সোপ বেইজড ক্লেনজার ব্যবহার করলে কি আসলেই ত্বকের ক্ষতি হয়?

সোপ বেইজড ক্লেনজার ব্যবহার করলে কি আসলেই ত্বকের ক্ষতি হয়?

IMG_5237-edited

ক্লেনজিংয়ের পর স্কিন কি একটু বেশিই রাফ মনে হয়? অনেকেই ভেবে নেন যে ড্রাই ও সেনসিটিভ স্কিন হলে এমনটা তো হবেই! কিন্তু এই ধারণাটি কিন্তু পুরোপুরি সঠিক নয়। স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট সিলেকশনে ভুল হলে এমনটি হতেই পারে! সোপ বেইজড ক্লেনজার ব্যবহার এর কারণে এই প্রবলেম হচ্ছে না তো? সোপ বেইজড প্রোডাক্টের সাথে সোপ ফ্রি ফর্মুলার প্রোডাক্টের মেইন ডিফারেন্স কী, চলুন জেনে নেই।

সঠিক ক্লেনজার সিলেকশন

ক্লেনজার একটি বেসিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট, যেটি রেগুলার বেসিসে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নে পি এইচ ব্যালেন্সড সোপ ফ্রি ক্লেনজার সিলেক্ট করা কেন জরুরি, স্কিনের নরমাল পি এইচ লেভেল কত, সোপ বেইজড প্রোডাক্টের সাথে সোপ ফ্রি ফর্মুলার প্রোডাক্টের পার্থক্য কী- এগুলো আমাদের জেনে নিতে হবে আগেই। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রোডাক্টটি চুজ না করতে পারলে স্কিন প্রবলেম তো দেখা দিবেই।

সোপ কী?

সোপ বেইজড ক্লেনজার

তেল/চর্বি হচ্ছে ট্রাইগ্লিসারলের এস্টার, একে সাধারণত ট্রাইগ্লিসারাইড বলা হয়। এই ট্রাইগ্লিসারাইড সোডিয়াম বা পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করলে গ্লিসারল ও এক প্রকার ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয় । এই ফ্যাটি অ্যাসিড লবণকেই আমরা সাবান হিসেবে জানি। স্ট্রং অ্যালকালি সল্যুশন দিয়ে তৈরি ক্লেনজিং এজেন্ট হচ্ছে সোপ, যাতে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড আর ন্যাচারাল ফ্যাটের মিক্সচার থাকে। সাবান তৈরির প্রক্রিয়াকে ‘স্যাপোনিফিকেশন’ (Saponification) বলে।

সোপ বেইজড ক্লেনজার vs সোপ ফ্রি ক্লেনজার

নরমালি সোপ ফ্রি ক্লেনজারে জেন্টল সারফেকট্যান্ট, ইমোলিয়েন্ট, প্ল্যান্ট এক্সট্র্যাক্ট এগুলো ব্যবহৃত হয়। সোপ বেইজড প্রোডাক্টে সারফেকট্যান্ট হিসেবে সোপ ব্যবহার করা হয়। এই দু’টি প্রোডাক্টের মধ্যে মেইন ডিফারেন্স হলো এর পি এইচ লেভেল। সোপ বেইজড ক্লেনজারের পি এইচ যেখানে ৯-১০ এর মতো, সেখানে সোপ ফ্রি ক্লেনজারের পি এইচ ৫.৫ এর কাছাকাছি।

সোপ জাতীয় প্রোডাক্ট ও স্কিনের পি এইচ লেভেল

হিউম্যান স্কিনের পি এইচ ৪.৫ থেকে ৫.৫। পি এইচ লেভেলের রেঞ্জ ০-১৪ পর্যন্ত। ৭ হচ্ছে নিউট্রাল, ৭ এর কম হলে অ্যাসিডিক আর ৭ এর বেশি হলে ক্ষারীয়। আপনি যখন সোপ জাতীয় প্রোডাক্ট ফেইসে ব্যবহার করছেন, সেটা খুব স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের পি এইচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পি এইচ লেভেল

এতে কী ধরনের ক্ষতি হয়?

পি এইচ লেভেল যখন ৭ এর উপরে চলে যাচ্ছে, তখন আমাদের ত্বকের ন্যাচারাল সেবাম বা অয়েল প্রোডাকশন হ্যাম্পার হয়। স্কিন যথেষ্ট পরিমাণে সেবাম উৎপাদন না করলে তখন ড্রাইনেস, ইরিটেশন, রাফনেস এই সমস্যাগুলো দেখা দেয় খুব স্বাভাবিকভাবেই। এ কারণেই ক্লেনজিং এর পর পরই টোনার অ্যাপ্লাই করতে বলা হয়, যাতে স্কিনের এই পি এইচ লেভেল রিস্টোর করা যায়। আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখি, সেনসিটিভ স্কিন পি এইচ লেভেলের এক্সট্রিম চেঞ্জ টলারেট করতে পারে না। তাই এক্ষেত্রে রিঅ্যাকশন হতে পারে, যেমন ইচিনেস।

সোপ বেইজড ক্লেনজার এড়িয়ে চলবো তাহলে?

এটি পুরোপুরি ডিপেন্ড করছে আপনার স্কিন টাইপের উপর। যেমন- অয়েলি ও কম্বিনেশন স্কিনে সোপ বেইজড ক্লেনজার ব্যবহারে তেমন সমস্যা হয় না। কারণ এই ধরনের ত্বকে ন্যাচারালি অয়েল প্রোডাকশন বেশি হয় যা সোপ বেইজড ক্লেনজার প্রোপারলি রিমুভ করতে পারে। এরপর টোনার অ্যাপ্লাই করলে পি এইচ লেভেল রিস্টোর হয় এবং স্কিন হেলদি থাকে, তেমন কোনো ইস্যু হয় না।

যাদের স্কিন ড্রাই, তাদের ক্ষেত্রে সোপ ফ্রি ক্লেনজার সাজেস্ট করা হয়। ড্রাই স্কিনে স্বাভাবিকভাবে যে অল্প পরিমাণে সেবাম প্রোডিউস হয়, স্ট্রং সারফেকট্যান্ট বা সোপ যদি পুরোপুরি সেটি ওয়াশ করে ফেলে, তাহলে অন্যান্য স্কিন কনসার্ন ট্রিগার হয়ে যেতে পারে। যেমন- ইচিনেস, এক্সেস ড্রাইনেস, ড্যামেজড স্কিন ব্যারিয়ার ইত্যাদি।

তাই অয়েলি ও কম্বিনেশন স্কিনের যত্নে আপনি সোপ বেইজড প্রোডাক্ট ইউজ করতে পারলেও ড্রাই ও সেনসিটিভ স্কিন হলে সেই সেইম প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলাই বেটার। যেহেতু রেগুলার বেসিসেই ক্লেনজার ব্যবহার করতে হচ্ছে, তাই এই প্রোডাক্টটি চুজ করার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক থাকতে হবে।

সেনসিটিভ ও ড্রাই স্কিনের জন্য ক্লেনজার বাছাই

স্কিন ক্যাফে ক্লেনজার

প্যারাবেন ও সিন্থেটিক প্রিজারভেটিভ ফ্রি, পি এইচ ব্যালেন্সড ক্লেনজার আপনার স্কিনের জন্য একদম পারফেক্ট। যেগুলো ওভারড্রাই না করেই ত্বককে জেন্টলি ক্লিন করতে পারে। আর হ্যাঁ, ক্লেনজিং এর নেক্সট স্টেপ হচ্ছে টোনিং, যেটি অনেকেই স্কিপ করেন। হেলদি স্কিন পেতে হলে এই বেসিক স্কিনকেয়ার স্টেপগুলো কিন্তু মেনে চলতেই হবে।

আশা করছি, আপনাদের কনফিউশনগুলো আজ ক্লিয়ার করতে পেরেছি। অথেনটিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট অনলাইনে কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ফিজিক্যাল শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুরের কিংশুক টাওয়ার, ওয়ারীর র‍্যাংকিন স্ট্রিট, ইস্টার্ন মল্লিকা, বসুন্ধরা সিটি, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে), সীমান্ত সম্ভার, চট্টগ্রামের খুলশি টাউন সেন্টার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

 

ছবি- সাটারস্টক, সাজগোজ, indiatimes.com

1 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...