ত্বককে এক্সট্রা গ্লোয়িং করতে ৪টি ন্যাচারাল লিকুইড!

ত্বককে এক্সট্রা গ্লোয়িং করতে ৪টি ন্যাচারাল লিকুইড

natural water

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত প্রকৃতিতে যাই চলুক  না কেন ত্বকের দিন দিন ড্যামেজ হয়ে যাওয়া বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া কিন্তু থেমে নেই। এর কারণ একটাই, আর সেটা হলো, নিয়মিত যত্নের অভাব। দৈনন্দিন কাজে আমরা ব্যস্ত থাকি বা না থাকি, কেবলমাত্র অলসতা করে ত্বকের ঠিকমতো যত্ন  নেই না। ত্বককে এক্সট্রা গ্লোয়িং করতে কে না চায়? কিন্তু বিভিন্ন প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করাটা অনেকের কাছেই খুব ঝামেলার মনে হয়। আর তাই আজ আপনাদের এমন ৪টি ন্যাচারাল লিকুইড-এর কথা বলব যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতের কাছেই থাকে এবং এগুলো ব্যবহার  করতে খুব একটা ঝামেলাও পোহাতে হয় না। আর হ্যাঁ, এই অতি সাধারণ লিকুইড-গুলো যতটাই সহজলভ্য ঠিক ততটাই আপনার ত্বকের জন্য উপকারী। তাহলে চলুন সেই ৪টি লিকুইড-এর উপকারিতাগুলো জেনে নেই!

ত্বককে এক্সট্রা গ্লোয়িং করতে ৪টি ন্যাচারাল লিকুইড

১. আলুর রস

 

ত্বকের সম্পূর্ণ  যত্ন নেয়ার জন্য আলুর রসকে আপনি ধন্যবাদ জানাতে পারেন। কারণ এটি এমনই একটি উপাদান যাতে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকের যে কোন ক্ষতি সারিয়ে তোলে এবং ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে। একটি মাঝারি সাইজ-এর আলু গ্রেট করে নিয়ে, এর থেকে চিপে রসটা বের করে নিন। এই রস আপনার মুখসহ হাতে ও গলায় ব্যবহার করুন সপ্তাহে ১-২ বার। চাইলে এর সাথে মধু, লেবুর রস বা কাচা দুধ ও মিশিয়ে নিতে পারেন। প্যাকটা শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

২. চালের পানি

 

চালের পানি ত্বকের যত্নে খুবই অসাধারণ কাজ করে।  আপনি কি জানেন, এতে রয়েছে অনেক পুষ্টি এবং খনিজ যা আপনার ত্বকের জন্য একটি আশীর্বাদ? এটা জাপান ও কোরিয়ান নারীদের কোমল ত্বকের গোপন রহস্য। এটি ত্বকের গভীর থেকে ময়লা মুছে ফেলে ও ত্বককে টানটান করে। এটি ত্বকে ব্যবহার করার  জন্য এক কাপ পানির সাথে আধা কাপ চাল পরিষ্কার করে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখুন  প্রায় ৩০-৪০ মিনিট। এবার এক টুকরা পরিষ্কার তুলা চালের পানিতে ভিজিয়ে ত্বকে চেপে চেপে লাগান। এতে থাকা খনিজ ও ভিটামিন ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করবে। ২-৩ মিনিটের মতো একইভাবে তুলাটি চালের পানিতে ডুবিয়ে ত্বকে লাগাতে থাকুন। তারপর কিছুক্ষণ রেখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটি খুব দ্রুত ত্বককে উজ্জ্বল করবে।

৩. ডাবের পানি

 

ডাবের পানি খেতে যেমন সুস্বাদু, এটি তেমনি ত্বকের জন্য উপকারী। এতে আছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। ডাবের পানি আপনার ত্বকে ব্যবহার করার জন্য ২ কাপ ডাবের পানির সাথে ১ টেবিল চামচ লেবুর রস ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটা ভালোভাবে মিশিয়ে মুখ, হাত ও গলায়  লাগিয়ে রাখুন প্রায় ৩০ মিনিট। শুকিয়ে গেলে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। তারপর লক্ষ্য করে দেখুন ত্বক কেমন উজ্জ্বল দেখাচ্ছে!

৪.  অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

 

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার-এ রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, সি এবং পেকটিন, পরিমাণমত বায়োটিন, সেইসাথে ফলিক অ্যাসিড এবং প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড। এটি এমনকি সোডিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ একটি তরল উপাদান। সুস্থ ত্বক পাওয়ার জন্য এগুলো সবই প্রয়োজন। এটা ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকের এলার্জি ও ব্রন দূর করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এটি ত্বকে ব্যবহার করার জন্য  সমপরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার-এর সাথে পানি মিশিয়ে  নিন। তারপর একটি পরিষ্কার তুলার বল ওই মিশ্রণে চুবিয়ে আপনার ত্বকে চেপে চেপে লাগাতে থাকুন প্রায় ৩-৪  মিনিটের মতো। লাগানো শেষে উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং ব্রনের দাগসহ যে কোন দাগ দ্রুত দূর করে।

তাহলে দেখলেন তো, কত সহজে ত্বককে এক্সট্রা গ্লোয়িং করতে ন্যাচারাল লিকুইড ব্যবহার করা যায়। এগুলো ব্যবহারে খুব একটা ঝামেলাও সহ্য করতে হয় না। তাই যখন তখন আপনার অবসর সময়ে কিংবা কাজের ফাঁকে আপনি এই লিকুইড-গুলো ত্বকে ইউজ করতে পারেন।  তাই আর দেরি না করে আজ থেকেই এই ন্যাচারাল লিকুইড-গুলো ব্যবহার করা শুরু করে দিন এবং হয়ে উঠুন আরো আকর্ষণীয়!

ছবি – সংগৃহীতঃ সাজগোজ.কম, সাটারস্টক

6 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...