পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চুল পরার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে না তো?

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চুল পরার সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে না তো?

“আমার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ করেই চুল পরার সমস্যা অনেক বেশি বেড়ে গেছে, এখন কি করবো?”– এই কথাটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। চুল পরার সমস্যার সম্মুখীন হন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়! ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবার জন্যেই এটি একটি কমন সমস্যা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে চুল পরা । তাহলে এর থেকে মুক্তির উপায় কি কোন উপায় নেই? মনে রাখবেন যে, কোনো সমস্যা সমাধানের জন্যে আগে আমাদের জানা জরুরী কেন এমনটি হচ্ছে!

আমাদের চুল কেরাটিন নামক এক ধরণের প্রোটিন উপাদান দিয়ে তৈরি। প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২৫ টা চুল পরা স্বাভাবিক। তবে এর চেয়ে অতি মাত্রায় চুল পরা শুরু হলে তা কিন্তু অবশ্যই চিন্তার কারণ। যদি কোন ভাবেই না বুঝে উঠতে পারেন কেন এমনটি হচ্ছে, তবে এখনই খেয়াল করে দেখুন আপনার ঘুমানোর রুটিনটির দিকে। পরিমিত পরিমাণে ঘুম হওয়ার সাথে আমাদের শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভালো বা খারাপ থাকা বিশেষভাবে জড়িত। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে অনেকেরই এই সমস্যাটি হয়। আজ তাহলে জেনে নেই, কিভাবে কম ঘুম হতে পারে আপনার অতিরিক্ত হেয়ার ফলের কারণ।

হরমোনের তারতম্য হতে পারে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে

শরীরে হরমোনের তারতম্য চুল পরার পিছনে হতে পারে অন্যতম কারণ। বেশিক্ষণ রাত জাগার ফলে বা বার বার ঘুম ভাঙলে তা আমাদের হরমোনেও বাজে ভাবে প্রভাব ফেলে। আমাদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন নামক একটি উপাদান রয়েছে যার উপর চুল পরা অনেকাংশেই নির্ভর করে। শরীরে যখন এই হরমোনের পরিমাণ অতি মাত্রায় বেড়ে যায় তখন চুল পরার পরিমাণও বেড়ে যায়। খেয়াল করে দেখবেন, যখন আপনি কোন দুশ্চিন্তায় থাকেন এবং ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না, তখন স্বভাবতই আপনার চুল পরার পরিমাণটাও তুলনামূলক ভাবে বেড়ে যায়। তাই শরীরের হরমোনের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ঘুম মাস্ট।

তাহলে এর সমাধান কী?

পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য কিছু টিপস

যদি আপনি বুঝে থাকেন ঘুম কম বেশি হওয়াটাই আপনার চুল পরার জন্যে দায়ী, তবে এখনই চেষ্টা করুন কিছু অভ্যাস গড়ে নিতে এবং কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে। কারণ অতিমাত্রায় চুল পরলে তা যত দ্রুত সম্ভব নিয়ন্ত্রনে আনা জরুরী। আসুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে পেতে পারেন এর সহজ সমাধান।

১) প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমিয়ে পরার চেষ্টা করুন

কম বেশি আমাদের সবারই নানা অনীহা বা অজুহাত দিয়ে ঘুমানোর রুটিন প্রোপারলি মেইনটেইন করা হয় না। কিন্তু এর ক্ষতিকারক দিক কিন্তু অনেক। একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে ওই সময় অবশ্যই সব কাজ গুছিয়ে নিয়ে শুয়ে পরুন। এ সময় কোন ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত রাখুন নিজেকে।

২) ঘুমানোর আগে পরিপাটি করে গুছিয়ে নিন নিজের বিছানা

বিছানা অপরিষ্কার থাকলে বা রুমে ধুলাবালি জমে থাকলে শোয়ার আগে অবশ্যই তা পরিষ্কার করে নিন। যাদের অন্ধকারে ঘুমাতে সমস্যা হয় না, তারা রুম অন্ধকার করে নিতে পারেন। হালকা আবছা আলোর জন্যে ডিম লাইটের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

৩) ঘুমানোর আগে চা, কফি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন

যাদের রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয় তারা শুতে যাওয়ার আগে আগে চা, কফি খাওয়ার অভ্যাসটি যত দ্রুত সম্ভব পরিত্যাগ করুন। ঘুমাতে যাওয়ায় আগে দিয়ে চা বা কফি পান করলে তা আমাদের স্বাস্থ্যের উপর যেমন বিরূপ প্রভাব ফেলে তেমনি, আমাদের ঘুমকেও নষ্ট করে দিতে পারে। কারণ চা বা কফিতে রয়েছে ক্যাফেইন যা ঘুমানোর জন্যে প্রয়োজনীয় অ্যাড্রিনালির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

৪) হজম প্রক্রিয়াতে ব্যঘাত ঘটায় এমন খাবার এড়িয়ে চলুন

ঘুমানোর আগে দিয়ে এমন ধরণের খাবার খেতে চেষ্টা করুণ যা আপনার পেটকে ঠাণ্ডা রাখবে এবং সহজেই হজম হবে। তৈলাক্ত খাবার খাওয়া থেকে যথাসম্ভব বিরত রাখুন নিজেকে। সহজপাচ্য, আঁশযুক্ত কিনবা হালকা খাবার রাখুন রাতের মেন্যুতে।

৫) রাতে ধূমপান না করার চেষ্টা করুন 

অনেকেই মনে করে থাকেন, শেষ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ধূমপান করলে মানসিক চাপ অনেকাংশেই কমে। অথচ বাস্তবে এর বিপরীতটাই ঘটে। সিগারেটে থাকে নিকোটিন যা ঘুমে প্রচণ্ড মাত্রায় ব্যঘাত ঘটায়।

ঘুম না হওয়া যেমন একটি সমস্যা, অনেকের জন্যে অতিরিক্ত ঘুমও একটি বড় সমস্যা। তবে “ঘুম আসে না” সমস্যায় ভুগছেন, এমন মানুষের পরিসংখ্যানটাই যেন বেশি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন মেজাজ খিটখিটে থাকে, কোন কাজেই মন বসেনা, দুর্বল লাগে এবং পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া কলাপেও যথেষ্ট ব্যাঘাত ঘটায় যা থেকে দেখা দেয় শারীরিক নানা সমস্যা। যার মধ্যে চুল পরার সমস্যাটি খুবই কমন। তাই আমরা যদি কিছু টুকিটাকি অভ্যাসে চেঞ্জ আনতে পারি, তাহলে আশা করছি অবশ্যই চুল পরার মত জটিল সমস্যারও সমাধান হবে নিমেষেই। ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন!

ছবি- ইমেজেস বাজার

24 I like it
7 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...