নীরোগ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার ৫টি কার্যকরী উপায় জানা আছে কি?

নীরোগ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার ৫টি কার্যকরী উপায় জানা আছে কি?

নীরোগ দীর্ঘ জীবনের জন্য হাশিখুশি থাকছেন

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে আমাদের আগের প্রজন্মের মানুষেরা আমাদের থেকে দীর্ঘজীবী হতেন। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন তখনকার দূষণমুক্ত আবহাওয়া, ভেজালহীন খাবার আর এক ধরনের দৈনিক জীবনযাত্রা যা তাঁরা মেনে চলতেন। সেই বিষহীন পৃথিবী আমরা আর ফিরে পাবো না। তবে দৈনন্দিন জীবনে সামান্য বদল এনে বাড়ানো যায় এই প্রজন্মের মানুষের গড় আয়ু। আজকে তাই আমরা আপনাদের জানাবো নীরোগ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে।

নীরোগ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার উপায়  

১) প্রাণ খুলে হাসুন

নীরোগ দীর্ঘ জীবনের জন্য হাসি অনেক উপকারী। একটি হিসেবে দেখা গিয়েছে যে রোয়িং মেশিনে (Rowing machine) দশ মিনিট ব্যায়াম করলে হার্টের যে উপকার হয়, চব্বিশ ঘণ্টায় ৫০ বার হাসলেও সেই একই কাজ হয়। অতএব হাসুন। মনে রাখবেন কোনো ঘটনার কারণে স্বাভাবিক হাসিতে যে উপকার, চেষ্টা করে হাসলেও সেই উপকার। হাসিতে শুধু হার্ট নয় শরীরেরও নানা উপকার হয়। হাসুন যখন কথা বলছেন বা গাড়িতে আছেন এমনকি যখন অফিসে কাজ করছেন তখনও। হাসির উপকারিতার কথা সবসময় মাথায় রাখুন। এমন গান শুনুন যা আপনার মন ভালো করে দেয়। আপনার মুখের ভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন হন। যদি চেহারায় বিষন্নতা থাকে, তাহলে চোখে মুখে খুশির ছাপ ফুটিয়ে তুলুন। তবে হ্যাঁ, যতই হাসুন, যখনি হাসুন, এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাকে বোকা বোকা লাগে বা অন্যরা কিছু মনে করতে পারেন।

২) প্লেটটাকে ক্যানভাস ভাবুন

শরীর ভালো রাখার জন্য রোজকার খাবারে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করুন। দৈনন্দিন খাবার এমন হওয়া উচিত যেন সব ধরনের পুষ্টি আপনার জোটে। এ কাজটা সহজ হয় যদি খাবারের থালাটি আপনার চোখের সামনে ভাসে। খালি থালাটিকে মনে মনে তিন ভাগে ভাগ করুন। এক ভাগ কার্বোহাইড্রেট প্রধান খাবার, এক ভাগে শাক-সবজি আর এক ভাগে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। খাবার নির্বাচন করার সহজ পদ্ধতি হল খাবারের রঙ, গন্ধ, চেহারার দিকে লক্ষ রাখা। তবে কৃত্রিম রঙ বা গন্ধ নয়। খেয়াল করে দেখবেন যদি আপনার প্লেটে নানা রঙ থাকে তাহলে সেগুলো আসে শাক-সবজি থেকে, গাজরের কমলা, বিট এর লাল, কুমড়ার হলুদ, বিন এর সবুজ ইত্যাদি। আর একটা কথা, খাবারে ফাইবার রাখার চেষ্টা করবেন কারণ এটি কোষ্ঠ পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। আপনার ইমিউনিটি সিস্টেম (Immunity System) এর উন্নতি ঘটাবে। যখনি কোনো রেস্টুরেন্টে খাবেন, সালাদের কথা ভুলবেন না। মাছ মাংস খেলেও আপনার প্লেটটাকে ক্যানভাস ভেবে কিছু প্রাকৃতিক রং যোগ করুন সবজি বা ফলের মাধ্যমে।

৩) ঘুমের কোনও বিকল্প নেই

ভালো ঘুম না হলে পরের দিনটাই মাটি। মানুষ বিশেষে ঘুমের সময়ের তারতম্য হলেও সাধারণভাবে ৮-৯ ঘণ্টা টানা ঘুম আমাদের দরকার। তবে যে যতক্ষণই ঘুমান, দেখতে হবে সেই ঘুমের কোয়ালিটি যেন ভালো হয়। মানে ঘুমটা যেন বেশ গাঢ় হয়। গাঢ় ঘুমের জন্য কয়েকটা কথা মনে রাখা উচিত।

১. ঘুমানোর ৩-৪ ঘণ্টা আগেই চা, কফি, সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

২. রাতে বেশি মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া চলবে না।

৩. ঘুমানোর আগে খুব বেশি উত্তেজনা, পরিশ্রম ঠিক না।

৪. ঘুমের ঔষধ নিয়মিত খাওয়া ক্ষতিকর।

৫. খুব বেশি দরকার হলে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ক্যালসিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট (Calcium-Magnesium Supplement) খেতে পারেন।

৬. ঘুমের সময় ছাড়া বিছানা ব্যবহার করবেন না। বেডরুমকে ডাইনিং রুম বা অফিসের কাজের জন্যও ব্যবহার করা উচিত না।

৪) বন্ধু বিটা ক্যারোটিন 

জানেন কি? রোজ একটা ছোট মিষ্টি আলু খেলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যেতে পারে। কারণ মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন (Beta-carotene)। বিটা ক্যারোটিন হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant)। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার যারা কয়েক বছর ধরে খাচ্ছেন তাদের ফুসফুস, মুখ, গলা, ব্লাডার (Bladder), স্কিন, স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম। ত্বক, হাড়, শ্বাসনালী ভালো রাখার জন্য এর জুড়ি নেই। বিটা ক্যারোটিন যথেষ্ট পরিমাণে আছে কমলা, হলুদ, গাঢ় সবুজ বর্ণের শাক সবজিতে। কুমড়ো, মিষ্টি আলু, ফুলকপি, গাজর, পিচ, খুবানি, পাকা পেঁপে এসব হল বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার। এবার থেকে যখনি সকাল, বিকেল বা রাতের খাবার খাবেন এই উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করবেন। মনে রাখবেন, এতে আছে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা।

৫) সাহায্য নিন সুগন্ধির

নীরোগ দীর্ঘ জীবন পেতে সাহায্য নিন সুগন্ধির - shajgoj.com

অসম্ভব মানসিক চাপে রয়েছেন? ভ্যানিলা বা আমণ্ড সুগন্ধি শুঁকে দেখুন, কিছুটা হলেও হালকা লাগবে। ঘুম আসছে না? ভ্যানিলা, ল্যাভেন্ডার, আমণ্ড সুগন্ধি শুঁকে দেখুন। দেখবেন কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন! সুগন্ধির সাথে আমাদের শরীর, মন, আবেগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণেই ইদানীং অ্যারোমাথেরাপির (Aromatherapy) গুরুত্ব বাড়ছে। এমনকি কিছু কিছু সুগন্ধি আমাদের কাজে ভুল করার হার কমিয়ে দেয়। অ্যাসেনশিয়াল অয়েল (Essential Oil) সরাসরি ত্বকে লাগালে সেই অয়েল যেন আমণ্ড বা অন্যান্য ফ্লেভার যেমন লেমন, জিঞ্জার, মিন্ট, ম্যান্ডারিন (Mandarin) অয়েল ভিত্তিক হয়।

একবাটি পানিতে কয়েক ফোঁটা অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ফেলুন, তারপর ধীরে ধীরে সেটা উবে যেতে দিন। আজকাল অ্যারোমাথেরাপিও পাওয়া যায়। ঘরে জালিয়ে রাখতে পারেন সেটি। নীরোগ দীর্ঘ জীবন পাওয়ার কার্যকরী উপায় এটি।

সাইনাস পরিষ্কার রাখতে গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus) বা রোজমেরি অয়েল দিন। তবে সাবধান! কখনোই তা বেশি মাত্রায় ব্যবহার করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। কোনটা কতক্ষণ ব্যবহার করলে ভালো বোধ করেন সেটা নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন।

নীরোগ দীর্ঘ জীবন পেতে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না। দরকার শুধু দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ছোটোখাটো কিছু পরিবর্তন, কিছু সংশোধন।

ছবি- সংগৃহীত: হোলমেগাজিন.কম

1 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...