সানস্ক্রিনের ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও টুকটাক জিজ্ঞাসা

সানস্ক্রিনের ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও টুকটাক জিজ্ঞাসা

1

বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রিপারেশন নিতে কত কিছু নিয়ে ভাবতে হয়, তাই না? ওয়াটার বোতল, সানগ্লাস, ছাতা সবকিছু ঠিকমতো ব্যাগে নিয়েছেন, কিন্তু সানস্ক্রিন সাথে নেওয়া হয়েছে তো? ‘আমি তো জাস্ট গাড়িতে যাবো আর আসবো, রোদে তো বের হচ্ছি না’ কিংবা ‘একবার তো সানস্ক্রিন দিলাম, আবার সাথে কেন নিতে হবে?’ সানস্ক্রিন নিয়ে কত ধরনের প্রশ্ন বা মিথস যে আছে! সানস্ক্রিনের ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা আজ ক্লিয়ার করার চেষ্টা করবো। আশা করি আজকের লেখা পড়ে আপনারা সানস্ক্রিন নিয়ে অনেক কিছুই জানতে পারবেন।

জেনে নেই কমন কিছু সানস্ক্রিন মিথস

‘মেঘলা দিনে কিংবা ঠান্ডা আবহাওয়াতে সানস্ক্রিনের দরকার নেই’

কাঠফাটা রোদেই যে শুধুমাত্র স্কিনের ক্ষতি হয়, এমনটা ভাবা ভুল। হয়তো আপনি সূর্যের আলো দেখছেন না বা ফিল করছেন না, কিন্তু তাতে আল্ট্রাভায়োলেট রে (ultraviolet ray) এর উপস্থিতি ঠিকই আছে। বরং মেঘাছন্ন থাকলে ইউভি রেডিয়েশন আরও বেশি হয়, তাই মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করতে হবে।

সানস্ক্রিনের ব্যবহার

‘শ্যামলা মানুষের সান প্রোটেকশন লাগে নাকি!’

এরকম চিন্তা ভাবনা অনেকেই করেন। স্কিনটোনের সাথে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাইয়ের কোনো কানেকশন নেই। গায়ের রং যেমনই হোক শ্যামলা থেকে উজ্জ্বল ফর্সা, সবারই সান প্রোটেকশন প্রয়োজন। না হলে হতে পারে স্কিন ড্যামেজসহ আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, যেমন স্কিন ক্যান্সার। আপনি হয়তো প্রথম প্রথম বুঝবেন না, কিন্তু দীর্ঘদিন সানস্ক্রিন ইউজ না করলে একটা সময় পরে স্কিনে ড্যামেজের সাইনগুলো ভিজিবল হতে শুরু করবে।

‘মেকআপ প্রোডাক্টসে তো SPF দেওয়া আছে, আলাদা করে সানস্ক্রিনের তো দরকার নেই’

সানস্ক্রিনের ব্যবহার নিয়ে এটি আরেকটি কমন ভুল ধারণা৷ মেকআপ প্রোডাক্টসে অনেক সময় সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর ইনক্লুড করা থাকে, যেমন ধরুন আপনার ফেইস পাউডারে SPF 15+ লেখা। এতে আপনি ফুল প্রোটেকশন পাবেন না। বাসার বাইরে গেলে মিনিমাম SPF 30 ইউজ করা উচিত, SPF 50 হলে আরও ভালো। তাই সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই। মেকআপ করার সময় প্রাইমার দেওয়ার আগে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করে নিন।

 

‘সানস্ক্রিন সকালে একবার দিলেই হয়’

আল্ট্রাভায়োলেট রে খুবই ক্ষতিকর, এটি আপনার স্কিনে সরাসরি পেনিট্রেট করে স্কিন সেলস ড্যামেজ করে। কিন্তু এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আমরা অনেকে পাত্তা দেই না। দিনের শুরুতে একবার সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করলে সেটা আপানাকে কখনোই ফুল ডে প্রোটেকশন দিবে না। সানস্ক্রিন সানলাইটে ব্রেকডাউন হয় এবং কার্যকারিতা হারায়। SPF অনুযায়ী ৩/৪ ঘন্টা এটি আপনার ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে পারে। তাই বাইরে থাকলে ৩-৪ ঘন্টা পার হলে আপনাকে আবার অ্যাপ্লাই করতে হবে।

সানস্ক্রিন

‘ফুল হাতার জামা পরলে সানস্ক্রিন ইউজ না করলেও চলে’

ফুল হাতার জামা কিংবা মাস্ক পরলে সানস্ক্রিন লাগে না, এমন ধারণা অনেকেরই আছে। এটা ভুল! আল্ট্রাভায়োলেট রে বায়ুমণ্ডলের কতগুলো স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে আসে, এটা আমরা অনেকেই জানি। তারমানে এই রশ্মি আপনার জামা, মাস্ক সবকিছু ভেদ করে ত্বকের কতটা গভীরে প্রবেশ করতে পারে, সেটা অনুমান করতে পারছেন কি? সুতরাং ফুল স্লিভ ড্রেস কিংবা মাথায় হ্যাট দিয়েও আপনি ফুললি প্রোটেকশন পাবেন না। ফুল হাতার জামা পরলে সানবার্ন কম হতে পারে, কিন্তু সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করতেই হবে!

‘ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে সূর্যের আলো ক্ষতি করতে পারে না’

আল্ট্রাভায়োলেট রে পানি, বালি এমনকি মাটি বা ঘাস থেকেও প্রতিফলিত হয়। সুতরাং ছায়ায় থাকলে যে আপনি সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষিত, এমনটা ভাববেন না। ছায়ায় দাঁড়ালে আপনি তাপ থেকে দূরে থাকতে পারবেন, কিছুটা স্বস্তি পাবেন। সাধারণত ১০-৪ টা পর্যন্ত আল্ট্রাভায়োলেট রে এর প্রভাব থাকে। তাই এ সময় সানস্ক্রিন ছাড়া বের হওয়া ঠিক হবে না।

‘সারাদিন বাসায়ই থাকি, সানস্ক্রিন লাগবে না!’

সানলাইট গ্লাস ভেদ করে তো আপনার বাসায় আসছে, তাই না? আপনি ছাদে যাচ্ছেন, বারান্দায় যাচ্ছেন, জানালার পাশে কাজ করছেন, এতে তো আপনি সূর্যরশ্মির এক্সপোজারে আসছেন! আর কিচেনে যে অনেকক্ষণ ধরে চুলার সামনে দাঁড়িয়ে রান্না করছেন, সেটাও কিন্তু স্কিনের ক্ষতি করছে। তাই সল্যুশন হচ্ছে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করা। সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করে নিলে রোদ, তাপ এগুলো নিয়ে আর চিন্তা নেই!

আরুষা

‘সানস্ক্রিন দিলে ভিটামিন ডি ত্বকে পোঁছায় না’

ভিটামিন ডি শরীরের জন্য নিঃসন্দেহে একটা ভাইটাল নিউট্রিয়েন্ট। সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস। সানস্ক্রিনের ব্যবহার ভিটামিন ডি পেনিট্রেশন ব্লক করে না। আর বলা হয়ে থাকে ৫-৩০ মিনিটই যথেষ্ট ভিটামিন ডি পেনিট্রেশনের জন্য। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য সকালের মিষ্টি রোদ গায়ে মাখানোর অভ্যাস করুন। কড়া রোদ ও তীব্র তাপপ্রবাহ থাকলে বেশিক্ষণ সান এক্সপোজারে না থাকাই ভালো।

কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন

১) সানস্ক্রিন সব ওয়েদারেই ব্যবহার করা উচিত। শুধু গরমেই ইউজ করতে হয়, এমনটা নয়। ডেট এক্সপায়ার্ড হয়ে গেলে সেটা ব্যবহার করবেন না।

২) ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ইউজ করবেন যেটি UVA ও UVB দুটো থেকেই স্কিনকে সুরক্ষিত রাখবে।

৩) স্কিন টাইপ ও কনসার্ন বুঝে সানস্ক্রিন সিলেক্ট করবেন। মিনারেল বেইজড সানস্ক্রিনে জিংক অক্সাইড অথবা টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইড থাকে, যেটা সান প্রোটেকশনের ক্ষেত্রে খুবই ভালো কাজ করে।

৪) রাতে অবশ্যই ডাবল ক্লেনজিং করবেন।

 

অথেনটিক সানস্ক্রিন কোথায় পাবো?

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিনের কালেকশন পেয়ে যাবেন সাজগোজে। অনলাইনে অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন শপ.সাজগোজ.কম থেকে অথবা সাজগোজের ৪টি শপ- যমুনা ফিউচার পার্ক, বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টার, উত্তরা ( জমজম টাওয়ারের বিপরীতে) ও সীমান্ত সম্ভার থেকেও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের প্রোডাক্টটি।

শেষে একটি কথা না বললেই নয়, সানস্ক্রিনকে রেগুলার লাইফের একটা পার্ট করে নিন। যেমন আমরা প্রতিদিন সকালে ব্রাশ করি, আর এটা আমাদের অভ্যাস। ঠিক সেভাবেই সানস্ক্রিনকে ডেইলি রুটিনে যোগ করে নিন। নিজের প্রতি যত্নশীল হোন, ভালো থাকাটা সহজ হবে।

ছবি- সাজগোজ

21 I like it
5 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...