চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে করনীয় কী?

চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে করনীয় কী?

চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে করনীয় কী?

গ্রীষ্মকাল হোক বা বর্ষাকাল! যে কালই হোক না কেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বলতে গেলে সারা বছরই হাত-পা, শরীরের পাশাপাশি চুলের গোঁড়া ঘামার মত বিব্রতকর একটি সমস্যায় ভুগে থাকেন। চুল যেমন সৌন্দর্যের প্রতীক, তেমনি আমাদের কনফিডেন্সটা কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দেয়। তাই, চুলের যত্নটাও কিন্তু হওয়া উচিৎ যথাযথ। অনেকের একটি কমন কমপ্লেইন থাকে চুল পরার সমস্যা নিয়ে। কখনও কি ভেবে দেখেছেন মাথা বা চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম এর কারণে হচ্ছে না তো এমনটি? তাহলে, চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে করনীয় কী?

চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলে করনীয় 

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না তবে, চুলের গোঁড়ায় ঘাম হলে সেই ঘাম থেকে এক ধরণের টক্সিন যুক্ত উপাদান বের হয়ে থাকে। এই উপাদানটি আমাদের চুলের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। এর ফলে চুল পরার মত সমস্যা থেকে শুরু করে চুল পেকে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এমন হলে চুলের যত্ন কিভাবে নিবেন? চলুন আজকে তাই জেনে নেয়া যাক।

কখনই ভেজা চুল বাঁধবেন না বা আঁচড়াবেন না

গোসল করার পর কখনই চুল না শুকিয়ে তা সাথে সাথে বাঁধবেন না বা আঁচড়াবেন না। চুল ভেজা থাকা অবস্থায় চুলের গোঁড়া অত্যন্ত নরম থাকে, এ অবস্থায় চুলে যে কোন হেয়ার স্টাইল করা হলে বা চুল বেঁধে রাখলে চুল পরার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি গরমে চুল ভেজা অবস্থায় শক্ত করে বাঁধার কারণে চুলের গোঁড়ায় সহজেই ঘাম জমে যায় যা চুলের ক্ষতি করতে পারে।

সপ্তাহে অত্যন্ত দুই বার হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন

চুলের গোঁড়া মজবুত করতে সাহায্য করবে এমন হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে যে সকল হেয়ার প্যাকে অ্যালোভেরা, মেথি, লেবু, নারিকেল তেল, আমলকী এসকল উপাদান রয়েছে সেগুলো চুলে ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরা চুলকে ভেতর থেকে সজীব রাখে। মেথিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন সি, লৌহ এবং লিকিথিন আছে যা চুলের গোঁড়াতে পুষ্টি যোগায় এবং চুলকে মজবুত করে তোলে।

চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম প্রয়োজনে বড় চুল কেটে ছোট করে নিন

অনেক দিন ধরে যারা চুল বড় রেখেছেন এবং চুল কাটার কথা ভাবছেন, তারা এই সময়ে চুল হালকা ট্রিম করে নিতে পারেন। পাশাপাশি ফেইস এর সাথে মানানসই নতুন কোন হেয়ার স্টাইল করে আপনার লুকেও আনতে পারেন পরিবর্তন। এতে করে বড় চুলের ঝক্কি ঝামেলা থেকেও যেমন কিছুদিনের জন্যে মুক্তি পাবেন, তেমনি চুলের যত্ন নেয়াটাও সহজ হয়ে যাবে। চুলের গোঁড়ায় অতিরিক্ত ঘাম হলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।

নিয়মিত গোসল করতে ভুলবেন না

বাসায় থাকলে আমরা অনেক সময় শুধু ভালোভাবে হাত পা ধুয়ে কাপড় পালটে ফেলি। কিন্তু নিয়মিত গোসল না করার অনেক ধরনের ক্ষতিকর দিক রয়েছে যা নিয়ে আমরা তেমন একটা ভাবি না। নানা রকম জার্ম ইনফেকশন এড়াতে নিয়মিত গোসল করাটা খুবই জরুরি। ঘামের দুর্গন্ধ এবং চুলে থাকা ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত গোসল করা আবশ্যক।

নিয়ম মত চুলে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ইউজ করুন

চেষ্টা করুণ সপ্তাহে অত্যন্ত একদিন পর পর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করতে। আমাদের অনেককেই নিয়মিত নানা কাজে বাইরে বের হতে হয়, বাইরে থেকে আমাদের চুলে এবং চুলের গোঁড়ায় খুব সহজেই ধুলাবালি এবং ময়লা জমে যায়। যার ফলে চুলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং চুলের গোঁড়ায় ঘাম জমে যাওয়ার পাশাপাশি চুল হয়ে যায় রুক্ষ এবং মলিন। তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন নিয়ম অনুযায়ী হারবাল বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে যেন চুলের গোঁড়া পরিষ্কার থাকে। কন্ডিশনার চুলকে ময়েশ্চারাইজড রাখে। তবে চুলের গোঁড়াতে কিন্তু এটি দেয়া যাবে না! শুধু হেয়ার লেন্থে অ্যাপ্লাই করে নিবেন।

মোট কথা সুস্থ এবং সুন্দর চুল পাওয়ার জন্যে আমাদের অবশ্যই চুলকে রাখতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। চুলের যত্ন নিতে হবে সারা বছরই। আমরা সারাদিন নানা রকম কাজ করে থাকলেও নিজেদের যত্ন নেয়ার বেলায় দেখাই রাজ্যের অনীহা এবং অজুহাত! চেষ্টা করবেন নিয়ম করে এই বিষয়গুলো মেনে চলতে, তাহলে সহজেই পরিত্রাণ পাবেন ঘামের মত অস্বস্থিকর সমস্যা থেকে। ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।

ছবি- medicalnewstoday

89 I like it
10 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...