মাধ্যমে কিভাবে ১ মাসে কেজি ওজন কমাতে পারেন, সেই পরামর্শই থাকছে আজকের আয়োজনে। চলুন তাহলে জেনে নেই।   

ওজন কমাতে দৌড়ানো

দৌড়ানোর মাধ্যমে কিভাবে দ্রুত ওজন কমে?

দৌড় হল এমন এক ধরণের ব্যায়াম যার মাধ্যমে প্রতি মিনিটে অনেক পরিমাণে ক্যালোরি ঝরে যায়, ফলে বাড়তি মেদ কমিয়ে ফেলার জন্য বেশীদিন অপেক্ষা করতে হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেঁটে সমপরিমাণ শক্তি ব্যয় করেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ততটা হয় না, যতটা হয় দৌড়ালে। দ্রুত দৌড়ালে আমাদের পেশী ক্লান্ত হয়ে যায় এবং সেটা পুনরুজ্জীবিত হতে শক্তি লাগে। আর এই কারণে শরীরের এক্সট্রা ক্যালোরি খরচ হয়ে যায়। যেকোনো এক্সারসাইজের থেকে দৌড়ানোর মাধ্যমে শরীরের মেটাবলিজম দ্রুত উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দৌড়ানোর পর রক্তে পেপটাইড ওয়াইওয়াই (peptide YY) নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটা ক্ষুধা কমাতে ভুমিকা রাখে। খাওয়ার রুচি কমে গেলে ওজন কমাতে বেশ সুবিধা হয়। তাই এক মাসে অন্তত ৫ কেজি ওয়েট কমাতে হলে ঝটপট বেশি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলতে হবে আর সঠিকভাবে দৌড়ানোই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান। ওজন কমাতে দৌড়ানো খুবই কার্যকরী একটা উপায়।

দৌড়ায় ওজন কমানোর উপায় 

জানেন তো, আপনি যত দ্রুতগতিতে হাঁটবেন প্রতি মিনিটে আপনার তত বেশি ক্যালোরি ঝরে যায়। আর হাঁটা বাদ দিয়ে পুরোপুরি দৌড়াতে শুরু করলে ক্যালোরি পোড়ানোর হার আরও বাড়তে থাকে। চেষ্টা, আগ্রহ, অধ্যাবসায় এগুলোর সমন্বয় হলেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। এক মাসেই ৫ কেজি ওজন কমাতে অবশ্যই সঠিক নিয়মে দৌড়াতে হবে, চলুন এক নজরে সেগুলো দেখে নেয়া যাক।

১) সাবলীলভাবে হাঁটা দিয়ে শুরু করুন

প্রথমেই যদি দৌড়াতে যান তাহলে খুব দ্রুত আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন এবং সেই সাথে স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে, যেমন জয়েন্ট পেইন, বুকে ব্যথা, পায়ের পেশীতে টান লাগা ইত্যাদি। প্রথমদিকে সাবলীলভাবে হেঁটে আপনার শরীরকে প্রস্তুত করুন। আস্তে আস্তে হাঁটার স্পীড ও সময় বাড়াতে হবে। দৌড়ানোর জন্য সকাল বা বিকেলের একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন। আরামদায়ক পোশাক ও উপযুক্ত জুতা নির্বাচন করুন।

২) ওয়ার্ম-আপ করে শরীরকে প্রস্তুত করে ফেলুন  

শরীরচর্চার আগে অবশ্যই ওয়ার্ম-আপ করে নিন কেননা এটা হার্টবিট বাড়িয়ে আপনার শরীরকে দৌড়ানো এবং এক্সারসাইজের জন্য প্রস্তুত করে। নেক রোটেশন (Neck rotation), জায়গায় দাঁড়িয়ে লাফানো, আর্ম সার্কুলেশন (Arm Circulation) এগুলোর মাধ্যমে ওয়ার্ম-আপ করে নিতে পারবেন।

৩) স্ট্রেচিং শুরু করুন 

ঘাড়, হাত এবং পা ভালোভাবে স্ট্রেচ করতে হবে। এতে করে শারীরিক জড়তা কেটে যাবে, পাশাপাশি আপনার পেশী সুগঠিত হবে। যদি ইয়োগা মুদ্রাগুলো জানা থাকে, তাহলে সেগুলো শুরু করুন। সাইড স্ট্রেচিং (Side Stretching), ফরওয়ার্ড ব্লেন্ড (Forward Blend) এগুলোও করতে হবে।

৪) দৌড়ানোর পাশাপাশি ডায়েট

ওজন কমাতে হলে যে পরিমাণ খাবেন তার চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে হয় তাই খাবারের প্লেটের দিকেও মন দিন। তেল-মসলা দেয়া খাবার, চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, আইসক্রিম, চিজযুক্ত ফার্স্টফুড এগুলো আপনার ওজন কমানোর প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিতে পারে।  অনেককেই দেখা যায় সকালে হাঁটাহাঁটির পর কিংবা ব্যায়াম করে এসে চিনি দেয়া সরবত কিংবা চা-সিঙ্গারা খায়, এটা কিন্তু একদমই করা যাবে না। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে প্রোটিনের দিকে নজর দিন। একবারে বেশী না খেয়ে কিছুক্ষণ পর পর অল্প পরিমাণে খাবেন। বাদাম, ডিম, ফ্রেশ ফলমূল, সবজি, ফাইবার ও ভিটামিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় পুষ্টিবিদের সাথে কথা বলে ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিলে।

৫) মাঝে মাঝে জগিং করতে পারেন

শারীরিক ফিটনেস ও স্ট্রং কারডিও-ভাস্কুলার সিস্টেম (strong cardiovascular system) পাওয়ার জন্য জগিং করা খুবই প্রয়োজন। দৌড়াতে যেয়ে প্রথমে অনেকেই হাঁপিয়ে যায়, সেক্ষেত্রে জগিং করে নিতে পারেন। তিন মিনিট হাঁটার পর পাঁচ মিনিট জগিং করে নিন। তারপর আবার হাঁটুন। এভাবে যখন আপনি ওজন কমানোর জন্য হাঁটতে শুরু করবেন, আপনার স্টামিনা (Stamina) ক্রমান্বয়ে বাড়বে। তারপরই অন্যান্য ওয়ার্ক-আউটে এবং দৌড়ানোতে খুব দ্রুত আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন।

জানেন কি, ওজন কমানোর পাশাপাশি দৌড়ানোর আরও অনেক হেলথ বেনিফিটস আছে! যেমন হাটু শক্তিশালী হয়, ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়, পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে আরও কত কি। দৌড়ানোর ফলে মানসিক চাপ কমে এবং সেই সাথে কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি হয়। তাহলে জানা হয়ে গেল ওজন কমাতে দৌড়ানো সম্পর্কে বিস্তারিত। আজ তাহলে এই পর্যন্তই। ভালো থাকুন।

 

ছবি- সংগৃহীত: ইমেজেসবাজার.কম; বিএন.মেড

0 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...