হাতের ত্বকে রিংকেল পড়া প্রতিরোধ করুন খুব সহজে! - Shajgoj

হাতের ত্বকে রিংকেল পড়া প্রতিরোধ করুন খুব সহজে!

mohaproloy-2

বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিন্তু আমাদের স্কিনে আমরা বেশ পরিবর্তন দেখতে পাই। বিশেষ করে আমাদের ফেইসে এবং হাতে এটা বেশী প্রকাশ পায়। ত্বকে রিংকেল পড়ে যাওয়া এর মধ্যে অন্যতম একটি। কিন্তু অ্যান্টি এজিং ট্রিটমেন্ট বলতে আমরা কেবল মুখের ত্বকের পরিচর্যাকেই যেন বুঝি! সেই সাথে বডি স্কিনেরও যত্ন নেয়াটাও কিন্তু জরুরী, যে জিনিসটাকে আমরা প্রায়শই অবহেলা করে থাকি। বয়সের সাথে সাথে যেটি আমাদের খুব বেশী নজরে আসে, তা হলো হাতে রিংকেল পড়ে যাওয়া। রিংকেল বলতে কি বুঝি আমরা? বলিরেখা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা ভাজ পড়াই মূলত রিংকেল। যখন হাতের টানটান স্কিনের পরিবর্তে হাতের স্কিনে রিংকেল দেখা যায়, তখন সৌন্দর্যে তো অবশ্যই কিছুটা হলেও ভাটা পড়ে। তাই না?

রিংকেল পড়া বা চামড়া পাতলা হয়ে যাওয়া তো আমরা একেবারে দূর করতে পারব না। তবে যেটা পারব তা হলো, এই প্রসেসটাকে স্লো করে দিতে। ঠিকভাবে যত্ন নিলে এবং রুটিন মেনে চললে বয়সের আগে হাতের ত্বকে রিংকেল পড়া তো প্রতিরোধ পারব। তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই, কিভাবে হাতের ত্বকে রিংকেল পড়া প্রতিরোধ করবেন খুব সহজেই।

হাতের ত্বকে রিংকেল পড়ার কারন?

হাতের ত্বকে রিংকেল পড়া প্রতিরোধ করার আগে তো আমাদেরকে হাতের ত্বকে রিংকেল পড়ার কারনগুলো জানা জরুরি। আমরা দৈনন্দিন জীবনে আমাদের হাতকে নানা কাজে ব্যবহার করে থাকি। বলতে গেলে, আমাদের হাত-ই সব থেকে বেশী ইউজ করা হয়।আর আমাদের হাতের স্কিনের খুব দ্রুত ইলাস্টিসিটি লুজ করার এবং ভাজ পড়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু কারন রয়েছে হাতের ত্বকে রিংকেল পড়ার। সেগুলো হলো-

১. বয়স বাড়ার কারনে
২. ডিহাইড্রেশন
৩. অত্যাধিক পরিমানে হাত ধোয়া
৪. ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্টের ব্যবহার
৫. সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে যাওয়া
৬. ডেইলি ডিশওয়াশিং এবং ক্লিনিং এর ফলে
৭. স্মোকিং

কিভাবে হাতের স্কিনে রিংকেল হওয়া প্রতিরোধ করবেন?

১. সান প্রোটেকশন

আপনি জানেন কি, সান প্রোটেকশন ছাড়া বার বার রোদে গেলে সেটি আপনার হাতের স্কিনে পিগমেন্টেশন, রিংকেল এবং স্পটের সৃষ্টি করতে পারে? আপনার হাতের স্কিন যখন সূর্যের আলোতে এক্সপোজ হয় তখন, আপনার ত্বকে থাকা কোলাজেন এবং ইলাস্টিন ফাইভার ভাংতে থাকে। যার ফলে স্কিন লুজ হয়ে যায়। সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশনই কিন্তু ৮০% স্কিন এজিং এর কারন। তাই সান প্রোটেকশন কিন্তু একদমই মাস্ট। এজন্য অবশ্যই দিনের বেলা সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে আলসেমি করবেন না। সানস্ক্রিন আমাদের স্কিনের উপর একটা প্রোটেকটিভ শিল্ড হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষতি থেকে স্কিনকে বাঁচায়।

২. হ্যান্ড ক্রিম

হাতের সুরক্ষা এবং ময়েশ্চারাইজেশন এর জন্য হ্যান্ড ক্রিমের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন, রুক্ষ এবং মলিন হাতে সহজেই রিংকেল পড়ে যাবার চান্স থাকে। হাতের স্কিনে হাইড্রেশন এবং ময়েশ্চারাইজেশন দুটোই জরুরী। আর এজন্যে হ্যান্ড ক্রিম বেষ্ট কাজ করে। কারন, এটি হাতের স্কিনকে ময়শ্চার দেয় এবং সেটি লক করে রাখে দীর্ঘসময় ধরে। চেষ্টা করবেন glycerin এবং alpha-hydroxy acids যুক্ত হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করতে। এই ইনগ্রিডিয়েন্টস গুলো হাতের ত্বকের জন্য বেশ ভালো। প্রতিবার হাত ক্লিন করার পর হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করবেন। যারা পানির কাজ বেশী করেন, তারাও প্রতিবার কাজের শেষে হ্যান্ড ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না।

৩. এক্সফোলিয়েশন

এক্সফোলিয়েশন শুধুমাত্র মুখের ত্বকের জন্য নয়। হাতের ত্বকের জন্যেও এক্সফোলিয়েশন খুবই জরুরী। কারন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের স্কিনের ন্যাচারাল এক্সফোলিয়েশন প্রসেস স্লো হয়ে যায়। যার ফলে, ত্বকে ডেড স্কিন সেলস জমতে থাকে। তাই ভালো মানের একটা স্ক্রাব দিয়ে হাতের ত্বক এক্সফোলিয়েট করা কিন্তু মাস্ট। এতে করে হাতে রিংকেল এবং ফাইন লাইনস কম পড়বে এবং এগুলো কম বোঝা যাবে।

৪. রেটিনল যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার

Retinoid এমন একটা ইনগ্রিডিয়েন্ট, যেটা অ্যান্টি এজিং এর জন্য খুবই জনপ্রিয়। এই Retinoid বেসিক্যালি ভিটামিন এ থেকে আসে। রিংকেল দূর করতে Retinoid এর জুড়ি মেলা ভার। তাই এই ইনগ্রিডিয়েন্ট টা সবার খুবই পছন্দের প্রথমে থাকে। Retinoid স্কিনের কোলাজেন প্রোডিউস করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ায় এবং স্কিনকে সফল এবং স্মুদ বানায়। রিংকেল দূর করতে Retinoid বা রেটিনল যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই সেটা রাতের বেলা ব্যবহার করবেন।

৫. প্রচুর পানি পান করা

আমাদের বডির সেলস এবং টিস্যু গুলো রিফ্রেশড রাখতে এবং বডি থেকে টক্সিক উপাদান গুলো দূর করতে আমাদের বডিকে অবশ্যই হাইড্রেট রাখতে হবে। স্কিন এবং বডি ডিহাইড্রেট হলে ত্বক শুষ্ক, মলিন এবং রিংকেল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাই ডেইলি এটলিস্ট ৮ গ্লাস পানি পান করা আবশ্যক।

রিংকেলমুক্ত হাতের জন্য কিছু ঘরোয়া রেমেডি জেনে নিন!

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো তো মেনে চলবেনই। এছাড়া বাসায় বসেই হাতের স্কিনের যত্ন নিতে কিছু হোম রেমেডি ট্রাই করতে পারেন। মন্দ কি? যদি এক্সট্রা বেনিফিট পাওয়া যায়। তাই না?

১. লেবুর রস এবং চিনির স্ক্রাব

উপরেই বলেছি, এক্সফোলিয়েশন কতটা জরুরী। আর তাই স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন লেবুর রস এবং চিনি। দুটো মিলিয়ে নিয়ে হাতে কিছুক্ষন ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। লেবুর রস ত্বকের এক্সট্রা ময়লা দূর করবে, দাগ দূর করতে সাহায্য করবে, এইজ স্পট দূর করবে। আর চিনি হাতের স্কিনকে এক্সফোলিয়েট করে সফট এবং স্মুদ বানাবে।

২. অয়েল ম্যাসাজ

যেকোনো ভালো মানের অয়েল যেমন কোকোনাট অয়েল, অলিভ অয়েল ইত্যাদি হাতের ত্বকে ময়েশ্চার যোগাতে বেশ ভালো কাজ করে। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে হাত পরিষ্কার করে কোকোনাট বা অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করুন। সকালে ওয়ার্ম ওয়াটার দিয়ে হাত ক্লিন করুন। এতে করে হাতের ত্বক সফট এবং ময়েশ্চারাইজড থাকবে।

৩. তরমুজের রস

তরমুজে রয়েছে ভিটামিনস এবং মিনারেলস। এছাড়া তরমুজের রস রিংকেল দূর করতে এবং ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। তরমুজের রস বের করে হাতে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ব্যস!!.এছাড়া যেকোনো হ্যান্ড মাস্কের মধ্যেও তরমুজের রস ব্যবহার করা যেতে পারে। তেমনই একটি হ্যান্ড মাস্কের রেসিপিও দিয়ে দিচ্ছি। ২ টেবিল চামচ চালের গুড়া, পরিমান মত তরমুজের রস মিলিয়ে মাস্ক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। হাতের ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন।

৪. অ্যালোভেরা জেল 

অ্যালোভেরা জেল অ্যান্টি এজিং এর জন্য বেশ কার্যকরী। অ্যালোভেরাতে থাকা malic acid কে বলা হয় ইলাস্টিসিটি এজেন্ট। এটি রিংকেল, স্কিন পাতলা হয়ে যাওয়া ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল নিয়ে আপনার হাতের স্কিনে লাগিয়ে নিন ১৫ মিনিটের জন্য। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

৫. দুধের সর

দুধের সর কিন্তু হাতের ময়েশ্চার ফিরিয়ে দিতে দারুণ ভালো কাজ করে। দুধের সরে রয়েছে ফ্যাটি এসিড, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যা হাতের ত্বককে কন্ডিশনিং করে। দুধের সর ব্লেন্ড করে নিয়ে হাতের ত্বকে কিছুক্ষন ম্যাসাজ করেন। চাইলে ১০ মিনিট রাখতে পারেন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।

এই তো জেনে নিলেন, কিভাবে হাতের ত্বকে রিংকেল পড়া প্রতিরোধ করবেন খুব সহজেই। আশা করছি, আপনাদের কিছুটা হলেও হেল্প হবে। অথেনটিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট কিনতে আমার সবসময়ই ভরসা শপ.সাজগোজ.কম। অনলাইনে অর্ডার করে ঘরে বসেই প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যায়। আর সাজগোজের দুইটা আউটলেট আছে, যেটা যমুনা ফিউচার পার্ক আর সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত।

ছবি- সাজগোজ

48 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...