মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করতে ৫ টি টিপস! মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করতে ৫ টি টিপস!

মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করতে ৫ টি টিপস!

লিখেছেন - মাহাবুবা বীথি মার্চ ১৫, ২০১৬

মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করার পূর্বে কিছু কথা বলে নেওয়া দরকার। আজকাল অনেকের মুখেই একটা কমন সমস্যা শুনতে পাই এবং তা হলো, “ওজন বেড়ে যাচ্ছে” ! হালকা পাতলা ছিলেন ঠিকই, কিন্তু হঠাৎ করেই যেন পেটের মেদ বেড়ে যাচ্ছে, কোমরের দু’পাশে মেদ জমে যাচ্ছে! পছন্দের পোশাকগুলোকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আর পরতে পারছেন না। আর এখন জীবনযাত্রাই এমন যে চাইলেও আপনি খুব নিয়ম মেনে ডায়েট বা ব্যায়াম কোনটাই করতে পারছেন না। আজ ডায়েট করলেন তো কালই আবার দাওয়াত বা বাইরে হ্যাং আউট। সারাদিনই কাজ করেন কিন্তু সেটা বসে বসে, দিনের শেষে তাই ব্যায়ামের জন্য না থাকে সময়, না থাকে ইচ্ছা। আবার অনেকে ডায়েট বা ব্যায়াম করেও কোনভাবেই ওজন কমাতে পারছেন না । ফলাফল মুটিয়ে যাওয়া শরীর। তাই জমে থাকা মেদকে ঝরিয়ে ফেলতে তথা মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করতে আজ জানাবো ৫টি সহজ ও দ্রুত উপায়।

শরীরের মেদ কমানোর বিষয়টি নির্ভর করে আপনার শরীরের মেটাবলিজম রেট এর উপর। মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করতে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ভূমিকা রাখে আপনার ডায়েট চার্ট আর বাকি ১০ ভাগ আপনার ব্যায়াম চর্চা।

মেটাবোলিজম

প্রথমেই আপনাকে আপনার মেটাবোলিজম সম্পর্কে বুঝতে হবে। মেটাবোলিজম প্রক্রিয়ায় আপনার শরীর আপনি যা খাচ্ছেন ও পান করছেন তা ক্রমাগত এনার্জি বা শক্তিতে পরিণত করছে। এই এনার্জি কোনোভাবে হয় বার্ন হচ্ছে না হয়  ফ্যাট হিসেবে জমে যাচ্ছে। এই ফাংশনটি পুরো করতে যে পরিমান ক্যালরি আপনার শরীর ব্যবহার করে সেটাই হচ্ছে মেটাবলিক রেট। এই মেটাবলিক রেট স্লো হয়ে যেতে পারে বেশ কিছু কারণে, যার ফলে আপনার পক্ষে ওজন কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। প্রথমেই জেনে নেই তাহলে এই বিষয়গুলো কি কি –

মেটাবলিক রেট স্লো হয়ে যাওয়ার কারণ

১) আপনার পেট, উরু ও নিতম্বে যদি অতিরিক্ত পরিমান মেদ জমে থাকে।

২) আপনার যদি মেনপোজ হয়ে থাকে বা মেনোপোজের প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

৩) ঘুমের সমস্যা থাকলে।

৪) মাসল টোন এর সমস্যা থাকলে।

৫) খাবারের তালিকায় ভুল খাদ্য অনেক বেশি পরিমাণে এবং সঠিক খাবার কম পরিমাণে থাকলে।

৬) অনেক বেশি পরিমান ব্যায়াম, খুবই কম ব্যায়াম অথবা ভুল ভাবে ব্যায়াম করলে।

৭) জেনেটিক্যালি যদি আপনার মেটাবলিক রেট স্লো এবং মোটা হবার ধাঁচ থেকে থাকে।

এছাড়াও ৪০ এর পরে এমনিতেই মেটাবলিক রেট কমতে থাকে।

মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করার উপায়সমূহ

১) আপনার সারা দিনের খাবারের রুটিনকে ১০-১২ ঘণ্টার একটি সাইকেলে ফেলে দিন। এতে করে আপনার শরীর ফ্যাট বার্ন করার উপযোগী পরিবেশ পাবে এবং সারারাত ধরে শরীর ডিটক্সিফাই হতে থাকবে। অর্থাৎ আপনাকে খেতে হবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে।

২) ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ব্যায়াম করুন। সকাল বেলায় ন্যাচারালি আপনার শরীর ফ্যাট বার্ন করার জন্য প্রস্তুত থাকে, যা ওজন কমাতে অনেক সহায়তা করে। ম্যাক্সিমাম ফ্যাট লস করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়ামগুলোর ২-৩ টি সেট করুন কোন ধরনের বিশ্রাম ছাড়াই। সপ্তাহে ৩ বার এভাবে ওয়ার্কআউট করুন।

৩) ওয়ার্কআউট এর পরে ছানার পানি বা ঘোল দিয়ে তৈরি কোন একটা প্রোটিন শেক পান করুন। এটি একদিকে আপনার খাওয়ার ইচ্ছা মেটাবে আরেকদিকে প্রায় ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পরে আপনার মেটাবোলিজমকে বৃদ্ধি করবে। তবে এই প্রোটিন শেক এ কোন ধরনের চিনি ব্যবহার করা যাবে না।

৪) থারমোজেনিক খাবার খেতে হবে, যা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে। শুনতে নতুন লাগছে? থারমোজেনিক খাবার শরীরে তাপ উৎপন্ন করে শরীরের ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। যেমন- লিন প্রোটিন (মাছ, চর্বি ছাড়া মুরগির মাংস) , ডিমের সাদা অংশ, গ্রিন টি, ফাইবার যুক্ত খাবার, সবুজ শাক সবজি, গোলমরিচ, ঠাণ্ডা পানি।

৫) সব শেষের কথা খাবারের তালিকায় রাখুন ফাইবারযুক্ত খাবার। ওজন কমাতে গেলে অনেক সময় ব্লাড সুগার ওঠা-নামা করে থাকে, যে কারণে খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। তাই এমন সব খাবার খান যা আপনাকে পেট ভরপুর অনুভুতি দেবে ঠিকই কিন্তু ফ্যাট জমতে দেবে না। এজন্য খেতে পারেন বার্লি, ব্রাউন রাইস বা ব্রাউন আটার রুটি, ওটমিল, গাজর, ব্রকলি, ফুলকপি, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের ডাল, আপেল, পেয়ারা, কমলা, খেজুর, কিশমিশ।

তাহলে আর দেরি কেন? আমরা যেহেতু আমাদের বয়স বা জেনেটিক বদলাতে পারবো না, তাই এসব ছোট্ট কিন্তু কার্যকরী পরিবর্তনের মাধ্যমেই আমরা শরীরের মেদ কমানো ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করতে পারি। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে মেদ যেমন শরীরে একদিনে জমে না তেমনি একদিনে তাকে ঝেড়ে ফেলাও সম্ভব নয়। ধৈর্য নিয়ে নিয়ম মেনে চলুন মেদ ঝরবে, পাশাপাশি আপনিও থাকবেন একদম ফিট।

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

ছবিঃ সংগৃহীত – ইমেজেসবাজার.কম