চুল বড় হচ্ছে না! এর পেছনের কারণগুলো কী হতে পারে?

চুল বড় হচ্ছে না! এর পেছনের কারণগুলো কী হতে পারে?

1 (9)

লম্বা চুল কে না চায়! কিন্তু চাইলেই কি আর সব হয়? ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে ভলিউম কমে গেলেও কোনো সমাধানই যেন পাওয়া যায় না। আবার চুল বড় হওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রোডাক্ট ইউজ করার পরও যখন আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না তখন মনটা বেশ খারাপই হয়ে যায়। তাই না? কিন্তু সহজে চুল কেন বড় হচ্ছে না? এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে। হেলদি লাইফস্টাইল মেনটেইন না করা, পল্যুশন, স্ট্রেস, ইমব্যালেন্সড ডায়েট, থাইরয়েড ইত্যাদির মতো নানা কারণ এর পেছনে দায়ী। আজকের আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব হেয়ার গ্রোথ স্টেজ এবং চুল বড় না হওয়ার বিভিন্ন কারণগুলো নিয়েই। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।

হেয়ার গ্রোথ স্টেজ

চুল বড় হচ্ছে না কেন তার কারণগুলো জানার আগে হেয়ার গ্রোথ স্টেজ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেয়া দরকার। হেয়ার গ্রোথের ৪টি স্টেজ আছে। সেগুলো হচ্ছে অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন, টেলোজেন ও অ্যাক্সোজেন। চলুন এই স্টেজগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

হেয়ার গ্রোথ স্টেজ

১) অ্যানাজেন (হেয়ার গ্রোথ বা অ্যাকটিভ স্টেজ)- আমাদের মাথায় থাকা বেশিরভাগ চুল এই স্টেজে থাকে। এই স্টেজে থাকা একেকটি চুল ৩-৫ বছর সময় ধরে বড় হতে থাকে। অ্যানাজেন স্টেজে থাকা অবস্থায় প্রতি মাসে চুল হাফ ইঞ্চি করে বড় হয়।

২) ক্যাটাজেন (ট্রানজিশন স্টেজ)- হেয়ার গ্রোথের সেকেন্ড এই স্টেজের সময়কাল ১০ দিনের মতো। এই স্টেজে হেয়ার ফলিকল সংকুচিত হয় এবং হেয়ার সেপারেট হয়ে যায়। এই ধাপে এসে হেয়ার গ্রোথ স্লো হয়ে যায়।

৩) টেলোজেন (রেস্টিং স্টেজ)- এই স্টেজে যে হেয়ার ফলিকলগুলো থেকে ক্যাটাজেন স্টেজে চুল সেপারেট হয়ে যায়, সেই একই ফলিকলে নতুন হেয়ার গ্রো করা শুরু করে। তিন মাসের মতো স্থায়ী থাকা এই ফেজে হেয়ার গ্রোথ অফ হয়ে যায়, কিন্তু চুল পড়ে যায় না।

৪) অ্যাক্সোজেন স্টেজ- এই স্টেজে আসলে টেলোজেন স্টেজে থাকা চুলগুলো পড়ে যেতে শুরু করে। চুল আঁচড়াতে গেলে বা শাওয়ারের সময় যে চুলগুলো পড়ে যায় সেগুলো এই স্টেজেই থাকে। তবে এরপর নতুন আরও চুল গজায়। এই ধাপটি বিদ্যমান থাকে ২-৫ মাস পর্যন্ত। এরপর আবার নতুন করে হেয়ার গ্রো করা শুরু করে।

চুল বড় হচ্ছে না কেন?

হেয়ার গ্রোথ স্টেজ সম্পর্কে তো জানা হলো। কিন্তু কোনো কারণে যদি এই গ্রোথ সাইকেলে বাঁধা আসে, ঠিক তখনই হেয়ার গ্রোথ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এবার চলুন তাহলে চুল বড় না হওয়ার পেছনের কারণগুলো সম্পর্কে জানা যাক-

চুল বড় হচ্ছে না কেন?

জেনেটিক কারণ

আমাদের একেকজনের চুল একেক রকম। কারও হয়ত চুল অনেক ঘন, কারও পাতলা। আবার কারও চুল অনেক লম্বা তো, কারও একদমই বড় হতে চায় না! আপনি কি জানেন চুলের এমন রকমফেরের একটি কারণ হতে পারে জেনেটিক্স? আমাদের হেয়ার গ্রোথ সাইকেলে বেশ ইম্পরট্যান্ট একটি রোল প্লে করে এটি। বংশের কারও চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে উত্তরাধিকার সূত্রে আপনারও এই সমস্যা হতে পারে।

স্ট্রেস লেভেল

যে কোনো ধরনের ফিজিক্যাল অথবা সাইকোলজিক্যাল স্ট্রেস হেয়ার গ্রোথের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্ট্রেস Telogen effluvium নামক একটি কন্ডিশনকে ট্রিগার করে, যেখানে চুল প্রিম্যাচিউরভাবে টেলোজেন ফেইজ এ চলে যায়। আর এই পর্যায়ে চুলের বৃদ্ধি ৩০ শতাংশ কমে যায়। এই স্টেজের সরাসরি কোনো চিকিৎসা নেই। যদি ছয় মাসের মধ্যে এই স্টেজের বদল না হয়, তাহলে হেয়ার গ্রোথ সাইকেলে এফেক্ট পড়ে এবং হেয়ার লস হয়।

হেয়ার ব্রেকেজ

সাধারণত একজন মানুষের চুল বছরে ৬ ইঞ্চি লম্বা হয়। যদি আপনি এই সময়ের পর খেয়াল করেন যে, চুল আর বড় হচ্ছে না তাহলে এর কারণ হতে পারে হেয়ার ব্রেকেজ। আর এই সমস্যা হয় যদি চুলের নিয়মিত যত্ন না নেয়া হয়। কেমিক্যাল প্রোডাক্টের অতিরিক্ত ব্যবহার ও হিট স্টাইলিং এর কারণে চুলের ময়েশ্চার ও ইলাস্টিসিটি কমে যায়। আর এই কারণে চুল ড্রাই হয়ে ভেঙে যেতে পারে। যাদের চুল বেশি ড্রাই তাদের স্প্লিট এন্ড বেশি হয়। যদি চুল প্রোপার ময়েশ্চার না পায়, তাহলে স্প্লিটিং শুরু হয়। এই প্রবলেম হলে সেই চুলটুকু কেটে ফেলাই ভালো। এতে হেয়ার ব্রেকেজের সম্ভাবনা কমে যায়।

চুল বড় না হওয়ার একটি কারণ হতে পারে হেয়ার ব্রেকেজ

বয়স

বয়স বাড়ার সাথে সাথে যে শুধু চুল সাদাই হয় তাই নয়, বরং এর কারণে চুল বড় হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। আপনি যত বড় হবেন তত অ্যানাজেন ফেইজে চুল ছোট হতে থাকবে। সেই সাথে আপনার ফিজিক্যাল হেলথ, ফুড হ্যাবিট, চুলের উপর করা নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট, স্টাইলিং, সব কিছুই হেয়ার গ্রোথ সাইকেলকে নিয়ন্ত্রণ করে।

হরমোনাল ইমব্যালেন্স

আমাদের মেয়েদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন নামক পুরুষ হরমোনের উপস্থিতি রয়েছে। এই হরমোনের ইমব্যালেন্স হলে হুট করেই চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। থাইরয়েড, পিসিওএস, মেন্সট্রুয়েশন, মেনোপজ, প্রেগনেন্সি ইত্যাদি নানা কারণে হরমোনাল ইমব্যালেন্স হতে পারে। যদি এই কারণে চুল বেশি পড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হেলদি লাইফস্টাইল মেনটেইন না করা 

হেলদি লাইফস্টাইল মানে রেগুলার এক্সারসাইজ করা এবং হেলদি ফুড খাওয়া। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন চুল বড় হওয়ার সাথে ব্যায়াম বা খাবারের কী সম্পর্ক? আপনার শরীরের মতো চুলেরও ভিটামিন, মিনারেল, নিউট্রিয়েন্ট দরকার হয়। অনেকেই চুল বৃদ্ধির জন্য মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেয়ে থাকেন। এছাড়া আয়রন, প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন এ অথবা বায়োটিনের অভাবেও চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যায় বা পড়ে যায়। যার কারণে চুল বড় হয় না। তাই এমন খাবার খেতে হবে যেগুলো খেলে এই সবগুলোর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। যেমন- মুরগীর মাংস, ডিম, মাশরুম, টক দই, রেড মিট, বিনস, বাদাম ইত্যাদি। চুলের বৃদ্ধি চাইলে খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখার অবশ্যই চেষ্টা করুন। সেই সাথে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম বা ইয়োগা করার চেষ্টা করুন। কারণ ব্যায়াম করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। আর এই রক্ত সঞ্চালন স্ক্যাল্পে নিউট্রিয়েন্ট পৌঁছাতে সাহায্য করে। যার কারণে হেয়ার গ্রোথ হয়।

চুল বড় না হওয়ার পেছনে এক্সারসাইজও একটি কারণ

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়েটা (Alopecia Areata)

এটি একটি অটোইমিউন ডিজঅর্ডার যেটি হেয়ার ফলিকলের ক্ষতি করে এবং চুল পড়তে বাধ্য করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সমস্যা জেনেটিক্যালি হয়। ডাউন সিনড্রোম, অ্যাজমা ও থাইরয়েড ইস্যুর কারণে এই সমস্যা হওয়ার রিস্ক বেশি থাকে। প্রোপার মেডিকেশন ও ফটোথেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া অ্যানিমিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস ইত্যাদি অসুস্থতায় ভুগলেও চুল পড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পরও চুলের বৃদ্ধি আগের অবস্থায় ফিরে যায় না।

থাইরয়েড প্রবলেম

থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে হরমোন প্রোডাকশন ইরেগুলার থাকলে চুলের উপর নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট পড়ে। বডির মেটাবলিজমে হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজম যেমন প্রভাব ফেলে, ঠিক তেমনই চুলের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়া বা চুল পড়াতেও এদের প্রভাব আছে।

সন্তান জন্মদান

সন্তান জন্মদানের পর হরমোনাল ইমব্যালেন্স হয় যার কারণে হেয়ার লস হতে পারে। হেলদি ডায়েট, রেগুলার এক্সারসাইজ, নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট এই পোস্টপার্টাম হেয়ার লসকে অনেকখানি কমিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া কয়েক মাস পর চুল পড়ার সমস্যা ধীরে ধীরে এমনিতেই কমে আসে। যদি কোনো কারণে এ সমস্যা না কমে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

চুল কেন বড় হচ্ছে না তার কারণগুলো তো জেনে নিলেন। এখন কারণ বুঝে চুলের যত্ন নিতে নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হবে না। হেয়ার কেয়ার, স্কিন কেয়ার ও মেকআপ রিলেটেড অথেনটিক বিভিন্ন প্রোডাক্ট সাজগোজে পেয়ে যাবেন। সাজগোজের চারটি ফিজিক্যাল শপ রয়েছে। শপগুলো যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার এবং উত্তরার পদ্মনগর (জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) এ অবস্থিত। এই শপগুলোতে ঘুরে নিজের পছন্দমতো অথবা অনলাইনে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন আপনার দরকারি প্রোডাক্টগুলো।

ছবিঃ সাজগোজ, সাটারস্টক

3 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...