ড্রাই স্কিনের মেকআপ প্রোডাক্টে কোন ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো থাকা যাবে না?

ড্রাই স্কিনের মেকআপ প্রোডাক্টে কোন ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো থাকা যাবে না?

1

ত্বকের ধরন অনুযায়ী যেমন স্কিন কেয়ার করতে হয়, ঠিক তেমনই খেয়াল রাখতে হয় মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকে মেকআপের ক্ষেত্রে একটু বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ এ ধরনের স্কিনে মেকআপ করার পর ফেইসের ডেড সেলসগুলো বেশি ভিজিবল হয়, যেটা খুব বিব্রতকর। আবার বেইজ মেকআপ করা নিয়েও অনেকে ঝামেলায় পড়েন। একটু সচেতন হলে মেকআপ করার সময় এসব ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। এর জন্য সবার আগে মেকআপ প্রোডাক্টসের উপাদানগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ কিছু উপাদান আছে যেগুলো ড্রাই স্কিন আরও বেশি ড্রাই করে তুলতে পারে বা ইরিটেশন বাড়িয়ে দিতে পারে। ড্রাই স্কিনের মেকআপ প্রোডাক্টে যে ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো থাকলে স্কিনের জন্য হার্মফুল হতে পারে সেটাই জানাবো আজকের ফিচারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক শুষ্ক কিনা?

‘ড্রাই স্কিন’ শব্দটি শুনলেই বোঝা যায় শুষ্ক ত্বকের কথা বলা হচ্ছে। স্কিনে ন্যাচারালি সিবাম প্রোডিউস হয় বলে স্কিন ময়েশ্চারাইজড থাকে। যার কারণে স্কিনে ড্রাই ফিল হয় না। যাদের স্কিনে ন্যাচারালি এই অয়েল কম থাকে তাদের স্কিন ড্রাই ফিল হয়। কিছু লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে স্কিন ড্রাই কিনা-

ড্রাই স্কিনের মেকআপ

  • সব সময় ত্বক শুষ্ক থাকে
  • স্কিন অতিরিক্ত ড্রাই হলে চামড়া উঠে আসে এবং খসখসে লাগে
  • স্কিন বেশ রাফ দেখায় এবং ইচিনেসের প্রবলেম হতে পারে
  • দ্রুত ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে

ড্রাই স্কিন হলে কোন উপাদানগুলো বাদ দিবেন? 

ড্রাই স্কিনে সব সময় এমন প্রোডাক্ট ইউজ করতে হবে যেগুলো স্কিন হাইড্রেটেড রাখে। শুধু স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টই নয়, মেকআপ প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও মেনে চলতে হবে এই রুলস। আবার মেকআপ প্রোডাক্টসে এমন কিছু ইনগ্রেডিয়েন্ট আছে যেগুলো ড্রাই স্কিনের জন্য বেনিফিসিয়াল নয়। চলুন জেনে নেই কোন সে উপাদানগুলো যেগুলো ড্রাই স্কিনের ক্ষেত্রে অ্যাভয়েড করতে হবে-

১) অ্যালকোহল

বিভিন্ন মেকআপ প্রোডাক্টসে অ্যালকোহল থাকে এটা তো আমরা জানি। অ্যালকোহল থাকলে প্রোডাক্ট ইউজ করার সময় বেশ লাইট ফিল হয়। যার কারণে স্কিনে প্রোডাক্ট দ্রুত অ্যাবজর্ব হয়। আবার প্রিজারভেটিভ হিসেবেও এটি বেশ ভালো কাজ করে। কিন্তু অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যা হচ্ছে, এটি স্কিনকে বেশ ড্রাই ও ডিহাইড্রেটেড করে তোলে। তাই যাদের ড্রাই স্কিন, তাদের স্কিনে দেখা দেয় ইরিটেশন, রেডনেস, সেনসিটিভিটি, একজিমা, সোরিয়াসিস ও রোজাশিয়ার মতো বিভিন্ন সমস্যা। এদিকে ড্রাই স্কিনে এমনিতেই ইরিটেশন বেশি হয়। অ্যালকোহলের কারণে এ ধরনের স্কিনে প্রবলেম আরও বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত কুইক ড্রাই মেকআপ প্রোডাক্টগুলোতে অ্যালকোহল ব্যবহৃত হয়। তাই কোনো মেকআপ প্রোডাক্টের গায়ে যদি Ethanol, isopropyl alcohol ও benzyl alcohol এর কথা লেখা থাকে তাহলে ড্রাই স্কিনে সেগুলো অবশ্যই অ্যাভয়েড করতে হবে।

২) গ্লাইকোলিক অ্যাসিড

আপনার স্কিন কি অয়েলি? তাহলে মেকআপ প্রোডাক্টে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড থাকলে নিঃসন্দেহে সেটি আপনি ইউজ করতে পারেন। কারণ এই ইনগ্রেডিয়েন্টটি ব্ল্যাকহেডস রিমুভ করে এবং ক্লগড পোরসকে আনক্লগ করতে হেল্প করে। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড জেন্টল একটি কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট যেটি স্কিনকে ক্লিয়ার করে। কিন্তু মেকআপ প্রোডাক্টসে এটির উপস্থিতি মানে স্কিনে ড্রাই ফিল হওয়া। তাহলে আপনার স্কিন যদি ড্রাই হয়, এটি কিন্তু কোনোভাবেই স্কিনে বেনিফিট দিবে না! কারণ এটি ব্যবহারে স্কিন হয়ে উঠবে আরও ড্রাই। যদি ব্যবহার করতেই হয়, তবে অবশ্যই একজন ডার্মাটোলজিস্টের সাথে কনসাল্ট করে নিতে হবে।

৩) স্যালিসাইলিক অ্যাসিড

কোন কোন ইনগ্রেডিয়েন্ট অ্যাভয়েড করতে হবে এই তালিকায় স্যালিসাইলিক অ্যাসিডের নাম দেখে একটু অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, এটি তো খারাপ কোনো ইনগ্রেডিয়েন্ট নয়! তাহলে? এই ইনগ্রেডিয়েন্টটি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে ফর্মুলেটেড থাকে। যাদের অয়েলি ও একনে-প্রন স্কিন, তাদের স্কিনের অয়েল প্রোডাকশন কন্ট্রোল করতে হেল্প করে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড। আপনি যদি ড্রাই স্কিনে এটি ইউজ করেন, তাহলে স্কিন আরও বেশি ড্রাই হয়ে পিলিং এর প্রবলেম বেড়ে যাবে। মেকআপ প্রোডাক্টে যখন এটি ইনক্লুড থাকবে তখন বুঝতে হবে ড্রাই স্কিনের জন্য এটি স্যুইটেবল হবে না। তাই মেকআপ প্রোডাক্ট কেনার আগে অবশ্যই লেভেল দেখে নিন।

৪) ফ্রেগ্রেন্স

স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে গেলে টেক্সচার ও ফ্রেগ্রেন্স চেক করে তবেই প্রোডাক্ট চুজ করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত জয় হয় ফ্রেগ্রেন্সরই। কি, ভুল বললাম? আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ফ্রেগ্রেন্স ভালো লাগলেই প্রোডাক্ট কিনে ফেলি। এই তালিকায় কিছু ক্ষেত্রে মেকআপ প্রোডাক্টসও এগিয়ে আছে। কিন্তু এই আর্টিফিসিয়াল ফ্রেগ্রেন্স আপনার স্কিনের জন্য কতটুকু বেনিফিসিয়াল সেটা কি জানেন? বিশেষ করে যাদের ড্রাই ও সেনসিটিভ স্কিন তাদের কেনার আগে একটু ভাবা উচিত। ড্রাই স্কিনে আর্টিফিসিয়াল ফ্রেগ্রেন্স যুক্ত প্রোডাক্ট ইউজ করলে ইরিটেশনের সাথে সাথে একজিমাও দেখা দিতে পারে। স্কিনে যদি অ্যালার্জির প্রবলেম থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই ফ্রেগ্রেন্সযুক্ত মেকআপ প্রোডাক্ট অ্যাভয়েড করতে হবে।

ফ্রেগ্রেন্সযুক্ত প্রোডাক্ট

৫) প্যারাবেনস

বিভিন্ন বিউটি প্রোডাক্টে প্যারাবেনসের নাম দেখা যায়। প্রোডাক্টের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। প্যারাবেনসের কিছু ভ্যারিয়েন্ট স্কিনের ইরিটেশন ও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। তাই আপনার যদি ড্রাই বা সেনসিটিভ স্কিন হয় তাহলে এই ইনগ্রেডিয়েন্টটি এড়িয়ে চলা ভালো।

মেকআপ কিংবা স্কিন কেয়ারের যেকোনো প্রোডাক্ট কেনার পূর্বে অব্যশই লেভেল দেখে নিবেন। যে উপাদানগুলো আপনার স্কিনের জন্য ক্ষতিকারক সেই প্রোডাক্টগুলো কেনা থেকে বিরত থাকুন।

ড্রাই স্কিনে মেকআপ করার কিছু টিপস অ্যান্ড ট্রিকস  

১। ফাউন্ডেশন কিংবা অন্য কোনো মেকআপ প্রোডাক্ট ড্রাই স্কিনে ভালোভাবে বসে না। তাই মেকআপ করার পূর্বে স্কিন এক্সফোলিয়েট করে নিন। এটি স্কিন পরিষ্কার করার সাথে সাথে ডেড সেলসও রিমুভ করবে।

২। যাদের ড্রাই স্কিন তারা স্কিন ময়েশ্চারাইজড ও সফট রাখার জন্য ডেইলি স্কিন কেয়ার রুটিনে ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই রাখেন। মেকআপ করার আগেও এই রুটিন ফলো করতে হবে। ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করলে মেকআপ বেইজ ভালোভাবে বসবে এবং স্কিন হাইড্রেটেড থাকবে। যদি দিনের বেলায় মেকআপ করতে হয়, তাহলে এমন ময়েশ্চারাইজার চুজ করুন যেটিতে এসপিএফ আছে।

ড্রাই স্কিনে মেকআপের আগে প্রাইমার অ্যাপ্লাই

৩। ড্রাই স্কিন হলে ফাউন্ডেশন ইউজ করার আগে অবশ্যই হাইড্রেটিং একটি প্রাইমার ইউজ করুন। প্রাইমার শুধু মেকআপকে লং টাইম সেট রাখে তাই নয়, মেকআপ অ্যাপ্লাই করার জন্য স্মুথ একটি বেইজ ক্রিয়েট করে।

৪। ফাউন্ডেশন কিংবা কনসিলার ব্যবহার করতে মেকআপ স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। ড্রাই স্কিনে ব্রাশ ব্যবহার করার পরিবর্তে স্পঞ্জ ব্যবহার করা বেশি ভালো।

৫। ড্রাই স্কিনে লুজ পাউডারের পরিবর্তে মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। কারণ পাউডার ত্বকের আর্দ্রতা শোষণ করে ত্বককে আরো বেশি শুষ্ক করে তোলে।

৬। ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁট যেন ড্রাই না হয়ে যায়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। সব সময় লিপ বাম ব্যবহার করুন। এতে লিপস্টিক অ্যাপ্লাই করলে ক্র্যাকি হবে না।

 

ড্রাই স্কিনের মেকআপ নিয়ে অনেকেই টেনশনে থাকেন। প্রোডাক্ট কেনার আগে ইনগ্রেডিয়েন্ট দেখে নিলে টেনশন অনেকটাই কমে যাবে। মেকআপ, স্কিন ও হেয়ার কেয়ারের যে কোনো অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন সাজগোজ থেকে। সাজগোজের চারটি আউটলেট- যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর থেকে এবং অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন প্রয়োজনীয় যে কোনো প্রোডাক্ট।

ছবিঃ সাজগোজ

1 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...