গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি | কিভাবে যাবেন কিশোরগঞ্জের এই দর্শনীয় স্থানটিতে? গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি | কিভাবে যাবেন কিশোরগঞ্জের এই দর্শনীয় স্থানটিতে?

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি | কিভাবে যাবেন কিশোরগঞ্জের এই দর্শনীয় স্থানটিতে?

লিখেছেন - তাহসিন অর্না জুলাই ১৭, ২০১৯

প্রাচীন জমিদার কিংবা রাজাদের জীবনযাত্রা, নিয়মকানুন এবং প্রথা সম্পর্কে জানার আগ্রহ কমবেশি আমাদের সকলেরই আছে। কিন্তু এই একুশতম শতাব্দীতে সেটা আর সম্ভব হয়ে উঠে না আমাদের জন্য। কেননা রাজা এবং জমিদারদের শাসন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে আরো হাজার হাজার বছর আগে। কিন্তু কালের সাক্ষী হয়ে আজও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাঁদের কিছু কিছু বাসস্থান এবং প্রাসাদ। এমনই একটি জমিদার বাড়ি হচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। আজ আমরা জানাবো এই জমিদার বাড়ির গল্প। অতিপ্রাচীন এই বাড়িটিতে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এবং উপভোগ করতে পারেন প্রাচীন নিদর্শনে ভরপুর এই গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। চলুন জেনে নেই গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি সম্পর্কে।

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি পরিচিতি

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িটি অষ্টাদশ শতকের গ্রীক স্থাপত্যকলা অনুসারে নির্মান করা হয়। স্থানীয়দের কাছে এই বাড়িটি “মানব বাবুর বাড়ি” নামে পরিচিত। মানব বাবু নামটি জমিদার বংশের বর্তমান উত্তরাধিকারী মানবকেন্দ্র চক্রবর্তীর নামানুসারে পরিচিত। অতিপ্রাচীন এই জমিদার বাড়ির সৃষ্টি ১৮শ শতকের শেষের দিকে। দীননাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে এর যাত্রা শুরু হয়। তিনি ইংরেজদের কাছ থেকে হোসেনশাহী পরগনার একটি অংশ কিনে এই জমিদার বাড়ি এবং এর জমিদারি শুরু করেন। কিন্তু ইতিহাস থেকে জানা যায় বাবু অতুলচন্দ্র চক্রবর্তী “পত্তনি” সুত্রে আঠার বাড়ির জমিদার জ্ঞানদা সুন্দরী চৌধুরাণীর কাছ থেকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটি জমিদারিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির তথ্যসমুহ

প্রাচীনকালের এই কারুকার্যময় গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে জমিদারদের অনেক নিদর্শন। চলুন জেনে নেই গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে জমিদারদের কী কী নিদর্শন রয়েছে।

কাছারি ঘর

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির কাছারি ঘর - shajgoj.com

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটিতে জমিদারদের ব্যবহৃত কাছারি ঘর রয়েছে। অতি পুরোনো এইসব কাছারি ঘরগুলো এখন আর আগেরমতো নেই। কিন্তু তারপরও হাজার হাজার মানুষ দূর দুরান্ত থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।

নহবতখানা

জমিদার বাড়িটিতে পুরোনো দিনের জমিদারদের নহবতখানাগুলো এখনো রয়েছে। প্রাচীন এই বাড়ির কিছু অংশ ভেংগে গেলেও এখনো এই দর্শনীয় নিদর্শনগুলো দেখতে পাবেন।

দরবারগৃহ

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটিতে গেলে আপনি প্রাচীনকালে জমিদারদের ব্যবহৃত দরবারগৃহগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এই গৃহগুলোতে প্রাচীনকালে জমিদার শাসনামলে দরবার বসতো। এই গৃহগুলোতে গেলে মনে হবে পুরনো জমিদারদের শাসন আজও যেন দেখতে পাচ্ছেন।

মন্দির

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির মন্দির - shajgoj.com

সুদর্শন এই জমিদার বাড়িটিতে গেলে আপনি জমিদার এবং তাদের পরিবারদের ব্যবহৃত মন্দির দেখতে পাবেন। এছাড়াও এই জমিদার বাড়িটিতে আছে জমিদারদের ব্যবহৃত পুকুর ও সবুজে ঘেরা বিশাল আঙ্গিনা। প্রাচীন এই বাড়িটির কাছারি ঘরগুলো ছাড়া বাকি সকল স্থাপনাই আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। তারপরও প্রতিবছর দূর দুরান্ত থেকে হাজার হাজার
ভ্রমণপিপাসু মানুষ এই জমিদার বাড়ি দেখতে আসেন।

জমিদার বাড়িটি ছাড়াও দেড় কিলোমিটার দূরে রয়েছে মানব বাবুর মাছের প্রকল্প। প্রকৃতিপ্রেমি মানুষজন প্রকৃতির প্রাচীন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন এই মাছের প্রকল্পটিতে।

কিভাবে যাবেন

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে যেতে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলায় আসতে হবে। বাস কিংবা ট্রেনে করে যেতে পারেন এই জমিদার বাড়িতে।

ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেন

বাসে কিংবা ট্রেনে করেই ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যেতে পারবেন। মহাখালী বা গোলাপবাগ বাস স্ট্যান্ড থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়া যেকোনো করে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া ২২০-২৫০ টাকা হবে। এই বাস কিশোরগঞ্জের গাইটাল বাস স্ট্যান্ডে নামিয়ে দিবে। তারপর আবার বাসে করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের কাছে বটতলা মোড়ে যেতে হবে। এই মোড়ে আসতে বাস ভাড়া নিবে ৫ টাকা করে। তাছাড়া ২০-২৫ টাকা ভাড়ায় সিএনজি (C.N.G) অথবা ইজিবাইক (Ezebike) দিয়ে একেবারেই চলে যেতে পারেন জমিদার বাড়িতে। এছাড়া রিজার্ভও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে ২০০-২৫০ টাকা।

ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর অথবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন ধরতে পারেন। এগারো সিন্ধু নামক ট্রেনে সকাল ৭.৩০ মিনিটে উঠলে ১১ টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন কিশোরগঞ্জ। সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে ১২০ থেকে ২২০ টাকা। স্টেশনে নামার পর ইজিবাইকে করে কেবলমাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকা ভাড়ায় পৌঁছে যাবেন জমিদার বাড়িতে।

খাবার ব্যবস্থা

জমিদার বাড়িতে খাবারের কোন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু বাড়ির পাশে বাজারে কিছু লোকাল খাবারের হোটেল আছে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জে ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। চাইলে কিশোরগঞ্জ গিয়েও খেতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা

গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িতে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু কিশোরগঞ্জে ভালো মানের লজ এবং আবাসিক হোটেল রয়েছে। চাইলে এসব হোটেলে থাকতে পারেন। এছাড়াও সরকারি অনুমতি নিয়ে ডাক-বাংলোতে থাকতে পারেন।

পরিবার নিয়ে ঘুরে আসার জন্য গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি কিন্তু মন্দ হয় না। প্রাচীন সৌন্দর্যের নিদর্শন উপভোগ করতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসবেন গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি!

 

ছবি- সংগৃহীত: ইউটিউব