রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার | উজ্জ্বল ত্বক পেতে মেনে চলুন ৬টি টিপস

রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার | উজ্জ্বল ত্বক পেতে মেনে চলুন ৬টি টিপস

রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার এর মাধ্যমে ফর্সা কীভাবে হব– এই প্রশ্নটা মনে হয় হাজারবার শুনতে হয় বিউটি কনসালটেন্টদের। আবার এই একই টপিক নিয়ে ইন্টারনেট ঘাটলে পাবেন হাজার হাজার আর্টিকেল । মানুষের এই ফর্সা হওয়ার বাসনাকে পুঁজি করে কতজন ব্যবসা করছে তার নাই ঠিক। তবুও কী  বলতে পারবেন একটি পদ্ধতি যেটা কাজে দিয়েছে ১০০% বা যার কোন সাইড ইফেক্ট নেই?

ফর্সা হওয়ার প্রথম কথা হলো আপনার জন্মগত কিছু জেনেটিক্যাল বৈশিষ্ট্য আছে যেটা আপনি কোনভাবেই ওভারকাম করতে পারবেন না।  হয়তো কসমেটিক্স সার্জারি করে কিছু কম বেশি করা যাবে,  তাও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আপনাকে প্রথমে ফর্সা হওয়ার বা ফেয়ার হওয়ার সংজ্ঞা জানতে হবে।

প্রথমত কোন মানুষের কানের পেছনের দিকের যেই ত্বক, যেটা সবসময় ঢেকে থাকে সেই অংশের ত্বকের রঙ এর চেয়ে ফর্সা সে কখনো হতে পারবে না। কারণ ত্বকের এই একটি এরিয়া কখনো রোদে উন্মুক্ত হয় না, তাই রঙ পুড়েও না। মুখ রোদে পোড়ার কারণে যেই ক্ষতিটুকু হয় সেটা কিছুটা উদ্ধার করা সম্ভব, মানে আপনি আপনার জেনেটিক্যাল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যতটুকু ফর্সা হওয়ার কথা ছিলো তার কাছাকাছি হতে পারবেন, তারচেয়ে বেশি না।

 

দ্বিতীয়ত ফর্সা হওয়া মানে আমার কাছে মনে হয় স্কিন-টা আরো স্বাস্থ্যবান এবং উজ্জ্বল হওয়া। আমরা উজ্জ্বল বলতেই কেন জানি ফর্সা ভেবে বসি। দেখুন কালো গায়ের রঙ এর মানুষের ত্বক-ও উজ্জ্বল হতে পারে, আবার ফর্সা রঙ এর মেয়েও পেইল হতে পারে। ইংলিশ টার্মটা মনে হয় এই কনফ্যুশন থেকে রেহাই দিতে পারবে। মানে গ্লোয়িং বা শাইনি (Glowing/Shiny) স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকই আমার চোখে পারফেক্ট।

এই তো গেলো ফর্সার সংজ্ঞা। এখন আসুন বলি যেই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছেন সেগুলো কি আদৌ কাজে দিচ্ছে? কাজে না দিলে কেন দিচ্ছে না? আসুন জেনে নেই রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার করার ক্ষেত্রে অবশ্য করণীয় ৬টি টিপস সম্পর্কে!

রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার করুন ৬টি টিপস মেনে

(১) ফর্সাকারি ক্রীম অনিরাপদ

ফর্সাকারি ক্রীম অনিরাপদ - shajgoj.com

মনে রাখুন কোন রঙ ফর্সাকারি ক্রিম নিরাপদ না। রঙ ফর্সা করা ক্রিম-এর কাজ না। ক্রিম-এর কাজ ত্বকের ময়েশ্চার লেভেল ঠিক রাখা বা কিছু কেমিক্যাল এপিডার্মিস লেয়ার (epidermis layer)-এ কাজ করে ত্বকের দাগ অস্পষ্ট করতে সাহায্য করে। কিন্তু একমাত্র দীর্ঘ সময় হারবাল ট্রিটমেন্ট-এই ত্বকের রোদে পোড়া ভাব চলে গিয়ে স্কিন-এর পুরনো রঙ ফেরানো সম্ভব। There is no short-cut! রঙ ফর্সাকারি ক্রিম-এ যেই ব্লিচিং কেমিক্যাল থাকে সেটা স্কিন ক্যান্সার-এর সৃষ্টিতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। তাই, আপনার রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার থেকে এইসব রঙ ফর্সাকারি ক্রিম বাদ দিতে হবে।

(২) মুখ ও হাত-পায়ের ত্বক ভিন্ন

মুখ আর হাত পায়ের ত্বক এক না। তাই ধরুন কোন প্যাক-এর কথা বলা আছে যেটা হয়তো হাতের জন্য সেটা মুখের জন্য ব্যবহার করবেন না। কারণ, একই উপাদানের প্যাক হলেও উপাদানের অনুপাত প্যাক-এর কার্যকরিতার উপর প্রভাব ফেলে। যেমন ধরুন হাতের ত্বকের জন্য ১ চামচ টক দই-এ দুই চামচ হলুদ দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন হাতে। মানে হলুদের পরিমাণ বেশি, কিন্তু এটি মুখের ত্বকে দিলে ত্বক বার্ণ হয়ে যাবে। হলুদ ক্ষারীয় পদার্থ যা মুখের সেনসিটিভ ত্বকে ব্যবহার করতে হলে করতে হবে খুবই সামান্য পরিমাণে। সুতরাং, আপনার রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশ বুঝে করুন।

(৩) রক্ত বিশুদ্ধ রাখতে হয়

আপনি ঠিক পদ্ধতিতেই উপটান/ফেইস মাস্ক লাগাচ্ছেন কিন্তু তবুও ত্বকের উন্নতি হচ্ছে না? প্রথম কথা মনে রাখুন শুধুমাত্র ত্বকের লেয়ার-এ কিছু উপাদান সরবরাহ দিলেই ত্বকের উজ্জলতা চলে আসবে না। এই জন্য আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকতেই হবে। জাঙ্ক ফুড, কার্বোনেটেড ড্রিংক্স বাদ দেয়া যেমন একটি বেসিক স্টেপ এই ত্বক ফর্সাকারি পদ্ধতিকে কার্যকর করার জন্য, তেমনি নিশ্চিত করতে হবে যে শরীরে অক্সিজেন প্রবাহও ঠিকমত হচ্ছে। এই জন্য রক্ত বিশুদ্ধ রাখতে হবে। এই জন্য ত্বকের গ্লো ফিরাতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে প্রতিদিন সকালে দুধে হলুদ দিয়ে খাওয়া। এটি রক্ত বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। আর দুধ ও হলুদের ভেষজ গুণ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। তাই নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন দুধহলুদ খেয়ে!

(৪) ছাতা ব্যবহার করুন

আপনি যেই ফেইস প্যাক-ই ব্যবহার করুন বা যেভাবেই ফর্সা হওয়ার চেষ্টা করুন, রাতে প্যাক লাগালেন আর সকালে উঠে রোদে বের হয়ে গেলেন, তাহলে কিন্তু লাভ নেই। কিছু উজ্জ্বলতা আসলেও সারাদিনে রোদে পুড়ে আবার আগের জায়গায় ফেরত যাবেন। তাই আপনার রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার লিস্ট-এ ছাতা ব্যবহার যোগ করুন রোদে ত্বককে সুরক্ষা দিতে। আর যদি এমন কোন প্যাক লাগান, যেটায় হলুদ আছে সেই প্যাক লাগানোর পর কোনভাবেই রোদে ত্বক উন্মুক্ত করবেন না। হলুদ দেওয়া ত্বক কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে ট্যান হয়ে যায় সূর্য পেলে। তাই, এই ব্যাপারটি মাথায় রাখুন সব সময়।

(৫) ত্বকের ধরণ বুঝে ফেইস প্যাক ব্যবহার করুন

রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার মানেই সব রূপচর্চার উপাদান একসাথে ব্যবহার করা নয়। হাজার রকম প্যাক/উপটানের কথা বলা থাকে বিভিন্ন জায়গায় – চন্দন, শংখ, হলুদ, দুধ, দই, মধু এগুলো হল বেসিক উপাদান। লক্ষ করুন, সব একসাথে লাগালে কিন্তু লাভ নাই। বরং একটা একটা করে চেষ্টা করুন কোনটা আপনাকে স্যুট করে। সব একসাথে ব্যবহার করলে কিন্তু রি-অ্যাকশন-ও হতে পারে।

(৬) প্যাক লাগানোর পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে

 

যেই প্যাকই লাগান না কেন এটা নিশ্চিত করুন সেই মাস্ক/প্যাক/উপটান শুকানোর পর সেটা ত্বক থেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। ত্বকে যদি প্যাক-এর রেসিডিউ থেকে যায়  সেটা ত্বকের জন্য দিগুণ নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। তখন আপনার রেগ্যুলার স্কিন কেয়ার করে পারফেক্ট ফেয়ার হওয়া আর হবে না হয়তো।

আর সব কথার শেষ কথা হলো ত্বক ফর্সা করতে আকাশ পাতাল এক করে ফেলে এতো কষ্ট না করে, নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখুন। নিয়মিত একটা প্যাক ব্যবহার করুন, ময়েশ্চারাইজ করুন, আর প্রচুর পানি খান, এমনিতেই ত্বক সুন্দর হবে। আপনার গায়ের রঙ যতই ফর্সা হোক দিনশেষে গায়ের রঙ-এর ফর্সার পরিমাপ আপনাকে শান্তি-সুখ দিতে পারবে না। ফর্সা যতই হোক বয়স ছাপ ফেলে যায় সবার উপর। তাই বলছি-“That day you’ll be left only with your deeds, people will treat you back according to that, nobody will remember how fair your skin-tone was.”

সবাইকে শুভকামনা এবং ভালোবাসা জানিয়ে শেষ করছি।

 

ছবি- সংগৃহীত: সাজগোজ; ইমেজেসবাজার.কম

159 I like it
19 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...