স্পটলেস ও হেলদি স্কিন পেতে সুপারস্টার ইনগ্রেডিয়েন্ট ‘নিয়াসিনামাইড’

স্পটলেস ও হেলদি স্কিন পেতে সুপারস্টার ইনগ্রেডিয়েন্ট 'নিয়াসিনামাইড’

1 (81)

প্রতিবছরই স্কিন কেয়ার ট্রেন্ডে নতুন নতুন উপাদান হাইপড থাকে। কয়েক বছর ধরে নিয়াসিনামাইড ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এর কার্যকারিতা অতুলনীয়। তাই ডার্মাটোলজিস্টরা এর নাম দিয়েছেন সুপারস্টার ইনগ্রেডিয়েন্ট! সিরামের পাশাপাশি শিট মাস্ক, স্লিপিং মাস্কেও এখন এই উপাদানটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনও অনেকেরই কনফিউশন আছে যে ত্বকের যত্নে নিয়াসিনামাইডের কাজটা আসলে কী! স্পটলেস ও হেলদি স্কিন পেতে কীভাবে ব্যবহার করবেন এই উপাদানটি, কত পার্সেন্টেজ আপনার ত্বকের জন্য নিরাপদ, কী কী সাবধানতা মেনে চলতে হবে, এই সবকিছু নিয়ে আজকের আর্টিকেল।

মাল্টিটাস্কিং স্কিন কেয়ার উপাদান নিয়াসিনামাইড

নিয়াসিনামাইড বা নায়াসিনামাইড এক ধরনের ভিটামিন বি৩, একে নিকোটিনামাইডও বলা হয়। এটি ওয়াটার সল্যুবল অর্থাৎ পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। স্কিন কেয়ার লেনে এই উপাদানটি এই মুহূর্তে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এবং তার যথেষ্ট কারণও আছে। শুষ্ক, তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল, সব ধরনের ত্বকের যত্নে এই উপাদানটি দারুণ কার্যকরী। একে একে আমরা সবই জানবো। স্কিন কেয়ারে নিয়াসিনামাইড সিরাম অ্যাড করতে চাইলে কোন কোন বিষয়ে খেয়াল রাখবেন, সেগুলো জেনে নেওয়াও জরুরি। কেন আপনি স্কিন কেয়ারে নিয়াসিনামাইড অ্যাড করবেন, অর্থাৎ এই উপাদানটি কী ধরনের বেনিফিট আপনাকে দিতে পারে সেটা নিয়ে আগে জেনে নেই চলুন।

১) স্পটলেস ও হেলদি স্কিন এর জন্য নিয়াসিনামাইড

যেকোনো ধরনের দাগ ছোপ কমাতে ও হাইপারপিগমেন্টেশন দূর করতে এই উপাদানটি খুবই কার্যকরী। নিয়াসিনামাইড ত্বককে ফ্রি রেডিক্যালস এবং পরিবেশগত অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

২) এনলার্জড পোরস মিনিমাইজ করে

বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্কিনে ওপেন পোরসের ভিজিবিলিটি একটু বেশিই চোখে পড়ে। এনলার্জড পোরস মিনিমাইজ করতে নিয়াসিনামাইড বেশ কার্যকর।

৩) ত্বকের অতিরিক্ত অয়েলিনেস কমিয়ে আনে

নিয়াসিনামাইডের আরেকটি বড় গুণ হচ্ছে এটি সিবাম প্রোডাকশন কন্ট্রোল করতে পারে। স্কিনের এক্সেস অয়েলিনেস দূর করে, সেই সাথে পরোক্ষভাবে এটি একনে কন্ট্রোলেও ভূমিকা রাখে।

৪) সানট্যান দূর করে

সানট্যানের ফলে গায়ের রঙে অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয়। এই আনইভেন স্কিনটোন রিপেয়ার করার জন্য নিয়াসিনামাইড রিকোমেন্ড করা হয়। এটি ব্যবহারে ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হয়।

৫) প্রিম্যাচিউর স্কিন এজিং রোধ করে

নিয়াসিনামাইডের সাহায্যে ত্বকে সেরামাইড নামের লিপিড ব্যারিয়ার গড়ে ওঠে, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং একই সাথে স্কিন এজিং রোধ করে। এটি ত্বকের কোলাজেন প্রোডাকশন বুস্ট করে, যার ফলে বলিরেখা বা রিংকেল এর সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

নিয়াসিনামাইড কি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী?

অবশ্যই! নরমাল, অয়েলি, ড্রাই এই সব ধরনের ত্বকে এটি মানিয়ে যায়। এমনকি যাদের ত্বকে একজিমা, রোজেশিয়া, ব্রণের মতো সমস্যা আছে, তারাও নিয়াসিনামাইডযুক্ত স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করতে পারবেন। কেননা এতে আছে হিলিং প্রোপার্টি। খুব বেশি ড্রাই ও ডিহাইড্রেটেড স্কিন হলে রেগুলার বেসিসে নিয়াসিনামাইড সিরাম ইউজ করার দরকার নেই, গ্যাপ দিয়ে ব্যবহার করা যায়।

স্যালিসাইলিক এসিড ও নিয়াসিনামাইড এক সাথে ইউজ করা যায় কি?

দুইটি উপাদান-ই ত্বকের জন্য দারুণ কার্যকরী, তবে সেইম টাইমে এই দুইটি উপাদান স্কিন কেয়ারে রাখা উচিত নয়। কারণটা হচ্ছে, নিয়াসিনামাইডের পি এইচ লেভেল ৫-৭ অর্থাৎ নিউট্রাল লেভেলে এই উপাদানটির কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে স্যালিসাইলিক এসিড এর পি এইচ কম, ৩-৪ এর মতো। একসাথে এই দুইটি উপাদান মিক্স করলে এর ইফেক্টিভিটি কমে যায়, স্কিনেও রিয়্যাকশন হতে পারে।

তাই স্কিন কেয়ারে দুই ধরনের সিরাম থাকলে অল্টারনেট করে স্যালিসাইলিক এসিড ও নিয়াসিনামাইড ইউজ করতে হবে। স্যালিসাইলিক এসিড বেইজড ফেইস ওয়াশ বা টোনার ইউজ করলে নিয়াসিনামাইড কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর অ্যাপ্লাই করুন। এতে স্কিনে ইরিটেশন হবে না, খুব ভালোভাবে সেটা অ্যাবজর্ব হয়ে যাবে।

রেটিনল ইউজার হলে নিয়াসিনামাইড অ্যাপ্লাই করা যায় কি?

অবশ্যই! রেটিনল ইউজার হলে রাতে রেটিনল অ্যাপ্লাই করে নিন। এরপর মর্নিং স্কিন কেয়ারে নিয়াসিনামাইড অ্যাপ্লাই করুন, কোনো সমস্যা হবে না। রেটিনল ফটো সেনসিটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট, তাই রাতে এটি অ্যাপ্লাই করতে হয়। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা কিন্তু মাস্ট!

কত পার্সেন্টেজ স্কিনের জন্য সেইফ?

স্কিন কেয়ার রেঞ্জে ২-১০% নিয়াসিনামাইড সবচেয়ে বেশি কার্যকর (board-certified dermatologist Janet Allenby, M.D)। তবে সিরাম ব্যবহার করলে বেশি পরিমাণে প্রোডাক্ট একবারে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সিরামে হাইলি কনসেন্ট্রেটেড পাওয়ারফুল ইনগ্রেডিয়েন্ট থাকে, যেটা মাত্র কয়েক ড্রপ ব্যবহার করাই এনাফ।

সতর্কতা

  • আপনার বয়স যদি ২০ এর কম হয়, তাহলে সিরাম ব্যবহার না করাই ভালো
  • বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন মেনটেইন না করতে পারলে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট অ্যাড করা ঠিক না
  • দিনের বেলায় সানস্ক্রিন কোনোভাবেই স্কিপ করা যাবে না
  • একই সাথে দুই বা ততোধিক সিরাম মিক্স করে ফেইসে অ্যাপ্লাই করা যাবে না
  • বিগেনার হলে কম পার্সেন্টেজ দিয়ে স্টার্ট করতে হবে
  • ফেইসে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে

স্পটলেস ও হেলদি স্কিন পেতে আমরা কতকিছুই না করি। স্কিনের ধরন ও প্রবলেম বুঝে সঠিক ইনগ্রেডিয়েন্ট স্কিন কেয়ারে অ্যাড করলে অল্প সময়ের মধ্যেই আপনি ভালো ফলাফল পাবেন। আজকের আর্টিকেলে নিয়াসিনামাইড নিয়ে টুকটাক অনেক তথ্য আমরা জেনে নিলাম। এরপরও যদি আপনাদের কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে, অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।  অথেনটিক প্রোডাক্টস কিনতে আপনারা চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত, সেখান থেকে কিনতে পারেন আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

 

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

1 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...