স্কিন কেয়ারে ভিটামিন সি সিরাম কেন, কখন ও কীভাবে ব্যবহার করবেন?

স্কিন কেয়ারে ভিটামিন সি সিরাম কেন, কখন ও কীভাবে ব্যবহার করবেন?

1 (84)

ফেইস সিরাম সম্পর্কে প্রথম কথাটি হলো এটি স্কিন কেয়ারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেপ যেটি আপনার মিস করা উচিত না। ময়েশ্চারাইজার বা সানস্ক্রিন বা টোনার, প্রত্যেকটি প্রোডাক্ট যেমন আপনার স্কিনে কাজ করে; তেমনি সিরামে থাকা অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো স্কিনের ডিপে গিয়ে প্রবলেমগুলোকে টার্গেট করে সেগুলো ফিক্স করে খুব সহজেই। আজকাল আমরা অনেক ধরনের সিরাম ইউজ করে থাকি। একেকটা সিরামের কাজ একেক রকম। তাই যেকোনো সিরাম ব্যবহার করার আগে সেটির কার্যকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। আজকে আমরা জানবো ভিটামিন সি সিরাম নিয়ে। কারা ইউজ করতে পারবেন, কেন ইউজ করবেন, সবই জানতে পারবেন আজকের আর্টিকেলে।

কেন স্কিন কেয়ারে ভিটামিন সি ইউজ করবেন?

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যেটা আপনার স্কিনের ফ্রি রেডিক্যালস নিউট্রিলাইজ করে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি, ধুলাবালি, স্ট্রেস, স্মোকিং এসব থেকে সৃষ্ট ফ্রি রেডিক্যালস আপনার স্কিন সেলের ডিএনএ ড্যামেজ করে। ফলে খুব তাড়াতাড়ি ফেইসে প্রিম্যাচিউর এজিং এর সমস্যা দেখা দেয়, যেটিকে সহজে আমরা বলে থাকি বয়সের ছাপ পড়া! ধরুন আপনার বয়স হচ্ছে ২৫, কিন্তু আপনাকে দেখলে মনে হয় ৩০+, আর এভাবেই আপনার স্কিন আস্তে আস্তে ড্যামেজ হতে থাকে। এক্ষেত্রে ভিটামিন সি সিরাম আপনার স্কিনের রিংকেলস, ফাইন লাইনস প্রিভেন্ট করে প্রিম্যাচিউর এজিং সাইন রোধ করে।

হাইপারপিগমেন্টেশন কমাতে ভিটামিন সি

আরেকটি কমন স্কিন প্রবলেম হচ্ছে হাইপারপিগমেন্টেশন, যার সহজ সল্যুশন হলো এই ভিটামিন সি সিরাম। এছাড়া ফেইসে যখন মেলানিন প্রোডাকশন বাড়ে; তখন সানস্পট, এজিং স্পট, মেছতা এসব দেখা দিতে পারে। অনেক সময় একনে হয়ে সেরে গেলেও সেখানে স্পট পড়ে যায়। ভিটামিন সি যুক্ত সিরাম এই ধরনের স্কিন প্রবলেম থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে অনেকটাই হেল্প করবে।

ভিটামিন সি সিরাম এর আরও কয়েকটি বেনিফিট

১) এতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণাবলি আছে, ফলে স্কিনের রেডনেস কমাতে আর ইভেনটোন স্কিন পেতে আপনাকে সাহায্য করবে।

২) মাঝে মধ্যে স্কিনে আরো একটি সমস্যা দেখা দেয়, সেটি হলো স্কিন স্যাগিং বা চামড়া ঝুলে পড়া, সেই সাথে স্কিনের ইলাস্টিসিটি হারিয়ে ফেলা। এজন্য স্কিনে কোলাজেন প্রোডাকশন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর এই কারণে ভিটামিন সি সিরাম স্কিন কেয়ারে অ্যাড করতে হবে।

৩) সান ড্যামেজ প্রিভেন্ট করে। সান এক্সপোজারে আপনার স্কিনের যে ক্ষতিগুলো হয়, সেগুলো রিপেয়ারের জন্য ভিটামিন সি এর কাজ অতুলনীয়। এতসব উপকারিতার পরে আরেকটি ইনফরমেশন না দিলেই নয়, এটি আপনার স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখবে।

কারা এই সিরাম ব্যবহার করতে পারবে?

যেকোনো স্কিন টাইপে এটি বেশ কার্যকরী। যাদের বয়স ২০+, শুধুমাত্র তারাই স্কিন কেয়ারে সিরাম অ্যাড করতে পারবে। এর আগে বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করতে হবে। দিনে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই ও রিঅ্যাপ্লাই (৩/৪ ঘণ্টা পর) করা কিন্তু মাস্ট। তবে স্কিনে আগে প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে, কানের নিচে আগে একটু লাগিয়ে দেখতে হবে। মিনিমাম ২৪ ঘন্টা রেখে দেখবেন যে কোনো ধরনের ইরিটেশন হচ্ছে কিনা।

কখন ব্যবহার করবেন?

সকালে স্কিন কেয়ারে ভিটামিন সি সিরাম রাখতে পারবেন। এটি সকাল-রাত সবসময়ই ইউজ করা যায়। ফেইস ওয়াশ দিয়ে স্কিন ক্লিন করে টোনার অ্যাপ্লাই করুন, এরপর কিছু সময় গ্যাপ দিয়ে সিরাম ব্যবহার করুন। মাত্র কয়েক ফোঁটাই এনাফ। এরপর রেগুলার ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিন, কিন্তু দিনের বেলা অবশ্যই এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ইউজ করতে হবে।

ভিটামিন সি সিরাম কনসেনট্রেশন 

সবসময় প্যাকেটে ইনগ্রেডিয়েন্টস লেবেলে দেখা যায় ভিটামিন সি বিভিন্ন নামে বা বিভিন্ন ফর্মে থাকে, সেক্ষেত্রে দেখবেন এটি যেন L ascorbic acid form এ থাকে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কনসেনট্রেশন। ১০-১৫% সবচেয়ে ভালো, এর বেশি হলে স্কিনে ইরিটেশন হতে পারে। প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন যাতে স্কিন সেটা ভালোমতো অ্যাবজর্ব করতে পারে।

প্রিজারভেশন 

এই সিরামটি লাইট, এয়ার, হিট সেনসিটিভ হয়ে থাকে। এজন্য সহজেই অক্সিডাইজড হয়ে কালার চেঞ্জ হয়ে যায়। এটি আপনি চোখে দেখেই বুঝতে পারবেন যদি সমস্যা হয়। তাই শুকনো ও ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে পারেন। অবশ্য প্যাকেটে ইনস্ট্রাকশন দেওয়া থাকে, সেটি ফলো করবেন।

ব্যবহার নিয়ে কিছু সর্তকতা

যেহেতু এটি একটি অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট, তাই অন্য অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস এর সাথে মিক্স না করাই ভালো। একই সাথে দুই বা ততোধিক সিরাম ইউজ করবেন না। আমাদের মুখের ত্বক বডির অন্য অংশের ত্বকের চেয়ে নাজুক বা সেনসিটিভ হয়ে থাকে, তাই একটু সাবধানে থাকবেন।

১) AHA & BHA অর্থাৎ গ্লাইকোলিক, স্যালিসাইলিক এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড, এগুলো একসাথে ইউজ করবেন না। কারণ সবগুলোই অ্যাসিড আর এতে পিএইচ লেভেল ইমব্যালেন্সড হয়ে যায়।

২) রেটিনল আর ভিটামিন সি সিরাম দুটোই অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্টস যুক্ত, একসাথে ইউজ করলে একটি আরেকটিকে ইনঅ্যাকটিভ করে ফেলে। সেক্ষেত্রে একটি সকালে, আরেকটি রাতে ব্যবহার করতে পারেন। রেটিনল রাতে ইউজ করলে, পরের দিন সকালে বেসিক স্কিন কেয়ার করে ভিটামিন সি সিরাম লাগাতে পারেন।

৩) নিয়াসিনামাইড আরেকটি হেল্পফুল অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এই দুটি একত্রে ব্যবহার করলে একনে ব্রেকআউট হওয়ার চান্স থাকে। তাই এটিও কিছু সময় গ্যাপ দিয়ে ব্যবহার করবেন। নিয়াসিনামাইডযুক্ত প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করে মিনিমাম ৩০ মিনিট গ্যাপ দিয়ে ভিটামিন সি ব্যবহার করতে পারেন।

এই ছিল স্কিন কেয়ারে ভিটামিন সি সিরাম সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য। আশা করি লেখাটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। অথেনটিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস এর জন্য শপ.সাজগোজ.কম আমার ভরসার জায়গা। সাজগোজের ৪টি শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) ও সীমান্ত সম্ভার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

 

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

14 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...