বারবার চাকরি বদল আপনার জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ? বারবার চাকরি বদল আপনার জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ?

বারবার চাকরি বদল আপনার জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ?

লিখেছেন - মুমতাহীনা মাহবুব মে ৫, ২০১৮

“অফিসের নয়টা-পাঁচটার গন্ডি নিয়ে বিরক্তিটা সহ্যের বাইরে যাচ্ছে। রোজকার একঘেয়ে কাজে মন বসানো আরো কঠিন হচ্ছে দিনদিন। কোনো নতুনত্বের স্বাদ নেই, নেই নিজেকে ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ, দক্ষতা বাড়ানোর জায়গা খুব কম এখানে। আর এসবের বিপরীতে বেতনটাও আহামরি কিছু নয়। এদিকে নতুন জায়গায় কাজের একটা দারুণ সুযোগ হাতে এসেছে। কাজে নতুনত্ব আছে, চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্র, নিজেকে পরখ করার ভালো জায়গা হবে ওটা। বেতনও মন্দ নয়। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলছে ভালোই, চাকরিটা তবে ছেড়েই দেওয়া যায়!” এভাবে চাকরি বা কাজের জায়গা পাল্টানোর ভালো দিক আছে অনেক, বারবার চাকরি বদল করলে আছে মন্দ অনেক দিকও। শুরুতে যে পরিস্থিতির কথা বলা হলো, তাতে চাকরি পাল্টানোর কথা ভাবা মোটেও বোকামি নয়। কিন্তু বারবার চাকরি বদল করার স্বভাব যদি আপনার থেকে থাকে, জেনে রাখুন, সেটা মোটেও ভালো কিছু নয়!

বর্তমান কাজের জায়গায় আপনার দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ খুব কম। ধরাবাঁধা কাজ ছাড়া নতুন কিছু করার বা শেখার উপায় নেই এখানে। এমন অবস্থায় নতুন চাকরির সুযোগ এলে আপনি অবশ্যই সেটা বিবেচনা করবেন। যদি নতুন জায়গায় আপনার দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ-সুবিধা ভালো পাওয়া যায়, কাজের ধরণ নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন, সেক্ষেত্রে আপনার উচিত চাকরি পাল্টানো। কেননা এখনকার কাজটা থেকে আপনি ভালো কিছু পাচ্ছেন না, আর নতুন কাজটা আপনাকে অনেক কিছুই ভালো দিতে পারে।

আবার, বর্তমান চাকরিতে আরামে থাকলেও বেতনটা খুব কম। অনেকদিন হয়ে গেলেও পদোন্নতি মিলছে না। সেসব অনুচিত মনে হচ্ছে? তাহলেও আপনার উচিত নতুন চাকরির খোঁজ করা। কাজের তুলনায় পারিশ্রমিক কম পাওয়া গেলে সেই কাজ যথাযথ নয়। কাজের মূল্যায়ন না পেলেও এক জায়গায় কাজ ধরে রাখার মানে নেই। তাই সুযোগ আসা মাত্র নতুন কাজে যোগদান করুন এমন হলে।

ভালো দিক তো দেখলেন, মন্দ আছে কী কী?

যেমন ধরুন, এরই মাঝে বেশ অনেকবার চাকরি বদলে ফেলেছেন আপনি। কর্মজীবনের তালিকায় আছে হরেক প্রতিষ্ঠানের নাম। কোথাও থিতু হন নি একটানা বেশিদিন। এরকম যখন অবস্থা, তখন নতুন কোনো জায়গায় আপনাকে নেয়ার বেলা তারাই ঘাবড়ে যাবে, যে এই মানুষ এইখানে কয়টাদিন থাকবে তো? নাকি আচমকা আবার ছেড়ে দেবে চাকরি? চাকরিদাতার মনে এরকম ধারণা তৈরি হওয়া খুব একটা ভালো কিছু নয় কিন্তু! আপনি ইন্টারভিউ দিচ্ছেন আর কর্তৃপক্ষ আপনাকে নিতেই ইতস্তত বোধ করছে আপনার স্বল্পমেয়াদী কর্মজীবনের তালিকা দেখতে দেখতে, এটা আপনার ক্যারিয়ারে বাজে প্রভাব ফেলবে নিশ্চিতভাবেই। আর যেকোনো চাকরিতেই নতুন হবার কারণে চাকরিচ্যুত হবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। যেকোনো কারণে একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই করা হলে নতুনরাই বাদ যায় বেশি। তো আপনি আবার চাকরি ছাড়ার আগেই হয়তো চাকরি আপনাকে ছেড়ে দেবে!

নতুন নতুন অফিসে বারবার নিজেকে  মানিয়ে নেয়া, সহকর্মীদের সাথে ভালো একটা যোগাযোগ তৈরি করা, সহজ নয় এগুলো। আপনি একটা জায়গায় কয়মাস কাজ করে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন, মানে নতুন মানুষগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হতে না হতেই তাদেরকেও ছেড়ে যাচ্ছেন। তারপর যেখানে যাবেন, সেখানকার পরিবেশে অভ্যস্ত হওয়া আর সেখানে সহকর্মীদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি হওয়া, আরো কতটা সময় লাগবে ভাবুন দেখি। এরকম সবসময় চলতে থাকলে কর্মক্ষেত্র কখনোই আপনার জন্য সুখকর কিছু হবে না। আপনাকেও সব জায়গায় সানন্দে গ্রহণ করা হবে, তাও তো না। তাছাড়া কোনো অফিসেই বেশিদিন মন বসছে না, ছুটে বেড়াচ্ছেন বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, এবার তাহলে আপনাকে এটা ভাবতে হবে যে আপনি আসলে চাকরিজীবন চালাতে পারবেন তো? নাকি চাকরি জিনিসটাই আপনার জন্য নয়!

 

সংগৃহীতঃ সাজগোজ.কম, ইমেজেসবাজার.কম