চুলে প্রোটিন ও ময়েশ্চারের ঘাটতি থাকলে সেটা কীভাবে বুঝবেন?

চুলে প্রোটিন ও ময়েশ্চারের ঘাটতি থাকলে সেটা কীভাবে বুঝবেন?

2 (50)

সুন্দর ও ঝলমলে চুল কে না চায়? চুলের যত্ন নিতে প্যাক, তেল, কন্ডিশনার, শ্যাম্পু কতকিছুই না আমরা ব্যবহার করি! ব্যস্ত জীবনে একটু সময় পেলেই চুলে অয়েল ম্যাসাজ করি, বাসায় যা যা আছে সেগুলো দিয়েই হেয়ার প্যাক বানিয়ে চুলে লাগিয়ে নেই। কি ঠিক বললাম তো? চুলের কন্ডিশন আর চাহিদা বুঝে ঠিকঠাক যত্ন নিলে হেলদি হেয়ার পাওয়াটা অসম্ভব কিছু না! মেজর নিউট্রিয়েন্টগুলো আপনার চুল পর্যাপ্ত পরিমাণে পাচ্ছে তো? সুস্থ ও সুন্দর চুলের জন্য মেইন দুইটি ফ্যাক্টর হচ্ছে ময়েশ্চার ও প্রোটিন। চুলে প্রোটিন ও ময়েশ্চারের ঘাটতি আছে কিনা সেটা বাসায় বসে কীভাবে বুঝবেন? চলুন আজকে এই বিষয়ে কিছু তথ্য জেনে নেই।

প্রোটিন vs ময়েশ্চার

আমাদের চুল প্রোটিন দিয়েই তৈরি, যেটাকে বলা হয় কেরাটিন প্রোটিন। একটু সায়েন্স দিয়ে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলি। চুলের প্রতিটি স্ট্র্যান্ড ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে একত্রিত থাকে। প্রোটিন এই বন্ধনগুলিকে ধরে রাখে এবং শক্তিশালী করে। অর্থাৎ এটাকে চুলের বিল্ডিং ব্লক বলা যেতে পারে। অপরদিকে, ময়েশ্চার আপনার চুলের ওভারঅল অ্যাপেয়ারেন্সে ভূমিকা রাখে। চুলের আর্দ্রতা ঠিকঠাক থাকলে চুল কোমল বা মোলায়েম লাগে। প্রোটিন আর ময়েশ্চার, চুলে এই দুইটা এলিমেন্টের ব্যালেন্স থাকলেই সেটাকে হেলদি হেয়ার বলা হয়।

চুলে প্রোটিন ও ময়েশ্চারের ঘাটতি থাকলে কীভাবে বুঝবেন?

ড্যামেজড হেয়ারের লক্ষণগুলো মোটামুটি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু চুলে কোন জিনিসটির অভাব আছে, প্রোটিন নাকি ময়েশ্চার, নাকি দুইটারই অভাব; সেটা বাহ্যিকভাবে বোঝার কিছু উপায় আছে। তাহলে মিলিয়ে নিন তো আপনার চুলে এই ধরনের সমস্যা আছে কিনা!

১) ভেজা বা শুকনো অবস্থায় চুলের স্ট্র্যান্ড ধরে টানা হলে সেটা প্রসারিত না হয়ে আপনার চুল যদি সহজেই ভেঙে যায়, তবে আপনার চুলে প্রোটিনের অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।

২) যদি আপনার চুল একদম শুষ্ক মনে হয়, রুক্ষ এবং খসখসে দেখায়; তাহলে এতে আর্দ্রতার অভাব আছে। চুলের শাইনিভাব নষ্ট হয়ে যাওয়া, আগা ফাটা এগুলো দেখেও বোঝা যায় যে চুলে ময়েশ্চারের অভাব।

চুলে প্রোটিনের ঘাটতি কেন হয়?

রেগুলার ডায়েটে পর্যাপ্ত পরিমাণে আমিষ জাতীয় খাবার না থাকলে অর্থাৎ পুষ্টিকর খাবারের অভাবে চুলে প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হয়। চুল যদি শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাড় করতে না পারে, তাহলে চুল হেলদি থাকবে কীভাবে? বাইরে থেকে চুলের যে অংশটা দেখা যায় সেটা হচ্ছে মৃত কোষ, সেইজন্যই আমরা চুল কাটলে ব্যথা পাই না। শরীরের সব চাহিদা মিটিয়ে নিউট্রিয়েন্ট এই কোষগুলোতে পৌঁছে। জৈব প্রোটিন শরীরের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর মতোই চুলকেও পুষ্টি যোগায়।

কীভাবে চুলে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করা যায়?

রেগুলার ডায়েটে আমিষ জাতীয় খাবার রাখতে হবে, যেমন দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, চিজ, ডাল ইত্যাদি। প্রোটিনের অভাব থেকে যে হেয়ার ড্যামেজ হয়, ঘরোয়াভাবে সেটা সারিয়ে তোলা কিছুটা সময় সাপেক্ষ, কেননা চুলের কিউটিকলে পেনিট্রেট করে সেটা রিপেয়ার করার মতো কার্যকারিতা ঘরোয়া উপাদানগুলোর না-ও থাকতে পারে। তবুও বেশ কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে এই ধরনের ড্যামেজ চুলের যত্ন নেওয়া যায়।

ডিমের মাস্ক

ডিমের কুসুম, লেবু, অলিভ অয়েল ও টকদই একসাথে মিক্স করে প্রোটিন প্যাক বানিয়ে নিন। এবার সমস্ত চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন। এরপর ডীপ কন্ডিশনিং হেয়ার কন্ডিশনার লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

অয়েল ট্রিটমেন্ট

পিওর কোকোনাট অয়েলের হিলিং প্রোপার্টি আছে। এটি চুলের প্রোটিন লস রিপেয়ার করতে খুব ভালো কাজ করে। এতে আছে লরিক এসিড যা আপনার চুলের প্রোটিন গঠন পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। নারকেল তেলের সাথে আমন্ড অয়েল মিক্স করে স্ক্যাল্পে ও চুলে আলতোভাবে ম্যাসাজ করে নিন। চুলে তেল দিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

চুলের ময়েশ্চার লেভেল কমে যাওয়ার কারণ কী?

  • দীর্ঘ সময় ধরে প্রখর রোদে থাকা
  • হিট প্রোটেক্টর ছাড়াই চুলে সরাসরি তাপ দেওয়া (স্ট্রেইনার বা ব্লো ড্রাইয়ার)
  • আবহাওয়ার পরিবর্তন
  • ঠিকঠাক প্রোডাক্ট দিয়ে চুলের যত্ন না নেওয়া ইত্যাদি

কীভাবে চুলের ময়েশ্চার লেভেল ব্যালেন্স করা যায়?

১) চুলে হিট লাগানোর আগে মানে হিট স্টাইলিং করার আগে প্রোটেকশন নিতে হবে। হেয়ার সিরাম, হিট প্রোটেক্টর স্প্রে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

২) চুল ওভার ওয়াশ করা যাবে না, এতে চুলের প্রয়োজনীয় ন্যাচারাল অয়েলও রিমুভ হয়ে যায়। চুলের যত্নে মাইল্ড, সালফেট ও প্যারাবেন ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।

৩) নারকেল তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিক্স করে সপ্তাহে ২/৩ দিন চুলে অ্যাপ্লাই করুন। এতে খুব দ্রুত চুলের ফ্রিজিনেসের সমস্যা দূর হবে। ক্যারিয়ার অয়েল হিসাবে অ্যাভোকাডো অয়েলও ইউজ করতে পারেন।

৪) ঘুমানোর সময় সাটিন কাপড়ের পিলো কভার ইউজ করতে পারেন।

৫) কন্ডিশনার স্কিপ করা যাবে না। শ্যাম্পুর পর চুলের গোড়া বাদ দিয়ে পুরো চুলে কন্ডিশনার লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

৬) কলা, মধু ও টকদই মিক্স করে হেয়ার নারিশিং প্যাক বানিয়ে সপ্তাহে ১ দিন চুলে লাগাতে পারেন। এতে চুল সফট, শাইনি ও ময়েশ্চারাইজড হবে।

 

চুলে প্রোটিন ও ময়েশ্চারের ঘাটতি থাকলে সেটা বোঝার উপায় এবং কীভাবে ড্যামেজ চুলের যত্ন নিতে হবে, আজ এই ব্যাপারে আমরা অনেক কিছুই জানলাম। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য হেল্পফুল ছিল। চুলের জন্য পরিচর্যা তো দরকার, সঙ্গে থাকতে হবে প্রয়োজনীয় খাবারদাবার। অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে চাইলে সাজগোজের চারটি ফিজিক্যাল শপ ভিজিট করতে পারেন। শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) এ অবস্থিত। অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

21 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...