ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন আর থাকুন সুন্দর - Shajgoj

ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন আর থাকুন সুন্দর

happy-people

আমরা সকলেই কুশল বিনিময়ের সময় বলি ‘ভালো থাকবেন’। কিন্তু ব্যস্ত এই জীবনে হাজারো জটিলতার মাঝে ভালো থাকা  আসলেই খুব একটা সহজ ব্যাপার না। কিন্তু তাই বলে হয়ত অসম্ভব কিছু না। একটু চাইলেই হয়ত আমরা ভালো থাকতে পারি। আর ভালো থাকার মাধ্যমেই নিজেকে রাখা যায় সুস্থ ও সবল। নিজেকে সুন্দর রাখতেও সুস্থ থাকাটা জরুরী। ভালো থাকাটা যার যার নিজের ব্যাপার। নীচে আপনাদের সুবিধার্থে ভালো থাকার কয়েকটি সহজ উপায় বলা হলঃ

(১) ভালো অনুভূতি

সবসময় ভালো অনুভূব করার চেষ্টা করুন। ভালো অনুভূতি ও চিন্তা থেকে শক্তি আসে। আপনার শৈশবের কথাই চিন্তা করে দেখুন। শৈশবে আপনি কত না খেয়ে না দেয়ে থেকেও কত শক্তি পেতেন খেলার। এর কারণ হল, কোন ধরনের খারাপ চিন্তা আপনার মনে বাসা বাঁধতো না তখন। তবে তার মানে এই না যে খাওয়া দাওয়া অনিয়ম করবেন। খাওয়া দাওয়া ঠিক রেখে বাকি সব করতে হবে।

[picture]

(২) ওজন নিয়ন্ত্রণ করা

ওজন ঠিক রাখার মাধ্যমে আপনি নিজের সুস্থতা বজায় রাখতে পারেন খুব সহজেই। অতিরক্ত ওজন অথবা খুব কম ওজন কোনটি-ই ভালো নয় স্বাস্থ্যের জন্য। বয়স, উচ্চতা অনুযায়ী নিজের ওজন ঠিক রাখা খুবই জরুরী। সকালের নাস্তায় ভারী কিছু খাবেন না। সকালের নাস্তায় রং চা, দুধ অথবা জুস রাখার চেষ্টা করবেন। দুপুরে ভাত খাবেন। বেশি করে সবজি খাবার তালিকায় রাখবেন। ভাত পরিমিত পরিমাণে খাবেন কিন্তু সবজি বেশি খাবেন। মাছ, মাংস-ও নিয়ম করে খাবেন। খুব বেশি পরিমাণে খাবেন না। রাতের খাবার-ও তাই। রাতে খাবার খেতে হয় খুব অল্প। তবে খাবার পর চাইলে ফলমূল খেতে পারেন ডেসার্ট হিসেবে।

(৩) পরিকল্পনা

সবসময় পরিকল্পনা মাফিক চলার চেষ্টা করুন। কখনো হুটহাট কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না কোন বিষয়ে। আপনার একটা ভুল সিদ্ধান্ত আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে খারাপ ভাবে যার জন্য সারা জীবন আপনি পস্তাবেন।

(৪) অবসর নেবেন না

কাজ থেকে অবসর নেয়ার চিন্তা আনবেন না মাথায়। অনেকেই হতাশায় ভুগে কাজ থেকে অবসর নিতে চায়। কিন্তু এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত কারণ কাজের মাঝে না থাকলে মাথা ও শরীর দুটোই ঝিমিয়ে পড়ে। ৬৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত কাজ থেকে অবসরের চিন্তাও আনবেন না।

(৫) জ্ঞান বিতরণ

আপনি যা জানেন তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। এতে অন্যরাও উপকৃত হবে আর আপনার প্রতি তাদের সম্মান ও ভালোবাসাও বাড়বে।

(৬) ব্যায়াম

নিয়মিত ব্যায়াম করুন। আপনি যতই সুস্থ ও সবল হয়ে থাকুন না কেন নিয়মিত ব্যায়াম করতে ভুলবেন না। সকালে উঠার অভ্যাস করুন এবং সকালে হাঁটুন ও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

(৭) অনুপ্রেরণা

সবসময় এমন কিছু মানুষের সাথে মিশুন যারা আপনার কাজে আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে। উৎসাহিত করবে। আপনার কাজে কোন ভুল হলে শুধরে দেবে অন্যের কাছে সমালোচনা না করে। আর কাউকে আদর্শ মানতে পারলে ভালো। অনেকেই বিজ্ঞ কিছু মানুষকে আদর্শ ভাবে তাদের মত জীবন ধারণ করতে চায়। তবে আপনি নিজেই যদি নিজের জীবনের আদর্শ হতে চান তাতেও কোন বাঁধা নেই। প্রয়োজন শুধু সুনির্দিষ্ট পথরেখা।

(৮) মজা করুন

সবসময় মজার মধ্যে থাকুন। যতই ব্যথা থাকুক না কেন, কষ্ট থাকুক না কেন, চেষ্টা করুন মজার মধ্যে ডুবে থেকে কষ্ট গুলো ভুলে থাকতে। কারণ কষ্ট গুলো সাময়িক। আর এই সাময়িক কষ্ট হয়ত আপনাকে দীর্ঘস্থায়ী কোন সুখের মুখ দেখাবে বলেই।

(৯) অঘটনের জন্য প্রস্তুত থাকুন

কেউ বলতে পারেনা যে, কখন কী ঘটবে। তাই সবসময় নিজের মন কে প্রস্তুত রাখুন এসব ঘটনার জন্য। ঘরে সব সময় টাকা পয়সা রাখুন এসব ঘটনা মোকাবিলা করার জন্য। হাসপাতাল, এ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ স্টেশন, ফায়ার ব্রিগেটের নাম্বার মোবাইলে সব সময় রাখুন। যেকোনো সময় আপনার কাজে আসতে পারে।

(১০) সবদিক থেকে চিন্তা করুন

একটা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ দুই দিক থাকে। তাই সবসময় যেকোনো বিষয় দুভাবে চিন্তা করুন। কতটা ভালো আছে তার মাঝে, কতটা খারাপ। খারাপ থাকলেও তার পরিমাণ কতটুকু। শুধু তাই নয়, আপনার কাছে যা গ্রহণযোগ্য তা অন্যের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা ভেবে দেখুন।

ভালো থাকা কঠিন কিছু না। একটু ভেবে দেখলেই দেখবেন কত সহজে আপনি ভালো থাকতে পারছেন। নিজের সুস্থতা আর সৌন্দর্যের জন্য ভালো থাকা কতটা জরুরী তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

লিখেছেন –  পাপিয়া সুলতানা

ছবি- সিল্ভিয়াকইউএসএডিএ ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম

4 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...