অন্যদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে নিজের শান্তি নষ্ট করছেন না তো?

অন্যদের মতামত প্রাধান্য দিয়ে নিজের শান্তি নষ্ট করছেন না তো?

কোনো কাজ করার আগে কাজটি নিয়ে চিন্তা করার চাইতে অন্যেরা কী মনে বলবে তা নিয়ে অনেক স্ট্রেস কাজ করে। আসলে আমরা বেশিরভাগই চারপাশের মানুষের কথাকে একটু বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে অন্যদের মতামত নিয়ে আমরা কেন এত চিন্তা করি? এতে কিন্তু দিনশেষে আমাদের মনের শান্তিই নষ্ট হয়।  নিজের লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে যেতে এবং মানসিকভাবে ভালো থাকতে “লোকে কী বলবে”- এই চিন্তা বাদ দিতে হবে। আজকের ফিচারে আমরা জানবো কীভাবে অন্যদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবেন সে সম্পর্কে।

কীভাবে অন্যদের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে এগিয়ে যাবেন?

বিখ্যাত দার্শনিক লাও চাজ বলেছেন, “লোকে কী বলবে এই চিন্তা যদি সবসময় করো, তুমি সারাজীবন তাদের কাছে বন্দী হয়ে থাকবে”। সত্যিই তাই। আপনি যত বেশি অন্যদের প্রাধান্য দিবেন, আপনার চলার পথ তত কঠিন হয়ে যাবে। চলুন কীভাবে এ অভ্যাসটি থেকে বের হওয়া যায় তা জেনে আসি।

১। মানুষের সহজাত প্রকৃতি

অন্যকে নিয়ে কথা বলা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য।  আজকে তারা আপনাকে নিয়ে কথা বলছে, কাল অন্য কাউকে নিয়ে বলবে। তাই লোকে কী বলবে চিন্তা করে নিজের মনকে ছোট করবেন না। আপনি যদি নিজের মত কাজ করে যান, তাহলে এক সময় তারাই আপনার প্রশংসা করবে। সবচেয়ে বড় কথা কী জানেন? আজকে যারা আপনাকে নিয়ে কথা বলছে, দুইদিন পর সেটা নিজেরাই ভুলে যাবে। আধুনিক এই যুগে মানুষের এত সময় নেই যে একটা বিষয় নিয়ে পড়ে থাকবে। তাই নিজের মত এগিয়ে যান।

২। সবাইকে হ্যাপি করতে পারবেন না

আমরা অন্যকে নিয়ে কেন এত ভাবি? কারণ আমরা সবাইকে খুশি করতে চাই। আমরা সবাইকে নিজেদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। আর এটাই আমাদের বড় ভুল। কেননা একজন মানুষের পক্ষে সবাইকে হ্যাপি করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে খুশি করতে যেয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলার কোনো যুক্তি নেই। তাই নিজের ব্যাপারে অন্যদের মতামত কী তা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে যারা আপনার কাছের মানুষ অথবা যারা আপনার কাজের মূল্যায়ন করবে তাদেরকে খুশি করার চেষ্টা করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মাঝেমধ্যে ব্রেক নেওয়া যেতে পারে

৩। অনলাইন জগৎ থেকে ব্রেক নিন

আমরা সবচেয়ে বেশি শো অফ কোথায় করি, বলুন তো? সবচেয়ে বেশি সমালোচনা কোন মাধ্যমে হয়ে থাকে? সোশ্যাল মিডিয়া! আপনি একটা ছবি বা কোনো মনের কথা শেয়ার করলেই সবাই সেটা নিয়ে সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছুদিন দূরে থাকুন। এতে করে অনেক নেগেটিভ চিন্তা থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

৪। খুঁজে বের করুন কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ

আপনার কাছে কোন বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? “অন্যদের মতামত” নাকি “ নিজের কাজ”? আপনি যদি নিজের উপর আস্থা রাখতে পারেন, তবে কখনোই বাকিদের রিঅ্যাকশনের ব্যাপারে চিন্তা করবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি সাফল্য অর্জন করতে পারছেন, ততক্ষণ তারা বলবেই। তাই নিজের কাজটাকে বেশি গুরুত্ব দিন।

আগে নিজেকে জানুন

৫। নিজেকে জানুন

মানুষ নিজেকে সবচেয়ে ভালো জানে। নিজের কাজ করার ক্ষমতা ও দক্ষতা সম্পর্কে জানুন। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন যে আপনি পারবেন। নিজের ব্যাপারে যদি আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে কোনো অযৌক্তিক কথা বা চিন্তা আপনাকে পেছাতে পারবে না। তাই মানুষ যতই বলুক না কেন আপনি পারবেন না, নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে আপনি ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পারবেন।

৬। নেগেটিভ আলোচনা থেকে দূরে থাকুন

আপনার চারপাশে নেগেটিভ ও পজেটিভ দুই ধরনের মানুষ পাবেন। নেগেটিভ মানুষ সারাক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করে, অন্যের সমালোচনা করে এবং সমস্যা নিয়ে কথা বলে। এই ধরনের মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। কারণ তারা আপনার জীবনে শুধু নেগেটিভিটি তৈরি করবে এবং আপনার কোনো ভালো কাজকে অ্যাপ্রিশিয়েট করবে না।

অন্যদের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে জার্নালিং করুন

৭। জার্নাল লিখুন

জার্নাল লেখার অভ্যাস তৈরি করুন, এটা আপনাকে “লোকে কী বলবে” এই চিন্তা থেকে বের হতে অনেক সাহায্য করবে। আপনি যখনই কোনো নেগেটিভ কথার সম্মুখীন হবেন, তখন জার্নালে নিজের পজেটিভ দিকগুলো লিখুন। এর পাশাপাশি আপনার সাফল্যগুলো লিখুন এবং অতীতে কোনো সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছিলেন সেটাও লিখুন। এই জার্নাল আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে বলতে চাই, বিভিন্ন ধরনের মানুষদের নিয়ে আমাদের এই সমাজ। এখানে কেউ ভালো, আবার কেউ খারাপ। সবার কথা চিন্তা করলে আপনি জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। তাই অন্যদের মতামত গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কাজটি আত্মবিশ্বাসের সাথে করুন, অবশ্যই সফলতা আসবে।

ছবিঃ সাটারস্টক

 

1 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...

escort bayan adapazarı Eskişehir bayan escort