স্পোর্টস ব্রা এর ব্যবহার ও এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন কি?

স্পোর্টস ব্রা এর ব্যবহার নিয়ে জানেন কি?

anP17hm9Cd

সাধারণত ব্যায়াম, ওয়ার্ক আউট, খেলাধুলা সহ বিভিন্ন শরীরচর্চার সময় স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রেগুলার ব্যবহারের জন্য প্রতিনিয়ত স্পোর্টস ব্রা এর চাহিদা বেড়ে চলেছে। কিন্তু আমাদের অনেকেরই স্পোর্টস ব্রা বা এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই আজকে চলুন জেনে নেই, স্পোর্টস ব্রা এর খুঁটিনাটি নিয়ে।

সাইজ কীভাবে নির্ধারণ করবেন? 

স্পোর্টস ব্রা এর সাইজ সাধারণত S, M, L, XL এই ভাবে ঠিক করা হয়ে থাকে। যদি আপনের ব্রেস্ট সাইজ ৩৪ হয় তাহলে এক সাইজ ছোট ব্রা নির্বাচন করতে হবে। কিছু ব্রা এর সামনের দিকে চেইন থাকে, আবার কিছু ব্রা এর থাকে না। সামনে চেইন থাকলে সহজে পরা এবং খোলা যায়। স্পোর্টস ব্রা এর সাইজ এবং নরমাল ব্রা এর সাইজ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে।

কোন বিষয়গুলো খেয়াল রেখে পারফেক্ট ব্রা নির্বাচন করবেন?

১। কাপের কারণে যাতে আন্ডারআর্মসের সাইডে কোন ভাঁজ না পড়ে, সেই দিকে খেয়াল করতে হবে। ভাঁজ থাকলে ওয়ার্কআউটের সময় কমফোর্টেবল ফিল করা যাবে না।

২। নরমাল ব্রা থেকে স্পোর্টস ব্রা একটু হার্ড হয়। তবে ব্রা পরলে যাতে স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নেয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি গভীর নিশ্বাস নেয়ার পর আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাহলে ব্রা টি আপনার জন্য পারফেক্ট।

৩। ব্যান্ড সাইজটি আপনার ফিট হয় নাকি সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। ব্যান্ড চেক করার ক্ষেত্রে উপরে হাত উঠিয়ে দেখবেন, যদি আন্ডার-বাস্ট না মুভ করে তাহলে এটি আপনার জন্য পারফেক্ট।

৪। আর্মহোলস, স্ট্র্যাপস, সেলস, হুকস, ক্লিপস থাকলেও কোন কিছুর জন্য যাতে অস্বস্তিবোধ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। অ্যাডজাস্ট করার জন্য অনেক ব্রাতে স্ট্র্যাপস থাকে। সারাদিন ব্যবহারের ফলে যাতে ত্বকে দাগ না পড়ে কিংবা ঘষা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫। বাস্টের কাছের ওয়্যারগুলো সব সময় আন্ডার বাস্টের নিচে থাকবে। যদি উপরে উঠে যায় তাহলে ব্রেস্টে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা ওয়ার্কআউট করার সময় অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

৬। আমাদের ত্বকেরও শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। এমন ব্রা নির্বাচন করতে হবে যাতে ঘেমে গেলে অস্বস্তিবোধ না হয়। বা ঘেমে যাওয়ার কারণে শরীরে র‍্যাশ বা অ্যালার্জি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে ভালো মানের ফেব্রিকের ব্রা নির্বাচন করতে হবে।

স্পোর্টস ব্রা পড়ার সুবিধাগুলো কী কী?

অস্বস্তি এড়াতে সাহায্য করে

ধরুন, আপনি জিমে যাচ্ছেন বা পার্কে হাঁটাহাটি করছেন বা স্ট্রেচিং করছেন। তখন কোন ব্রা টি পরছেন? নরমাল যেকোন ব্রা? নরমাল ব্রা পরে ওয়ার্কআউট করতে আমাদের সবারই একটু অস্বস্তিবোধ হয়। অনেক সময় মেয়েদের হরমোনাল কারণে বা অন্য শারীরিক কারণে শরীরের গঠন তুলনামূলক বড় হয়। যার ফলে অনেক সময় জিমে বা রাস্তায় আপত্তিকর বা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। এই অস্বস্তিবোধ এড়িয়ে চলতে এই সময়টুকু স্পোর্টস ব্রা পরা ভালো। এতে ব্রেস্ট তার নিজস্ব অবস্থানে থাকে।

ব্রেস্টের ব্যথা কমায়

ওয়ার্কআউট করলে হাত, কাধ, বুকে মুভমেন্ট হয়। এই মুভমেন্টের জন্য অনেক সময় ব্রেস্টের ওপর প্রেসার পড়ে। এর থেকে ব্রেস্টে বা বুকে ব্যথা হতে পারে। স্পোর্টস ব্রা পরলে এই ব্যথা কিছুটা লাঘব হয়। আর যদি ব্যথা থাকে, তাহলে খেয়াল করে দেখবেন আপনের ব্রা এর সাইজটি ঠিক কিনা। সাইজ সঠিক হওয়ার পরেও যদি ব্যথা অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

নরমাল ব্রা এর পরিবর্তে স্পোর্টস ব্রা

এক এক ধরনের ড্রেসআপের জন্য এক এক ধরনের ব্রা রয়েছে। কিন্তু স্পোর্টস ব্রা এখন ওয়ার্কআউটের সময় ছাড়াও অন্য সময়েও পরা হয়ে থাকে। যেমন- অফিস বা অন্য কোন ক্ষেত্রে চাইলেই সারাদিন পরে থাকতে পারেন। স্ট্র্যাপ না থাকার কারণে সারাদিন পরে থাকলেও ত্বকের কোন দাগ বসে না। সাপোর্টিভ এবং কমফোর্টেবল হওয়ায় সারাদিনের জন্য পরে থাকলেও অস্বস্তিবোধ হয় না।

এছাড়াও অনেক সময় ডাক্তারা কোন কারণবশত কারণে স্পোর্টস ব্রা পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। যেমন- কোন সার্জারি হলে বা ইনজুরি হলে।

 স্পোর্টস ব্রা এর ব্যবহার

ওয়ার্কআউট করার সময় স্পোর্টস ব্রা পড়ে ওয়ার্কআউট করা ভালো। বিভিন্ন দিক থেকে শারীরিক সাপোর্ট দিয়ে থাকে। আমাদের পুরো শরীরে প্রতিটি অঙ্গে শক্ত সাপোর্ট রয়েছে। কিন্তু ব্রেস্টে কোন শক্ত সাপোর্ট নেই। তবে এর আশেপাশে লিগামেন্ট থাকে। আমরা যখন ওয়ার্কআউট করছি, তখন ব্রেস্টের ওপর প্রেসার পড়ছে বা মুভমেন্ট হচ্ছে। এর ফলে অনেক সময়ই লিগামেন্ট ছিড়ে যায়। এর ফলে অনেক সমস্যাই দেখা দেয়। শারীরিক এইসব সমস্যার সম্মুখীন যাতে না হতে হয় এর জন্যই ওয়ার্কআউটের সময় স্পোর্টস ব্রা পরাটা সব থেকে দরকারী। মনে রাখবেন, শারীরিক গঠন যেমনই হোক না কেন ওয়ার্কআউট করার সময় স্পোর্টস ব্রা পরাই শ্রেয়।

ব্রা এর যত্ন নিবেন কীভাবে?

ভালো ব্রা নির্বাচন করলে যত্নও নিতে হবে সুন্দর করে। ব্লিচ, ড্রাই ক্লিন, ওয়াশিং মেশিনে ব্রা পরিষ্কার করতে দেয়া যাবে না। হাতে হালকা করে ধুয়ে নিতে হবে। ব্রা এর ওয়্যার আর আন্ডার বাস্টের নিচে ব্রাশ দিয়ে হালকা করে ক্লিন করে নিতে হবে। মাইল্ড ডিটারজেন্ট দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ক্লিন করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।

মনে রাখবেন, একটি ভালো মানের ব্রা কিন্তু ওয়ার্কআউট বা স্পোর্টসের সময় আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করবে। আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে।

স্কিন ও হেয়ার কেয়ারের পাশাপাশি আপনার জন্য সঠিক লঞ্জেরি আইটেমটি কিনতে ভিজিট করতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সুন্দর থাকবেন।

ছবি- সাটারস্টক, সাজগোজ

15 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...