চুলের যত্ন নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করুন আজই!

চুলের যত্ন নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করুন আজই!

1 (80)

সুন্দর ও ঘন চুল কে না চায়? তাই তো চুলের যত্নে আমরা কোনো আপোষ করতে চাই না! যুগ যুগ ধরেই কিছু বিউটি মিথস বা ভুল কনসেপ্ট চলে আসছে, যেগুলোর আসলে কোনো সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা নেই। আমরাও না জেনে বুঝে অনেক সময় প্রাচীন ও প্রচলিত টোটকাগুলো ট্রায়াল দিয়ে ফেলি! এতে কিন্তু অনেক সময় চুলের ক্ষতি হয়ে যায়। চুলের যত্ন নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণাগুলো দূর করা কিন্তু সময়ের দাবি। চলুন আজ জেনে নিবো কমন কিছু হেয়ার কেয়ার মিথস নিয়ে। সেই সাথে আরও জেনে নিবো বেসিক হেয়ার কেয়ার সম্পর্কে।

হেয়ার কেয়ার মিথস 

১) ‘একটা পাকা চুল টেনে তুললে আরও কয়েকটা পাকা চুল গজায়’

এটা খুবই কমন একটি ডায়লগ! অনেকের কাছেই এই কথাটি আপনি শুনে থাকবেন। আসলে এই কথাটি কতটুকু সত্যি, সেটা জানার চেষ্টা করেছেন কি? আমাদের হেয়ার ফলিকল থেকে চুলের গ্রোথ হয়। আপনি যখন একটি পাকা চুল তুলে ফেলছেন, সেখানে প্রাকৃতিকভাবে আরও একটি চুল গজাবে। যে চুলটি একবার সাদা হয়ে গেছে, তার মানে সেই চুলের ফলিকলের পিগমেন্ট কোষ অলরেডি ডেড সেলে পরিণত হয়ে গেছে। সেটা তুলে ফেললে আবার সাদা চুলই গজাবে! সেখানে দুই বা ততোধিক সাদা চুল গজানোর কোনো সুযোগ নেই।

তবে এভাবে টেনে চুল তুললে কিছু ক্ষতি হয়। যেমন-

  • হেয়ার ফলিকল ড্যামেজ হতে পারে
  • স্ক্যাল্পে ইরিটেশন হতে পারে
  • চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে ইত্যাদি

২) ‘চুল বার বার কাটলে তাড়াতাড়ি বড় হয়’

অনেকেই বলে থাকেন যে ঘন ঘন চুলের আগা কাটলে তাড়াতাড়ি চুল লম্বা হয়ে যায়! আসলে এটি ভুল কনসেপ্ট। ড্যামেজড হেয়ার বা আগা পাতলা হয়ে গেলে চুলের ফাটা অংশটুকু কেটে ফেলতে বলা হয়, এতে চুল ঘন দেখায়। হেলদি হেয়ার পেতে ২/৩ মাস পর পর ট্রিম করা উচিত। এর সাথে কিন্তু চুলের লম্বা হওয়ার সম্পর্ক নেই। পর্যাপ্ত পুষ্টি পেলে চুল প্রাকৃতিক নিয়মেই বাড়বে।

৩) ‘চুলে তেল দিয়ে সারারাত রেখে দিলে চুল মজবুত হবে’

অনেকেই এই কাজটি করেন, আমার তো মনে হয় চুল নিয়ে এটাই সবচেয়ে কমন মিথ! সারারাত চুলে তেল দিয়ে রাখার কিন্তু কোনো প্রয়োজন নেই। এক্সপার্টদের মতে এটি হেয়ার কেয়ার রুটিনের সবথেকে বড় মিসটেক। কেন? দেখে নিন কারণগুলো-

  • দীর্ঘ সময় ধরে তেল দেওয়া থাকলে হেয়ার ফলিকলগুলো ব্লক হয়ে যেতে পারে
  • অয়েলি হেয়ারে খুব তাড়াতাড়ি ময়লা জমে যায়
  • খুশকির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে
  • স্ক্যাল্পে ইনফেকশনও হতে পারে
  • স্কিনে অয়েলিনেস বেড়ে যেয়ে পিম্পলের প্রবলেম দেখা দেয়

৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা তেল দিয়ে রাখলেই এনাফ, কেননা এই সময়ের মধ্যে আমাদের স্ক্যাল্প প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্ট শোষণ করে নেয়। হেয়ার অয়েলিংয়ের অনেক বেনিফিটস আছে, যেমন- চুলের গ্রোথ ঠিক রাখে, ফ্রিজিনেস কমিয়ে চুলে ময়েশ্চার যোগায়, স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। তাই চুলে অয়েল ম্যাসাজ করুন কিন্তু সময়ের ব্যাপারটাও খেয়াল রাখুন।

৪) ‘গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে চুল ভালোভাবে পরিষ্কার হয়’

এটাও বেশ প্রচলিত হেয়ার কেয়ার মিথ। অনেকেই ভাবেন যে গরম পানি দিয়ে চুল ওয়াশ করলে চুল প্রোপারলি ক্লিন হবে, তেলতেলেভাব থাকবে না! এক নজরে দেখে নিন রেগুলার গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে চুলের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে-

  • চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়, যার ফলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে
  • স্ক্যাল্প ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়
  • চুলের কিউটিকল ড্যামেজ হতে পারে, যার ফলে চুল ফ্রিজি দেখায়
  • চুলের ন্যাচারাল অয়েল কমে যাওয়ার ফলে চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে যায়

সরাসরি চুলে গরম পানি ব্যবহার না করে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ওয়াশ করুন। শাওয়ার নেওয়ার পর সুতির কাপড় বা গেঞ্জি দিয়ে চেপে চেপে চুলের পানি ঝরিয়ে নিন।

চুলের যত্ন নেওয়ার সঠিক উপায়

এতক্ষণ আমরা জানলাম কমন কিছু মিথস নিয়ে, যেগুলো লোকমুখে চলে আসছে কিন্তু এগুলোর দ্বারা চুলের আসলে কোনো উপকার হয় না! সুস্থ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত চুলের জন্য সঠিক নিয়মে পরিচর্যা করতে হবে। এই ব্যস্ত জীবনে আমাদের আসলে সময় নিয়ে হেয়ার কেয়ার করে ওঠা হয় না। তারপরও ছুটির দিনে কিংবা অবসর সময়ে সেলফ প্যামপার তো করা যেতেই পারে।

 

১) সপ্তাহে ১/২ দিন অয়েল ট্রিটমেন্ট করুন। খাঁটি নারকেল তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিক্স করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন, এতে চুলের গোড়া মজবুত হবে। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

২) সালফেট ও প্যারাবেন ফ্রি শ্যাম্পু চুলের কোনো ক্ষতি না করেই চুল ও স্ক্যাল্প ভালোভাবে পরিষ্কার করে। তাই ড্যামেজ চুলের যত্নে এই ধরনের মাইল্ড শ্যাম্পু বেছে নিন।

৩) শ্যাম্পু করার পর হেয়ার কন্ডিশনার অ্যাপ্লাই করুন শুধুমাত্র হেয়ার লেন্থে। চুলের গোড়াতে যেন না লাগে সেটা খেয়াল রাখুন।

৪) চুলে হিট লাগানোর আগে হিট প্রোটেক্টর স্প্রে বা সিরাম লাগিয়ে নিন। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, হেয়ার ড্যামেজের সম্ভাবনা কমে যাবে।

৫) সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে প্যাক ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরা জেল, ডিমের কুসুম ও টকদই মিক্স করে নারিশিং হেয়ার প্যাক বানিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট পর ভালোভাবে ওয়াশ করে ফেলুন।

৬) চুলে জট পাকিয়ে গেলে ডিট্যাঙ্গলিং ব্রাশ বা কাঠের চিরুনি দিয়ে আস্তে আস্তে জট খুলুন।

হেয়ার কেয়ার নিয়ে বেসিক কিছু ধারণা পেলেন আশা করি। সেই সাথে যুগ যুগ ধরে চলে আসা মিথস নিয়েও আজ আমরা জানতে পারলাম। চুলের ধরন ও কনসার্ন বুঝে সঠিক প্রোডাক্টটি সিলেক্ট করতে পারলে ধীরে ধীরে চুল হয়ে উঠবে কোমল ও ঝলমলে। চুলের জন্য পরিচর্যা তো দরকার, সঙ্গে থাকতে হবে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারদাবার। অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে চাইলে সাজগোজের দুটি ফিজিক্যাল শপ যার একটি যমুনা ফিউচার পার্ক ও অপরটি সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত, সেখান থেকে কিনতে পারেন আর অনলাইনে কিনতে চাইলে শপ.সাজগোজ.কম থেকে কিনতে পারেন।

 

ছবি- সাজগোজ, সাটারস্টক

13 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...