ত্বক ও চুলের যত্নে আরগান অয়েল কতটা বেনিফিসিয়াল জানেন কি?

ত্বক ও চুলের যত্নে আরগান অয়েল কতটা বেনিফিসিয়াল জানেন কি?

1 (69)

স্কিন ও হেয়ার কেয়ারে আরগান অয়েল এখন বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন প্রোডাক্টের ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্টে এই নামটা আমরা দেখে থাকি। আবার আলাদাভাবেও আরগান অয়েল পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা সবাই কি জানি যে আরগান অয়েল আসলে কী? এর বেনিফিটগুলো-ই বা কী এবং কীভাবে এটি ব্যবহার করতে হয়? আমার মনে হয় অনেকেই এখনও জানেন না এই আরগান অয়েলের কত গুণাগুণ! চলুন তাহলে আজকে জেনে নেই ত্বক ও চুলের যত্নে আরগান অয়েল কতটা বেনিফিসিয়াল আর কোন কোন উপায়ে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন। দেরি না করে শুরু করি তাহলে।

আরগান অয়েল আসলে কী?

মরক্কোর আরগান গাছের ফল ( বাদামজাতীয় ) থেকে পাওয়া যায় এই তেল। বিশেষ পদ্ধতিতে তেল নিষ্কাশন করা হয় যাতে প্রাকৃতিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। আরগান তেলে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই, ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, অলিক অ্যাসিড এবং লিনোলিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। ত্বক ও চুলের যত্নে আরগান অয়েল এতটাই উপকারী, সেজন্য এটিকে বলা হয় ‘লিকুইড গোল্ড’।

ত্বকের যত্নে এর উপকারিতা

আরগান অয়েল ত্বকের হাইড্রেশন লক করে রাখে, বয়সের ছাপ এবং বলিরেখা কমায়, ফ্রি র‌েডিক্যালের (সূর্য এবং দূষণের ক্ষতি) বিরুদ্ধে লড়াই করে, ত্বকের ইরিটেশন কমায় এবং ত্বককে কোমল রাখে। আরগান অয়েল নন-কমেডোজেনিক। অর্থাৎ এটা আপনার স্কিনের পোরস ক্লগ করবে না! ড্রাই স্কিনের পাশাপাশি নরমাল টু কম্বিনেশন স্কিনেও ইউজ করা যায় এই অয়েল। এমন কী আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলেও এই তেল ব্যবহার করতে পারবেন নিশ্চিন্তে, কেননা এটা আপনার ফেইস চিটচিটে করবে না। আরগান অয়েল ড্রাইনেস দূর করে ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখে। আর অয়েলি স্কিনে অতিরিক্ত সিবাম প্রোডাকশনও কন্ট্রোল করে। যারা অ্যান্টি এজিং স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এই তেলটি কিন্তু মাস্ট হ্যাভ।

চুলের যত্নে এর উপকারিতা

আরগান অয়েল ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা চুল এবং মাথার ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং চুলের ফ্রিজিনেস কমিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। আরগান অয়েল চুল ভেঙে যাওয়া কমায়, চুলের আগা ফাটা এবং হেয়ারফল কমিয়ে চুলকে ঘন করে তোলে। যেকোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে মিক্স করে এটি ইউজ করা যায়।

আমার পছন্দের আরগান অয়েল 

বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের আরগান অয়েল আছে। এর মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দ Skin Cafe 100% Pure & Natural Argan Oil, কেননা স্কিন ক্যাফে আরগান অয়েলের ইনগ্রেডিয়েন্ট হলো ১০০% মরক্কান আরগান অয়েল। ৫০ মি.লি. এর কালচে রঙের বোতলে আসে এই তেলটি। স্কিন ক্যাফে বাংলাদেশী ব্র্যান্ড হলেও এর কোয়ালিটি এবং প্যাকেজিং বেশ প্রিমিয়াম। ড্রপার থাকায় ফোঁটায় ফোঁটায় খুব সহজেই যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই তেল বের করতে পারি। কনসিস্টেন্সি একটু ঘন, যার কারণে পরিমাণে খুবই কম লাগে।

ত্বক ও চুলের যত্নে আরগান অয়েল কীভাবে ব্যবহার করা যায়?

হেয়ার কেয়ারে 

১. আরগান অয়েল হেয়ার মাস্ক

হেয়ার মাস্ক বানানো অনেকে ঝামেলা মনে করেন অনেকেই। কিন্তু আরগান অয়েল দিয়ে খুব ইজিলি হেয়ার মাস্ক বানিয়ে ফেলতে পারবেন যা সহজেই চুলকে করবে সফট আর শাইনি। এক্ষেত্রে কয়েক ফোঁটা স্কিন ক্যাফে আরগান অয়েল আর স্কিন ক্যাফে কোকোনাট অয়েল হাতের তালুতে নিয়ে চুলের গোড়া থেকে পুরো চুলে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এরপর ৩০-৪০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিতে হবে।

২. আরগান অয়েল শ্যাম্পু

এখন অনেক ব্র্যান্ডের আরগান অয়েল শ্যাম্পু কিনতে পাওয়া যায়, তবে নিজে তৈরি করাও বেশ সহজ। হাতের তালুতে আপনার চুলের লেন্থ অনুযায়ী শ্যাম্পু ঢেলে দিন। শ্যাম্পুতে এক বা দুই ফোঁটা আরগান অয়েল অ্যাড করুন এরপর শ্যাম্পুর সাথে ভালোমতো মিশিয়ে নিন। এটা দিয়েই চুলে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে ২/৩ দিন করলে দেখবেন চুল অনেক সফট আর শাইনি দেখাচ্ছে।

৩. লিভ-ইন কন্ডিশনার

শ্যাম্পুর পর চুল তোয়ালে দিয়ে মুছে নিয়ে ২/৩ ড্রপ আরগান অয়েল পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এতে চুলের ড্রাইনেস ও ফ্রিজিনেস কমে যাবে অনেকটাই।

৪. হিট প্রোটেক্টর হিসেবে

চুলে স্ট্রেইট বা কার্ল করার আগে যদি কোন হিট প্রোটেক্টর ইউজ না করা হয় তাহলে চুলের ড্যামেজ হতে পারে। সেক্ষেত্রে হাতের কাছে হিট প্রোটেক্টর না থাকলে আরগান অয়েল ইউজ করতে পারেন। হাতের তালুতে দুই ফোঁটা অয়েল নিয়ে নিন, এরপর আপনার দুই হাতের তালুতে অয়েল একসাথে ঘষে নিন। এরপর চুলে হালকাভাবে ম্যাসাজ করে নিন, ব্যস! এবার হিট স্টাইলিং করুন।

স্কিন কেয়ারে

১. ময়েশ্চারাইজার 

আরগান অয়েল সবথেকে বেশি ইউজ করা হয় ময়েশ্চারাইজার হিসেবে। যাদের নরমাল বা ড্রাই স্কিন, তারা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক ফোঁটা আরগান অয়েল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ত্বকে অ্যাপ্লাই করতে পারেন, এটা স্কিনকে ডিপ নারিশমেন্ট দেয় এবং সেই সাথে হাইড্রেটেড রাখে লং টাইম ধরে।

২. হাইড্রেটিং টোনার

একটি কটন প্যাডে এক ফোঁটা আরগান অয়েল নিয়ে আপনার রেগুলার টোনারের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ফেইসে লাগিয়ে নিন। খুব সহজেই স্কিন হবে গ্লোয়িং এবং স্মুথ।

৩. লিপ এক্সফোলিয়েটর

ব্রাউন সুগারের সাথে সামান্য আরগান অয়েল যোগ করুন এবং মিশ্রণটি দিয়ে আপনার ঠোঁটকে আলতো করে ৩০ সেকেন্ড এক্সফোলিয়েট করুন। এরপর ধুয়ে নিয়ে ঠোঁটে এক ফোটা আরগান অয়েল নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। সপ্তাহে দুইদিন এভাবে ইউজ করলে ঠোঁট নরম হবে।

তাহলে জেনে নিলেন তো, এক আরগান অয়েল তার কত উপকারিতা! ত্বক ও চুলের যত্নে আরগান অয়েল কতটা বেনিফিসিয়াল সেটা আমরা এখন জানি। তাহলে আর দেরি না করে আজই আপনার স্কিন ও হেয়ার কেয়ারে আরগান অয়েল অ্যাড করে ফেলুন। স্কিন ক্যাফে আরগান অয়েল একেবারেই পয়সা উসুল একটা পণ্য, একবার ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন। আপনারা চাইলে সাজগোজের চারটি ফিজিক্যাল শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) থেকে অথবা অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকে পছন্দের পণ্যগুলো কিনতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আজকে তাহলে এ পর্যন্তই।

 

ছবি- সাজগোজ, উইকিপিডিয়া

9 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...