পরিবারে বড় মেয়ে? জেনে নিন ছোট ভাই/বোনের প্রতি আপনার দায়িত্বগুলো! - Shajgoj পরিবারে বড় মেয়ে? জেনে নিন ছোট ভাই/বোনের প্রতি আপনার দায়িত্বগুলো! - Shajgoj

পরিবারে বড় মেয়ে? জেনে নিন ছোট ভাই/বোনের প্রতি আপনার দায়িত্বগুলো!

ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০১৬

একটি পরিবারে বড় বোন মানেই হচ্ছে বাড়তি দায়িত্ব। বড়ভাই বা বোনের দায়িত্বই হচ্ছে ছোটভাই/বোনদের একমাত্র বন্ধু হওয়া। মাঝে মাঝে এই কাজটি হতে পারে আপনার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু অল্প কিছু টিপস ফলো করেই কিন্তু আপনি আপনার পরিবারে বড় সন্তান হিসেবে ভাইবোনদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিকমত পালন করতে পারেন। লেখার নিচের অংশে টিপসগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম –

 

১. আপনার ভাই বোনের সাথে সময় ব্যয় করুন। এখনকার দিনে দেখা যায় অনেক পরিবারে ভাই বোন দের মধ্যে একধরণের দূরত্ব কাজ করে। কাজ শেষ করে সবাই নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত্ থাকে এবং কেউ কারো খোঁজ নেয়না যার কারনে এই দূরত্ব বাড়তে পারে। একজন বড় বোন হিসেবে আপনার দায়িত্ব হবে সবার আগে আপনার ছোট ভাই/বোন এর খবর নেয়া। তার সাথে সময় ব্যয় করার চেষ্টা করুন। তার সাথে খেলুন, মুভি দেখুন, বই পড়ুন এবং আনন্দে কিছু সময় কাটান।

 

২. নিজের মধ্যে শোনার মত মনোভাব গড়ে তুলুন। ছোট শিশুরা কথা বলতে খুব ভালোবাসে। আর যে তার কথা শোনে তাকে সে সবচাইতে বেশি পছন্দ করে। তাই বড় বোন হিসেবে আপনি যদি আপনার ভাই/বোন এর সবচাইতে প্রিয় মানুষ হতে চান তাহলে ধৈর্য্য ধরে তার কথাগুলো শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সে যাই বলুক, মনোযোগ দিয়ে শুনুন, তাকে আরো বলতে উৎসাহ দিন। এতে সে আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আরো কথা বলতে চাইবে।

 

৩. তাদেরকে উদাহরণের সাথে শৃঙ্খলা শেখানোর চেষ্টা করুন। পরিবারে আপনার যদি একাধিক ছোট ভাই/বোন তাহলে অনেক সময় তারা মারামারি বা ঝগড়া করতে শুরু করে। এটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে বড় বোন হিসেবে আপনি তাদের ধমক না দিয়ে কাছে ডেকে ঠান্ডা মাথায় বোঝানোর চেষ্টা করুন কেন ঝগড়া করা জিনিসটা খারাপ। দরকার হলে অভিযোগ শুনুন, তারপর সেটা খুব সহজে সমাধান করুন। এতে আপনার প্রতি তাদের নির্ভরতা বেড়ে যাবে অনেকগুণ।

 

৪. বাবা মা কে সাহায্য করুন। ভাই বোন বেশি ছোট হলে তার উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা লাগে। একসময় আপনার বাবা মা ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে আপনি আপনার ছোট ভাই বোনের কিছুক্ষণের জন্য দেখাশোনা করতে পারেন। এতে পরিবারে আপনার প্রতি নির্ভরতা বাড়বে। আপনিও আপনার ভাইবোনের কাছে পছন্দের হয়ে উঠবেন।

 

৫. ছোট ভাই/বোনের প্রতি দায়িত্বগুলো আলাদা করে বুঝে নিন। আপনি যদি বুঝতে পারেন আপনার ভাইবোনের প্রতি আপনার দায়িত্ব কতটুকু বা কিরকম তাহলে সেই অনুসারে আপনি কাজ করলে সহজেই তাদের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন।

 

৬. শুধুমাত্র আপনিই তাদের জন্য না করে বরং তাদেরকেও আপনার জন্য কিছু করতে দিন। শিশুরা বড় কাউকে কিছু উপহার দিতে, বা কোন কাজে নিজের ইচ্ছায় সাহায্য করতে পছন্দ করে। তাই সে যদি আপনার জন্য কিছু করতে চায়, সেটা তার জন্য ক্ষতিকারক না হলে তাকে করতে দিন। এতে বন্ধন আরো দৃঢ় হবে।

 

৭. আপনার সাথে আপনার ভাই বোন এর তুলনা করবেন না। এতে তারা হতাশ হয়ে পড়তে পারে। তাদেরকে যত বেশি সম্ভব উৎসাহ দিন। আপনি যা পারেন সে তা নাও পারতে পারে, কিন্তু সেই কারণে মন খারাপ করে যাতে তারা যেটা ভালো পারে সেটাতে দক্ষতা নষ্ট না হয় তা খেয়াল রাখুন।

 

৮. আপনার ভাই/বোন এর জন্য একটি উদাহরণ হোন যা তাদেরকে ভালো হতে সাহায্য করবে। তাদের সামনে উত্তেজিত হবেন না, রাগ দেখাবেন না।

 

৯. আপনার ছোট ভাই বোন আপনাকে অনেক কাছের মনে করে। তাই আপনি যা বলবেন তাই তারা শুনবে। এদিক থেকে চিন্তা করে আপনি তাদেরকে পড়ানোর চেষ্টা করুন। এতে তারা পড়ায় মনোযোগী হবে।

 

১০. শিশুরা অবুঝ। তাই মাঝে মাঝে তারা আপনার সাথে জেদ করতে পারে, বা যেটা করা উচিত নয় এমন কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি বাবা মায়ের সাহায্য নিন।

 

উপরের এই সাধারণ ব্যাপারগুলো মেনে চললে আপনি আপনার ভাই বোনের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো পালন করতে শিখে যাবেন। এতে পরিবারে আপনার গুরুত্ব যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি আপনার ভাইবোনের কাছেও আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

 

লিখেছেন – ফরহাদ রাকিব

ছবি –  ফটোগ্রাফারস.ক্যানভেরা.কম