আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায় - Shajgoj আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায় - Shajgoj

আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়

ডিসেম্বর ৯, ২০১৭

পৌলমী ইউনিভার্সিটি এর ছাত্রী। বাড়িতে তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা তার বারান্দা। সন্ধ্যা দিকে ঝুল বারান্দায় হাটতে তার সবচেয়ে ভালো লাগে। সারাদিনের কর্মকান্ড, পর্যালোচনা, পরিকল্পনা সবই চলে এই বারান্দায় হাটতে হাটতে। বারান্দা ভর্তি রাজ্যের গাছ আর একটি দোলনা। তার নিজের জন্য। পুরনো আমলের বাড়ির জন্য এ ঝুল বারান্দার সুখটা সে পায়। কিন্তু তার বন্ধুরা সে সুখ থেকে বঞ্ছিত। বিরাট ফ্ল্যাটের ছোট এক বারান্দায় না থাকে হাটার জায়গা, না আছে স্বাধীনতা। দাঁড়ালেই সামনের বাসার পর্দা বাড়ি খায় গ্রিলে। ঢাকার বাড়িগুলো বড্ড বেশি ঘিঞ্জি করে বানানো। খোলা বারান্দা যে নেই তা নয়। কিছু কাপড় শুকিয়েই ব্যয় করি বারান্দা। আচ্ছা, বারান্দা কি শুধু কাপড় শুকানোর জন্যই তৈরি…?

হোক না ঝুল বারান্দা বাঁ একচিলতে। প্রতিটি বাড়িতে বারান্দা থাকবেই। নতুবা সাঁঝের বেলায় কোথায় মুগ্ধতা খুঁজবেন? কোথায় বাঁ সকালে হাই তুলতে তুলতে সুর্যোদেবের সঙ্গে দেখা করবেন? বারান্দা ছাড়া বাড়ি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। হয়তো মামা বাড়িতে সান বাঁধানো চেয়ারের বিরাট বারান্দা ছিল, কিন্তু নিজের ভাড়া বাড়ির বারান্দায় দু’জনও ঠিক মতো দাঁড়ানো যায় না। বারান্দাটি ছোট বা বড় হতে পারে। তবে আপনার বাসায় একটি বারান্দা আছে এবং তাতে শুধুই কাপড় শুকানো হয় তাহলে কিন্তু বিপদ! ভেবে দেখুন তো, ফ্ল্যাট কেনার সময় বাঁ বাড়িভাড়া নেয়ার সময় নেওয়ার সময় কি বারান্দা ফ্রি দিয়েছে আপনাকে? দেয়নি তো! তবে কেন ওই জায়গা নষ্ট করবেন? কাপড় শুকানো, ছেলের পুরনো সাইকেল রাখা- এসব করেই যদি বারান্দায় ভিড় জমিয়ে রাখেন তো নিঃশ্বাস নেবেন কোথায়? একটু হাঁটবেন বা বিকেলটা কাটাবেন কোথায়? মুগ্ধতা খুঁজবেনই বা কোথায়? মানছি সুন্দর বারান্দা ছাড়া কাপড় শুকানোর জায়গা নেই। তাই বলে রাস্তা বাঁ পাশের ফ্ল্যাটের লোক যদি সবসময় আপনার বারান্দায় কাপড় ঝুলানো দেখে, কী ভাববে বলুন তো? নিজেরই বা কেমন লাগবে? আসুন না, এ অবহেলিত বারান্দাকেই সুন্দর করে সাজাই।

বারান্দা সাজাতে প্রথমেই লাগবে গাছ। গাছ ছাড়া আবার বারান্দা সাজানো যায় নাকি? ২-১ টি পাতাবাহার বাঁ বাহারি ফুলের গাছ, বারান্দা তথা পুরো বাড়ির রূপটাই বদলে দেবে। বিভিন্ন পাতাবাহার, লতানো, ঝুলানো আর ফুলগাছ দিয়ে সাজাতে পারেন বারান্দাটা। ফার্ন, অর্কিড বা মানিপ্ল্যান্ট জাতীয় গাছগুলো ঝুলিয়ে দিন না বারান্দায়। মাটির পাত্রে পাটের শিকেয় ঝুলবে লতানো গাছ। ঝোপ জাতীয় গাছ রাখতে পারেন বারান্দায়। ছোট্ট টবে, একটি স্ট্যান্ড বা বড় পটারির উপর রাখতে পারেন ঝোপের গাছ। বিভিন্ন ধরণের নকশা করা পটারি পাবেন কলাবাগান, শিশু একাডেমীসহ বিভিন্ন গৃহসজ্জার দোকানে। আর গাছ পাবেন যে কোনো নার্সারিতে।

বারান্দায় একটু বেশি জায়গা থাকলে সেখানে খরগোশ বা পাখিও পুষতে পারেন। ভোরে পাখিগুলো আপনাকে জাগিয়ে তুলবে। লাভ বার্ড, টিয়া, ময়না বিভিন্ন পাখি পাবেন রাজধানীর কাঁটাবনে।

বারান্দায় বিকেলে বসার ব্যবস্থা করলে কিন্তু মন্দ হয় না, সকালে পত্রিকার সঙ্গে চা, বিকেল-সন্ধ্যায় প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার জন্যে বারান্দার তুলনা নেই। একপাশে খোলা আকাশ, সে সঙ্গে আড্ডা, খুব জমবে। কিন্তু তাই বলে সোফাসেট বারান্দায় বসানোটা বোকামি। দরকার হালকা-পাতলা কিছু ফার্নিচার। যেমন বেতের মোরা বা কিছু কাঠের চেয়ার। একটি ছোট্ট টেবিল। সৌন্দর্যবর্ধনে রকিং চেয়ার বা আরাম কেদারাও রাখতে পারেন। ছুটির দিনটা আরাম কেদারায় গড়িয়ে কাটালে একবারে মন্দ হয় না! রাতে আধশোয়া হয়ে জ্যোস্নাও দেখা যেতে পারে। ২-৩ টি মাটির মুর্তি, বড় শোপিস রাখতে পারেন। রঙ্গিন আলোর ল্যাম্পশেডও রাখতে পারেন বারান্দায়। সন্ধ্যার পর ফুটে উঠব্র মোহনীয় এক পরিবেশ। এতো কিছুর পরও ঝুলাতে পারেন একটি দোলনা। সকাল বা বিকেলে দুলতে দুলতে কফি-মগ হাতে কখন চলে যাবে সময়, টেরও পাবেন না।

কিছু সাবধানতা

(১) রাস্তা থেকে বারান্দা দেখা গেলে বারান্দায় সবসময় কাপড় না ঝুলিয়ে রাখাই ভালো। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় কাপড় শুকালে বাকি সময় বারান্দা ঝামেলামুক্ত রাখা যাবে।

(২) গাছে পানি দেয়ার পর মেঝে পরিষ্কার কিনা লক্ষ্য রাখবেন। পানি পরলে তা মুছে রাখা জরুরী।

(৩) যদি বারান্দা ঘিরে আড়াল করতে চান তাহলে লতানো গাছ, বাঁশের ঘরখড়ি বাঁ কাপড়ের পর্দা দিয়ে আড়াল করা ভালো। খবরের কাগজ, কার্টুন বক্স বা পলিথিন দিয়ে  ঢাকলে দৃষ্টিকটু লাগবে।

(৪) পশুপাখি পুষলে যত্নের পাশাপাশি বারান্দা পরিষ্কার রাখা দরকার।

(৫) বারান্দার সাইজের ওপর ভিত্তি করে সাজানো উচিত। নতুবা সব একসঙ্গে রাখতে গেলে জগাখিচুড়ি পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

শহুরে জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয় হিসাব কষে। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকায় কেনা ফ্ল্যাট বা ভাড়া বাসায়  বারান্দা অবহেলায় ফেলে রাখাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ? তবে আর দেরি কেন? নিজের চিন্তাধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাজিয়ে তুলুন বারান্দাকে। একটু হয়ত বাড়তি খরচ হবে। কিন্তু এতদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা বারান্দাটা যদি আপনার প্রিয় জায়গা হয়ে যায়, খুশিটা কি আপনাকে স্পর্শ করবে না? আর অতিথির প্রশংসা শুনলে তো কথা-ই নেই।

লিখেছেন – অনুশ্রী কুন্ডু