একটোপিক প্রেগনেন্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ-একটি জরুরী অবস্থা - Shajgoj একটোপিক প্রেগনেন্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ-একটি জরুরী অবস্থা - Shajgoj

একটোপিক প্রেগনেন্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ-একটি জরুরী অবস্থা

এপ্রিল ৪, ২০১৬

গর্ভধারণের সঠিক স্থান হচ্ছে জরায়ু। এর বাইরে যে কোন স্থানে গর্ভধারণ হলে তাকে একটোপিক প্রেগনেন্সি বলা হয়। সাধারনত এই প্রেগনেন্সি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিম্বনালীতে  হয়ে থাকে। এছাড়া অন্যান্য স্থানগুলো হল ডিম্বাশয়, সারভিক্স বা পেটের ভিতরস্থ যেকোনো স্থান। প্রতি ১০০০ টি প্রেগনেন্সির মধ্যে ১১ জনের ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগনেন্সি হবার সম্ভাবনা থাকে।

কাদের হয় ?

কারো কারো ক্ষেত্রে একটোপিক প্রেগনেন্সি হবার রিস্ক বেশি থাকে,যেমন-

  • যাদের  আগেই একবার একটোপিক প্রেগনেন্সি হয়েছে তাদের পুনরায় হবার সম্ভাবনা প্রায় ১০ গুন বেড়ে যায়।
  • কোন কারণে ডিম্বনালীর স্বাভাবিক এনাটমি ও গঠন নষ্ট হলে,যেমন পেলভিক ইনফেকশনের হিস্ট্রি থাকলে একটোপিক হবার চান্স অনেক গুন বেড়ে যায়।
  • জন্মগতভাবে ডিম্বনালীর গঠনগত সমস্যা থাকলে।
  • ইন-ভিট্র ফার্টিলাইজেশন বা টেস্ট টিউব বেবি নেবার ক্ষেত্রে অথবা ডিম্বস্ফুটনের ঔষধ খেলে।
  • কপার-টি পরা অবস্থায় প্রেগনেন্সি হলে।

Ectopic_Pregnancy

কীভাবে হয়?

মানবজীবনের সূচনা একটি ডিম্বানুর সাথে শুক্রানুর মিলনের মধ্য দিয়ে। নারী দেহের ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালীতে এই কার্য সম্পাদন হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর কোষ বিভাজন হতে থাকে এবং জাইগোট টি প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে জরায়ুর  দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই অগ্রযাত্রা কোন কারণেব্যাহত হলে সঠিক স্থান না পেয়ে এটি ডিম্বনালীর মধ্যে বড় হতে থাকে। কিন্ত বাড়ন্ত ভ্রুণের জন্য ডিম্বনালীর প্রসারণক্ষমতা না থাকায়  একসময় এটা ফেটে গিয়ে পেটের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

লক্ষণ:

ডিম্বনালী রাপচার বা ফেটে যাবার আগ পর্যন্ত এই রোগের কোন লক্ষণথাকে না। টিউব ফেটে যাবার সময় কিছু লক্ষণপ্রকাশ পায়। এ সময় রোগী হটাৎকরে প্রচন্ড পেটে ব্যথা অনুভব করে,অনেকে জ্ঞান হারিয়েও ফেলতে পারেন।  পেটের ভিতর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ব্লাড প্রেশার কমে যায়,পালস বেড়ে যায় ইত্যাদি। তবে এই লক্ষণগুলো দিয়ে  একটোপিক প্রেগনেন্সি নিশ্চিত হওয়া যায় না। গর্ভধারণের লক্ষণবোঝার আগেই অর্থাৎ পিরিয়ড মিস হবার কিছুদিনের মধ্যে এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্ত হলে অনেকে ভুল করে একে এপেন্ডিসাইটিস বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা মনে করে থাকেন। যার কারণেদেখা যায়,প্রথমে মেডিসিন বা সার্জারির ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। যা পরবর্তী পরীক্ষা -নিরীক্ষার মাধ্যমে  একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয় হয়।

 একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয়ের জন্য রক্ত বা ইউরিনের প্রেগনেন্সি টেস্ট এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম-ই যথেষ্ট। তবে কিছুকিছু  ক্ষেত্রে একটপিক প্রেগনেন্সির অবস্থান খুঁজে বের করতে ল্যাপারোস্কপির সাহায্য নেয়া লাগে।

চিকিৎসা :

এর চিকিৎসা নির্ভর করে রোগী কোন পর্যায়ে আসল তার উপর। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে আলট্রাসাউন্ড করা হলে প্রাথমিক অবস্থায় একটোপিক প্রেগনেন্সির অস্তিত্ব ধরা পরতে পারে। এমনাবস্থায় সার্জারি ছাড়াই  ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো যায়। এক্ষেত্রে  টিউব ফেটে যাবার একটা রিস্ক থেকে যায়। তাই রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। অপরদিকে ডায়াগনোসিস এ দেরি হলে কিংবা টিউব ফেটে গেলে বা পেটের মধ্যে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে ঔষধে কাজ হবে না। রোগীকে দ্রুত রক্ত দেয়ার পাশাপাশি অপারেশন করার ব্যাবস্থা করতে হবে। অপারেশন পেট কেটে বা ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে- দুই ভাবেই করা যায়। এটা নির্ভর করে রোগীর অবস্থা, সার্জন এবং ল্যাপারোস্কপির সুবিধা আছে কিনা তার উপর। সঠিক সময়ে একটোপিক প্রেগনেন্সি নির্নয় করা না গেলে এবং চিকিৎসায় বিলম্ব হলে এটা মায়ের মৃত্যুর কারন ঘটাতে পারে। তাই গর্ভকালীন এই জরুরী অবস্থা সম্পর্কে সকলের সচেতন হওয়া উচিত।

ছবি – মেডিকইন্টার.কম

ডা: নুসরাত জাহান

সহকারী অধ্যাপক(গাইনী-অবস)

ডেলটা মেডিকেল কলেজ,মিরপুর-১,ঢাকা।

ফোন -028031379