ত্বকের যত্নে ভিটামিন কতটা কার্যকর জানেন কি?

ত্বকের যত্নে ভিটামিন কতটা কার্যকর জানেন কি?

vitamin for skin care

রুক্ষ ত্বক নিয়ে সৌন্দর্য সচেতন মানুষের নেই চিন্তার শেষ। ত্বক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগা মানুষ একের পর এক বাজারের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেও অনেক সময় পান না মনের মতো ত্বক। কিন্তু প্রসাধনীর বাইরে শুধু একটু খাবার সচেতন হলেই সব ঋতুতে ত্বককে সুন্দর রাখা সম্ভব। ত্বক ভালো রাখতে চাই প্রচুর ভিটামিন আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant), যা আমাদের হাতের নাগালেই পাওয়া যায় সারা বছর। এসব উপাদান শুধু যে ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে তাই নয় সেই সঙ্গে ত্বক কে উজ্জ্বল করবে। রঙ ফর্সা করা, কালো দাগ ও ব্রণ দূর করা কোনো কিছুই যেন আজকাল আর অসম্ভব নয়। ত্বকের যত্নে ভিটামিন অনেক কার্যকর।

অথচ ত্বকের সৌন্দর্য বা যত্নের ব্যাপারে আমাদের ধারণা অনেকাংশেই ভুল। স্বাস্থ্য সচেতন হলে ত্বক এমনিতেই সুন্দর থাকার কথা। আপনি যে সুস্থ আছেন সেটা আপনার চমৎকার ত্বক দেখেই বোঝা সম্ভব। ত্বকের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতার জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এসবের অভাবে অনেক সময় ত্বক বিবর্ণ দেখাতে পারে, নানা রকম সমস্যা বা রোগও হতে পারে। ত্বকে ব্যবহার্য বিভিন্ন ক্রিম, লোশন ইত্যাদিতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যুক্ত থাকে। আজকাল বিভিন্ন পরিপূরক খাদ্য ও ক্যাপসুলও (Capsule) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের চারপাশে বিদ্যমান খাবারের নিয়মিত খাদ্যাভাসের মাধ্যমে ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ত্বকের যত্নে ভিটামিন কতটা কার্যকর তা আমাদের জানা আছে কি? আজকে আমরা আপনাদের জানাবো ত্বকের যত্নে ভিটামিন এর কার্যকরিতা সম্পর্কে।

ত্বকের যত্নে ভিটামিন

ভিটামিন ‘এ’

ভিটামিন-এ বা বিটা ক্যারোটিন (Beta carotene) ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরী উপাদান। ভিটামিন ‘এ’র অভাবে ত্বক রুক্ষ, খসখসে ও শুষ্ক হয়ে যায়। ভিটামিন ‘এ’ এসব সমস্যা দূর করে এবং ত্বকের প্রয়োজনীয় কোষ তৈরিতে সহয়তা করে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ ত্বককে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করে। ব্রণের চিকিৎসায় ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট (supplement) দেয়া হয়। রঙিন সবজি ও ফলে থাকে বিটা ক্যারোটিন। নিয়মিত সবুজ সবজি, গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়া, তরমুজ, আম ও মাছ খেলে ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি পূরণ হবে।

ভিটামিন সি

ত্বকের রূপ-লাবণ্য ধরে রাখতে ভিটামিন-সি’র তুলনা নেই। ত্বকের যত্নে ভিটামিন ‘সি’ খুবই উপকারী। কোলাজেন (collagen) ত্বকের টানটান ভাব রক্ষা করতে জরুরী। ত্বকের টানটান ভাব এবং ত্বকের ক্ষত দূর করে ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন ‘সি’। টকজাতীয় ফল, পেঁপে, আমলকী, তরমুজ, আনারস ও আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি আমাদের প্রয়োজন।

ভিটামিন

ত্বকের বলিরেখা ও ভাজপড়া রোধে ভিটামিন ‘ই’ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এমনকি দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম (Micro gram) ভিটামিন-ই আমাদের প্রয়োজন। ভিটামিন ‘ই’ এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant), যা ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। জলপাইয়ের তেল, সূর্যমুখীর বীজ, সাদা গম, কাজুবাদাম ভিটামিন ‘ই’ এর চাহিদা পূরণ করে।

জিংক

জিংক ( Zinc)  ত্বককে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার (Bacteria) হাত থেকে রক্ষা করে ত্বক ভালো রাখে। মাছ, সয়াবিন ও বাদামে প্রচুর পরিমানে জিংক আছে।

ওমেগা ৩

“ওমেগা ৩”(omega 3) ত্বককে ব্রণের হাত থেকে রক্ষা করে। কাজুবাদাম, আখরোট ও সূর্যমুখীর বীজ থেকে পর্যাপ্ত ‘ওমেগা ৩’ পাওয়া সম্ভব।

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স উজ্জ্বলতাও বাড়ায়। ডিমের সাদা অংশ, ঢেঁকিছাঁটা চাল, কলিজা, দুধ, গাজর, টমেটো ইত্যাদিতে এসব উপাদান পাওয়া যাবে।

ক্যালসিয়াম প্যান্টোথিনেট

বলা হয় যে এই উপাদানটির অভাবেই অকালে চুল সাদা হয়। ডিম ও দুধে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে।

আরও কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Micro nutrient) ত্বকের জন্য উপকারী। এর মাঝে রয়েছে সিলিকন (Silicon), সেলেনিয়াম (Selenium)ও কপার (Copper)। সিলিকন ত্বক কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের জন্য সিলিকন প্রয়োজন। সিলিকন সবজি, খাদ্যশস্য ও সামুদ্রিক মাছে পাওয়া যায়। এছাড়া কপার ত্বকের কোলাজেন, ইলাস্টিন (Elastin) ও মেলানিন  (Melanin) তৈরিতে সহায়তা করে বলে কপারও ত্বকের জন্য প্রয়োজনীয়। আর সেলেনিয়াম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (Antioxidants) হিসেবে কাজ করে রোদে পোড়া ত্বককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়ক। প্রতিদিন আমাদের ১০০ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম প্রয়োজন। রোদে পোড়া ত্বক, বলিরেখা, ব্রণ, যে কোনো সমস্যার জন্য আলফা হাইড্রক্সি (Alpha hydroxy) ভালো কাজ দেয়। স্বাভাবিকভাবে নানারকম ফল যেমন- আনারস, কমলা, আপেল, আঙ্গুর এগুলোতে আলফা হাইড্রক্সি থাকে। ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে দেয় আলফা হাইড্রক্সি। এতে ত্বক সতেজ হয়ে উঠে।

রোদ এড়িয়ে চলা, সুষম খাদ্যগ্রহণ, প্রচুর পানি পান ও নিয়মিত ব্যায়াম, অধূমপায়ী হওয়া এসব সুন্দর ত্বকের পূর্বশর্ত। আশা করি সচেতনতার মাধ্যমে আমাদের সবার ত্বক হবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, লাবণ্যময়।

 

ছবি- সংগৃহীত: ইমেজেসবাজার.কম

14 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...