ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা | লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার জানেন কী?

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা | লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার জানেন কী?

say-no-to-food

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা একটি খাদ্য গ্রহণজনিত সমস্যা যা সাধারণত স্বঅনাহার থেকে উৎপন্ন হয়। এটি যদিও সকল বয়সী ও লিঙ্গের মানুষের হতে পারে তথাপি ১৬-৩০ বছর বয়সের মহিলাদের মাঝে এটি বেশি দেখা যায়। এক্ষেত্রে মহিলারা তাদের ওজন কম রাখার জন্য বা দেহের অবয়ব ঠিক রাখার জন্য সর্বদা অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। এতে তাদের ওজন কমতে থাকে। অনেক সময় রোগী খাদ্য গ্রহণের পর বেশি খাদ্য গ্রহণ করেছেন বলে মনে করেন এবং স্বেচ্ছায় বমি করতে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ নেয়ার মাধ্যমে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। এতে তার দেহে ভিটামিন ও মিনারেলস এর ঘাটতি দেখা দেয়, দেহ দুর্বল হয়ে যায় এবং মারাত্বক পর্যায়ে রোগী মারাও যেতে পারে।

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার লক্ষণ

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসাতে রোগীর খাদ্য সম্পর্কে ভীতি আসে। ফলে সে কম খাবার খায়।

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার লক্ষণ - shajgoj.com

শারীরিক লক্ষণ –

১. বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন অনেক কম থাকে।

২. ওজন কম থাকলেও সে মনে করে ওজন বেড়ে গিয়েছে।

৩. মহিলাদের গর্ভাবস্থায় না থাকার পরেও মাসিক ২-৩ টি বন্ধ থাকা।

৪. খাবারের প্রতি অনীহা।

৫. শুষ্ক ও ভঙ্গুর চুল।

৬. নিজের ইচ্ছায় বমি করা।

 ক্লিনিক্যাল লক্ষণ –

১. শরীর এর গঠন ও উপাদান মারাত্বকভাবে ভেঙ্গে যাবে।

২. ঠান্ডায় হাত পা অবশ হয়ে আসবে।

৩. পেটে ব্যথা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

৪. রক্তচাপ কমে যেতে পারে।

৫. চর্বি কমে যাওয়ায় চামড়ায় খসখসে ভাব আসবে।

৬. কর্ণের নিকটবর্তী গ্রন্থি বাড়বে বা ফুলে যাবে।

ক্ষুধাহীনতা বা অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার কারণ

মূলত যে কারণে এ রোগ দেখা দিতে পারে –

১. বিভিন্ন হরমনের কারণে হতে পারে এটি; যথাঃ Hypothalamic disturbances, Follicle stimulating hormone এর পরিমাণ কমে যাওয়া।

২. পুষ্টিবিদদের মতে মারাত্বক অপুষ্টির কারণেও এ রোগ হতে পারে।

৩. পরিবারের কোন সদস্যের মাঝে এ রোগ থাকলে এটি অন্যদের হতে পারে।

৪. বেশি উচ্চাকাঙ্খা ও আত্মবিশ্বাস এর মাত্রা হ্রাস পেলেও এই রোগ বাড়তে পারে।

৫. আর এর প্রধান কারণ হল দেহের সুন্দর অবয়ব বজায় রাখার জন্য ইচ্ছাকৃত বমি করা এবং অতিরিক্ত পরিমাণ ব্যায়াম করা।

পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মুলনীতি

১. Anorexia nervosa খাদ্যের অভ্যাসগত সমস্যা। পুষ্টির ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এর চিকিৎসা সম্ভব। যেহেতু এটি খাদ্যাভ্যাস জাতীয় সমস্যা তাই রোগীকে প্রথমেই সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে পরামর্শ দিতে হবে। তার খাবারের প্রতি যে ভীতি তা দূর করতে হবে।

২. রোগীর বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি চাহিদা নির্ণয় করতে হবে এবং সঠিক খাদ্য বজায় রাখতে হবে ওজন ঠিক রাখার জন্য। তাকে উচ্চ বায়োলজিক্যাল ভ্যালু যুক্ত খাবার দিতে হবে। যেমন; ডিম, দুধ। আস্তে আস্তে রোগীর ক্যালরির পরিমাণ বাড়াতে হবে।

৩. যে পরিবেশগত কারণে এ রোগ হয়ে থাকে তা দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার ও জ্ঞানীয় থেরাপি কাজ করে ভালো।

৪. কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে রোগীকে খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

৫. প্রাথমিক পর্যায়ে অল্প অল্প করে বার বার খাবার দিতে হবে। পরে ধীরে ধীরে উচ্চ ক্যালরির খাবারগুলো দিতে হবে।

৬. জুস, সুপ এই জাতীয় খাবারগুলো রোগীকে দিতে হবে, বিশেষ করে যাদের খাদ্যের প্রতি বেশি অনীহা আছে।

৭. প্রতি সপ্তাহে শরীর এর ওজন নিয়ে দেখতে হবে ওজন বাড়ছে কিনা।

৮. রোগীর অবস্থা মারাত্বক হলে Tube feeding বা Hyper Alimentation দিতে হবে। তার মানসিক অবস্থা উন্নয়ন এর জন্য এন্টি ডিপ্রেসন ওষুধ দেয়া হয়।

৯. এই সকল কাজের জন্য ১ জন পুষ্টিবিদের সহযোগিতা নেয়া উচিত।

পৃথিবীতে এমন অনেক রোগ আছে যা সম্পর্কে আমরা জানি না বা জানলেও তা যে ১টি রোগ সেটি সবাই বোঝে না। আজকে তেমনই ১টি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হল। এ ধরনের আরো বিষয় থাকবে পরবর্তীতে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ জীবন যাপন করবেন

ছবিঃ সাজগোজ.কম; সংগৃহীত – নাইরোবিডাইজেস্ট.কো

13 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...