সুস্থ থাকার ৫টি পন্থা! - Shajgoj

সুস্থ থাকার ৫টি পন্থা!

exercise

নিজের সুস্থতা নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। কথায় বলে “ prevention is better than cure” অর্থাৎ প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। নিজের জীবনযাত্রার কিছু নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকা যায় অনায়াসেই। কোন ধরাবাঁধা নিয়ম হিসেবে নয়, বরং নিত্যদিনের কার্যক্রমের মতই অভ্যাস করে এগুলোকে কাজে লাগানো যায়।

সূর্যালোকের গুণাগুনঃ

  • শরীর ভালো রাখার জন্য আলোরও যে একটা ভূমিকা আছে তা আমরা কতটা ভেবে দেখি? একটি পরীক্ষিত সত্য – যারা এমন ঘরে থাকেন যেখানে সূর্যের আলো ঢোকেনা, গায়ে রোদ লাগেনা তাঁরা শরীরের কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেন। অতএব নিয়মিত শরীরে রোদ লাগান। তবে বেশি নয়। সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা রোদের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই এইসময় রোদ না লাগিয়ে ভোরের বা বিকেলের মৃদুমন্দ রোদ লাগানো ভালো।
  • শরীরে সূর্যালোক না পড়লে তা থেকে মানসিক অবসাদ আসতে পারে। বিপরীতভাবে, সূর্যালোক হরমোন উজ্জীবিত করে অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যাদের আরথ্রাইটিস রয়েছে, যাদের কাজকর্মে উৎসাহ কম, তাঁদের পক্ষে সূর্যালোক বিশেষভাবে উপকারী।

ইতিবাচক থাকুন সবসময়ঃ

আপনার শরীর কী রকম থাকবে তার অনেকটাই নির্ভর করে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বা attitude এর ওপর। আপনি যদি সত্যিই মনে করতে থাকেন যে আপনি ভালো নেই, তার মানে আপনি আসলেই ভালো নেই। যদি মনে করতে থাকেন আপনি চমৎকার আছেন তারমানে বুঝতে হবে আপনার শরীর স্বাস্থ্য বেশ আছে। অন্যভাবে বলতে গেলে বলা যায় আপনার মন অনেকাংশে ঠিক করে আপনার শরীর কেমন থাকবে সেই ব্যাপারটা। কারণ এটাও সত্য যে শুধুমাত্র মনের জোরেই অনেক রোগ বা অসুখ থেকে দিব্যি সেরে উঠা যায়। অতএব positive attitude গড়ে তুলুন।

আপনি মানসিক চাপের শিকার হলে আপনার শরীর রোগের শিকার হয়ে সমস্যা আরও বাড়াবে। তাই মানসিক চাপ কাটান।

  • শ্রুতিমধুর সঙ্গিত শুনুন যখন অবসর পাবেন।
  • হালকা লাফ ঝাঁপ করুন, মিনিট পাঁচেকের মতো ঠাণ্ডা কোনও পানীয় পাইপ দিয়ে ধীরে ধীরে খান, যতক্ষণ ধরে সম্ভব।
  • চোখ বন্ধ করে কোনও একটি সংখ্যা ভাবুন, ভেবেই চলুন, দেখবেন একসময় মন ফাঁকা হয়ে গিয়েছে শুধু ঐ সংখ্যাটি ছাড়া।
  • শরীরের সমস্ত পেশি একবার শক্ত করে পরমুহূর্তেই শিথিল করে দিন। এক এক বার এক এক জায়গার পেশি, যেমন হাত, পা, কাঁধ, ঘাড় এর পেশি টান টান করে আবার শিথিল করুন। বার কয়েক নিয়মিত করলে অবশ্যই উপকৃত হবেন।

 খাদ্যাভ্যাসে নজর দিনঃ

শরীর ঠিক রাখতে নজর দিন দুপুরের খাবারের দিকে। সারাদিন ধরেই ভারী খাবার খাবেন না। রাতে তো একেবারেই না। সকালের নাস্তা হবে মূলত কার্বোহাইড্রেট প্রধান। ফ্যাট কম। দুপুরে মাছ, সালাদ, ভাত বা রুটি, শাকসবজি। এক গ্লাস নরমাল পানিতে লেবুর রস দিয়ে খেলে হজম হয় কোনও রকম acidity ছাড়াই। তাছাড়া alertness বাড়াতে সাহায্য করে এটি। বিকেলের নাস্তা বলতে অনেকেই মুখরোচক খাবার কে বোঝান। খেতে বাধা নেই, তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন নিত্যদিনের নিয়মে গিয়ে না দাঁড়ায়। বিকেলের খাবার ফল বা ফলের সালাদ দিয়ে সারা ভালো। এতে পেট ভরে অথচ রাতের খাবারের জন্য অনীহা জাগেনা।

আপনি কী খাচ্ছেন তার উপর আপনার মুড কেমন থাকবে তা অনেকটাই নির্ভর করে। হালকা খাবার, ভারী খাবার, মিষ্টি খাবার, তেলমশলা যুক্ত রিচ খাবার- এই এক এক রকম খাবার আপনার শরীরের ওপর এক এক রকম প্রভাব ফেলে। সুস্থ থাকার জন্য নিজেই সচেতন হতে এই ছোট্ট টিপস টি দিচ্ছি। সপ্তাহে ৭ দিন সারাদিনে কী কী খাচ্ছেন তার একটা তালিকা করে নিজেই দেখতে পারেন কোনদিন এবং কখন আপনি বেশ তরতাজা অনুভব করছেন। সারাদিনের মত খাদ্য গ্রহণের পরিমান আন্দাজ করে নিন। সেটিকে দিনে ৪-৫ ভাগে ভাগ করুন। এভাবে ৭ দিনের হিসাব রেখে দেখুন খাবার / পরিশ্রম ঠিক মতো হচ্ছে কিনা। সেই অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস করুন। ঠিক না মনে হলে বা একঘেয়েমি চলে আসলে পরিবর্তন করুন।

 নিয়মিত হোক ফলের রসঃ

রোগবালাই থেকে বাঁচতে আর এর দীর্ঘকাল তরতাজা থাকতে টাটকা ফল এর তুলনা নেই। ফল ও শাকসবজির রসে থাকে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেনট যা দূষিত পদার্থ থেকে শরীর কে রক্ষা করে। যেমন ধরুন গাজরের রস। রোজ ২-৪ আউন্স গাজরের রস খেলে যে কেউই উপকৃত হবেন। গাজরের রসে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন যা রোগ প্রতিরোধ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বারায়, দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়। তবে ফলের রস বা juice বলতে অনেকেই বাজারের বোতলজাত বা প্যাকেটজাত জুস বুঝে থাকেন। বলে রাখা ভালো, এসব জুস যতই প্রাকৃতিক বলে দাবি করা হোক  না কেন, এতে প্রিজারভেটিভ থাকেই। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তাই বাজারের ২৫০ মিলি জুস এর থেকে বাড়িতে ফল পিষে বের করা ১০০ মিলি ফলের রস খাওয়া উত্তম। মৌসুমি রসালো ফল যেমন আম, কমলা, মাল্টা, তরমুজ, কদবেল, আনারস এসব দেশী ফল থেকেই যথেষ্ট পুষ্টি পাওয়া যায়। তবে বাড়িতে রস তৈরি করার আগে কয়েকটি কথা মনে রাখতে হবে। যেমন ফলের খোসা, বিচি ইত্যাদি রস করবেন না। কারণ এতে প্রাকৃতিক বিষাক্ত পদার্থ থাকে যা ফলের রসের সাথে বিক্রিয়া করে পুষ্টিগুণ কমিয়ে দেয়।

পরিশ্রম করুনঃ

জানেন কি পেশি টান টান করলে, অর্থাৎ নিয়মিত স্ত্রেচিং করলে আপনার মেরুদণ্ড এবং হারের জয়েন্টগুলোর সচলতা বজায় থাকে অনেকদিন? শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে, শরীরের সব অঙ্গে অক্সিজেন সুষম ভাবে পৌঁছায়। ফলে শরীর বেশি কর্মক্ষম থাকে, কাজে কর্মে উৎসাহ আসে। মাঝ বয়সের পর কোমরের ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এর আরও কত উপকারিতা এক এক করে দেখুন-

  • মেরুদণ্ড নমনীয় রাখে
  • শরীরের জয়েন্ট শক্ত হয়ে খিঁচে যাওয়া আটকায়
  • দেহ মনে এনার্জি বাড়ায়
  • নিয়মিত করলে কোষ্ঠবদ্ধতার সমস্যা কিছুতা হলেও লাঘব করে।
  • দীর্ঘকাল হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি পরিশ্রমের এমন একটা প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারেন যাতে কিছু ব্যায়াম, কিছু স্ত্রেচিং, কিছু অ্যারবিকস থাকবে। যদি নিয়মিত এটি করতে পারেন তো দেখুন কী কী উপকার পাবেন-

  • আপনার হার্ট আরও ভালো কাজ করবে
  • ব্লাড সার্কুলেশন ভালো চলবে
  • ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দীর্ঘকাল ভালো থাকবে
  • হাই ব্লাড প্রেসার ও কোলেস্টেরল কমবে
  • মানসিক চাপ আপনাকে কাবু করবেনা, অবসাদ কাটবে।

একটু লক্ষ করলেই দেখবেন আমাদের শারীরিক মানসিক সর্বোপরি সব সুস্থতাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ওপর অনেকখানিই নির্ভর করে। কিছু সংশোধন, কিছু সংযোজনই পারে আপনাকে সবসময় সুস্থ রাখতে। শুভকামনা রইল সবার জন্য।

লিখেছেনঃ চৌধুরী তাহাসিন জামান

ছবিঃ ডেটক্সডিভা.কম

8 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...