লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ | শীতে ত্বককে রাখুন উজ্জ্বল ও ঝলমলে!

লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ | শীতে ত্বককে রাখুন উজ্জ্বল ও ঝলমলে!

লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ - shajgoj.com

সাজগোজে লেখা এটাই আমার ফার্স্ট রিভিউ… জানি না কেমন হবে… তবুও যেহেতু অনেকদিন পর এতো বাজেট ফ্রেন্ডলি একটা ভালো প্রোডাক্ট পেলাম, ভাবলাম যা আছে কপালে লিখেই ফেলি! তবে শুরু করা যাক! আজ কথা বলবো একদম নতুন একটা American ব্র্যান্ড ‘লাইল্যাক’-এর অ্যাকটিভেটেড কে নিয়ে। নামেই বোঝা যাচ্ছে – এটা একটি ফেইস ওয়াশ (LILAC Brightening Face Wash Oily And Combination Skin)। চলুন তাহলে জেনে নেই লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ সম্পর্কে।

আগে বলে নেই এই ব্র্যান্ডের স্পেশাল বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী-

  • এটি প্যারাবেন ফ্রি,
  • ক্রুয়েলটি ফ্রি,
  • হাইপোঅ্যালারজেনিক,
  • ভেগান,
  • ১০০% সারটিফাইড হালাল
  • এবং তৈলাক্ত স্কিন-এর জন্য স্পেশালি ফর্মুলেটেড।

লাইল্যাক চারকোল ফেইসওয়াশ এর প্যাকেজিং - shajgoj

আমার নিজের স্কিন অয়েলি, একনে প্রন আর প্রচণ্ড সেনসিটিভ… ! এই ধরনের স্কিনের জন্য আরেকটি ফেইসওয়াশ আছে যা বেশ পপুলার- নাম অনেকেই শুনেছেন বোধ হয়,  দ্য বডি শপ টি ট্রি ফেসওয়াশ।

তো লাইলাকের ফেইসওয়াশ-টা ট্রাই করার সময় আমার মাথায় কিভাবে কিভাবে যেন বডিশপ টি ট্রি ফেসওয়াশের সাথেই কম্প্যারিজন চলে আসছিল!

প্রোডাক্ট ক্লেইম 

এটি তৈলাক্ত স্কিন-এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ফেইসওয়াশ যেটা একনে প্রন স্কিন-এর জন্যও ফর্মুলেটেড। এতে আছে অ্যাক্টিভেটেড ব্যাম্বু চারকোল পাউডার যা ইফেক্টিভ ক্লিনজিং-এর সাথে  মাইল্ড এক্সফলিয়েশন এবং স্কিন ডিটক্সিফাইং-এর কাজ ও করবে। কিন্তু স্কিন যেন আবার একদম ড্রাইনা হয় এর জন্য সাথে আছে ময়েশ্চারাইজিং এজেন্ট।

প্যাকেজিং   

কালো বেগুনি মিশেলের সুন্দর প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং সাথে হোয়াইট ক্যাপ। এতে ১২০মিলি প্রোডাক্ট আছে। ইনগ্রেডিয়েন্টস, ব্যবহার বিধি, এক্সপায়ারি ডেট এবং সকল জরুরী তথ্য দেয়া প্যাকেজিং-এই।

টিউব প্যাকেজিং বলে নির্দিষ্ট পরিমাণে বের করা সহজ। ফ্লিপটপ ক্যাপ-টাও বেশ strong!

টেক্সচার

ক্রিমি টেক্সচারে সহজেই ফোম তৈরি হয়। তাই পরিমাণে দেখলাম বেশ অল্পই লাগে। প্রতিবার আমি একটা পি সাইজ পরিমাণ প্রোডাক্ট ইউজ করি।

লাইল্যাক চারকোল ফেইসওয়াশ এর টেক্সচার - shajgoj

পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্স 

প্রথমেই আবার বলে নেই- আমার ত্বক খুবই তৈলাক্ত এবং একনে ও র‍্যাশ প্রন। এটি সন্ধ্যায় বাইরে থেকে এসে আমি আমার ক্লিঞ্জিং ধাপে অয়েল ক্লিনজার-এর পর ইউজ করি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং মাঝে মাঝে কোন মেকআপ বা সানস্ক্রিন না থাকলে বাইরে থেকে এসে অয়েল ক্লিনজার ছাড়া শুধু এটাও ইউজ করি।

ভেজা ত্বকে প্রথমে হাত দিয়ে ফেনা তৈরি করি। এরপর আলতো ম্যাসাজ করে স্কিন ধুয়ে ফেলি। স্কিন-এ বেশ একটা ফ্রেশ, পরিষ্কার তেলমুক্তভাব আসে। আমি বডি শপ টি ট্রি ব্যবহার করেও সিমিলার আফটার ইফেক্ট পেয়েছি।

ফেইসওয়াশ-টার সব থেকে ভাল দিক- খুবই ইফেক্টিভ ক্লিঞ্জিং যেটা মেইন ক্লেইম ফেইসওয়াশ-টির। তেলতেলভাবটি সম্পূর্ণরূপে চলে যায়। হালকা শুষ্কভাবও আসে। এজন্য আমার মতে এটা আসলে শুধু তৈলাক্ত স্কিন-এর জন্যই উপযোগী। ড্রাই স্কিন-এর জন্য ওভার ড্রায়িং হয়ে যেতে পারে।

লাইল্যাক চারকোল ফেইসওয়াশ মুখে প্রয়োগ - shajgoj

আমি যেই ২টি কারণে ফেইসওয়াশ-টির প্রতি আগ্রহী হই- প্রথমত এটি প্যারাবেন ফ্রি ও ভেগান। প্যারাবেন একটি প্রিজারভেটিভ যেটা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট-এ অনেক ব্র্যান্ডই ইউজ করছেন কিন্তু রিসেন্টলি ধারণা করা হচ্ছে প্যারাবেন আমাদের ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে আমাদের ভেতরে হরমোনাল ইমব্যালান্স তৈরি করছে যা আমাদের শরীরের জন্য খারাপ হতে পারে। তাছাড়া পরিবেশ এর জন্য ও এটি খারাপ। তাই আমি পারসোনালি চেষ্টা করি প্যারাবেন মুক্ত প্রোডাক্ট ইউজ করতে।

দ্বিতীয়ত এটির মূল্যমান। অনেকটা বডি শপ টি ট্রি-এর মত কার্যকারিতা দেয়া সত্ত্বেও এটি দামের দিক থেকে প্রায় অর্ধেক টি ট্রি ফেইসওয়াশের। তাই যারা রিজনেবল দামে ভাল ফেইসওয়াশ চান স্পেশালি স্টুডেন্ট-দের জন্য বেশ ভাল একটা অপশন।

সংক্ষেপে ফেইসওয়াশ-টির ভাল খারাপ দিক 

ভালো দিক

১) সমমূল্যের বাজারের অন্য ফেইসওয়াশের তুলনায় বেশ ভাল ক্লিন করে। স্কিন-এর মেকআপ ও তেল বেশ ভালোভাবে রিমুভ করে। আবার মুখ ধোয়ার পরপরই অনেকসময় তেল বের হয়ে ১ ঘণ্টায় মুখ কালো হয়ে যায়! এই ফেইসওয়াশে সেটা হয় না। এদিক দিয়ে লাইলাক-এর ‘ব্রাইটেনিং ক্লেইম’-টা সত্যি!!!

২) ব্যবহার খুবই সহজ। প্যাকেজিং-এর জন্য প্রোডাক্ট অপচয়ও কম হয়।

৩) হাইপোঅ্যালারজেনিক তাই সেন্সিটিভ স্কিন-এর জন্যও বেশ ভালো হবে। ইরিটেশন বা অ্যালার্জি হওয়ার কথা না।

৪) ভেগান অর্থাৎ এতে কোন আর্টিফিশিয়াল প্রিজারভেটিভ, ডিটারজেন্ট বা টক্সিক কোন ইনগ্রিডিয়েন্ট নেই।

৫) ১০০% হালাল সার্টিফাইড অর্থাৎ মুসলিমরা নিশ্চিন্তে ইউজ করতে পারবেন। ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম কিছু এখানে ব্যবহার করা হয় নি।

৬) ক্রুয়েলটি ফ্রি মানে কোন প্রাণীর উপর অত্যাচার হয় না ফেইসওয়াশ-টি টেস্টিং-এর জন্য।

৭) প্যারাবেন ফ্রি।

৬) রিজনেবল দাম।

খারাপ দিক 

লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ-টি একটু ড্রাই। তাই ড্রাই স্কিন-এর অধিকারীদের ব্যবহার না করাই শ্রেয় । ড্রাই স্কিনের জন্য লাইলাক-এর আরেকটা ফেইসওয়াশ আছে ওটা ট্রাই করুন। আমি যদি পাড়ি ট্রাই করে রিভিউ দেবার চেষ্টা করবো।

প্রাপ্তিস্থান 

লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ পাওয়া যাবে শপ.সাজগোজ.কম-এর ওয়েবসাইট-এ। তাছাড়া যমুনা ফিউচার পার্ক ও সীমান্ত স্কয়ার-এ অবস্থিত সাজগোজ-এর ফিজিক্যাল শপেও পাবেন।

আর আপনারা কেউ লাইলাক চারকোল ফেইসওয়াশ-টা ট্রাই করে থাকলে জানাবেন কিন্তু কেমন লাগলো!!

 

ছবি- সংগৃহীত: সাজগোজ

0 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...