ক্লেনজারের রকমভেদ | আপনার স্কিনের জন্য পারফেক্ট ক্লেনজার কোনটি?

ক্লেনজারের রকমভেদ | আপনার স্কিনের জন্য পারফেক্ট ক্লেনজার কোনটি?

3-47-1

সারাদিন বাইরে থাকার পরে বাসায় ফিরে সবথেকে স্বস্তি লাগে তখনই, যখন ক্লেনজার দিয়ে মুখটা ক্লিন করে নেই। আমার কাছে তখন খুবই ফ্রেশ লাগে। সারাদিনের সমস্ত ডার্ট, অয়েল, মেকআপ, ঘাম ক্লিন হয়ে যায়। যার ফলে স্কিন ভালোভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারে। বাসায় থাকলে সকালে ও রাতে দুইবার তো মুখ ধোয়া হয়ই। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নানা রকমের ক্লেনজার পাওয়া যায়। কিন্তু ক্লেনজারের রকমভেদ নিয়ে আমরা অনেকেই জানি না!

আপনার জন্য সঠিক ক্লেনজার কোনটি, সেটা কিন্তু আপনাকে আগে বুঝতে হবে। কারণ ক্লেনজারের বিভিন্ন ফর্মুলেশন ও টাইপ রয়েছে। ক্লেনজিং রেগুলার স্কিন কেয়ারের অ্যাসেনশিয়াল একটি স্টেপ। তাই কখন বা কোন স্কিন টাইপে কোন ক্লেনজার ব্যবহার করা উচিত, সেটা জেনে বুঝে নেওয়াটা কিন্তু খুবই জরুরী। আজকের আর্টিকেলটি ক্লেনজারের রকমভেদ নিয়েই। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেই, কীভাবে সঠিক ক্লেনজারটি বেছে নিবেন।

ক্লেনজারের রকমভেদ 

বাজারে যেহেতু অনেক ধরনের ক্লেনজার রয়েছে এবং সেগুলোর কাজ, ফর্মুলা সবই কিন্তু একটা থেকে অন্যটা ভিন্ন। তাই ক্লেনজারের রকমভেদ সম্পর্কে যদি আমাদের জানা থাকে, তাহলে সহজেই আপনি বুঝতে পারবেন কোন প্রোডাক্টটি আপনার জন্য পারফেক্ট! এই বিষয়ে বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো আজকে।

১. জেল ক্লেনজার

জেল ক্লেনজারগুলো দেখতে ক্লিয়ার বা ট্র্যান্সপারেন্ট ধরনের হয় এবং এর কনসিসটেন্সি জেল টাইপের হয়ে থাকে। এটি ওয়াটার বেইজড ও মাইল্ড ইনগ্রেডিয়েন্টস যেমন – ফ্লাওয়ার, ফ্রুট এক্সট্র্যাক্ট থেকে তৈরি হয়। বাইরে থেকে এসে স্কিনকে ডিপ ক্লিনিং ও রিফ্রেশিং ইফেক্ট দিতে বা মেকআপ রিমুভের পরেই জেল বেইজড ক্লেনজার ইউজ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেই এর বেনিফিটস।

  • এই ক্লেনজারগুলো এক্সেস অয়েল, ডার্ট রিমুভ করে ফ্রেশ লুক দেয়
  • একনে কজিং ব্যাকটেরিয়া দূর করে
  • ক্লগড পোরস এর সমস্যা দূর করতে খুব ভালো কাজ করে
  • যাদের অয়েলি স্কিন এবং একনে প্রবলেম আছে, তারা এই ধরনের ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন
  • স্কিনে ইনস্ট্যান্ট ফ্রেশনেশ নিয়ে আসে

২. ক্রিম ক্লেনজার

ক্রিম ক্লেনজার দেখতে একদম ক্রিমি টাইপের হয়ে থাকে। এই ধরনের ক্লেনজারগুলো স্কিনের জন্য বেশ মাইল্ড। অনেকেই থিক ক্রিমি টেক্সচারের ফেইস ওয়াশ বা ক্লেনজার দিয়ে ফেইস ম্যাসাজ করতে পছন্দ করেন। এছাড়াও মেকআপ তোলার সময় ডাবল ক্লেনজিং করতে অয়েল বেইজড ক্লেনজারের পর এই ক্রিম ক্লেনজার যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। এর মেইন ফিচার ও বেনিফিটগুলো কী সেটা জেনে নিন।

  • ক্রিম ক্লেনজার জেন্টলি ক্লিন করে
  • স্কিনের ন্যাচারাল অয়েল রিমুভ করে না, তাই স্কিন থাকে সফট ও ময়েশ্চারাইজড
  • যাদের স্কিন নরমাল টু ড্রাই, তারা ক্রিম বেইজড ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন নিশ্চিন্তে

৩. ফোম ক্লেনজার

ফোম ক্লেনজার বলা হয় জেল ও ক্রিম ক্লেনজারের সংমিশ্রণকে। রিচ ফোম বা ফেনা তৈরি হয় ব্যবহারের সময়, আমার তো ফোম ক্লেনজার বেশ পছন্দ। অনেক সময় বোতল থেকে পাম্প করলে ফোম বের হয় যেটা দিয়ে ফেইসে ম্যাসাজ করতে হয়। দেখে নিন এর ফিচারগুলো।

  • এই ক্লেনজার স্কিনকে ডিপলি ক্লিন করে কিন্তু এক্সেস ড্রাই করে দেয় না
  • মেকআপ রিমুভার ইউজের পর ফেইসকে প্রোপারলি ক্লিন করতে এটি বেশ কাজে দেয়
  • সকাল বেলায় ফোম ক্লেনজার ব্যবহার করলে ফেইস ফ্রেশ ও ক্লিন দেখায়

৪. ক্লে বেইজড ক্লেনজার

ক্লে বেইজড ক্লেনজার বা মাস্ক তো আমাদের কম বেশি অনেকেরই ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে অয়েলি স্কিন যাদের, তারা এটার সাথে বেশ পরিচিত। কারণ ক্লে ক্লেনজারগুলো স্কিনের এক্সেস অয়েল দূর করতে সাহায্য করে। মিনারেল ও ক্লে বেইজড ক্লেনজারগুলো কী কী বেনিফিট দেয়, চলুন দেখে নেই।

  • ক্লে বেইজড ক্লেনজার স্কিন থেকে এক্সট্রা অয়েল শুষে নেয়
  • পোরস পিউরিফাই করে স্কিনের টক্সিনস দূর করে
  • অয়েলি ও কম্বিনেশন স্কিনের জন্য স্যুইটেবল
  • হার্শ ক্যামিকেল থাকে না, তাই এটা সেনসিটিভ স্কিনের জন্যেও বেশ ভালো

৫. অয়েল ক্লেনজার  

অয়েল ক্লেনজার স্কিনকে ড্রাই আউট না করেই পোরস ক্লগ হওয়া প্রিভেন্ট করে এবং ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ রিমুভ করে। অয়েল ক্লেনজার মূলত সানস্ক্রিন ও মেকআপ রিমুভের জন্যেই ব্যবহার করা হয় এবং যেকোনো স্কিন টাইপে এই ক্লেনজার ব্যবহার করা যায়। ডাবল ক্লেনজিংয়ের প্রথম ধাপে অয়েল বেইজড ক্লেনজার ইউজ করতে হবে। এরপর ফোম, ক্রিম বা জেল ক্লেনজার দিয়ে ফেইস ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়। দুইবার ক্লিন করা হচ্ছে বলে একে ডাবল ক্লেনজিং বলে।

৬. মাইসেলার ওয়াটার

এর কার্যকারিতা অনেকটা অয়েল ক্লেনজারের মতো। মাইসেলার ওয়াটার মূলত “micelles” অথবা ছোট ছোট অয়েল মলিকিউলস যেগুলো সফট ক্লেনজিং ওয়াটারে মিশ্রিত থাকে। মাইসেলার ওয়াটার মেকআপ, ডার্ট, অয়েল ইত্যাদি দূর করতে হেল্প করে। খুবই জেন্টল, এটা সেনসিটিভ স্কিনসহ সব ধরনের স্কিনে স্যুইটেবল। কটন প্যাড বা তুলার সাহায্যে এটি ফেইসে অ্যাপ্লাই করতে হয়।

৭. ক্লেনজিং বাম

ক্লেনজিং বাম অনেকটা ম্যাসাজ ক্রিমের মতো। ফেইসে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করতে হয়, হেভি মেকআপ আর সানস্ক্রিন সবই ক্লিন হয়ে যায়। ক্লেনজিং বাম পানি ছাড়াই অয়েল, মেকআপ, ময়লা ইত্যাদি দূর করতে পারে। ফেইস ম্যাসাজ করে লাস্টে পানি দিয়ে মুখ ধুতে হয়। ত্বককে একদমই ড্রাই করে না, কারণ এতে ময়েশ্চারাইজিং এলিমেন্ট থাকে। সেনসিটিভ ও ড্রাই স্কিনসহ যেকোনো স্কিন টাইপেই এটা ব্যবহার করা যাবে।

তাহলে ক্লেনজারের রকমভেদ নিয়ে আজ আমরা অনেকগুলো ইনফরমেশন পেলাম। আশা করি, এখন আপনারা নিজের জন্য পারফেক্ট ক্লেনজার বেছে নিতে পারবেন। অনলাইনে ফেইস ওয়াশ বা ক্লেনজার কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ৪টি শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরার পদ্মনগর ( জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) ও সীমান্ত সম্ভার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

ছবি- সাটারস্টক, dermstore.com

6 I like it
1 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...