সঠিকভাবে কাজল ব্যবহারের ৬টি ধাপ জানা আছে তো? - Shajgoj

সঠিকভাবে কাজল ব্যবহারের ৬টি ধাপ জানা আছে তো?

kajal-3

মেকআপ করতে ভালবাসেন বা নাই বাসেন, কিন্তু কাজল দিয়ে চোখ দুটি সাজাতে পছন্দ করে না এমন নারী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। চোখের সাথে কাজলের সম্পর্কটা কিন্তু যুগ যুগ ধরেই! ছোটবেলা আমরা অনেকেই আমাদের দাদী নানীকে দেখেছি হাতে তৈরি কাজল ব্যবহার করতে। আবার সুরমার প্রচলনও কিন্তু ছিল বেশ। সময়ের সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে গেছে। এখন হাতের কাছেই রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড-এর রেডিমেড সব প্রোডাক্টস, নানা রঙের বাহারি কাজল। কিন্তু যদি প্রোডাক্টটি সঠিকভাবে ব্যবহার করার নিয়ম নাই জানি, তবে শুধু শুধু দাম দিয়ে ভালো ব্র্যান্ড-এর প্রোডাক্টস কিনে কোনো লাভ হয় না। কাজল ব্যবহারে ছোট ছোট কিছু ভুলের কারণে অনেক সময় চোখ দুটিকে মন মতো ফুটিয়ে তোলা যায় না। তাই আজকে আমরা জেনে নিব সঠিকভাবে কাজল ব্যবহারের ৬টি ধাপ সম্বন্ধে!

কীভাবে স্টেপ বাই স্টেপ কাজল ব্যবহার করবেন? 

স্টেপ ১ঃ চোখের এরিয়া ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন

ফেইসে যেকোনো প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে প্রথম শর্ত, স্কিনকে ভালোভাবে প্রস্তুত করে নেয়া। ফেইসে ডার্ট জমে থাকলে প্রোডাক্ট প্রোপারলি বসতে চায় না। তাই আগেই একটি ভালো ফেইসওয়াস দিয়ে মুখটিকে পরিষ্কার করে নিন। তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তারা এটি কোনোভাবেই স্কিপ করবেন না। যাদের চোখে ফোলা ফোলা ভাব বা রিংকেলসের সমস্যা রয়েছে, তারা চেষ্টা করবেন আই ক্রিম ব্যবহার করতে।

স্টেপ ২ঃ মসৃণ ত্বক পেতে অ্যাপ্লাই করুন প্রাইমার 

তৈলাক্ত ত্বক যাদের তারা প্রায়ই কমপ্লেইন করে থাকেন, কাজল দেওয়ার কিছুক্ষণের মাঝেই তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে! যতই ভালো ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন না কেন সমস্যাটি যেন রয়েই যাচ্ছে। তাদের জন্যে প্রাইমার বা আই প্রাইমার ব্যবহার করা মাস্ট। প্রাইমার আমাদের ত্বকের ওপেন পোরস থেকে সিবামের প্রোডাকশন কন্ট্রোল করে। তাই সহজেই কাজল ছড়িয়ে পড়ে না। পাশাপাশি প্রাইমার আমাদের ত্বককে মসৃণ করে। এর ফলে কাজল অ্যাপ্লাই করলে তা সাথে সাথে সুন্দরভাবে বসে যায় এবং লং লাস্টিং হয়।

স্টেপ ৩ঃ কনসিলার ব্যবহার করতে ভুলবেন না

কাজল দেয়ার আগে চোখের বেইজ তৈরি করে নিতে হবে। তা না হলে চোখ মলিন এবং ক্লান্ত দেখাবে। কাজল ফুটিয়ে তুলতে লাইট কভারেজের কনসিলার অ্যাপ্লাই করে নিন। হাতের কাছে কনসিলার না থাকলে হালকা একটু ফাউন্ডেশন নিয়ে বা অল্প একটু বিবি বা সিসি ক্রিম দিয়ে বেইজটাকে ঠিক করে নিন।

স্টেপ ৪ঃ পাউডার দিয়ে চোখের ক্রিজ এরিয়া সেট করে নিন

কনসিলার অ্যাপ্লাই করার পর স্কিনে অনেকটা স্টিকি ভাব থেকে যায়। কাজল লং লাস্টিং করতে এবং এই স্টিকি ভাব কমাতে অবশ্যই লুজ পাউডার বা প্রেসড পাউডার দিয়ে চোখের ক্রিজ এবং নিচের এরিয়া সেট করে নিতে হবে। এতে চেহারায় একটা গ্লোয়ি ভাব চলে আসবে। আর চোখে কাজল দিলেও ফুটে উঠবে।

স্টেপ ৫ঃ ওয়াটার লাইনে ডিরেক্টলি কাজল না লাগানোই ভালো

আমরা অনেকেই আছি, তাড়াহুড়ায় অনেকসময় শুধু ওয়াটার লাইনে কাজল দিয়ে বের হয়ে যাই। আর কাজলটি যদি হয়ে থাকে একটু অয়েলি ধরনের, তবে তা কিছুক্ষণের মাঝেই চোখের নিচে বাজেভাবে ছড়িয়ে পরে। এতে চেহারার স্বাভাবিক সৌন্দর্য মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই যাদের তৈলাক্ত ত্বক, তাদের জন্যে ওয়াটার লাইনে কাজল না দেয়াই ভালো। যদি লাগাতেই হয়, তবে চেষ্টা করতে হবে ভালো ব্র্যান্ড-এর ওয়াটার প্রুফ কাজল বেছে নিতে।

স্টেপ ৬ঃ সেটিং স্প্রে দিয়ে সেট করে নিন

সারাদিন কাজল দিয়ে রাখতে চাইলে সবশেষে সেটিং স্প্রে দিয়ে সেট করে নিন। অবশ্যই চোখ বন্ধ করে সারামুখে স্প্রে করবেন। এতে করে আপনি সারাদিনের জন্যে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন, বেইজ মেকআপ নষ্ট হবে না আর কাজল ছড়িয়ে যাবে না। জাস্ট মাঝে মধ্যে একটু টিস্যু দিয়ে ড্যাব করে নিলেন আর টাচ আপ করলেন। ব্যস, কাজল দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আপনাকেও প্রাণবন্ত লাগবে দিনভর!

স্টেপ বাই স্টেপ এই পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজল অ্যাপ্লাই করলে আমাদের চোখ দুটি যেমন আকর্ষণীয় দেখাবে, তেমনি সারাদিন আপনি থাকবেন স্বস্তিতে। চেহারার অন্যান্য জায়গার তুলনায় চোখের অংশটি তুলনামূলকভাবে একটু বেশি সেনসিটিভ। তাই সাজের বেলায় ঠিক যতটা সাবধান থাকতে হবে, তেমনি প্রোডাক্ট বাছাই করতেও হতে হবে সতর্ক। অথেনটিক প্রোডাক্টের জন্য আপনারা চাইলে সাজগোজের চারটি ফিজিক্যাল শপ ভিজিট করতে পারেন। শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) এ অবস্থিত। আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

ছবি- সাজগোজ

46 I like it
12 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...