ফেইস, গলা এবং আন্ডারআর্মস সহ শরীরের প্রাইভেট পার্টের দাগ নিয়ে চিন্তিত?

ফেইস, গলা এবং আন্ডারআর্মস সহ শরীরের প্রাইভেট পার্টের দাগ নিয়ে চিন্তিত?

1 (24)

একটু সময় নিয়ে নিজের ত্বকের দিকে একটু চোখ বুলিয়ে দেখুন তো! মুখের চেয়ে গলার জায়গাটা একটু যেন কালচে মনে হচ্ছে? হাতের উপরের অংশ থেকে হাতের পাতাও তুলনামূলকভাবে একটু ডার্ক? আর তার সাথে, আন্ডারআর্মস আর প্রাইভেট পার্ট কালচে হয়ে যাওয়ার মত সমস্যাতো আছেই। এছাড়াও আমাদের অনেকের স্কিনেই রয়েছে অনেক বছরের নানা রকম পুরাতন দাগও। এমন সমস্যা কম বেশি আমাদের সবার জন্যেই খুব কমন। এমনটা হতে পারে সানট্যান বা সানবার্ন এর কারণে। আবার গরমে ঘাম থেকে এবং জেনেটিক্যাল নানা কারণেও হতে পারে এমন। তাই আজকে আমরা জেনে নিব, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এসব স্পট বা দাগ হওয়ার কারণ এবং এর সমাধান নিয়ে। এছাড়াও জেনে নিব, দারুণ একটি ক্রিম নিয়ে যা আমাদের ফেইস, গলা, আন্ডারআর্মস সহ শরীরের অন্যান্য প্রাইভেট পার্টের দাগ দূর করতে সাহায্য তো করবেই, পাশাপাশি স্কিনকে করবে ব্রাইট।

প্রথমেই জেনে নেই, শরীরের কালো দাগ বা হাইপার পিগমেন্টেশন কী?

শরীরের কালো দাগকেই মূলত আমরা “হাইপার পিগমেন্টেশন” বলে থাকি। শুনতে খুব কঠিন মনে হলেও “হাইপার পিগমেন্টেশন” এর মানে হল, যখন শরীরের কোন এক স্থানের পিগমেন্টেশনের পরিমাণ অন্য স্থান থেকে বেড়ে যায়। অর্থাৎ, ওই নির্দিষ্ট স্থানের মেলানিন প্রোডাকশন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। আর এই বেশি মেলানিন প্রোডাকশনই ওই স্থানটিকে কালচে করে দেয়।

এমন স্পট বা দাগ কেন হয়?

আমাদের সবাইকেই শুরুতে এ ব্যাপারটি মানতে হবে যে, একেবারে ফিক্সড পারফেক্ট শরীর বা পারফেক্ট স্কিন টোন বলতে আসলে কিছু নেই। আমাদের অনেকেরই যে কোন সময় যে কোন কারণে শরীরের নানা স্থানে দাগ বা স্পট দেখা দিতেই পারে। যেমন-

১) এটি বয়সের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে।

২) সারাদিনে নানা কাজ বা চলাফেরার মাঝে যেকোন সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে।

৩) কাঁটাছেড়া বা কোথাও পুড়ে গেলে।

৪) অনেক সময় ক্ষত শুকিয়ে গেলেও এর দাগ থেকে যেতে পারে।

৫) বাইরে সূর্যের সংস্পর্শে কোন রকম প্রোটেকশন ছাড়া চলাচল করলে আমাদের শরীরের মেলানিন প্রোডাকশনকে বুস্ট হয়ে শরীরের নানা অংশ কালচে হয়ে যায়।

৬) আবার আমাদের অনেকেরই হরমোনাল রিলেটেড প্রবলেম থাকতে পারে। যেমন, মেলাজমার (melasma)। মেলাজমার কারণে শরীরের চামড়ার রঙ চেইঞ্জ হতে থাকে।

৭) মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট এ থাকাকালীন অনেক সময় মেডিসিনের নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে স্কিনের মেলানিন প্রোডাকশন বেড়ে যেতে পারে।

৮) শরীরে ইনফফ্ল্যামেশন যেমন- একজিমা, একনে এসব কারণেও নানা স্পট দেখা দেয়।

৯) জেনেটিক্যাল কারণেও হতে পারে এমন দাগ বা স্পট।

শরীরের কোন কোন স্থানে স্বাভাবিকভাবেই কালো দাগ দেখা দিতে পারে?

সাধারণত, শরীরের যে সকল জায়গা উন্মুক্ত বা খোলা অবস্থায় থাকে সে সকল জায়গায় কালচে ভাব বেশি দেখা যায়। যেমন-

• হাতের কনুই থেকে হাতের পাতা পর্যন্ত
• পায়ের হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত
• গলায় বা ঘাড়ে
• এছাড়াও অনেকের পিঠেও এমন কালচে ভাব দেখা দেয়

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, আন্ডারআর্মস বা আমাদের প্রাইভেট অংশগুলোতো খোলা অবস্থায় থাকে না। তবে কেন ওই অংশগুলোও কালচে দেখায়? খেয়াল করলেই দেখবেন, শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় শরীরের এই প্রাইভেট অংশগুলো বেশি ঘামে, পাশাপাশি রেগুলার ওয়াক্সিং বা রেজর ব্যবহারের ফলে শরীরের এই অংশগুলো সহজেই দ্রুত কালচে হয়ে যায়। আবার, রেগুলার খুব বেশি টাইট বা আনকমফোর্টেবল আন্ডারগার্মেন্টস পরিধান করার কারণেও হতে পারে এমন।

শরীরের এই কালো দাগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী?

প্রতিদিন নিয়মিত খুব ছোট ছোট কয়েকটি বিষয় এর দিকে খেয়াল রাখলেই একই সাথে যেমন সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করা যাবে, তেমনি পরিত্রাণও পাওয়া যাবে সহজেই। যেমন-

১) দিনের বেলা বাইরে বের হলে অথবা সূর্যের সংস্পর্শে গেলে অবশ্যই স্কিনের টাইপ এর সাথে মানানসই একটি সানস্ক্রিন  ব্যবহার করুন।
২) রোদে ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩) ভিটামিন সি যুক্ত খাবার ত্বকের মেলানিন প্রডাকশন কমিয়ে আনতে দারুন ভাবে সহায়ক।
৪) এছাড়াও ভিটামিন এ ও ই যুক্ত ক্রিম আমাদের ত্বকের কালচে দাগ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

শরীরের কালচে দাগ দূর করতে এবং দ্রুত কার্যকরী রেজাল্ট দিতে মার্কেটে পাওয়া যায় ভাল ব্র্যান্ডের নানা ক্রিম। তাদের মধ্যে আমার অনেক বেশি পছন্দ Lilac 3X Spot Lightener ক্রিমটি। চলুন চট করে জেনে নেয়া যাক, এই ক্রিমটিতে থাকা ইনগ্রেডীয়েন্টস এর কাজ এবং এর উপকারিতা নিয়ে।

ক্রিমটিতে থাকা ইনগ্রেডিয়েন্টস এবং তাদের কাজ

Lilac 3X Spot Lightener ক্রিমটিতে রয়েছে আলফা আরবুটিন, নিয়াসিনামাইড এবং পাম্পকিন সিড অয়েল এর মত উপকারী সব ইনগ্রেডিয়েন্টস। এগুলো একসাথে আমাদের স্কিনের-

• কঠিন সব দাগ দূর করতে কাজ করে
• স্কিনকে করে ব্রাইট
• এছাড়াও স্কিনকে ময়েশ্চারাইজড রাখতেও এর তুলনা নেই

আলফা আরবুটিন এর কাজ

আলফা আরবুটিন আমাদের স্কিনের মেলানিন প্রোডাকশন কমিয়ে এনে স্কিনকে করে ব্রাইট ও গ্লোয়ি। এছাড়াও আলফা আরবুটিন কোন রকম ইরিটেশন ছাড়াই স্কিনের হাইপার পিগমেন্টেশনের মত সমস্যা কমিয়ে আনতে হেল্প করে। পাশাপাশি কমিয়ে আনে সানবার্ন বা ব্রেকআউটের মত সমস্যাও।

নিয়াসিনামাইড এর কাজ

নিয়াসিনামাইড ভিটামিন বি৩ এর একটি একটিভ ফর্ম। আলফা আরবুটিন এর মত নিয়াসিনামাইডও আমাদের ত্বকের পিগমেন্টেশনের সমস্যা কমিয়ে, ত্বকে এনে দেয় ব্রাইট লুক। এছাড়াও ত্বকের নানা ধরনের ফাইন লাইনস এবং বয়সের ছাপের সমস্যা কমিয়ে আনতে নিয়াসিনামাইড খুব ইফেক্টিভ একটি ইনগ্রেডিয়েন্ট।

পাম্পকিন সিড অয়েলের কাজ 

পাম্পকিন সিড অয়েল-এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলস। এছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ও ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো আমাদের স্কিন টোনকে ইভেন বা ব্রাইট করার পাশাপাশি নারিশ করতেও হেল্প করে। আমাদের অনেকের স্কিনেই ব্রাউন স্পট এর প্রবলেম দেখা যায়। পাম্পকিন সিড অয়েল এমন সব দাগ কমিয়ে আনতে হেল্প করে। এছাড়াও মুখে থেকে যাওয়া ব্রণের দাগ, র‍্যাশ এর দাগ দূর করতেও কাজ করে।

ক্রিমটি থেকে কী কী বেনিফিটস পাবো?

এ ক্রিমটির স্পেশাল দিক হল, যেকোন স্পট বা দাগ দূর করতে এটি খুব দ্রুত কাজ করে। Lilac 3X Spot Lightener ক্রিমটি থেকে একসাথেই পেয়ে যাবেন দারুণ কিছু বেনিফিটস। দেখে নিন তাহলে-

১) ত্বকের মেলানিন প্রোডাকশন কমিয়ে হাইপার পিগমেন্টেশন দূর করতে হেল্প করবে।

২) স্কিন কমপ্লেকশন বাড়িয়ে স্কিনকে ব্রাইট করে।

৩) ২৫ বা ৩০ বছর থেকে আমাদের অনেকের ত্বকেই হালকা হালকা ফাইন লাইনস বা বয়সের ছাপ পড়ার মত সমস্যা দেখা দেয়। এই ক্রিমটি বয়ছের ছাপ দূর করতে হেল্প করে।

৪) অনেক টিনেজাররা কমপ্লেইন করে থাকেন ১৩-১৫ বছর থেকেই তাদের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যাচ্ছে বা কুঁচকে যাচ্ছে। তারাও নিশ্চিন্তে এই ক্রিমটি ব্যবহার করতে পারবেন।

৫) স্কিনের অনেক পুরাতন দাগসহ সানট্যানের মত সমস্যা কমিয়ে আনবে।

৬) আন্ডার আর্মস বা আমাদের শরীরের প্রাইভেট জায়গাগুলোর দাগ বা স্পট দূর করতেও হেল্প করবে।

৭) হাতের কনুই বা হাঁটুর কালচে দাগ দূর করতে এটি খুব হেল্পফুল।

৮) যাদের গলা ও ঘাড় তুলনামূলকভাবে একটু কালচে, এই ক্রিমটি ব্যবহারে তাদের স্কিন টোন অনেকটাই ইভেন হয়ে আসবে। এছাড়াও ক্রিমটি মেলাজমার মত সমস্যা দূর করতেও সহায়ক।

৯) স্কিনে খুব সুন্দর একটি ব্রাইট ইফেক্ট এনে দেয়।

কীভাবে ব্যবহার করতে হয়?

Lilac 3X Spot Lightener ক্রিমটি ব্যবহার করার প্রসেস একদমই সহজ। ময়েশ্চারাইজারের মত ব্যবহার করতে পারবেন। শরীরের যে অংশগুলো তুলনামূলকভাবে একটু ডার্ক ওই জায়গাগুলোতে প্রতিদিন দুইবার ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।

জেনে নেয়া ভালো

• ক্রিমটি ছেলে মেয়ে সবাই ব্যবহার করতে পারবে
• ফেইস বা শরীরের যে অংশে স্পট বা দাগ রয়েছে শুধু ওই জায়গাগুলোতেই ব্যবহার করবেন
• সব ধরণের স্কিন টাইপের জন্য মানানসই
• হুট করে দুই- একদিনের মধ্যেই দাগ মিলিয়ে যাবে ব্যাপারটি এমন নয়। ভালো রেজাল্ট এর জন্যে, নিয়ম করে রেগুলার ব্যবহার করতে হবে।

ক্রিমটির প্যাকেজিং, দাম ও পরিমাণ কেমন?

খুবই সিম্পল অনেকটা আকাশী রঙের প্যাকেটে পাবেন এই ক্রিমটি। প্যাকেট-টি খুললে একটি টিউব পেয়ে যাবেন। যেখানে ৫০ গ্রাম পরিমাণে প্রোডাক্ট থাকবে। প্যাকেটের গায়ে ইনগ্রেডিয়েন্টস লিস্ট, ক্রিমটির বেনিফিটসহ কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তাও খুব সুন্দর করে লিখে দেয়া আছে। আর দামটাও হাতের নাগালে। যারা বাজেট ফ্রেন্ডলি ও কার্যকরী প্রোডাক্ট খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি বেস্ট চয়েজ!

কালার, টেক্সচার ও স্মেল কেমন?

Lilac 3X Spot Lightener ক্রিমটি দেখতে একদম সাদা, ক্রিমি টেক্সচার। অল্প একটু নিলেই সুন্দর করে মিশে যায় এবং এর স্মেল অনেকটাই মাইল্ড।

শরীরের নানা জায়গায় স্পট বা কালচে দাগ আমাদের অনেকের জন্যেই খুব কমন একটা সমস্যা। অনেকেই এমন সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে নানা রকম মেকআপ আইটেমস ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কেমন হয় যদি দাগ ঢেকে ফেলার পরিবর্তে দূর করে ফেলা যায় একেবারের জন্যে? তাই আশা করছি, আজকের লেখাটি আপনাদের অনেকের জন্যেই হেল্পফুল। তবে অবশ্যই স্কিনকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত স্কিন কেয়ার করতে ভুলবেন না এবং বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন মাস্ট। পাশাপাশি যারা শরীরের কালচে দাগ দূর করতে একটি কার্যকরী ভালো মানের ক্রিম খুঁজছিলেন তারা নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন, লাইলাকের স্পট লাইটেনিং ক্রিমটি।

অথেনটিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে আমার সবসময়ই ভরসা শপ.সাজগোজ.কম। অনলাইনে অর্ডার করে ঘরে বসেই প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যাই। তাছাড়া সাজগোজের চারটি আউটলেট আছে। আউটলেটগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক,  সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) এ অবস্থিত।

ছবি- সাজগোজ

58 I like it
6 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...