মনের মতো রঙিন চুল পেতে কোন হেয়ার কালারটি বেছে নেবেন?

মনের মতো রঙিন চুল পেতে কোন হেয়ার কালারটি বেছে নেবেন?

2

‘চুলে রঙ করেছো! এবার তো তোমার চুল সব নষ্ট হয়ে যাবে!’ চুলে রঙ করলে এমন কথা খুব কমন। তাই বলে কি মনের মতো রঙিন চুল পাওয়া বারণ? একদম নয়! আজকের আর্টিকেলে আমি কয়েকটি হেয়ার কালারের কথা বলবো যেগুলো আপনি নিশ্চিন্তে বাড়িতে বসেই ব্যবহার করতে পারবেন।

মনের মতো রঙিন চুল পেতে যে হেয়ার কালারগুলো বেছে নেবেনঃ

L’Oreal Colorista Violet Permanent Hair Dye Gel

অ্যাশ বা একদম ব্ল্যাক, কোনো কালারের চুলই ভালো লাগছে না? দেখুন তো ভায়োলেট কালারটি চুলে ম্যাচ করে কিনা! L’Oreal Violet Permanent Hair Dye Gel এ যে যে সুবিধা পাবেন-

১। আগের চেয়ে চুলের ঝলমলেভাব তিন গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়।
২। পার্মানেন্ট এই হেয়ার কালারে রয়েছে পিওর ডাই। তাই চুলে কালার ধরে রাখে দীর্ঘদিন।
৩। শাইনি ও সিল্কি স্মুথ চুল পেতে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার করে এই হেয়ার ডাই জেল ব্যবহার করতে হবে।
৪। সব ধরনের চুলে ব্যবহার করা যাবে।

hair color

L’Oreal Colorista Cherry Red Permanent Hair Dye Gel

চুলের রঙ লাল? অনেকের কাছে প্রথম দেখায় একটু অদ্ভুত লাগলেও আপনার নিজের পছন্দ হলেই হলো! একটু ভিন্ন হলেও চুলের জন্য দারুণ রঙ কিন্তু লাল! L’Oreal Cherry Red Permanent Hair Dye Gel এ যে সুবিধাগুলো পাবেন-

১। চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
২। যেহেতু পার্মানেন্ট, তাই এই কালারটি চুলে স্থায়ীও হবে বেশিদিন।
৩। L’Oreal এর এই হেয়ার ডাই জেলটিও চুলকে শাইনি, সিল্কি ও স্মুথ করে তুলবে। আর এ জন্য অবশ্যই ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার করে ব্যবহার করুন।

L’Oreal Paris Excellence Creme Permanent Hair Natural Light Brown 6

এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন হেয়ার কালার করার জন্য L’Oreal এর অনেকগুলো অপশন রয়েছে! তাই বেছে নিতে পারেন নিজের পছন্দের একটি। এবারের অপশন লাইট ব্রাউন কালারের। L’oreal Paris Excellence Creme Permanent Hair Natural Light Brown 6 হেয়ার কালারে মিলবে তিন ধরনের সুবিধা-

১। প্রো-কেরাটিন সমৃদ্ধ এই হেয়ার কালার চুলকে সুরক্ষিত রাখে। এটি মাল্টি-টোনাল হওয়ায় দীর্ঘ সময় হেয়ার কালার ধরে রাখে।
২। চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে। চুল রঙ করার পরে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
৩। এটিকে কেয়ারিং লাইটওয়েট মাস্কও বলা হয়। কারণ এতে রয়েছে কন্ডিশনিং ইনগ্রেডিয়েন্ট। চুলের ওজন না বাড়িয়ে এটি চুলকে নারিশমেন্ট প্রোভাইড করে।

L’Oreal Colorista Blue Black Permanent Hair Dye Gel

হেয়ার কালারের জন্য একদম ব্ল্যাক বা ব্লু কোনোটাই ভালো লাগছে না? কেমন হয় যদি দুটো কালার একসাথে করা যায়? L’Oreal Blue Black Permanent Hair Dye Gel এ পেয়ে যাচ্ছেন এই সুবিধাও। জেনে নিন এতে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন-

১। এই হেয়ার ডাই জেলটিও চুলের ঝলমলেভাব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
২। হেয়ার কালারটি টিকে থাকবে অনেকদিন।
৩। দেড় মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করতে হবে। তবেই চুলের শাইন ও স্মুথনেস বৃদ্ধি পাবে।

L’Oreal Colorista Silver Grey Permanent Gel Hair Dye

ইউনিক লুকের জন্য L’Oreal Colorista Silver Grey Permanent Gel Hair Dye একদম পারফেক্ট লং লাস্টিং একটি ফর্মূলা। এতে যে সুবিধাগুলো মিলবে-

১। পারফেক্ট হেয়ার কালার শেড দেয়।
২। এই হেয়ার কালারে মেশানো হয় বিশুদ্ধ ডাই। যার কারণে এটি চুলকে আগের চেয়ে তিন গুণ বেশি শাইন করে।
৩। লং লাস্টিং ও পার্মানেন্ট রেজাল্টের জন্য বোল্ড কালার রয়েছে এতে।

L’Oreal এর হেয়ার কালারগুলোর প্যাকেটে যা পাবেন-

১। ১ বোতল ডেভেলপার ক্রিম (৯০ মিলি)
২। ১টি কালারিং জেল (৬০ মিলি)
৩। ১টি পোস্ট বোল্ড কালার মাস্ক (৫৪ মিলি)
৪। ১ জোড়া গ্লাভস
৫। ইউজার গাইড

hair color 2

Revlon Color Silk beautiful hair Color 60 Dark Ash blonde

বাড়িতে বসে চুলে গ্রে কালার করতে চাইলে Revlon Color Silk beautiful hair Color 60 Dark Ash blonde হেয়ার কালারটি আপনার জন্য বেস্ট চয়েস হতে পারে। এই হেয়ার কালারে যে যে সুবিধা পাবেন-

১। এই হেয়ার কালারটি দীর্ঘ সময় গ্রে কালারের কভারেজ দেবে। সেলুন এক্সপার্টদের পরামর্শে তৈরি বলে বাড়িতে বসে নির্দ্বিধায় এটি আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
২। চুলকে নারিশমেন্ট প্রোভাইড করে।
৩। অ্যামোনিয়া ফ্রি।
৪। কেরাটিন ও সিল্ক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকায় চুল আগের চেয়ে বেশি ঝলমলে হয়।
৫। এতে থ্রি ডি কালার জেল টেকনোলজিটি পিগমেন্ট, কন্ডিশনার ও পলিমারের একটি কম্বিনেশন। যার কারণে এটি একইসাথে রিচ, ন্যাচারাল লুকিং, মাল্টিডাইমেনশনাল কালার দেয়। সাথে চুলের শাইন বাড়ায়। যেটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বজায় থাকে।
৬। শতভাগ গ্রে কভারেজ দেওয়ার সাথে সাথে পাবেন নতুন ফ্রেগরেন্স এক্সপেরিয়েন্স।

এই হেয়ার কালারে ব্ল্যাক, ব্রাউন, ব্লন্ডে, রেড ও প্লাটিনাম- অনেকগুলো কালার আছে। যার মধ্যে পছন্দসই কালারটি বেছে নিতে পারবেন সহজেই।

Revlon Color Silk Hair Color Medium Brown 41

একদম ব্রাউন নয়, আবার একদম হালকাও চাচ্ছেন না? তাহলে বেছে নিতে পারেন Revlon Color Silk Hair Color Medium Brown 41। এতে যে যে সুবিধা পাচ্ছেন-

১। এই হেয়ার কালারটি অ্যামোনিয়া ফ্রি। আগের চেয়ে চুল আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে আসে।
২। ১০০% গ্রে কভারেজ দেওয়ার জন্য বেস্ট।
৩। চুলের ভেতর ও বাইরে নারিশমেন্ট প্রোভাইড করে।
৪। এতে উপস্থিত সিল্ক প্রোটিন ও প্রো-ভিটামিনের কারণে চুল হয় আগের চেয়ে সিল্কি, শাইনি ও হেলদি।

Revlon এর হেয়ার কালারের প্যাকেটে যা পাবেন-

১। ১টি ডেভেলপার ক্রিম (৫৯.১ মিলি)
২। আফটার কালার কন্ডিশনার (১১.৮ মিলি)
৩। অ্যাপ্লিকেশন ইন্সট্রাকশন
৪। এক জোড়া গ্লাভস

hair color 3

Schwarzkopf Oleo Intense Permanent Oil Colour – Burgundy Red

লালেরও কত ধরন থাকে তাই না? চুলে যারা বারগেন্ডি রেড করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য Schwarzkopf Oleo Intense Permanent Oil Colour-Burgundy Red হতে পারে বেস্ট চয়েস! এই হেয়ার কালারে যে যে সুবিধা পাবেন-

১। রিচ ও পার্মানেন্ট হওয়ায় কালারের স্থায়ীত্ব থাকে অনেকদিন।
২। অ্যামোনিয়া ফ্রি।
৩। স্মুথ, শাইনি চুলের জন্য এতে আছে অয়েল বেইজড ফর্মূলা।
৪। এই হেয়ার কালারের কন্ডিশনারে আরও আছে আরগান অয়েল। যেটি চুল শক্ত, মজবুত ও হেলদি করতে সাহায্য করে।

Schwarzkopf এর হেয়ার কালার প্যাকেটের ভেতর যা পাবেন-

১। ১টি কেয়ারিং কালার ক্রিমের টিউব (৫০ মিলি)
২। ১টি অ্যাপ্লিকেটর বোতল ও ডেভেলপার লোশন (৫০ মিলি)
৩। রিচ কন্ডিশনার (১৫ মিলি)
৪। ইন্সট্রাকশন লিফলেট
৫। ১ জোড়া গ্লাভস

হেয়ার কালার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে বিষয়ে

১। প্যাকেটের ভেতর লিফলেট দেওয়া থাকে। সেটি ভালোভাবে পড়ে নিন। নিয়ম মেনে ডেভেলপার ক্রিমের সঙ্গে কালারিং জেল ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে অ্যাপ্লাই করতে হবে।

২। সব ধরনের চুলেই ব্যবহার করা যাবে এসব হেয়ার কালার। একবার কালার করার পর কী ফলাফল মিলছে সেটার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিটি কালারের ক্ষেত্রে ব্যবহারের ৪৮ ঘন্টা আগে প্যাচ টেস্ট করিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন!

৩। চুলে ব্যবহার করা হলেও অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তাদের জন্য হেয়ার কালারগুলো ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই কেনার আগে অবশ্যই প্যাকেটের গায়ে লেখা সতর্কবার্তা পড়ে নিতে হবে।

৪। ১৬ বছরের নিচে কেউ ব্যবহার করতে পারবে না।

৫। চুলে যদি ব্লিচ করা থাকে, অথবা রঙ পরিবর্তন করা হয়, তবে অন্তত দুই সপ্তাহ পর নতুন রঙ করতে হবে।

কখন ব্যবহার করা যাবে না
  • যদি আপনার মুখের ত্বকে কোনো র্যাশ থাকে, অথবা স্ক্যাল্প সেন্সিটিভ, ইরিটেটেড অথবা ড্যামেজড থাকে।
  • আগে কালার করার পর যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে।
  • টেম্পোরারি ব্ল্যাক হেনা ট্যাটু করার পর আগে যদি কোনো রিয়্যাকশন হয়ে থাকে।
  • আইল্যাশ বা আইভ্রুতে কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। এটি অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।

hair color 4

করণীয়

১। হেয়ার কালার ব্যবহারের আগে প্যাকেটের ভেতর থাকা গ্লাভস পরে নিতে হবে।

২। ডেভেলপার ক্রিমে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকে। চোখে লাগলে ক্ষতি হতে পারে। তাই চোখের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। ভুলক্রমে চোখে লাগলে অবশ্যই পানি দিয়ে ভালোভাবে চোখ ধুয়ে নিতে হবে।

৩। চুলে ভালোভাবে লাগানোর পর ধুয়ে নিতে হবে।

৪। চুলে যদি মেহেদি বা অন্য কোনো কালার করা থাকে তাহলে নতুন কালার করা যাবে না।

জেনে নিলেন বেশ কয়েকটি হেয়ার কালার সম্পর্কে। এগুলোর মধ্যে কোন কালারটি আপনি চয়েস করবেন আপনার চুলের জন্য? হেয়ার কালারসহ বিভিন্ন অথেনটিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস এর জন্য শপ.সাজগোজ.কম আমার ভরসার জায়গা। এছাড়াও তাদের দুটি ফিজিক্যাল স্টোর আছে সীমান্ত স্কয়ার আর যমুনা ফিউচার পার্কে, সেখানে গিয়ে দেখে শুনেও কিনে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় স্কিন কেয়ার, হেয়ার কেয়ার বা মেকআপ প্রোডাক্ট।

 

ছবিঃ সাজগোজ

2 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...