ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন হলে কোন উপাদানগুলো এড়িয়ে চলবেন?

ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন হলে কোন উপাদানগুলো এড়িয়ে চলবেন?

1 (12)

স্কিনকেয়ারে কোন কোন প্রোডাক্টস রাখা উচিত এটা নিয়ে আমরা খুবই কনসার্নড। এই বিষয়টিকে আমরা যেভাবে গুরুত্ব দেই, ইনগ্রেডিয়েন্ট সিলেকশনের সময় ততটা কেয়ারফুল থাকি কি? স্কিনকেয়ারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্কিনে কোন ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, সেটা কি জানেন? এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরি। কেননা সঠিক ইনগ্রেডিয়েন্টস সম্পর্কে না জানার কারণে আপনার ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। অয়েলি স্কিনের যত্ন নিয়ে তো প্রায়ই কথা বলা হয়। আজকে জানাবো ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন হলে কোন কোন ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো বাদ দিতে হবে, সেই সম্পর্কে।

ইনগ্রেডিয়েন্ট সিলেকশন কেন জরুরি?

নতুন কোনো প্রোডাক্ট স্কিনকেয়ারে অ্যাড করলে অনেক সময় হুট করেই ফেইসে একনে বা বাম্পস হয়। এরকম ঘটনা কিন্তু খুবই কমন! সঠিক ধারণার অভাবে মুহূর্তেই স্কিনে রিঅ্যাকশন করে রেডনেস বা ইচিং হয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। আসলে সব ধরনের উপাদান আপনাকে স্যুট করবে, সেটা আশা করাটা ঠিক না। ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন হলে একটু কেয়ারফুল থাকুন, বুঝে শুনে সঠিক প্রোডাক্টটি সিলেক্ট করুন।

ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন

ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন হলে কোন উপাদানগুলো বাদ দিবেন?

১. স্যালিসাইলিক অ্যাসিড

স্যালিসাইলিক অ্যাসিড স্কিন কেয়ারের ক্ষেত্রে খুব পরিচিত একটা নাম, তাই না? এই উপাদানটি খুবই হেল্পফুল তবে সেটা অবশ্যই অয়েলি ও একনে প্রন স্কিনের জন্য। আপনার স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টসে যদি এই উপাদানটি থাকে, তাহলে স্কিন আরও বেশি ড্রাই হয়ে যাবে। কারণ সেবাম প্রোডাকশন কন্ট্রোল করা এর কাজ। তাই ড্রাই স্কিনের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড সাজেস্ট করা হয় না। কিন্তু একনে প্রন স্কিনের জন্য এই ইনগ্রেডিয়েন্টটি লাইফ সেভার।

২. অ্যালকোহল

অনেকের কাছে মনে হতে পারে যে অ্যালকোহল তো ভালো কোনো ইনগ্রেডিয়েন্ট না, এটাকে কেন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্টে রাখা হয়! আসলে পরিমিত পরিমাণে উপস্থিত থাকলে এটি প্রোডাক্টের সেলফ লাইফ বাড়ায়, প্রিজারভেশনের কাজ করে। অন্যান্য উপাদানগুলো যাতে ফেইসে ভালোভাবে পেনিট্রেট হতে পারে সেই কাজেও সাহায্য করে। তবে ড্রাই স্কিন যাদের, তাদের এই উপাদান থেকে দূরত্ব বজায় রাখা মাস্ট। কারণ এটিও স্কিনকে অতিরিক্ত ড্রাই করে ফেলে যার ফলাফল একজিমা, সোরিয়াসিস বা রোজাশিয়া। সুতরাং SD alcohol, isopropyl alcohol, denatured alcohol এই ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো আপনার প্রোডাক্টসে আছে কিনা অবশ্যই চেক করুন। কারণ এগুলো স্কিনের ড্রাইনেস ও ইচিনেসের জন্য দায়ী।

ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন

৩. বেনজোল পারঅক্সাইড

ড্রাই স্কিনে ইরিটেশনের জন্য দায়ী একটি ইনগ্রেডিয়েন্ট হচ্ছে বেনজোল পারঅক্সাইড। পাশাপাশি স্কিন এক্সেস ড্রাই হয়ে যাওয়ার প্রবলেম তো আছেই। সাধারণত একনে ট্রিটমেন্টে এই উপাদানটি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ইনফ্ল্যামেশন ও বাম্পস কমানোর জন্য পরিমিতভাবে এটি ইউজ করতে বলা হয়। তবে যাদের স্কিন শুষ্ক, তাদের জন্য এটা সাজেস্ট করা হয় না।

৪. প্যারাবেন

আচ্ছা প্যারাবেন মানেই কি সেই প্রোডাক্ট খারাপ? আপনার কী মনে হয়? বেশ কিছু প্রোডাক্টসের গায়ে লেখা থাকে প্যারাবেন ও সালফেট ফ্রি, মানে সেই প্রোডাক্টগুলো একদমই মাইল্ড! অনেক দেশে এটি ব্যানড করা হয়েছে। তবুও স্কিনকেয়ার রেঞ্জে অনেক সময় প্যারাবেন থাকে কেননা এই উপাদানটি এক ধরনের প্রিজারভেটিভ, এটার কাজ হলো প্রোডাক্টসের সেলফ লাইফ বাড়িয়ে দেওয়া। নির্দিষ্ট মাত্রায় প্যারাবেনের কিছু ভ্যারিয়েন্টস ত্বকের জন্য নিরাপদ, অনেক গবেষণাতে এই তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু ড্রাই স্কিনে এটি ইরিটেশন ও অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি করে। তাই আপনার স্কিন ড্রাই ও ড্যামেজড হলে এই উপাদানটি বাদ দিতে হবে।

৫. সুগন্ধি বা পারফিউম

সাধারণত কোনো প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে এর গন্ধ কেমন আমরা আগে সেটা চেক করি। স্মেল সুন্দর না হলে অনেকেই সেটা নিতে চায় না। যদিও প্রোডাক্ট হিসাবে সেটা হয়তো ভালো, তবু স্মেলের ব্যাপারটা মনে খুঁতখুঁত করে, তাই না? কিন্তু ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন আর্টিফিসিয়াল ফ্রেগ্রেন্সকে ইরিট্যান্ট হিসাবে চিহ্নিত করে। তাই পারফিউম ফ্রি প্রোডাক্টস আপনার জন্য বেস্ট অপশন। যদি কোনো স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট আপনাকে স্যুট না করে, উপাদান লিস্টে সুগন্ধি বা পারফিউম আছে কিনা সেটা চেক করুন আগে। তবে পারফিউম থাকলেই যে সেটা খারাপ, এমনটা ভাববেন না। একেক জনের স্কিন একেকটি উপাদানে রিঅ্যাক্ট করে।

স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট

সেনসিটিভ স্কিনের জন্য বাড়তি সতর্কতা

সেনসিটিভ স্কিন, এটা কোনো স্কিন টাইপ না বরং স্কিনের একটি কন্ডিশন। যাদের স্কিন সেনসিটিভ, তাদের জন্য স্কিনকেয়ারে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কেননা ফেইসে নরমালি কোনো প্রোডাক্ট স্যুট হয় না। পাশাপাশি রেডনেস, ইচিং, বার্নিং বা ত্বক জ্বালাপোড়া, রাফ টেক্সচার, ফ্ল্যাকি প্যাচেস ইত্যাদি দেখা যায়। ড্রাই এনভায়রনমেন্ট সেনসিটিভ স্কিনে বেশ প্রভাব ফেলে। সেনসিটিভ স্কিন হলে কোন কোন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট আপনাকে বাদ দিতে হবে, চলুন জেনে আসি।

ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর

স্কিনের ডেড সেলস রিমুভের জন্য এক্সফোলিয়েশন জরুরি। তবে যেসব এক্সফোলিয়েটরে বেশি দানাদার ও হার্শ বিডস থাকে, সেটি কিন্তু আপনার সেনসিটিভ স্কিনকে এক্সট্রিমলি ড্যামেজ করে দিতে পারে। ফেইসে একনে থাকলে স্ক্রাবিং করা যাবে না। তাই আপনাকে স্কিন কনসার্ন অনুযায়ী বেছে নিতে হবে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর।

 

কেমিক্যাল ডাই বা কালার

খুব আকর্ষণীয় কালার দেখে আমরা মাঝে মধ্যে প্রোডাক্ট কিনে ফেলি! কিন্তু এসব প্রোডাক্টসে থাকা ডাই বা কালার হতে পারে আপনার স্কিন ইরিটেশনের কারণ! যেটা স্কিনে ক্লগড পোরস, ইনফ্ল্যামেশন, ইচিনেস ইত্যাদি সমস্যা তৈরি করে। তাই প্রোডাক্ট সিলেকশনের সময় সাবধান থাকুন!

কেমিক্যাল সানস্ক্রিন

সেনসিটিভ স্কিনের জন্য ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন ভালো কাজ করে। এই ধরনের স্কিনের ক্ষেত্রে কেমিক্যাল সানস্ক্রিন এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে থাকা উপাদান ইরিটেশন থেকে শুরু করে একনে ব্রেকআউটের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এতে থাকা উপাদানগুলো সাধারণত কমেডোজেনিক হয়ে থাকে মানে স্কিনের পোরগুলোকে ক্লগড করে ফেলে। ফলে পিম্পলস হতে পারে। তবে সেই প্রোডাক্টটি যদি নন কমেডোজেনিক হয়, তবে নিশ্চিন্তে ইউজ করতে পারেন।

কেমিক্যাল সানস্ক্রিন

অ্যাসেনশিয়াল অয়েল

অ্যাসেনশিয়াল অয়েল স্কিনের জন্য বেনিফিসিয়াল, এটা আমরা সবাই জানি। বিভিন্ন স্কিন প্রবলেমস ফিক্স করতে দারুণ কাজ করে, কিন্তু কিছু কিছু অ্যাসেনশিয়াল অয়েল সেনসেটিভ স্কিনে ইরিটেশনের কারণ হতে পারে। যেমন মিন্ট, সাইট্রাস বা ল্যাভেন্ডার অয়েল। আর অ্যাসেনসিয়াল অয়েল ইউজ করতে হয় কোনো প্যাক বা তেলের সাথে মিশিয়ে, সরাসরি অ্যাপ্লাই করতে মানা করা হয়।

বোনাস টিপস ফর ড্রাই অ্যান্ড সেনসিটিভ স্কিন

একেকটা উপাদানের কাজ একেক রকম। যেই উপাদানটি অয়েল কন্ট্রোলে কাজ করে, সেটা যদি ড্রাই স্কিনে ইউজ করা হয়, তাহলে তো স্কিনের অবস্থা খারাপ হবেই! তাই সব প্রোডাক্ট যে সবার জন্য ওয়ার্ক আউট করবে, এমনটা ভাবা ভুল। ড্রাই স্কিনকে হেলদি ও হাইড্রেটেড রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, মিল্ক, গ্লিসারিন, হানি এই উপাদানগুলো বেশ ভালো কাজ করে। স্কিন টাইপ অনুযায়ী সঠিক উপাদান বেছে নিন, ঠিকভাবে প্রোডাক্ট ইউজ করুন, তাহলেই বেনিফিট পাবেন। যেকোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করার পূর্বে প্যাচ টেস্ট করা মাস্ট। স্কিন প্রবলেমের সল্যুশন না হলে ডার্মাটোলজিস্ট এর সাথে কথা বলুন।

সুন্দর, ফ্ললেস স্কিন কনফিডেন্স বাড়াতে সাহায্য করে। সেজন্য স্কিনকেয়ার করার আগে একটু স্টাডি করে নেওয়া দরকার। বুঝে শুনে প্রোডাক্ট ইউজ করা উচিত, কারণ স্কিন নিয়ে কম্প্রোমাইজ করা উচিত না। অনলাইনে অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ৪টি শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) ও সীমান্ত সম্ভার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি। আজ এই পর্যন্তই। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

 

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

7 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...