FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার | এপিসোড-১

FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার | এপিসোড-১

FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার | এপিসোড-১

নিজের যত্ন নিতে চাই আমরা সবাই কিন্তু কীভাবে যত্ন নিতে হবে তা বুঝে উঠতেই যত কষ্ট। আর এ নিয়ে মনে আসে কত শত প্রশ্ন! যেমন, ত্বকের যত্ন কীভাবে নিবো, কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করবো, কেন ব্যবহার করবো, কখন ব্যবহার করবো! তাই না? বেসিক স্কিন কেয়ার এর ক্ষেত্রে আপনাদের এমন কমন কিছু সমস্যার সহজ সমাধান নিয়ে সাজগোজ থেকে আয়োজন করা হয়েছে প্রশ্ন উত্তর পর্ব। বিউটি রিলেটেড যেকোনো পরামর্শের জন্য সাজগোজ সবসময়ই আছে আপনাদের পাশে। সাজগোজের বিউটি কনসালটেন্ট আপনাদের FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার এর উত্তর দিবেন। আশা করছি, এই আর্টিকেল থেকে আপনারা বেসিক স্কিন কেয়ার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন।

FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার

সাজগোজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেমন, ফেইসবুক, ইনসাইডার গ্রুপ, ইউটিউব বা ইন্সটাগ্রাম পেইজে আমরা প্রতিনিয়ত নানা রকম প্রশ্ন পেয়ে থাকি। সেখান থেকেই প্রশ্নগুলো নিয়ে সাজানো হবে আমাদের এই এপিসোডগুলো। চলুন তাহলে FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার এর এপিসোড-১ শুরু করা যাক।

প্রশ্ন ১:

সারাহ আপু জানতে চেয়েছেন, “আপু আমি কীভাবে বুঝবো আমার স্কিন টাইপ কী?” ইউটিউব থেকে সংগৃহীত।

উত্তরঃ স্কিন কেয়ারের শুরুতে আমাদের প্রথমেই বুঝতে হবে আমাদের স্কিন টাইপ অর্থাৎ ত্বক কী ধরনের। এটি বুঝতে না পারলে সঠিক প্রোডাক্ট সিলেক্ট মুশকিল হয়ে যায়। সাধারণত ৫ ধরনের ত্বক আমরা দেখে থাকি।

  • নরমাল
  • শুষ্ক বা ড্রাই স্কিন
  • তৈলাক্ত বা অয়েলি স্কিন
  • কম্বিনেশন এবং
  • সেনসিটিভ

কীভাবে বুঝবেন আপনার ত্বকের ধরন কী?

ত্বকের ধরন বুঝার চেষ্টা করছে একজন

১) নরমাল ত্বক

নরমাল ত্বক খুব বেশি শুষ্ক নয়, আবার খুব বেশি তৈলাক্ত নয়। খুব বেশি সেনসিটিভও হবে না। প্রায় সব ধরনের প্রোডাক্টই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে। যাদের নরমাল স্কিন, তাদের ত্বকে তুলনামূলক কম সমস্যা হলেও অসতর্কতার ত্বক আবার শুষ্কও হয়ে যেতে পারে।

২) শুষ্ক ত্বক বা ড্রাই স্কিন

শুষ্ক ত্বক বা ড্রাই স্কিন যাদের তাদের ফেইসে একটু ফ্যাকাশে বা মলিনভাব থাকে। আর সাথে সাথে কিছুটা রাফনেসও। লালচে আভা দেখা দেয় অনেক সময়। স্কিনে পানিশুন্যতা থাকায় খুব অল্প বয়সেই দেখা দিতে পারে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ। এছাড়াও যাদের শুষ্ক ত্বক তাদের, চামড়া ওঠা, জ্বালা পোড়া, চুলকানো, চামড়া ফুলে যাওয়া এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। যদি আপনার ত্বকের ধরন শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে আপনার হাত, পা, কনুই এবং স্ক্যাল্প অতিরিক্ত মাত্রায় শুষ্ক থাকবে।

৩) তৈলাক্ত ত্বক বা অয়েলি স্কিন

তৈলাক্ত ত্বক বা অয়েলি স্কিন যাদের তারা মুখ ক্লিন করার কিছুক্ষণ পরেই আবার মুখটা তেলতেলে হয়ে যায়। ডে লাইট বা রোদের সংস্পর্শে এলে ফেইসে তেলতেলে বা চকচকে দেখায়। তৈলাক্ত ত্বকের মুখের রোমছিদ্র বড় হয়। এর ফলে ঘাম, তেল ময়লা তাতে জমে গিয়ে একনে বা ব্রণের সমস্যা দেখা দিতেই থাকে।

৪) সেনসিটিভ স্কিন

শুষ্কতা, লালচে ভাব, ইচিনেস, জ্বালা পোড়া, ব্রণ, একনে, র‍্যাশের প্রবলেম এগুলো যদি আপনার প্রতিদিনের স্কিনের কন্ডিশন হয়ে থাকে তবে, আপনার স্কিন সেনসিটিভ। এই ধরনের স্কিন যাদের তারা যেকোনো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট হুট করেই ব্যবহার করতে পারেন না।

৫) কম্বিনেশন স্কিন 

কম্বিনেশন টাইপ যাদের স্কিন তাদের কপাল, নাক অর্থাৎ টি-জোন এরিয়া সহজেই অয়েলি হয়ে যায়। পাশাপাশি থুতনির অংশটাও তেলতেলে হয়ে থাকে অনেক সময়। কিন্তু গালের অংশ ড্রাই বা স্বাভাবিক থাকে।

সারাহ আপুর মত অন্য যারা তাদের স্কিন টাইপ কেমন তা নিয়ে কনফিউসড ছিলেন, আশা করছি এখন সহজেই বুঝে উঠতে পারবেন আপনার স্কিন টাইপ কেমন। চেষ্টা করবেন অবশ্যই প্রোডাক্ট কেনার সময় নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী প্রোডাক্ট সিলেক্ট করতে।

প্রশ্ন ২:

মনিরা আপু জানতে চেয়েছেন, “আপু আমার বয়স ১৬! আমি কি সানস্ক্রিন ইউজ করতে পারবো?” ইউটিউব থেকে সংগৃহীত।

উত্তরঃ হ্যাঁ! টিনেজারদের জন্যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরী। এই সময়টাতে স্কিনের সান প্রোটেকশন নিয়ে কেউই মাথা ঘামায় না। আর এটাই পরবর্তীতে বিভিন্ন স্কিন রিলেটেড ইস্যু তৈরি করে। যেমন সানবার্ন, পিগমেন্টেশন, ডার্ক স্পট আরও অনেক কিছু। তাই বাহিরে বের হওয়ার আগে সঠিক এস পি এফ যুক্ত প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করে নিতে হবে। মিনারেল বেইজড সানস্ক্রিন টিনেজে নির্ভয়ে ব্যবহার করা যায়। টিনেজ বয়স থেকে অবশ্যই রেগুলার দিনের বেলা সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। টিনেজ পার হয়ে গেলেও এটি কোনোভাবেই স্কিন কেয়ার রুটিন থেকে বাদ দেয়া যাবে না।

হাতে স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন

প্রশ্ন ৩:

তানজুম আক্তার আপু জানতে চেয়েছেন, “ প্লিজ জানাবেন টিনেজারদের জন্যে বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন কেমন হবে?” ইউটিউব থেকে সংগৃহীত।

উত্তরঃ বেশিরভাগ টিনেজাররা কনফিউশনে ভোগেন তাদের স্কিন কেয়ার রুটিন নিয়ে এবং কোন প্রোডাক্টগুলো তাদের স্কিনের জন্য ব্যবহার করা উচিত। চলুন ছোট্ট করে জেনে নেই, টিনেজার স্কিন কেয়ার রুটিনের স্টেপগুলো নিয়ে।

১) প্রথমেই ত্বকের ধরন বুঝে ফেইস ওয়াশ বা ক্লেনজার ব্যবহার করতে হবে।

২) এর পর পর-ই ময়েশ্চারাইজার ইউজ করা মাস্ট।

৩) ময়েশ্চারাইজার ইউজ করে দিনের বেলা সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।

৪) স্কিনের হাইড্রেশন লেভেল ঠিক রাখতে এবং স্কিন প্রোপারলি ক্লিন রাখার জন্য জন্য সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার শীট মাস্ক অথবা হোমমেইড যেকোনো মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।

৫) যেহেতু দিনের বেলা সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন, তাই ফেইস ক্লিন করার সময় ডাবল ক্লেনজিং করতে ভুলবেন না।

টিনেজারদের জন্যে সিরাম বা ক্যামিকেল এক্সফোলিয়েটর এসব স্কিন কেয়ার রুটিনে না রাখাই ভালো। তবে মাইল্ড কোনো এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রশ্ন ৪:

অহনা জাহান আপু জানতে চেয়েছেন, “আমার বয়স ২২! আমার স্কিন টাইপ অনেকটাই অয়েলি। আমার জন্যে কোন ময়েশ্চারাইজারটি ভালো হবে? যেটি দিনে এবং রাতেও ব্যবহার করতে পারবো”। ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত।

উত্তরঃ অয়েলি স্কিনের ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে খেয়াল রাখবেন, তা যেন লাইটওয়েট হয়, এতে যেন এসপিএফ (SPF) থাকে এবং সবসময় অয়েল বেইজড, থিক, ক্রিমি ধরনের ময়েশ্চারাইজার অ্যাভয়েড করবেন। জেল বা লাইট লোশন বেইজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের চেষ্টা করবেন।

লাইলাক ব্রাইটেনিং ময়েশ্চারাইজার হাতে একজন

অয়েলি স্কিনের জন্যে বেস্ট ৫টি ময়েশ্চারাইজার 

(১) সিম্পল হাইড্রেটিং লাইট ময়েশ্চারাইজার (Simple Kind to Skin Hydrating Light Moisturiser)

(২) নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট ওয়াটার জেল (Neutrogena Hydro Boost Water Gel)

(৩) লাইলাক ব্রাইটেনিং ময়েশ্চারাইজার (Lilac Brightening Moisturiser)

(৪) পন্ড’স সুপার লাইট জেল ময়েশ্চারাইজার (Pond’s Super Light Gel Moisturiser)

(৫) ফ্রেইয়াস অয়েল কন্ট্রোল গ্লো বুস্ট ময়েশ্চারাইজার (Freyias Oil Control Glow Boost Moisturizer)

প্রশ্ন ৫:

ফাতেমা মাহী আপু জানতে চেয়েছেন, “টোনার এর কাজ কী? কখন টোনার ব্যবহার করতে হয়?” ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত।

উত্তরঃ ত্বককে সুস্থ রাখার প্রাথমিক তিনটি ধাপ ক্লেনজিং-টোনিং-ময়েশ্চারাইজিং। ত্বককে ক্লিন বা পরিষ্কার করতে, ক্লেনজিং এবং ময়েশ্চারাইজিংয়ের স্টেপ বা ধাপ দুটি মেনে চললেও অনেকেই বেশিরভাগ সময় বাদ দিয়ে যান মাঝের ধাপটি অর্থাৎ টোনিং

টোনারের কাজ

  • ত্বকের গভীর থেকে তেল-ময়লা বের করে আনা ছাড়াও পোরগুলোকে ছোট করে ব্রণের প্রবণতা কমাতে পারে এই টোনার।
  • কিছু কিছু টোনার ত্বক পরিষ্কার ও টানটান করা ছাড়াও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে।
  • শুধু ফেইসওয়াশ ব্যবহার করে মুখের গভীরে থাকা ধুলোময়লা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। আর এই অসম্ভব কাজকেই সম্ভব করে টোনার।
  • ফেইসে অনেক কারণেই পি.এইচ এর ভারসাম্য হারিয়ে যায়। এর কারণে, ত্বক অয়েলি হয়ে যায়। টোনার ত্বকের এই পি.এইচ ব্যালেন্স বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কখন টোনার ব্যবহার করতে হয়?

প্রশ্নবোধক ভাবে তাকিয়ে আছেন একজন

ক্লেনজার বা ফেইস ওয়াশ দিয়ে স্কিন প্রোপারলি ক্লিন করে তুলা বা কটনে টোনার লাগিয়ে নিতে হবে। এবার কটন এর সাহায্যে পুরো মুখে ড্যাব ড্যাব করে অ্যাপ্লাই করে নিন। অর্থাৎ ক্লেনজিংয়ের পরের স্টেপটাই হচ্ছে টোনিং করা!

নিজেকে সুন্দর দেখাতে, সুন্দর করে সাজাতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া একটু মুশকিলই বটে। তবে নিজেকে সুন্দর দেখানো এবং সুন্দর করে সাজানোর আগে প্রয়োজন নিজেকে সুন্দর রাখা এবং সঠিকভাবে নিজের যত্ন নেয়া। আশা করছি আজকের এই FAQ বেসিক স্কিন কেয়ার, এপিসোড-১ থেকে অনেকেই তাদের স্কিন টাইপ বা ধরন সহজেই বুঝতে পারবেন। স্কিন কেয়ারের বেসিক কিছু বিষয় নিয়ে ধারণা পাবেন সহজেই। আজকে এ পর্যন্তই। বেসিক স্কিন কেয়ার, এপিসোড-২ নিয়ে জানতে সাজগোজের সাথেই থাকুন। অথেনটিক প্রোডাক্টস কিনতে আপনারা চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত, সেখান থেকে কিনতে পারেন আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

ছবি- সাজগোজ

9 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...