ড্যানড্রাফ প্রবলেম! চুলে তেল দিলে খুশকি বেড়ে যাবে না তো?

ড্যানড্রাফ প্রবলেম! চুলে তেল দিলে খুশকি বেড়ে যাবে না তো?

2 (5)

বাইরে যাওয়ার সময় গাঢ় রঙের পোশাক পছন্দ করলেন ঠিকই, কিন্তু পরার পরই দেখলেন কাঁধের উপর ড্যানড্রাফ ঝরে পড়েছে। যতটা না অস্বস্তিতে ভুগছেন, ততটাই নিজের উপর বিরক্ত হচ্ছেন। ভাবছেন, স্ক্যাল্প হাইড্রেটেড রেখে ড্যানড্রাফ কমানোর এত চেষ্টা করার পরও কেন এগুলো দূর হচ্ছে না? আপনার মতো অস্বস্তিতে অনেকেই ভুগছেন। অনেকেই ভাবেন, যেহেতু ড্যানড্রাফ ড্রাই স্ক্যাল্প থেকে হয়, তাই স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজড রাখার জন্য বার বার চুলে তেল দিতে হবে। ফলে খুশকি সমস্যা আরও বাড়তে থাকে। তাহলে কি চুলে একদমই তেল দিবেন না? কি কনফিউশনে পড়ে গেলেন তো? এই কনফিউশন ক্লিয়ার করতে এবং ড্যানড্রাফ প্রবলেম সল্যুশনে হেয়ার অয়েলিং কার্যকর কিনা সে সম্পর্কেই আজ আমরা জানবো।

ড্যানড্রাফ কী?

চুলে তেল দিলে খুশকি বেড়ে যায় কিনা সেটা জানার আগে ড্যানড্রাফ কেন হয় সে সম্পর্কে একটু জেনে নেয়া যাক। ড্যানড্রাফ একটি কমন ইনফ্ল্যামেটরি স্ক্যাল্প কন্ডিশন। এটি মাইল্ড থেকে সিভিয়ার হতে পারে। বিশেষত সেবোরেইক ডার্মাটিটিস (Seborrhoeic Dermatitis) বা ফাঙ্গাসজনিত কারণই এই সমস্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী। আমাদের স্ক্যাল্পে যে সেলগুলো আছে সেগুলো প্রতি মাসে রিজেনারেট হতে থাকে। অর্থাৎ স্ক্যাল্পের গভীর থেকে নতুন সেল উপরে উঠে আসে এবং পুরনোগুলো ঝরে যায়। এই ঝরে পড়া সেলগুলো ক্লিন না করলেই খুশকি তৈরি হয়। শীতকালে ড্যানড্রাফ প্রবলেম কমন হলেও অনেকে সারা বছরও ভোগেন।

ড্যানড্রাফ প্রবলেম

ড্যানড্রাফ প্রবলেম কেন হয়?

আমাদের প্রতিদিনের লাইফস্টাইল, খাওয়াদাওয়াসহ নানা কারণে ড্যানড্রাফ প্রবলেম দেখা দিতে পারে। চলুন জেনে নেই যে যে কারণে এই সমস্যা হতে পারে-

  • চুল নিয়মিত পরিষ্কার না করা
  • ম্যালাসেজিয়া নামক ফাঙ্গাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া
  • অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • স্ট্রেস ও হরমোনাল ইস্যু
  • আবহাওয়ার পরিবর্তন
  • শুষ্ক ত্বক
  • হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টে সেনসিটিভিটি থাকলে

হেয়ার অয়েলিং কি ড্যানড্রাফ বাড়িয়ে দেয়?

ড্যানড্রাফ হওয়ার নানা কারণ তো জানা হলো। কিন্তু একবার যখন এই সমস্যা হয়েই যায়, তখন এটি সল্যুশনের উপায় কী? অনেকে ড্যানড্রাফ প্রবলেম বাড়বে বলে একদমই চুলে তেল দেয়া বন্ধ করে দেন, আবার কেউ ঠিক এর উল্টোটা করেন। অর্থাৎ স্ক্যাল্প ড্রাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হেয়ার অয়েলিং এর মাত্রা বাড়িয়ে দেন। সত্যি বলতে দুটো কাজের কোনোটাই খুশকি কমায় না। চুলে তেল দিলে বাহির থেকে ধুলো ময়লা চুলে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ফলে বেশি বেশি তেল দিলে স্ক্যাল্পে জমে থাকা ডেড সেলসের সাথে এই ময়লা জমে সেখান থেকে ইচিনেস হতে পারে, দেখা দিতে পারে ড্যানড্রাফ। আবার একদমই তেল না দিলে স্ক্যাল্প হয়ে যেতে পারে ড্রাই। সেখান থেকেও হয় খুশকির সমস্যা। তাহলে এর সমাধান কী?

চুলে তেল দিলে কি ড্যানড্রাফ বেড়ে যায়?

সমাধান হচ্ছে, ড্যানড্রাফ হলেও চুলে তেল দেয়া একবারে বন্ধ করে দেয়া যাবে না। সপ্তাহে অন্তত ১ দিন চুলে তেল দিয়ে শ্যাম্পু করতে হবে। বাইরে যাওয়ার আগে চুলে তেল দিয়ে না যাওয়াই ভালো। তেল দিলে স্ক্যাল্পে ব্লাড সার্কুলেশন বুস্ট আপ হয় এবং হেয়ার স্ট্র্যান্ড নারিশড হয়। এতে স্ক্যাল্পও ময়েশ্চারাইজড থাকবে, সেই সাথে খুশকি ফ্লেক্সও তৈরি হবে না। তেল দেয়ার পর অবশ্যই চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। বাজারে এখন অ্যান্টি ড্যানড্রাফ রেঞ্জ অ্যাভেলেবল। ড্যানড্রাফের সল্যুশনে এগুলো ইউজ করতে পারেন।

ড্যানড্রাফ প্রিভেন্টের জন্য বেস্ট অয়েল

১) কোকোনাট অয়েল

চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কোকোনাট অয়েল খুব ভালো কাজ করে। এতে আছে ভিটামিন ই ও কে, প্রোটিন, লরিক অ্যাসিড ইত্যাদি। হেয়ার শ্যাফটে ইজিলি পেনিট্রেট হয় এবং স্ক্যাল্পকে ময়েশ্চারাইজিং, হাইড্রেটিং ও কন্ডিশনিং রাখে এই অয়েল। এতে আরও আছে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল প্রোপার্টিজ। যার কারণে ড্যানড্রাফ প্রিভেন্ট করতেও এই অয়েল বেশ কার্যকরী।

২) টি ট্রি অ্যাসেনশিয়াল অয়েল

স্ক্যাল্পে সরাসরি টি ট্রি অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা উচিত নয়। ক্যারিয়ার অয়েল যেমন- কোকোনাট, অলিভ বা জোজোবা অয়েলের সাথে মিক্স করে এই অয়েল ইউজ করতে হয়। এতে থাকা অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টিজ ড্যানড্রাফের বিরুদ্ধে খুব ভালো কাজ করে। এটি ছাড়াও রোজমেরি, লেমনগ্রাস, পিপারমিন্ট অ্যাসেনশিয়াল অয়েলও ব্যবহার করতে পারেন।

৩) ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েলে আছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপার্টিজ। ব্যাকটেরিয়া দূর করতে, স্ক্যাল্প ইনফেকশন প্রিভেন্ট করতে, স্ক্যাল্প নারিশড ও ময়েশ্চারাইজড রাখতে, ফ্লেকস রিডিউস করতে, ইচিং ও ইরিটেশন কমাতে এই অয়েল বেশ কার্যকর। ক্যাস্টর অয়েল বেশ থিক ও স্টিকি হওয়ায় সরাসরি স্ক্যাল্পে অ্যাপ্লাই না করে ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।

Skin Cafe Castor Oil

৪) জোজোবা অয়েল

জোজোবা অয়েলে আছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি প্রোপার্টিজ যা স্ক্যাল্পে সুদিং ফিল দেয়। এছাড়া এই অয়েলে থাকা লাইট ওয়েট ময়েশ্চারাইজিং প্রোপার্টিজ স্ক্যাল্পে নারিশমেন্ট প্রোভাইড করে।

৫) অলিভ অয়েল 

অলিভ অয়েলে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য থাকায় এটি বেশ ভালো হেয়ার ক্লেনজার হিসেবে কাজ করে। স্ক্যাল্পের প্রোডাক্ট বিল্ডআপ খুব সহজেই রিমুভ করতে, ইচিনেস ও ফ্লেকিনেস দূর করতে এই অয়েল বেশ কার্যকর।

ড্যানড্রাফ দূর করতে অয়েল ট্রিটমেন্ট

সঠিক নিয়মে হেয়ার অয়েলিং করলে ড্যানড্রাফ প্রবলেম অনেকটাই কমে আসবে। তাই খুশকি দেখা দিলে একবারেই তেল দিবো না, এই ধারণা থেকেও বের হয়ে আসা জরুরি। এ সমস্যা সমাধানে কয়েকটি কার্যকর অয়েল ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে জেনে নেই চলুন।

১) জোজোবা, অলিভ ও টি ট্রি অ্যাসেনশিয়াল অয়েলের মাস্ক

তিনটি অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে কন্ডিশনিং করে নিন।

ড্যানড্রাফ প্রবলেম সল্যুশনে হেয়ার অয়েল মাস্ক

২) কোকোনাট ও জোজোবা অয়েলের মাস্ক

চুলের লেন্থ অনুযায়ী নারিকেল তেল নিয়ে তাতে ২ চা চামচ জোজোবা অয়েল মিশিয়ে নিন। স্ক্যাল্পে ও হেয়ারে অ্যাপ্লাই করে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন।

৩) আমন্ড ও অলিভ অয়েলের মাস্ক

চুলের লেন্থ অনুযায়ী অলিভ অয়েল এবং ২ টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার স্ক্যাল্পে ২ মিনিট ম্যাসাজ করে পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। আধা ঘন্টা পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না যেন!

৪) কোকোনাট ও ক্যাস্টর অয়েলের মাস্ক 

৩ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েলের সাথে ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এতে কয়েক ফোঁটা লেবু দিন। এবার এই মাস্কটি অ্যাপ্লাই করুন স্ক্যাল্পে। ১ ঘন্টা পর চুল মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন।

 

হেয়ার অয়েলিং এর কারণে ড্যানড্রাফ প্রবলেম বাড়ে কিনা সে সম্পর্কে তো জানা হলো। সেই সাথে জানিয়ে দিলাম খুশকি সমস্যা সমাধানে বেস্ট কয়েকটি অয়েল সম্পর্কেও। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি হেল্পফুল ছিল। অথেনটিক হেয়ার ও স্কিন কেয়ার এবং মেকআপ প্রোডাক্ট পেয়ে যাবেন সাজগোজে। সাজগোজের চারটি ফিজিক্যাল শপ রয়েছে। শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) এ অবস্থিত। এই শপগুলোতে ঘুরে নিজের পছন্দমতো অথবা অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন আপনার দরকারি প্রোডাক্টগুলো।

ছবিঃ সাজগোজ, সাটারস্টক

1 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...