এলিগেন্ট লুক পেতে ন্যুড মেকআপে নিজেকে সাজিয়ে নিন মাত্র ৬টি ধাপে!

এলিগেন্ট লুক পেতে ন্যুড মেকআপে নিজেকে সাজিয়ে নিন মাত্র ৬টি ধাপে!

1 (54)

মেকআপ করেও যদি ন্যাচারাল ও রিফ্রেশিং একটি লুক পাওয়া যায় তবে সেটা তো ভালোই হয়, তাই না? দেখে মনে হবে যেন কোনো মেকআপই বুঝি করা হয়নি, ব্যাপারটাও বেশ ইন্টারেস্টিং! সব সময় কিন্তু খুব গর্জিয়াস মেকআপ মানানসই লাগে না। অফিস, ভার্সিটি বা পারিবারিক দাওয়াতে একটু হালকা পাতলা মেকআপ করলেই কিন্তু দেখতে ভালো লাগে। এই হালকা পাতলা বা লাইট মেকআপকে ন্যুড মেকআপ লুক বলা হয়ে থাকে। ‘ন্যুড মেকআপ’ নামটা শুনতে যত কঠিন লাগে, ন্যুড মেকআপ করা কিন্তু ঠিক ততটাই সহজ। বিগেনাররাও খুব সহজে এই লুকটি ক্রিয়েট করতে পারেন। এলিগেন্ট লুক পেতে ন্যুড মেকআপে নিজেকে কীভাবে সাজিয়ে নিবেন, সেই স্টেপগুলো এখন জেনে নেই চলুন।

ন্যুড মেকআপের বিশেষত্ব কী?

এই ধরনের মেকআপে সবচেয়ে কম প্রোডাক্ট ব্যবহার করেই সাজটা কমপ্লিট করা হয়। মিনিমাল মেকআপ যেটাকে বলে আর কী! ন্যাচারাল লুক পেতে ন্যুড মেকআপ অনেকেই প্রিফার করেন। এই ধরনের মেকআপ ফেইসে সুন্দর একটা লাইট রিফ্লেকটিং ফিনিশিং দেয়। খুবই স্নিগ্ধ ও মার্জিত দেখায়, সব বয়সের সবাইকেই মানিয়ে যায়। এলিগেন্ট লুক পেতে ন্যুড মেকআপের কোনো জুড়ি নেই! অনেক সময় টিনেজারররা মেকআপ লুক ক্রিয়েট করতে একটু কনফিউসড থাকেন, তারাও কিন্তু অনায়াসে সব প্রোগ্রামে কিংবা ক্যাজুয়াল আউটিংয়ে ন্যুড মেকআপ লুক ট্রাই করতে পারেন।

সিম্পল মেকআপ

এলিগেন্ট লুক পেতে ফলো করুন ৬টি স্টেপস 

ন্যুড মেকআপের জন্য বেইজ থেকে শুরু করে লিপস্টিক সব কিছুই হবে একটু হালকা ধরনের। পার্টি লুক বা গর্জিয়াস মেকআপের মত কালারফুল হবে না একদমই! তবে ন্যুড মেকআপ করতেও ভারি মেকআপের মতই স্কিনকে ভালোভাবে প্রিপেয়ার করে নিতে হবে।

১) স্কিন প্রিপেয়ারিং স্টেপ  

প্রথমেই মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। মেকআপের বেইজ করার আগে স্কিন যদি প্রিপেয়ার করে নেয়া না হয় তবে কিন্তু মেকআপ লাস্টিং করবে না এবং যত সুন্দর করেই মেকআপ করা হোক না কেন সেটা স্মুথ হবে না। স্কিন প্রিপেয়ারিংয়ের জন্য ক্লেনজিং এর পর আপনার পছন্দের ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে প্রাইমার দিয়ে নিন। যদি প্রাইমার হাতের কাছে না থাকে, তাহলে পাতলা কাপড়ে আইস কিউব নিয়ে ফেইসে হালকা করে একটু ঘষে নিতে হবে। এতে করে পোরস মিনিমাইজ হবে এবং পরবর্তীতে বেইজটা ভালো করে সেট হবে।

২) বেইজ মেকআপ

এই মেকআপের বেইজ অন্য মেকআপের মতই হবে, তবে খেয়াল রাখতে হবে ফাউন্ডেশনের শেইড যেন একদমই ন্যাচারাল হয়। এই জন্য স্কিনটোনের সাথে ম্যাচ রেখেই ফাউন্ডেশন চ্যুজ করতে হবে। তবে যদি একটু কালচে লাগে ফাউন্ডেশনের শেইড, তবে এর সাথে একটু লাইট কালারের কনসিলার মিক্স করে নিয়ে ফাউন্ডেশনের শেইডটা অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। আর যদি স্কিনটোন থেকে যদি ফাউন্ডেশনের শেইড একটু ব্রাইট হয়, তাহলে এর সাথে একটু ডার্ক কালারের কনসিলার মিক্স করে নিন, এতে বেইজ মেকআপ ন্যাচারাল লাগবে।

ফেইসের সাথে সাথে গলায়ও ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করে নিতে হবে। এবার কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে একটু সেট করে নিতে হবে। ব্যস! বেইজ মেকআপ হয়ে গেলো। এবার আপনার ফেইস ন্যুড মেকআপের নেক্সট স্টেপের জন্য রেডি।

৩) ফেইস হাইলাইটিং ও শেইপিং

ফেইসে স্পট থাকলে এবং ডার্ক সার্কেলের প্রবলেম থাকলে কনসিলার দিয়ে সেটা হাইড করে নিতে হবে। এছাড়া ফেইসের যেই এরিয়াগুলো হাইলাইট করতে হবে সেই জায়গায় লাইট কালারের কনসিলার এবং যেই অংশে কনট্যুর করা হবে সেই জায়গায় ডার্ক কালারের কনসিলার দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন।

আরেকটি টিপস শেয়ার করতে চাই, বেকিং করলে ফেইসে ফাউন্ডেশন এবং কনসিলার খুব ভালোভাবে সেট হয়। এজন্য আন্ডার আই এরিয়া, চিকবোনের নিচে এবং টি-জোন এরিয়া বেকিং করে নিলে মেকআপ দেখতে ফ্ললেস লাগবে। ভেজা বিউটি স্পঞ্জ এবং লুজ পাউডার দিয়ে এই কাজটি করে নিতে পারেন।

৪) কনট্যুর, ব্রোঞ্জার এবং ব্লাশ

ন্যুড মেকআপের ক্ষেত্রে কনট্যুর, ব্রোঞ্জার এবং ব্লাশ এর পরিমাণ একটু সীমিত হলে দেখতে বেশ এলিগেন্ট লাগে। কীভাবে করতে হবে সেটাই জানবো এখন।

হাইলাইটিং

কনট্যুরিং

১/ ফেইসের শেইপ অনুযায়ী কনট্যুর করতে হবে গালের দুই পাশে চিকবোনের ঠিক নিচ বরাবর, দুই পাশের জ-লাইনে, নাকের দুই পাশে এবং কপালের দুই পাশে।

২/ ন্যুড মেকআপে কনট্যুর-এ বেশি হার্শ লাইন না করে একটু হালকা কনট্যুর করতে হবে, এতেই ন্যাচারাল লুক পেয়ে যাবেন।

৩/ কনট্যুরিং-এর ব্লেন্ডিং যেন খুব ভালোভাবে করা হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ব্লেন্ডিং যদি স্মুথ হয় তাহলে ফেইস শেইপটা খুব ভালোভাবে ফুটে উঠবে এবং ফেইস স্লিম লাগবে দেখতে।

ব্রোঞ্জিং

১/ ফেইসে ডাইমেনশন তৈরি করতে এবং ন্যাচারাল স্ট্রাকচার দিতে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করা হয়। ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করে এবং কনট্যুরিং-এর পরে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করতে হবে।

২/ কেউ চাইলে কনট্যুর না করে শুধু ব্রোঞ্জার দিয়েও ফেইসে ন্যাচরাল শেইপ নিয়ে আসতে পারে।

৩/ কনট্যুর-এর মত করে ব্রোঞ্জারও গালের দুই পাশে চিকবোনের ঠিক নিচ বরাবর থেকে চিকবোন পর্যন্ত, দুই পাশের জ-লাইনে, নাকের দুই পাশে এবং কপালের দুই পাশে অ্যাপ্লাই করতে হবে।

ব্লাশ

১/ ন্যাচারাল লুক পেতে ন্যুড মেকআপে ব্লাশ দিতে হবে খুব হালকা করে। ব্রাশে খুব অল্প পরিমানে ব্লাশ নিয়ে দুই পাশের গালে চিকবোন বরাবর অ্যাপ্লাই করতে হবে।

২/ ব্লাশের শেইড পীচ বা পিংকিশ হলে খুবই ভালো হয়। কারণ এতে ন্যাচারাল লাগবে দেখতে এবং এই কালারগুলো সব স্কিনটোনে মানিয়ে যাবে। ব্লাশ অ্যাপ্লাই করা হয়ে গেলে হাইলাইটার দিয়ে নিন।

৫) চোখের সাজ

চোখের সাজ হবে খুবই সিম্পল। প্রথমেই আইব্রো শেইপ করে নিতে হবে। এরপর আই লাইনার এবং মাশকারা এর সাথে হালকা কিছু ন্যুড কালার দিয়ে আই মেকআপ করে নিলেই দেখতে বেশ সুন্দর লাগবে। আইশ্যাডোতে ন্যুড কালার বলতে লাইট ব্রাউন, বিস্কুট কালার বা স্কিনটোনের মতো কালারগুলোকেই বোঝানো হয়।এলিগেন্ট লুক পেতে ন্যুড মেকআপের ক্ষেত্রে এই ধরনের আইশ্যাডো কালার দিয়েই মেকওভার করতে পারেন। চোখের ইনার কর্ণার হাইলাইট করতে ভুলবেন না। মোটা করে কাজল বা আই লাইনার না দিয়ে সাজটা একদম সিম্পল রাখলেই ভালো মানাবে এই ধরনের লুকে। চাইলে চোখের ওয়াটার লাইনে ন্যুড কাজল দিতে পারেন, এতে ছোট চোখও বড় দেখায়।

৬) লিপস্টিক

ন্যুড মেকআপের সাথে লিপস্টিকের কালার হবে হালকা শেইডের। লাইট পিংক, পীচ, ন্যুড ব্রাউন, লাইট কোরাল বা আপনার স্কিনটোনকে কমপ্লিমেন্ট করে এমন লাইট শেইড পিক করতে পারেন। লিপস্টিকের হালকা শেইডগুলো ন্যুড মেকআপে খুব ভালো মানায়।

ব্যস, মেকআপ লুক কমপ্লিট! সব শেষে সেটিং স্প্রে-এর কথা কিন্তু ভুলবেন না। পুরো ফেইসের মেকওভারকে লক করে সোয়েটপ্রুফ এবং লং লাস্টিং করতে সেটিং স্প্রে অ্যাপ্লাই করে নিন। ন্যুড মেকআপ আপনার রেগুলার ক্যাজুয়াল লুকের পাশাপাশি যেকোনো পার্টি বা দাওয়াতেও বেশ মানিয়ে যাবে। এলিগেন্ট ও ক্ল্যাসি ওয়েতে নিজেকে প্রেজেন্ট করার জন্য ন্যুড মেকআপের চেয়ে বেস্ট অপশন আর নেই! আর মেকআপের সব প্রোডাক্টই আমি নিয়েছি শপ.সাজগোজ.কম থেকে। অথেনটিক প্রোডাক্টস কিনতে আপনারা চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত, সেখান থেকে কিনতে পারেন আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

ছবি- সাজগোজ

8 I like it
3 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...