গ্রীষ্মে ঘাম, ঘামাচি, ব্রণ, সানট্যান থেকে বাঁচতে ১১টি টিপস গ্রীষ্মে ঘাম, ঘামাচি, ব্রণ, সানট্যান থেকে বাঁচতে ১১টি টিপস

গ্রীষ্মে ঘাম, ঘামাচি, ব্রণ, সানট্যান থেকে বাঁচতে ১১টি টিপস

লিখেছেন - চৌধুরী তাহাসিন জামান জুন ২৩, ২০১৩

আমাদের দেশের মত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে গরম কালই থাকে ৬ মাসের বেশি সময়। গরমকালে আমাদের যেই সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি বিব্রত করে সেগুলো হলো অতিরিক্ত ঘাম, ঘামাচি, রোদে পোড়া ভাব, পিম্পল বা অ্যাকনে। নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে আর একটু সচেতন হলেই কিন্তু গ্রীষ্মে ঘাম ঘামাচি ব্রণ সানটান সমস্যাগুলো আমাদের অতটা কাবু করতে পারে না। সাধারণ এই সমস্যাগুলো থেকে কিছুটা হলেও রেহাই দেবে নিচের টিপসগুলো।

গ্রীষ্মে ঘাম ঘামাচি ব্রণ সানটান থেকে বাঁচতে করণীয় কী?

ঘাম

১) গরমে ঘাম হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম যেমন খুব দ্রুত শরীরকে দুর্বল করে দেয়, তেমনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে অনেককেই। এর হাত থেকে রেহাই পেতে প্রথমেই আমরা যেটার কথা ভাবি সেটা হল গোলাপজল। গোলাপজল ও শসার রস সমপরিমাণে নিয়ে বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে এটি ৭ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। রোদ থেকে ফিরে এসে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে কটন বল-এর সাহায্যে মুখটা মুছে নিলে ত্বকের উত্তাপ এই মিশ্রণ খুব সহজেই মুছে নেয় এবং  ত্বককে করে তোলে সজীব। যাদের ঘামের প্রকোপ খুব বেশি তারা এই মিশ্রণ ব্যাগেই রাখুন। প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর মুছে নিন। ঘাম এর প্রকোপ থেকে মুক্তি পাবেন।

গ্রীষ্মে ঘাম এর যন্ত্রণা কমাতে মুলতানি মাটির প্যাক মুখে ব্যবহার - shajgoj.com

২) গোলাপজল আর মুলতানি মাটি একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। গোসলের ১৫ মিনিট আগে সারা গায়ে মেখে নিন। তারপর গোসল করে ফেলুন। ঘাম কমে যাওয়ার সাথে সাথে চনমনে সুগন্ধিতে ক্লান্তি-ও কেটে যাবে।

৩) ১৫-২০টি বড় সাইজ-এর এলাচি, সারারাত পানিতে ভেজান। ১০টি তেজপাতা আর মুলতানি মাটি একসঙ্গে মিশিয়ে বডি প্যাক হিসাবে সপ্তাহে ৩ দিন ব্যাবহার করুন। ঘাম কম হবে।

ঘামাচি

গ্রীষ্মে ঘামাচির যন্ত্রণা কমাতে টক দই - shajgoj.com

৪) যারা এই সমস্যায় জর্জরিত, তারাই জানেন এই সমস্যা মানুষকে কতটা অস্বস্তি ফেলতে পারে। ঘামাচির ক্ষেত্রে টক দই-এর মত আর কোনও কিছুই কাজ করে না। গোসলের আগে আটা আর টক দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। শরীরে লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে হাত দিয়ে ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন।

গ্রীষ্মে ঘামাচির যন্ত্রণা কমায় নিমপাতা তুলসিপাতা পুদিনাপাতার রস - shajgoj.com

৫) নিমপাতা, তুলসিপাতা, পুদিনাপাতা বেটে এর রস ছেঁকে নিন। কাঁচা হলুদ-এর সমপরিমা্ণ রসের সঙ্গে মেশান। বার বার তৈরী করার ঝামেলা থেকে বাঁচতে এটিও বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখতে পারেন ৭ দিনের জন্য। বাইরে থেকে ফিরে এসে তুলোয় করে এই মিশ্রণ ঘামাচি আক্রান্ত স্থানে লাগান। ১৫ -২০ মিনিট পর্যন্ত রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬) শুকনো তেজপাতা ব্লেন্ডার-এ মিহি গুঁড়ো করে নিন। গোলাপজলে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। ঘামাচি সারার সাথে সাথে ত্বক-ও হবে মসৃণ।

গ্রীষ্মে ঘামাচির যন্ত্রণা কমায় তুলসিপাতা বাটা - shajgoj.com

৭) সংবেদনশীল ত্বকে অনেক সময় শরীরের সাথে সাথে মুখেও গুঁড়ি গুঁড়ি বের হয়। অল্প পরিমাণে লাউবাটা, তুলসিপাতা, চালের গুঁড়ো বেটে একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালে উপশম হবে খুব সহজেই।

গ্রীষ্মে ঘামাচির যন্ত্রণা কমায় শসার আইস কিউব - shajgoj.com

৮) যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তারা আইস কিউব-এর ট্রেতে শসার রস জমিয়ে নিন। বাইরে থেকে ফিরে এই বরফ মুখে ঘষলে তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে নিমিষেই।

রোদে পোড়া ছোপ বা সানটান

গত কয়েক দিনের গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হলেও বাইরে বের হওয়াতো আর থেমে নেই। আর বাইরে বের হলেও রোদে পোড়ার হাত থেকে বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম। এর হাত থেকে বাঁচতে হলে নিঃসন্দেহে আমাদের কিছু প্রাকৃতিক ব্লিচ-এর সাহায্য নিতেই হবে। প্রাকিতিক ব্লিচ-এর কথা বলছি এজন্যই কারন বাজারের যেসব ব্লিচ ক্রিম ব্যবহার করা হয়, তা ব্যবহার করে বাইরে বের হলে ক্ষতিকারক সূর্য রশ্মি ত্বককে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে।

৯) প্রাকৃতিক ব্লিচ-এর মধ্যে সবার প্রথম হলো পাতিলেবুর রস। তবে এর রস কখনও সরাসরি মুখে লাগান যাবে না। লেবুর অতিমাত্রার অ্যাসিডিক প্রপার্টি ত্বকের ক্ষতি করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা ২ ভাগ পানি মিশিয়ে আর যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ২ ভাগ আলমণ্ড অয়েল এর সাথে মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। নিয়মিত করলে ত্বক হবে আরও বেশি মসৃন আর উজ্জ্বল।

গ্রীষ্মে সানটান এর যন্ত্রণা কমায় শসার রস ও কাঁচা হলুদ - shajgoj.com

১০) যাদের কোনও রকম ব্লিচ-ই সহ্য হয় না তারা সমপরিমাণ শসার রস ও কাঁচা হলুদ-এর রস ফ্রিজে রেখে দিনে ২-৩ বার তুলোর সাহায্যে মুখে মাখবেন। নিয়মিত ব্যবহারে পার্থক্য নিজেই দেখতে পাবেন।

১১) টক দই এইসব ক্ষেত্রে খুব কার্যকর ও সহজ পদ্ধতি। প্রতিবার ২০ মিনিট এর জন্য ব্যবহার এ এটি আপনার রোদে পোড়া ছোপ যেমন দূর করবে তেমনি দেবে উজ্জ্বল, দ্যুতিময় ত্বক।

পিম্পল বা অ্যাকনে

যারা এই সমস্যায় ভোগেন তাদের গরমের সময় তেলের নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা অনেক বেশি বেড়ে যায়। পিম্পল থেকে বাঁচতে অনেক কিছুইতো মাখা হয় আমাদের। কিন্তু তার সব কিছুই বিফলে যায় যদি না ত্বক ভেতর থেকে পরিশুদ্ধ থাকে। পিম্পল সেরে গেলেও রেখে যায় দাগ। তাই পিম্পল যেন একবারেই না হয় তার জন্য সব চেয়ে প্রাকৃতিক হলো সপ্তাহে ২-৩ বার চিরতার রস খাওয়া। এটা ত্বকের সেইসব জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করে যেগুলো পিম্পল হওয়ার জন্য দায়ী।

গ্রীষ্মে পিম্পল কমাতে চিরতার রস - shajgoj.com

এক কাপ পানিতে চিরতা সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। বেশ কড়া আর তেতো হলেও এর গুণ অতুলনীয়। আর সুন্দর পিম্পল ফ্রী ত্বক পেতে হলে এটুকু তো করাই যায়। এছাড়া নিম, হলুদ আর মুলতানি মাটি একসঙ্গে বেটে ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যায়।

পানিশূন্যতা

গ্রীষ্মে পানিশূন্যতা দূর করতে ফলের জুস - shajgoj.com

যেহেতু গরমে আমরা সবাই কম বেশি ঘামি তাই জেনে রাখা ভালো, ঘাম এর সাথে সাথেই প্রয়োজনীয় অনেক খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। তাই আমরা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। অনেক সময় অতিরিক্ত পানিশূন্যতার ঘাটতি পূরণ না করতে পারলে দেখা দেয় ডায়রিয়াসহ পেটের নানা সমস্যা। রোদের উত্তাপে আমাদের বাহ্যিক শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, শরীর ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। মৌসুমি ফল এসময় শরীর ঠাণ্ডা রাখে। এই সময় আমের শরবত, তরমুজের শরবত, বেলের শরবত, লেবুপানিসহ অন্যান্য রসাল ফল, পানি আর খনিজ এর চাহিদা অনেকখানি পূরণ করে দেয়। তাছাড়া দই এর পাতলা ঘোল, পুদিনার শরবত, দেহের তাপমাত্রাকে ব্যালেন্সড রাখতে সাহায্য করে।

 ছবিঃ সংগৃহীত – সাজগোজ.কম, ইমেজেসবাজার.কম