স্কিনের গ্লো ফেরাতে ভিটামিন সি সিরাম কীভাবে কাজ করে?

স্কিনের গ্লো ফেরাতে ভিটামিন সি সিরাম কীভাবে কাজ করে?

1

অনেকদিন পর এক বান্ধবীর সাথে দেখা হতেই সে আমাকে বলল, ‘একি! তোমার ফেইস এমন নিস্তেজ লাগছে কেন! একদম যেন গ্লো নেই!’ বান্ধবীর কথায় আমিও যেন বাস্তবে ফিরে এলাম! কয়েকদিন ধরেই এমনটা আমার মনে হচ্ছিল। তার মানে চেহারায় যে উজ্জ্বল ভাব কমে গিয়েছে সেটা এখন একদম ভিজিবল! এদিকে স্কিনের গ্লো ফেরাতে চাই ঠিকই, কিন্তু কীভাবে তা মিলবে তার সঠিক উত্তর পাচ্ছিলাম না কোথাও। তখনই জানলাম স্কিন কেয়ারে ভিটামিন সি সিরাম যোগ করলেই এ সমস্যার সমাধান মেলে খুব সহজেই। আজকে আপনাদের জানাবো ভিটামিন সি যুক্ত এমনই একটি সিরাম সম্পর্কে, যা নিয়মিত ব্যবহারে ফিরবে আপনার স্কিনের গ্লো!

সিরাম কী এবং কীভাবে এটি কাজ করে?

স্কিন কেয়ারে ইদানিং সিরাম বেশ হাইপড। আর হবেই বা না কেন! স্কিনের জন্য এটি বেশ বেনিফিসিয়াল বলেই এর এত কদর। সিরাম মূলত হাইলি কনসেনট্রেটেড পাওয়ারফুল একটি উপাদান যেটি খুব লাইট ও থিন ফর্মুলার সাহায্যে ত্বকের কোষে পৌঁছে যায়। এর মলিকিউলসগুলো অনেক ছোট যা খুব সহজেই স্কিনে অ্যাবজর্ব হয়ে যেতে পারে। আমাদের স্কিনে স্পট বা পিগমেন্টেশন, সানট্যান, ব্রণের দাগ, আন ইভেন স্কিন টোন বা রিংকেলসের মতো অনেক প্রবলেমস দেখা যায়। স্কিনের ডিপ লেয়ারে গিয়ে নির্দিষ্ট প্রবলেমকে টার্গেট করে সমাধান দিতে কাজ করে সিরাম

 

গ্রুমি ভিটামিন সি সিরাম ১২%

গ্রুমি ব্র্যান্ড নিয়ে কিছু কথা

স্বনামধন্য একটি স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড গ্রুমি। ডার্মাটোলজিস্ট ও এক্সপার্টদের পরামর্শ নিয়েই এই ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলো  সায়েন্স মেনে তৈরি। তাছাড়া এতে আর্টিফিসিয়াল কোনো কালার বা ফ্রেগ্রেন্স ব্যবহার করা হয় না। গ্রুমি ব্র্যান্ড স্কিন কেয়ার রেঞ্জে নিয়ে এসেছে তিনটি নতুন সিরাম। সেগুলো হচ্ছে- Groome Glutathione + Alpha Arbutin +HA Brightening Serum, Groome Niacinamide 5% + Zinc 1% Skin Correcting Serum, Groome Vitamin-C 12% Glowing Serum

স্কিনের গ্লো ফেরাতে ভিটামিন সি কেন বেনিফিসিয়াল?

১) ভিটামিন সি তে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বককে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মির প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

২) ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

৩) স্কিনের রেডনেস কমায় এবং ইভেনটোন স্কিন পেতে হেল্প করে।

৪) স্কিনের ইলাস্টিসিটি ও কোলাজেন প্রোডাকশন বাড়াতে ভিটামিন সি বেশ কার্যকরী।

৫) স্কিনে মেলানিন প্রোডাকশন বেড়ে গেলে সানস্পট, এজিং স্পট, মেছতার মতো সমস্যা দেখা যায়। আবার একনে সেরে গেলেও দাগ রয়ে যায়। ভিটামিন সি এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করে দ্রুত।

 

ফেইসে সিরাম অ্যাপ্লাই

ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড কীভাবে কাজ করে?

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড হচ্ছে এক ধরনের সুগার মলিকিউল। এটি আমাদের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফেইসের পোরসগুলোও আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। এই পোরসগুলোকে টাইট রাখতে এটি বেশ কার্যকর। এছাড়া স্কিনের ফাইন লাইনস, রিংকেলস এর সমস্যা কমিয়ে আনতে এবং ত্বকের ডালনেস, খসখসে ভাব কমিয়ে স্কিনকে হাইড্রেটেড, ময়েশ্চারাইজড ও প্লাম্পি রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের জুড়ি নেই।

স্কিনের গ্লো ফেরাতে গ্রুমি ভিটামিন সি ১২% সিরামের বেনিফিট 

১) সেনসিটিভ হলে অনেকের স্কিনে ভিটামিন সি স্যুট করতে চায় না। কিন্তু এতে আছে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড যা ভিটামিন সি এর একটি স্ট্যাবল ফর্ম। ফলে ইরিটেশন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এতে থাকা ১২% কনসেনট্রেশন ইরিটেশন ছাড়া ইফেক্টিভ রেজাল্ট দেয়।

২) ভিটামিন সি ত্বকের এক্সেস মেলানিন প্রোডাকশন কন্ট্রোল করে হাইপারপিগমেন্টেশন, ডার্ক স্পটস, এজিং স্পটস রিডিউস করে।

৩) এর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট প্রোপার্টিজ ফ্রি রেডিক্যালস থেকে স্কিন প্রোটেক্ট করে।

৪) এতে থাকা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড স্কিন হাইড্রেটেড, ময়েশ্চারাইজড রাখে। যার কারণে স্কিনে আসে অ্যামেজিং গ্লোয়িং ইফেক্ট।

ব্যবহারের নিয়ম

  • ক্লেনজিং এর পর ৪/৫ ড্রপ সিরাম হাতের তালুতে নিয়ে নিন
  • আঙুল অথবা হাতের তালু দিয়ে চেপে চেপে স্কিনে অ্যাপ্লাই করুন
  • সিরাম ব্যবহারের পর স্কিন টাইপ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিন
  • সিরাম ব্যবহার করলে দিনের বেলায় অবশ্যই সানস্ক্রিন ইউজ করতে হবে

 

সিরাম

প্যাকেজিং

১) সিরামটি ৩০ মিলিলিটারের কাঁচের বোতলে থাকে।

২) ড্রপ নেওয়ার জন্য বোতলের সাথে ড্রপার আছে।

৩) লিকুইড সিরামের কালার পানির মত নিউট্রাল। যেহেতু সূর্যের আলোতে ভিটামিন সি এর ইফেক্টিভিটি কমে যায়, তাই সিরামটি সংরক্ষণের জন্য অ্যাম্বার বোতল ব্যবহার করা হয়েছে।

টেক্সচার ও স্মেল

গ্রুমি ভিটামিন সি সিরামটির কোনো স্মেল নেই। তাই স্মেলে যদি কারও এলার্জি থাকে তারা এটা নির্দ্বিধায় ব্যবহার করতে পারবেন। সিরামটিতে অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট ব্যবহার করা হয়েছে বলে এটি পানির চেয়ে একটু ঘন। যেহেতু একেকজনের স্কিন একেক রকম, তাই যদি কোনো কারণে অ্যাবজর্ব হতে একটু সময় লাগে একদম টেনশনের কিছু নেই।

সতর্কতা

  • তাপ ও সূর্যের আলো আসে এমন জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে
  • শুধুমাত্র স্কিনে ব্যবহারযোগ্য
  • শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন
  • কাঁচের বোতল হওয়ার কারণে ব্যবহারের আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যেন হাত থেকে পড়ে না যায়

সিরামের থিকনেস

কারা ব্যবহার করতে পারবে?

যে কোনো স্কিন টাইপে এই সিরামটি ব্যবহার করা যাবে। তবে হ্যাঁ, ২০ বছর বয়সের পর থেকেই কেবল এটি ইউজ করা উচিত। ব্যবহারের আগে অবশ্যই বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করতে হবে। দিনে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে এবং ৩/৪ ঘন্টা পরপর সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করা মাস্ট। ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে। অন্তত ২৪ ঘন্টা আগে কানের নিচে অল্প পরিমাণ সিরাম লাগিয়ে রেখে দেখতে হবে কোনো রকম ইরিটেশন হচ্ছে কিনা।

প্রেগনেন্ট নারীদের জন্য কি এটা সেইফ? 

প্রেগনেন্ট নারীদের জন্যও ভিটামিন সি ইনগ্রেডিয়েন্টটি সেইফ। তবে এ সময় নারীদের শরীরে অনেক ধরনের চেঞ্জ আসে। ভিটামিন সি সহ যে কোনো কসমেটিক ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্কিনের গ্লো ফেরাতে কেন বেছে নিয়েছি ভিটামিন সি সিরাম?

১) প্রতিদিনের ব্যস্ততায় ফেইসের উজ্জ্বলতা কমে যাচ্ছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। গ্রুমি সিরামটি ব্যবহার করছি কিছুদিন হলো। এই অল্প সময়ের মধ্যেই ডিফারেন্সটা বুঝতে পেরেছি।

২) সিরাম ব্যবহার করছি বলে সকালে সানস্ক্রিনটাও মাস্ট রেখেছি স্কিন কেয়ার রুটিনে। কারণ সানস্ক্রিন ছাড়া সিরাম ব্যবহার করে কোনো ফলাফলই পাওয়া যাবে না।

৩) আমার স্কিনে কিছু ডার্ক স্পট ছিল। সেগুলোও ধীরে ধীরে কমে আসছে। একবারে সব অবশ্যই যাবে না। তাই ধৈর্য্য ধরাটাও ইম্পরট্যান্ট।

৪) সিরামের প্যাকেজিংটি ট্র্যাভেল ফ্রেন্ডলি। খুব সহজেই ব্যাগে ক্যারি করা যায়।

 

এই তো ছিল আমার এক্সপেরিয়েন্স। আগে অন্য কোনো সিরাম ইউজ করতে যেখানে কিছুটা দ্বিধা কাজ করতো, সেখানে গ্রুমি আমাকে বেশ স্যাটিসফেকশন দিয়েছে। যারা স্কিনে গ্লোয়িং ইফেক্ট ও ইয়াংগার লুক চাচ্ছেন তারা গ্রুমির এই সিরামটি ব্যবহার করতে পারেন। স্কিন কেয়ারসহ সেলফ কেয়ারের যে কোনো প্রোডাক্টের জন্য আমার ভরসার জায়গা হচ্ছে সাজগোজ। অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম অথবা ফিজিক্যাল শপ থেকে আপনি আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি কিনতে পারেন। সাজগোজের চারটি ফিজিক্যাল শপ রয়েছে। শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) এ অবস্থিত।

 

ছবিঃ সাজগোজ

3 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...