বাসা বদল | ১১টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস যা মনে রাখা জরুরী! বাসা বদল | ১১টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস যা মনে রাখা জরুরী!

বাসা বদল | ১১টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস যা মনে রাখা জরুরী!

লিখেছেন - নিরুপমা অগাস্ট ৫, ২০১৭

অনেকেই নতুন মাসের শুরুতেই উঠবেন নতুন বাসায়। পিছনে ফেলে আসবেন পুরনো বাসার স্মৃতিগুলো আর সাথে নিয়ে আসবেন বাসা বদলের ঝক্কি ঝামেলাগুলো। বাসা বদল করা কি আসলেও ঝামেলার কাজ? হ্যাঁ, একটু তো ঝামেলা বটেই তবে একটু বুদ্ধি করে মিলিয়ে নিলেই কিন্তু এই ঝামেলাটুকু আর ঝামেলা মনে হয় না। চলুন তাহলে জেনে নিই, বাসা বদল করার ঝামেলাটাকে কম করে দেয়ার কিছু ছোট ছোট সহজ টিপস

বাসা বদল করার গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১) সাধারণত আমরা মাসের শেষ দিকে অথবা মাসের প্রথম দিকে বাসা বদল করে থাকি। তাই আগে থেকেই কাগজের কিছু বড় এবং ছোট কার্টন কিনে রাখুন। ঘরের মালামালগুলো একদম শেষ দিনে গোছানোর জন্য রেখে দেবেন না। যে মাসে নতুন বাসায় উঠবেন তার আগের মাস থেকেই একটু একটু করে গোছাতে থাকুন।

যেমন- শোকেসের কাচের থালা বাটি বা শোপিস-গুলো আগে থেকেই ঢুকিয়ে নিতে পারেন কাগজের বড় বড় কার্টনে। আর হ্যাঁ, কাচের জিনিসগুলো কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে নিতে ভুলবেন না। তাতে করে বাসা বদল করতে মালামাল আনা নেয়ার সময় ছোট খাট আঘাত থেকে বেঁচে যাবে আপনার প্রিয় কাচের সামগ্রীগুলো।

বাসা বদল করতে  শোপিসগুলো কাগজের কাটুনে মুড়িয়ে রাখছে - shajgoj.com

২) আলমারি বা ড্রয়ারের জামা-কাপড়গুলো বড় বড় বিছানার চাদরের ভিতরে সুন্দর করে ভাজ করে রেখে চাদরটাকে গিঁট দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে চাদরের সাথে সাথে জামা কাপড়ও গুছানো হয়ে যাবে। তবে বাসা বদলের পর চাদরগুলো অবশ্যই ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তারপর রাখবেন। আর জামাকাপড়গুলো রোদে দিয়ে রাখলেই যথেষ্ট।

৩) বাসায় তো আজকাল সবারই বড় বড় কৌটা বা কন্টেইনার থাকে। সেগুলোর ভিতরে চামচ, চুরি ইত্যাদি জিনিসগুলো ঢুকিয়ে নিন। দাঁ অথবা বটিগুলো অবশ্যই খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে তারপর রাখবেন।

৪) একেকটা ঘরের জিনিসপত্র যেসব কার্টনে রাখবেন, সেসব কার্টনগুলোর গাঁয়ে কিছু চিহ্ন দিয়ে রাখুন যাতে নতুন বাসায় যাওয়ার পর এক রুমের জিনিস বের করতে গিয়ে ভুলে অন্য রুমের জিনিস ভরা কার্টন না খুলে ফেলেন।

যেমন- ড্রয়িং রুমের জিনিসপত্রের কার্টনে লিখতে পারেন D অথবা Dr যেটা আপনার সুবিধা। ড্রয়িং রুমের চিহ্ন সম্বলিত জিনিসপত্রের কার্টনগুলো নতুন বাসার ড্রয়িং রুমেই সরাসরি রেখে ফেলুন। দেখবেন ঝামেলা কিছুটা হলেও কম মনে হবে।

বাসা বদলের সময় সুবিধার জন্য জিনিসের কার্টনে নাম লিখে রাখা হয়েছে - shajgoj.com

৫) ফ্যান, টিভি, টিউব লাইট ইত্যাদি জিনিসগুলো খুলে রেখে দিতে পারেন বাসা ছাড়ার আগের দিনই।

৬) বাসা বদলের সময় মূল্যবাণ সামগ্রীগুলো একটু যত্নেই রাখতে হবে আপনাকে, নিজ দায়িত্বে। যেভাবে আপনই চান সেভাবেই রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে আসলে কোন ছোট খাট টিপস নেই।

৭) তেল বা তরল জাতীয় (শ্যাম্পু, লোশন ইত্যাদি) জিনিসগুলোর মুখ প্লাস্টিকের প্যাকেট দিয়ে মুড়ে নিন। এতে করে সেগুলো থেকে গড়িয়ে পড়ে সবকিছুতে লেগে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।

বাসা বদলের সময় শ্যাম্পু প্যাকিং করে রাখা হয়েছে - shajgoj.com

৮) মালামাল আনা নেয়ার দায়িত্বে থাকা লোকদের বড় বড় আসবাবপত্রগুলো যে রুমে রাখার প্ল্যান করবেন একেবারে সেই রুমেই রেখে দিতে বলবেন। তাহলে যে সুবিধাটা পাবেন সেটি হল আসবাবপত্রগুলো এক রুম থেকে অন্য রুমে ঠেলাঠেলির হাত থেকে বেঁচে যাবেন, শুধুমাত্র জায়গা মতো  রাখলেই হয়ে যাবে। ঘর সাজাতে এতোটুকু তো করাই যায় তাই  না!

৯) বাসা বদলের ঠিক আগের দিন রাতে বন্ধ করে রাখতে পারেন ফ্রিজ অথবা ডিপ ফ্রিজটি। পরদিন সকালে যে পানিটুকু ফ্রিজ থেকে পড়বে সেটুকু ফেলে দিলেই ব্যাস ঝামেলা শেষ। খুব ভাল হয় ফ্রিজের জিনিসগুলো কাছাকাছি কোন আত্মীয়ের বাসায় রেখে দিলে। নতুন বাসায় উঠেই কিন্তু ফ্রিজ চালু করবেন না। ফ্রিজ আনা নেয়ার পথে কম্প্রেশারে চাপ লাগতে পারে। তাই কিছু সময় পর চালু করতে হবে।

১০) আপনি যদি গাছপ্রেমী হন তাহলে আপনার শখের গাছগুলোকে একটু যত্ন করেই তবে আনা নেয়া করতে হবে। সুবিধার্তে, গাছগুলোর ডালপালাগুলো একটু ছেঁটে ছোট করে নিতে পারেন।

১১) সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বাসা খালি করার আগের রাতে তাড়াহুড়ো করে সব না করে সময় নিয়ে একটু একটু করে আগে থেকেই সব গুছিয়ে ফেলুন। এতে আপনারই মঙ্গল। যেহেতু বাসা বদলের কয়েকটা দিন একটু ধকলের উপর দিয়েই যাবে তাই আর বাসা বদলের আগের দিন রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন এবং পরেরদিন অবশ্যই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ুন। দেখবেন বেশ ফ্রেশ লাগছে এবং কাজে অ্যানার্জি পাচ্ছেন।

এইতো এই টুকটাক ছোট খাট জিনিসগুলো মিলিয়ে নিলেই দেখবেন বাসা বদল করার ঝামেলা কিছুটা হলেও কমে যাবে। একটা জিনিস মনে রাখবেন, নতুন বাসায় গিয়ে অপরিষ্কার দেখলে যেমন আপনার ভালো লাগবে  না ঠিক তেমনি আপনই যে বাসাটা ছেড়ে যাচ্ছেন সেটি অপরিষ্কার রেখে গেলে আপনার পড়ে যারা আসবেন তাদের ও ভাল লাগবে  না। তাই যতটা সম্ভব একটু বাথরুমগুলো পরিশকার রাখার চেষ্টা করবেন আর ঘরে ঝাড়ু দিয়ে গেলেই ভালো। তাতে নতুন যারা আসবেন তাদের কাছে আপনার ব্যক্তিত্বটাই আর রুচিটাই প্রকাশ পাবে, হোক না তারা আপনাকে নাই  বা চিনল।

আর একটা কথা, যারা আপনার বাসা বদলের দায়িত্বে থাকবেন মানে শ্রমিকরা, তাদের সাথে একটু আন্তরিকভাবে হাসি মুখে কথা বলবেন, দেখবেন তারা আপনার প্রতিটি জিনিস যত্ন নিয়ে আনা নেয়া করবে। অবশ্য তাদেরকে একটু তদারকি না করলেই নয়। আপনার বাসা বদলের অভিজ্ঞতা সুন্দর হোক। ভালো থাকুন।

ছবি- সংগৃহীত: সাজগোজ; ইমেজেসবাজার.কম