কুইক অ্যান্ড সিম্পল অফিস লুক | ঝটপট রেডি হয়ে নিন মাত্র ৫টি ধাপে

কুইক অ্যান্ড সিম্পল অফিস লুক | ঝটপট রেডি হয়ে নিন মাত্র ৫টি ধাপে

2 (69)

যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে জীবনযাত্রায় এসেছে পরিবর্তন। এখনকার দিনে মেয়েরা চার দেয়ালের মাঝে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে নিজের যোগ্যতা আর ইচ্ছাশক্তির বলে এগিয়ে গেছে অনেকদূর। কর্পোরেট সেক্টরে নারীদের পদচারণা বেড়েছে, ঘর-সংসার আর সন্তান সামলিয়ে চাকুরীক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পোক্ত করছেন। সকালবেলা এমনিতেই ব্যস্ততা থাকে সবারই। তার মধ্যেই অফিসের জন্য রেডি হতে হয়, নিজেকে কনফিডেন্টলি প্রেজেন্ট করতে হলে পরিপাটি তো থাকতেই হবে, তাই না? কুইক অ্যান্ড সিম্পল অফিস লুক নিয়েই আজকের আর্টিকেল। খুব সহজে এবং কম সময়ে কীভাবে রেডি হবেন, সেটারই দারুণ কিছু টিপস শেয়ার করবো আজ।

অফিস লুক কোন কোন বিষয়ের উপর ডিপেন্ড করে?

কম্পলিট অফিস লুক ডিপেন্ড করে আশেপাশের পরিবেশ, কাজের ধরন, অফিস কালচার ইত্যাদি বিষয়ের উপরে। অনেক অফিসে ফরমাল ড্রেসকোড মেনটেইন করা মাস্ট, আবার দেখা যায় যে অনেক অফিসে ক্যাজুয়াল পোশাকেরই চল বেশি। ড্রেসকোড যেমনই হোক না কেন সিম্পল ও মিনিমাল মেকআপে নিজেকে একটু পরিপাটিভাবে প্রেজেন্ট করুন। দেখবেন এতে কনফিডেন্স লেভেল বুস্ট আপ হবে, অফিসে আপনার পজেটিভ ইমেজও ক্রিয়েট হবে। অফিসে যদি কোনো সেলিব্রেশন বা অনুষ্ঠান থাকে, সেক্ষেত্রে একটু হেভি মেকআপ করা যেতে পারে। যেকোনো প্রেজেন্টেশন বা মিটিংয়ে সিম্পল বা ছিমছাম গেটআপেই ভালো লাগে।

অফিসের জন্য রেডি হয়ে নিন ঝটপট

সকালে ফেইস ওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ক্লিন করে নিন। এরপর পছন্দের টোনার ব্যবহার করুন। এর পরের ধাপে ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিন। মর্নিং স্কিন কেয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হলো সানস্ক্রিন লাগানো। শুধু ফেইস নয়, বডির যেই অংশটুকু খোলা থাকছে মানে হাত, পা, গলা সবখানেই সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। ব্যস, বেসিক মর্নিং স্কিন কেয়ার করা হয়ে গেলো! খুবই কম সময় লাগে, মাত্র ৫ মিনিটই কিন্তু যথেষ্ট। হেলদি স্কিন পেতে হলে এইটুকু যত্ন তো নিতেই হবে, তাই না? স্কিন প্রিপেয়ার করে তো নিলেন, এবার খুবই ছিমছামভাবে নিজেকে সাজিয়ে নিন অল্প সময়ে। দেখে নিন স্টেপগুলো।

কুইক অ্যান্ড সিম্পল অফিস লুক

১) বেইজ মেকআপ হবে একদম ন্যাচারাল

রেগুলার অফিস লুকের জন্য হেভি ফাউন্ডেশনের বদলে বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম ইউজ করা যেতে পারে। লাইট ও ন্যাচারাল কভারেজ দেয়, এমন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন অনেকেই। আপনার পছন্দের প্রোডাক্ট দিয়ে বেইজ মেকআপ করে নিন। তবে সেটা যেন হয় একদমই ন্যাচারাল এবং স্কিনটোনের সাথে মানানসই। বেশি উজ্জ্বল বা গাঢ় শেইডের ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করবেন না, এতে আপনার ওভারঅল গেটআপে নেগেটিভ ইফেক্ট পরবে। ভেজা বিউটি ব্লেন্ডার বা স্পঞ্জ দিয়ে খুব সুন্দরভাবে বেইজ মেকআপ ব্লেন্ড করে নিন।

২) ডার্ক সার্কেল আর পিম্পল স্পট ঢাকতে পারেন কনসিলার দিয়ে

মেকআপের সাহায্যে স্কিনের ছোট খাটো খুঁতগুলো খুব সহজেই হাইড করা যায়। চোখের নিচে কালো দাগ নিয়ে অনেকেই বিব্রতবোধ করেন। সেক্ষেত্রে অরেঞ্জ কালার কারেক্টর সামান্য পরিমাণে নিয়ে চোখের নিচে ও স্পটগুলোতে ড্যাব ড্যাব করে মিশিয়ে দিন। এরপর স্কিনটোনের সাথে মানানসই কনসিলার দিয়ে বেইজ মেকআপ ফিক্স করুন। এক্ষেত্রেও বিউটি স্পঞ্জ ব্যবহার করতে পারেন। এতে বেইজ মেকআপ লং লাস্টিং ও স্মুথ হয়।

৩) প্রেসড পাউডার বা কমপ্যাক্ট পাউডারের ব্যবহার

অনেকে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করে জাস্ট পাউডার দিয়েই বেইজ মেকআপ কমপ্লিট করে ফেলে! স্কিন ফ্ললেস ও হেলদি হলে রেগুলার লুকের জন্য কালার কারেক্টর বা ফাউন্ডেশনের দরকার হয় না। যাই হোক, বেইজ মেকআপকে পারফেক্টলি সেট রাখতে প্রেসড পাউডার বা কমপ্যাক্ট পাউডার অ্যাপ্লাই করে নিন। অয়েলি স্কিন হলে লুজ পাউডার ইউজ করতে পারেন, এতে স্কিনের তেলতেলেভাব অনেকটাই কন্ট্রোলে থাকে।

৪) কুইক অ্যান্ড সিম্পল অফিস লুক এর জন্য চোখের সাজ

রেগুলার অফিস লুকের জন্য আই মেকআপ হবে একদমই সাদামাটা। চিকন করে আই লাইনার বা কাজল দিতে পারেন। অনেকে লাইনার না দিলেও মাশকারা দিতে পছন্দ করেন। আপনার প্রিফারেন্স অনুযায়ী আই মেকআপ করে নিন। তবে ভ্রুযুগল পরিপাটি না থাকলে কিন্তু ওভারঅল লুকটা ফুটে উঠবে না, তাই আইব্রো শেইপ করে নিন ব্রো পমেড বা আইব্রো পেন্সিল দিয়ে।

৫) এবার লিপস্টিক ও হালকা করে ব্লাশ দিয়ে নিন

সবশেষে ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে মানানসই লিপস্টিক দিয়ে নিন। অফিস এনভায়রনমেন্টে খুব বেশি রঙচঙে লিপ কালার মানায় না। কমলা, বেগুনী, কড়া লাল এই ধরনের শেইড ফরমাল ড্রেসআপের সাথে অ্যাভোয়েড করা বেটার। অফিসে রেগুলার ইউজের জন্য ব্রাউন ন্যুড, পিংকিশ ন্যুড, বেবি পিংক, ব্রিক রেড এই ধরনের কালার বা ন্যাচারাল শেইডগুলো বেশ ভালো অপশন। অনেকে জাস্ট টিন্টেড লিপ বাম ইউজ করেন, এতে ঠোঁটে হালকা গোলাপি আভা আসে। চাইলে গালে খুব হালকা করে ব্লাশ অ্যাপ্লাই করা যায়, তবে খেয়াল রাখবেন অতিরঞ্জিত যেন না লাগে।

ব্যস, আপনি অফিসের জন্য একদম রেডি। চুল ছোট ও ম্যানেজেবল হলে খোলা রাখতে পারেন, সামনের দিকে টুইস্ট করে বেঁধে নিতে পারেন কিংবা পনি টেইলও করে নেওয়া যায়। যেই হেয়ার স্টাইলই করেন না কেন, সেটা যাতে আপনার কাজের সময় বাঁধা সৃষ্টি না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এমনভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করুন যাতে আপনার পারসোনালিটি আরও এনহ্যান্সড হয়। তবে অফিসের রুলস ব্রেক হয় বা পরিবেশ নষ্ট হয় এমন গেটআপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাহলে আজ এই পর্যন্তই। অথেনটিক মেকআপ প্রোডাক্টস কিনতে আপনারা চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত, সেখান থেকে কিনতে পারেন আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

 

ছবি- সাজগোজ

 

4 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...