ত্বকের সার্বিক চর্চায় ফল | ক্লিনজার, টোনার ও মাস্ক কী উপায়ে বানাবেন?

ত্বকের সার্বিক চর্চায় ফল | ক্লিনজার, টোনার ও মাস্ক কী উপায়ে বানাবেন?

বাংলাদেশ প্রত্যেক ঋতুতে কোন না কোন ফল আমাদের উপহার দেয়। এই ফলগুলো খেতে মজাতো বটেই, ত্বকের জন্যও ভালো। এছাড়া এগুলো থাকে ভিটামিন এ, বি, সি তে ভরপুর। ফল দিয়ে রূপচর্চার উপকারিতা হলো এটি ত্বককে সজীব করে, পাশাপাশি ত্বককে উজ্জ্বল ও নরম রাখে। কিছু ফল আছে যা প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে। ত্বকে এটি ফেয়ার পলিশের কাজ করে। ত্বকের কালো ভাব দূর করে দেয় অথচ এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আজ ত্বকের সার্বিক চর্চায় ফল দিয়ে বিভিন্ন রূপচর্চার উপকরণ বানানো সম্পর্কে বলবো। আজকাল কসমেটিকস কোম্পানিগুলো ফলের এসিড, এনজাইম, ভিটামিন বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীতে ব্যবহার করছে, সেই সঙ্গে অনেক সিনথেটিক উপাদানও ব্যবহার করছে। তাই প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে ফল দিয়ে রূপচর্চা করতে পারবেন চলুন তাই জেনে নেই!

প্রাকৃতিক ফলে যেসব এসিড আছে

কসমেটিকের মধ্যে যেসব রাসায়নিক এসিড ব্যবহার করা হয়, তা ত্বকের ক্ষতি করে ভীষণভাবে। কিন্তু রূপচর্চায় যদি প্রাকৃতিক ফলের এসিড ব্যবহার করা যায়, তবে নিরাপদে স্বাস্থ্যজ্জ্বল ত্বকের প্রশংসা উপভোগ করতে পারবেন সহজেই। তবে চলুন দেখে নেই কোন ফলে কোন এসিড থাকে!

• সাইট্রিক এসিড -লেবুর রস, কমলা

• টারটারিক এসিড- আঙুর

• ম্যালিক এসিড- আপেল

• ল্যাকটিক এসিড- টক দই, দুধ

• গ্লাইকোলিক এসিড- আখ

ত্বকের সার্বিক চর্চায় ফল যেভাবে ব্যবহার করবেন

১) ক্লিনজার

১. তরমুজ-লেবুর ক্লিনজার

তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারিণী এ ক্লিনজার ব্যবহারে উপকার পাবেন। এটি বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। তাহলে কিছুদিন অনায়াসে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি তৈরি করতে লাগবে—তরমুজের রস ও লেবুর রস। ত্বক ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ত্বককে নরম করে তরমুজ। অন্যদিকে লেবু প্রাকৃতিক পরিষ্কারক। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকে এটি প্রতিদিন সকালে লাগান। ক্লিনজার হিসেবে উপাদান দুটি মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ভালো ফল পাবেন। অল্প ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন!

২. আপেল-টকদই ক্লিনজার

১ স্লাইস খোসা ছাড়ানো গ্রেটেড আপেলের সাথে ২ টেবিল চামচ দই, ১ চা চামচ অলিভ অয়েল আর ১ চা চামচ সাইট্রাস জুস অর্থাৎ লেবু  বা কমলা মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে ৩ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

৩. বাঙ্গি-টকদই ক্লিনজার

বাঙ্গির সঙ্গে টক দই মিশিয়ে তা ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

৪. ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার 

ত্বকের সার্বিক চর্চায় অলিভ অয়েল, আঙ্গুর, দুধ - shajgoj.com

ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার বানাতে চাইলে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ৪টি আঙ্গুর আর ১ টেবিল চামচ দুধ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে মুখ পরিষ্কার করার কাজটি করতে পারেন।

৫. প্রটেকট্যান্ট ক্লিনজার 

প্রটেকট্যান্ট ক্লিনজার বানাতে চাইলে একটি খোসা ছাড়ানো বড় ঘৃতকুমারীর পাতা, একটি ছোট খোসা ছড়ানো পাকা পেঁপে, এক টেবিল চামচ মধু আর এক চা চামচ দই ফুড প্রসেসরে ভালোভাবে মিক্স করে নিন। তারপর মুখের কোথাও কেটে গেলে বা ব্রণের আক্রমণ হলে এই ক্লিনজার ব্যবহার করুন।

২) টোনার

১. শসার টোনার 

ফ্রেশ শসার রস টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে লেবুর রস আর গোলাপ জলও মিশিয়ে নিতে পারেন।

২. তরমুজের টোনার 

তরমুজ খাওয়ার পর এর ভেতরে থাকা সাদা অংশ মুখে ঘষে নিন। হয়ে গেল আপনার টোনারের কাজ।

৩. আপেল টোনার

আপেলের খোসা ছাড়িয়ে নিন তারপর পাতলা পিস করে কেটে পানির সাথে একটু কচলে নিন। এরপর নিরাপদে ব্যবহার করুন আপেলের টোনার!

৩) মাস্ক

১. তরমুজের মাস্ক

ত্বকের সার্বিক চর্চায় ফল দিয়ে তরমুজের মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এই মাস্ক বানাতে যেসব উপকরণ লাগবে—মটর ডালের বেসন, তরমুজ, সয়াবিনের গুঁড়ো। তবে চালের গুঁড়ো বা ময়দা দিয়েও এটি বানাতে পারেন। একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। তরমুজের সঙ্গে সয়াবিনের গুঁড়ো মিশিয়ে লাগান। ত্বকে টানটান ভাব আসবে। শুষ্ক ত্বকের অধিকারিণীদের জন্যও আছে তরমুজের রূপচর্চা। তরমুজ, পাকা কলা, সয়াবিনের গুঁড়ো নিন। এখানেও সয়াবিন গুঁড়োর বদলে চালের গুঁড়ো বা ময়দা ব্যবহার করা যাবে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

২. স্ট্রবেরি মাস্ক 

ত্বকের সার্বিক চর্চায় স্ট্রবেরি মাস্ক - shajgoj.com

কয়েকটি স্ট্রবেরির সাথে দই মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। এই মাস্ক নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকে জৌলুশ আসবে আর এটি সব স্কিন টাইপের জন্য উপকারী।

৩. ডালের মাস্ক

মটর ডাল বাটা, সয়াবিন গুঁড়ো অথবা চালের গুঁড়ো বা ময়দার সঙ্গে বাঙ্গি মিশিয়ে নিন। একটু ম্যাসাজ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল থাকবে।

ত্বকের ভাঁজ পড়া কমাতে ও কালচে ভাব দূর করতে

৪. বাঙ্গি-ডালের মাস্ক

বাঙ্গির খোসা (পাল্প), মটর ডাল বাটা, ডিমের কুসুম, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করবেন। আস্তে আস্তে ত্বকের ভাঁজ পড়া ভাব কমে ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ।

৫. কলার মাস্ক

ত্বকের বলিরেখা কমাতে পাকা কলার জুড়ি নেই। একটি পাকা কলার অর্ধেক নিয়ে সেটা পেস্ট করুন। তারপর মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর প্রথমে উষ্ণ গরম পানি তারপর ঠাণ্ডা পানি লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬. ডিমের মাস্ক

একটি লেবুর অর্ধেকের রসের সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশান। তারপর পুরো মুখে মেখে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন। মনে রাখবেন এই চর্চাটি শুধু রাতেই করবেন।

আশা করছি আমার এই পোস্ট দ্বারা সবাই উপকৃত হবেন। সবাই সুস্থ থাকুন সুন্দর থাকুন। ধন্যবাদ।

 

ছবি- সংগৃহীত;ইমেজবাজার.কম

3 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...