একনে স্পটস কেন হয় এবং কীভাবে প্রিভেন্ট করা যায়?

একনে স্পটস কেন হয় এবং কীভাবে প্রিভেন্ট করা যায়?

acne

একনে বা ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! শুধু মেয়েদেরই নয় বরং আশেপাশের পরিবেশের হাজারটা দূষণ আর ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে এখন ছেলেদেরও একনে প্রবলেম দেখা দিচ্ছে। তবে একনের থেকেও আরো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যেটা, সেটা হলো একনে স্পটস ও স্কারস। একনে সেরে যাওয়ার পরেও অনেকদিন পর্যন্ত এই স্কারস ও ব্রণের দাগ নিজের উপস্থিতি জানান দিতে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একনে সেরে গেলেও সিভিয়ার স্কারস দেখা দেয়। স্কারসের জন্য স্পেশালিস্ট বা ডার্মাটোলজিস্টের আন্ডারে ট্রিটমেন্ট নিতে হতে পারে। একনে স্পটস কেন হয় এবং কীভাবে প্রিভেন্ট করা যায়, চলুন জেনে আসি এখনই!

কীভাবে হয় একনে?

ব্রণের দাগ কমানো হোক বা ব্রণ নির্মূল করা- সবার আগে সমস্যার কারণটা জানা দরকার৷ কেন ও কীভাবে এই একনে ফর্ম হয়, সেটা আগে জানা জরুরি! ব্রণ হওয়ার পেছনে বেশ কতগুলো ফ্যাক্টর জড়িত। যেমন- আবহাওয়া, জীবনযাপনের ধরন, বয়স, খাদ্যাভ্যাস, পারসোনাল হাইজিন ইত্যাদি। সাধারণত আমাদের বয়স যখন ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে থাকে, তখন আমাদের শরীর বয়ঃসন্ধিতে থাকার কারণে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্ড্রোজেন উৎপন্ন করে। এই অ্যান্ড্রোজেন দেহের সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে সেবাম উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সেবামের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো লিপিড।

আমাদের ফেইসে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যার নাম Propionibacterium। এই লিপিড আর প্রোপিনো ব্যাকটেরিয়া একসাথে মিশে প্রথমে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন সৃষ্টি করে, সেখান থেকেই ব্রণ বা একনের সূত্রপাত! এরপর স্বাভাবিকভাবেই কিছুদিন পর একনে রিমুভ হয়ে যায়, কিন্তু দাগ থেকে যেতে পারে। প্রোপারলি ত্বকের যত্ন না নিলে ও হাইজিন মেনটেইন না করলে এই স্কিন প্রবলেম থেকে রিলিফ পাওয়া কঠিন।

একনে স্পটস

কারণগুলো কী কী?

কীভাবে একনে বা ব্রণ আমাদের ত্বকে ফর্ম হয়, সেটা তো জানা হলো। এবার চলুন একটু নজর দেওয়া যাক কী কী প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক কারণে এই দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আমরা ফেইস করি-

১) ত্বকের অযত্ন

আমাদের ত্বকে প্রতিদিন নানা ধরনের প্রোডাক্ট যেমন- সানস্ক্রিন থেকে শুরু করে মেকআপ আইটেম ব্যবহার করা হয়। এগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে ত্বকের সূক্ষ্ম লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেখানে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়ে ব্রণ দেখা দেয়। অপরিচ্ছন্ন মেকআপ ব্রাশ বা বিউটি টুলস ইউজের ফলেও কিন্তু একনে বেড়ে যাওয়ার চান্স থাকে।

২) হরমোনের পরিবর্তন

হরমোনের পরিবর্তনের জন্য ব্রণ বা একনে হওয়া খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার৷ খুব বেশি স্ট্রেসে থাকলে বা পিরিয়ডের আগে বা পরে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে একনে হতে পারে৷ টিনেজে শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আসে, হরমোনাল ইস্যুতে এই সময় ফেইস ও বডির স্কিনে পিম্পলস বা একনে দেখা দেয়।

৩) অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া

এই সময়ে ফাস্টফুড জিনিসটা আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী মনে হলেও এই খাবারগুলো আমাদের ত্বকের বা শরীরের জন্য খুব একটা সুখকর অভিজ্ঞতা দেয় না৷ ভাজাপোড়া বা অয়েলি ফুড কিন্তু স্কিন প্রবলেমের কারণ হতে পারে, যেটা আমরা অনেকেই ইগনোর করি! এই ধরনের ফুডে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদানের জন্য স্কিন ইনফ্ল্যামেশন হয়ে ব্রণ তৈরি হতে পারে।

অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া ব্রণের কারণ

৪) ঘুম কম হওয়া

এই জেনারেশনে কাজের চাপে ঘুম কম হওয়া বা রাত জেগে মুভি দেখা নিত্যদিনের ব্যাপার৷ কিন্তু এই ছোটো সমস্যাটিই হয়তো বারবার কর্মফল হয়ে ব্রণের রূপে এসে আপনাকে সিগন্যাল দিচ্ছে এবার অভ্যাস বদলানোর! হেলদি স্কিন পেতে হলে টাইমলি ঘুমাতে হবে।

৫) সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার না করা

অনেক সময় আমরা ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রোডাক্ট বাছাই বা ব্যবহার করতে পারি না। যার প্রভাব সরাসরি স্কিনে ভিজিবল হয়, পরবর্তীতে একনে ও অন্যান্য ইস্যু দেখা দেয়। তাই প্রোডাক্ট সিলেকশন, লেয়ারিং, স্কিন টাইপ ও কনসার্ন অনুযায়ী বিউটি রুটিন বিল্ডআপ করা, এই বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখা জরুরি।

ব্রণের দাগ কেন থেকে যায়?

সাধারণত যখন ব্রণ হয়, তখন আমাদের নিজেদের বেশ কিছু ভুলের কারণে এই দাগ লং টাইম স্কিনে থেকে যায়। কেন ব্রণের দাগ থেকে যায়? চলুন জেনে নেওয়া যাক এবার।

একনে পপ আপ করা

১) বারবার হাত মুখে দিলে হাতের মাধ্যমে ফেইসের এক অংশের ব্যাকটেরিয়া অন্য অংশে চলে যায়। জার্ম ছড়িয়ে এতে আরো সহজেই নতুন স্থানে ব্রণ হতে পারে।

২) ব্রণ স্বল্পস্থায়ী একটি সমস্যা কিন্তু যখন আমরা হাত বা নখ দিয়ে একনে পপ করি, তখন সেই জীবাণু বিভিন্ন জায়গাতে ছড়িয়ে যায়। ফলে পুরো ফেইসেই আস্তে আস্তে এই অবস্থা হতে পারে এবং দাগ বসে যেতে পারে। আর এই খোঁটাখুঁটির কারণে ডিপ একনে স্কারসও পড়তে পারে।

 

একনে স্পটস কীভাবে প্রিভেন্ট করা যায়?

সহজ কিছু অভ্যাস ও নিয়মের মাধ্যমেই ব্রণ ও এর দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কীভাবে? জেনে নিন এখনই।

১) ত্বক পরিষ্কার রাখা

ব্রণ হোক বা না হোক, ত্বক পরিষ্কার রাখা মানে সেখানে নতুন করে পিম্পল সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে না দেওয়া। যার ফলে ব্রণ ও র‍্যাশের ঝুঁকি কমে যায়। আর একটি বিষয়, অয়েলি স্কিনের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বেইজড ফেইস ওয়াশ সিলেক্ট করুন। এতে অয়েলিনেস, একনে দু’টোই কন্ট্রোলে থাকবে। উইকলি ক্লে বেইজড মাস্ক (চারকোল, মুলতানি মাটি) ইউজ করুন। যদি ফেইসে অ্যাকটিভ একনে থাকে, তাহলে স্ক্রাবিং করা উচিত নয়। একনে বা পিম্পল বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ক্লে মাস্ক

২) নিজের প্রোডাক্ট আলাদা রাখা

নিজের ব্যবহার করা তোয়ালে, মেকআপ স্পঞ্জ, ব্রাশ এগুলো কারো সাথে শেয়ার না করাই ভালো। এতে একজনের থেকে জীবাণু অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। পারসোনাল হাইজিন মেনটেইন করা মাস্ট! ব্রণ খোঁটাখুঁটি অভ্যাস থাকলে একদম বাদ দিন, এতে একনে স্পটস প্রিভেন্ট করা যায়।

৩) হেলদি ফুডচার্ট ফলো করা

ফাস্টফুড, তেলে ভাজা স্ন্যাকস আইটেম, প্রসেসড ফুড, ডেইরি প্রোডাক্ট, অতিরিক্ত সুগার এই ধরনের খাবার এড়িয়ে চলুন। ফ্রেশ ফ্রুট জুস, সবজি এগুলো ডায়েট চার্টে রাখতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

নিয়ম মেনে একটু সাবধানে চললেই অতিরিক্ত ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করা সম্ভব, শুধু প্রয়োজন ধারাবাহিকতা ও সদিচ্ছা! এমন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট চুজ করুন যেটা একনে সেইফ এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপারটিজ আছে। একনে প্রন স্কিনের যত্নে ও একনে স্পটস ফেইডের জন্য এখন বিভিন্ন প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। যেমন- Skin Cafe Acne Care Mask, Groome Acne Clear & Pore Minimizing Treatment, Rajkonna Brightening Clay Mask Activated Charcoal With Aloe & Vitamin E, Acnes Mentholatum Heals Acne Scar Care ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। তাহলে আজ এই পর্যন্তই!

 

অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে ভিজিট করুন সাজগোজের ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ফিজিক্যাল স্টোরে। অনলাইনে কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ফিজিক্যাল শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুরের কিংশুক টাওয়ার, ওয়ারীর র‍্যাংকিন স্ট্রিট, ইস্টার্ন মল্লিকা, বসুন্ধরা সিটি, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে), সীমান্ত সম্ভার, চট্টগ্রামের খুলশি টাউন সেন্টার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

5 I like it
4 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...