অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং প্রয়োজন?

অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং প্রয়োজন?

3

চুল অয়েলি হয়ে যাওয়ার ভয়ে কন্ডিশনার স্কিপ করছেন না তো? অনেকেই বলেন ‘আমার চুল তো এমনিতে তেলতেলে, তাহলে কন্ডিশনার কেন লাগাবো?’ আচ্ছা, কন্ডিশনারের কাজটা আসলে কী, সেটা জানা আছে? অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং প্রয়োজন! কেন? সেই কনফিউশনগুলোই আজ ক্লিয়ার করবো। সেই সাথে এমন একটি কন্ডিশনার সাজেস্ট করবো যা আনম্যানেজেবল ও ফ্রিজি হেয়ারকে ম্যানেজেবল, সিল্কি ও শাইনি করবে ইনস্ট্যান্টলি।

হেয়ার কন্ডিশনারের কাজ কী?

১) শ্যাম্পু মূলত ব্যবহার করা হয় ক্লেনজিং পারপাসে। প্রোপার ক্লেনজিং এর জন্য শ্যাম্পুতে এমন অনেক উপাদান থাকে যা হেয়ার কিউটিকল ওপেন করে দেয়। কন্ডিশনার এই ওপেন হেয়ার কিউটিকল ক্লোজ করে। হেয়ার কিউটিকল আমাদের চুলকে এক্সটার্নাল ড্যামেজ থেকে সুরক্ষা দেয়। শ্যাম্পুর পর যখন এগুলো ওপেন থাকে, চুলের ময়েশ্চার খুব তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায়। আর এটা থেকেই হেয়ার ব্রেকেজ, ফ্রিজিনেস এই প্রবলেমগুলো শুরু হয়।

অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং প্রয়োজন

২) কন্ডিশনার চুলের বাইরের দিকে প্রোটেকটিভ লেয়ার তৈরি করে যাতে চুলের ন্যাচারাল অয়েল লেভেল ব্যালেন্সড থাকে। শ্যাম্পু ব্যবহারের পর চুল থেকে ন্যাচারাল অয়েল ওয়াশ আউট হয়ে যেতে পারে। এই ময়েশ্চার রিস্টোরের কাজটা করে কন্ডিশনার। তাই শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহারে চুল থাকে সফট আর শাইনি। এই প্রোটেকটিভ লেয়ার চুলকে এনভাইরনমেন্টাল ড্যামেজ, পল্যুশন, হিট এগুলোর থেকেও সুরক্ষিত রাখে।

৩) চুলে প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্টস আর নারিশমেন্ট প্রোভাইড করে চুলের আগা ফাটা, চুল ভেঙে যাওয়া এগুলো প্রিভেন্ট করে। অর্থাৎ চুল মজবুত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে কন্ডিশনিং কিন্তু মাস্ট! এক কথায়, কন্ডিশনার হচ্ছে চুলের ময়েশ্চারাইজার।

অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং প্রয়োজন কেন?

এবার আসি মেইন পয়েন্টে। ড্রাই, রাফ হেয়ারের জন্য সব সময় কন্ডিশনিং সাজেস্ট করা হয়। কিন্তু হেয়ার টাইপ অয়েলি হলেও কন্ডিশনার অ্যাপ্লাই করতে হবে। হাইড্রেশন, নারিশমেন্ট, প্রোটেকশন- চুলের এই তিনটি চাহিদা পূরণ করবে কন্ডিশনার। যেটা শুধুমাত্র শ্যাম্পু ইউজ করলে আপনি পাবেন না! চুল তেলতেলে হওয়ার সাথে কন্ডিশনিং এর কোনো যোগসূত্র নেই! হ্যাঁ, প্রোপারলি চুল না ধুলে তো গ্রিজি লাগবেই।

চুলের যত্ন

কিন্তু হেয়ার কন্ডিশনার চুলকে তেলতেলে করে না মোটেও, বরং দিনভর চুল ম্যানেজেবল ও সফট রাখতে হেল্প করে।এখন তাহলে বুঝতে পারলেন যে সব ধরনের চুলের জন্যই হেয়ার কন্ডিশনার ইজ মাস্ট! এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন চুলের যত্নে কোন কন্ডিশনারটি বেছে নিবেন। আজ আমি আমার পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে একটি কন্ডিশনারের রিভিউ শেয়ার করবো।

আমার ফেবারিট কন্ডিশনার


 

বেশ কিছুদিন আগে শপ.সাজগোজ.কম থেকে Skin Cafe Silky Tresses Moisturizing Conditioner পারচেজ করলাম। সোশ্যাল মিডিয়াতে এই প্রোডাক্ট নিয়ে নিয়ে এত ভালো ভালো রিভিউ দেখলাম, তাই মনে হলো এটা তো ব্যবহার করে দেখতেই হবে। প্রথমবার ব্যবহার করেই আমি ডিফারেন্সটা বুঝতে পারলাম! আমার চুল এখন আগের থেকে অনেক বেশি ম্যানেজেবল আর সফট হয়েছে।

আমার একদমই সময় হয়ে ওঠে না চুলের যত্ন নেওয়ার। চুল এত ফ্রিজি, রাফ হয়ে যাচ্ছিলো, আমার এমন কিছুই দরকার ছিলো যেটা চুলকে দিনভর সফট আর ময়েশ্চারাইজড রাখবে! মূলত ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট দেখেই এই প্রোডাক্টটি পারচেজ করলাম। প্রোডাক্ট রিভিউতে যাওয়ার আগে উপাদানগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক তাহলে। এতে আপনাদের জন্য বুঝতে সহজ হবে কেন আমি এই প্রোডাক্টের এত গুণগান করছি।

স্কিন ক্যাফে কন্ডিশনার

Skin Cafe Silky Tresses Moisturizing Conditioner

এই কন্ডিশনারে কী কী আছে?

Skin Cafe Silky Tresses Moisturizing Conditioner এ আছে আরগান অয়েল, ফ্লাওয়ার অয়েল আর বায়োটিন। চলুন এক নজরে দেখে এই উপাদানগুলোর উপকারিতা কী কী-

১) আরগান অয়েল

আরগান অয়েল চুল ময়েশ্চারাইজড রাখতে কাজ করে ম্যাজিকের মতো। Static hair বা ছোট ছোট বেবি হেয়ারের কারণে মনমতো হেয়ার স্টাইল করা যায় না! এটা খুবই কমন হেয়ার প্রবলেম, তাই না? আরগান অয়েলে Oleic আর Linoleic acid আছে, যা চুলের প্রোপার ময়েশ্চার ও হাইড্রেশন নিশ্চিত করে এই হেয়ার প্রবলেম ফিক্স করে। Linoleic acid ড্যামেজ হেয়ার রিপেয়ার করে চুলকে করে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

২) বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭

হেয়ার কেয়ার রেঞ্জে বায়োটিনের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। বায়োটিন কেরাটিন প্রোডাকশন বাড়ায় যা চুলকে হেলদি রাখতে দারুণ হেল্পফুল। এই উপাদানটি হেয়ার কিউটিকল স্ট্রং করে, তাই চুল দেখায় ঘন ও বাউন্সি।

বেস্ট কন্ডিশনার

এ দু’টি উপাদান ছাড়াও এই কন্ডিশনারে আছে ফ্লাওয়ার অয়েল যার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপারটিজ ব্যাকটেরিয়া থেকে চুলকে সুরক্ষা দেয়।

প্রোডাক্ট রিভিউ

১২০ মি.লি. এর প্যাকেজিংয়ে পাওয়া যাচ্ছে Skin Cafe Silky Tresses Moisturizing Conditioner। প্রোডাক্টের প্যাকেজিংটা বেশ প্রিমিয়াম। আমার পারসোনাল রিভিউ শেয়ার করি এখন।

১) কন্ডিশনারের স্মেল বেশ মাইল্ড, যেটা আমার খুবই পছন্দের। শাওয়ারের সময় বেশ রিফ্রেশিং ফিল পাই।

২) আমি শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে একটু কনফিউজড থাকতাম! চুল চিটচিটে হয়ে যাবে কিনা, হেয়ারফল হবে কিনা, এগুলো নিয়ে ভয় পেতাম! ট্রাস্ট মি, এই কন্ডিশনারটি আমার সব ভুল ধারণাই ভেঙে দিয়েছে।

৩) প্রতিবার ব্যবহারের পরই আমি ফিল করি চুল কতটা সফট আর শাইনি হয়েছে। এখন হেয়ার স্টাইলিং করতেও বেশ সুবিধা হয়। সব হেয়ার টাইপেই স্কিন ক্যাফের এই কন্ডিশনারটি স্যুট করবে। আপনারাও ট্রাই করে রিভিউ শেয়ার করুন!

অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং প্রয়োজন

কেন দেশীয় ব্র্যান্ড চুজ করলাম?

আমি বেশ ক’টা বিদেশি ব্র্যান্ডের কন্ডিশনার ইউজ করে দেখেছি, বারবার ব্র্যান্ড চেঞ্জও করেছি। পুরোপুরি স্যাটিসফায়েড হতে পারিনি। হয়তো আমার হেয়ার টাইপ বা লাইফস্টাইল অনুযায়ী ঐ প্রোডাক্টটা স্যুইটেবল ছিল না। সব প্রোডাক্ট তো সবাইকে স্যুট করবে না, এটাই স্বাভাবিক! এই ব্র্যান্ডটি মূলত কাজ করছে এদেশের আবহাওয়া আর হেয়ার টাইপকে টার্গেট করে। তাই আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের লাইফস্টাইল, হেয়ার প্রবলেম, ওয়েদার কন্ডিশন- সবকিছুতে ফোকাস রেখেই এই ব্র্যান্ডটি কন্ডিশনার ও অন্যান্য প্রোডাক্ট ফর্মুলেট করেছে। তাই আমার পুরোপুরি ভরসা আছে স্কিন ক্যাফে ব্র্যান্ডটির প্রতি। আর সত্যি বলতে আমি কিন্তু নিরাশ হয়নি! আমি নিজেই ব্যবহার করে সন্তুষ্ট এবং অবশ্যই আমি আবারও পারচেজ করবো।

খেয়াল রাখুন কিছু বিষয়ে

কন্ডিশনার কখনোই স্ক্যাল্পে অ্যাপ্লাই করবেন না, এতে স্ক্যাল্পের পোরস ক্লগড হয়ে হেয়ারফল বেড়ে যেতে পারে। ভেজা চুলে কন্ডিশনার অ্যাপ্লাই করে ১০ মিনিট রেখে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর হেয়ার লেন্থে কন্ডিশনার ইউজ করতে হবে।

 

তো এই ছিলো আজকের রিভিউ। অয়েলি হেয়ারেও কন্ডিশনিং কেন দরকার, জানা হয়ে গেলো। আশা করছি কনফিউশনগুলো ক্লিয়ার করতে পেরেছি। অনলাইনে অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ৪টি শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) ও সীমান্ত সম্ভার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

 

ছবি- সাজগোজ

0 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...