রূপচর্চায় আমন্ড অয়েল । রুক্ষ-শুষ্ক ত্বক ও চুলের যত্ন নিন প্রাকৃতিক উপায়ে! - Shajgoj

রূপচর্চায় আমন্ড অয়েল । রুক্ষ-শুষ্ক ত্বক ও চুলের যত্ন নিন প্রাকৃতিক উপায়ে!

almond-oil

রুক্ষ-শুষ্ক ত্বক ও চুল নিয়ে চিন্তায় আছেন? আমন্ড অয়েলের গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই জানি! আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য এর কার্যকারিতা কম কিছু নয়। ত্বক এবং চুলের যত্নে আমন্ড অয়েল অনেকটা ম্যাজিকের মতোই কাজ করে। আমার মা ছোটবেলা থেকেই আমার চুলে বাদাম তেল আর নারকেল তেল মিক্স করে ব্যবহার করতো। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বক আর চুলের যত্ন নিলে সেটা অনেক বেশি সেইফ ও ইফেক্টিভ। বেশ কিছুদিন আগে আমি স্কিন ক্যাফের আমন্ড অয়েল সম্পর্কে জানতে পারি আমার এক বান্ধবীর মাধ্যমে। সেটা ব্যবহারের পর থেকেই আমি আমার চুল এবং স্কিনের পরিবর্তনটা বুঝতে পারছি। অনেকেই জেনুইন রিভিউ নিয়ে জানতে চান, চলুন তাহলে স্কিন ক্যাফের আমন্ড অয়েল নিয়ে আমার এক্সপেরিয়েন্সটা শেয়ার করে ফেলি।

স্কিন ক্যাফে সুইট আমন্ড অয়েলে কী কী উপাদান আছে?

স্কিন ক্যাফের সুইট আমন্ড অয়েলে আছে বিশুদ্ধ বাদাম তেল যা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ফ্যাটি এসিডযুক্ত। এছাড়া আছে প্রচুর পরিমানের প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি, ডি এবং ই। স্কিন বেনিফিসিয়াল উপাদান থাকায় আপনার ত্বকেও নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন।

কোন ধরনের স্কিনে ইউজ করা যাবে? 

স্কিন ক্যাফের আমন্ড অয়েল সব স্কিন টাইপের জন্য সুইটেবল। ড্রাই, ডিহাইড্রেটেড স্কিনের জন্য তো এটা আশীর্বাদস্বরূপ! আমার স্কিন সেনসিটিভ হওয়া সত্ত্বেও কোন ইরিটেশন ছাড়ায় এটি ব্যবহার করতে পারি। এছাড়া আমি চুলে অয়েল ম্যাসাজের সময় তো ব্যবহার করিই, পাশাপাশি হাত ও পায়ের যত্নেও এটা আমার জন্য দারুন কাজ করেছে। আমি হেয়ার বা ফেইস মাস্কের সাথেও কয়েক ড্রপ আমন্ড অয়েল দিয়ে দেই। এটার কোনো সাইড ইফেক্ট নেই, অ্যালার্জি হওয়ারও কথা না, তারপরও স্কিনে ইউজ করতে চাইলে প্যাচ টেস্ট করে নিবেন। ছেলে মেয়ে সবাই এটা ইউজ করতে পারবে। এমনকি বাচ্চাদের জন্যও সেইফ। টিনএজ থেকে চুলের যত্নে বাদাম তেল ব্যবহার করলে চুল থাকবে মোলায়েম ও সুন্দর।

এখন চলে আসি স্কিন এবং চুলের ক্ষেত্রে আমন্ড অয়েলের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে।

স্কিনের ক্ষেত্রে আমন্ড অয়েলের ভুমিকা

  • অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার কারণে ত্বকের ভাঁজ কমাতে সাহায্য করে। বয়সের ছাপ পরা রোধ করে।
  • কনুই, ঘাড়, চোখের নিচের কালো দাগ কমাতেও অনেক সাহায্য করে।
  • মেকআপ উঠানোর জন্যও ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পরে ভালো করে ক্লেনজিং করতে হবে।
  • সানবার্ন কমাতে সাহায্য করে।
  • ড্রাই স্কিনের জন্য আমন্ড অয়েল অনেক ভালো কাজ করে, রুক্ষতা কমিয়ে আনে।
  • হাত ও পায়ের ত্বকের ময়েশ্চার লক করে সফট ও স্মুথ রাখে।
  • চুলকানি, র্যা শ ও ফোলা ভাব কমায়।
  • ত্বকের ভেতরে পুষ্টি জোগান দিয়ে ত্বককে ভিতর থেকে উজ্জল করে।

চুলের ক্ষেত্রে আমন্ড অয়েলের ভুমিকা

  • আমন্ড অয়েল ম্যাসাজে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
  • চুলের খুশকি কমাতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত ব্যবহারে চুল পরা কমে, চুলকে শাইনি এবং সফট করে।
  • চুলের আগা ফাটা রোধ করে ও হেয়ার গ্রোথ বাড়াতে হেল্প করে।
  • যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকেই আমরা চুল কালার করে থাকি। যার জন্য চুল অনেক রুক্ষ হয়ে পরে। অয়েলটি ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা কমে যায় অর্থাৎ ড্যামেজ রিপেয়ার হয়।

স্কিন ক্যাফে সুইট আমন্ড অয়েলের সাথে আমার এক্সপেরিয়েন্স

ভেজালের যুগে অথেনটিক, পিউর অয়েল এখন কমই পাওয়া যায়। দাম আর গুনাগুণ যদি একসাথেই মনমতো পাওয়া যায়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে আমি চোখ বন্ধ করে স্কিন ক্যাফে সুইট আমন্ড অয়েল বার বার নির্বাচন করবো। কারন দাম হাতের নাগালে, আর প্রোডাক্টটির কার্যকারিতা অনেক বেশি। অয়েলটি আমি রাতের বেলা নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করি, সকালবেলা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলি। চুল আগের থেকে অনেক বেশি সফট আর শাইনি হয়েছে, সেটা আমি নিজেই ফিল করতে পারছি। চোখের নিচের ফাইন লাইনস কমাতে আলতো হাতে ম্যাসাজ করে নেই। বেশ উপকার পেয়েছি।

বিশেষ করে বাইরে থাকার কারণে পায়ের পাতা আমার ফেটে গিয়েছিল, স্কিনটাও খসখসে লাগতো, যেটা এখন ঠিক হয়েছে এই বাদাম তেলের গুণে। ঠোঁটের রুক্ষতা, ফাটা ফাটা ভাবও চলে গেছে। আমিতো এই তেলের ফ্যান হয়ে গেছি রীতিমতো! আসলে প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন নিলে সেটার বেস্ট রেজাল্ট আপনি পাবেন। সাথে সাথে মিরাকেল না দেখালেও এর বেনিফিট আপনি একসময়ে বুঝতেই পারবেন।

তাহলে জানা হয়ে গেলো, স্কিন ক্যাফে সুইট আমন্ড অয়েল কিভাবে আমাদের স্কিন এবং চুলের যত্নে কাজ করে। আপনি চাইলে অনলাইনে অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে। তাছাড়া, সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপে নিজে গিয়েও কিনতে পারেন, যা যমুনা ফিউচার পার্ক ও সীমান্ত স্কয়ারে অবস্থিত।

ছবি- সাজগোজ, ইমেজেসবাজার

18 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...