শিশুর পরিপূরক খাবার | বেবির সুস্থতার জন্য জেনে নিন ৮টি টিপস!

শিশুর পরিপূরক খাবার | বেবির সুস্থতার জন্য জেনে নিন ৮টি টিপস!

বিগেনারদের জন্য আই মেকআপ

আমাদের দেশের বেশির ভাগ মায়েদেরই ধারণা যে, শিশু ছোট অবস্থায় কোন শক্ত বা আধা শক্ত খাবার খেতে পারে না এবং সেজন্য তাদের প্রায় এক বছর পর্যন্ত এ ধরনের খাবার দেয়া যায় না। কিন্তু এ কথা মায়েদের জানতে হবে যে, শুধু বুকের দুধে এ বয়সী শিশুর চাহিদা মেটে না। এর সাথে শিশুর পরিপূরক খাবার দরকার। কারণ, শিশু বাড়ছে এবং সেই সাথে তার প্রয়োজনও বাড়ছে। শিশুর শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু দুধের দরকার ততোটুকু মায়ের শরীরে তৈরিও হয় না।

তাই শিশুর জন্মের ছয় মাস পর তাকে মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার দিতে হবে। মায়ের দুধে ভিটানিন সি ও লৌহের পরিমাণ কম থাকে। গরুর দুধেও লৌহের পরিমাণ বেশ কম থাকে। তাই ছয় মাস পূর্ণ হলেই শিশুকে বাড়তি খাবার দিন। হঠাৎ নতুন খাবার তারা অপছন্দ করতে পারে, তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুলুন। এভাবে দুধ ছাড়া শরীরের পুষ্টির জন্য শিশুকে যে অন্য খাবার দেয়া হয় তাকেই পরিপূরক খাবার বলা হয়। তাহলে জেনে নিন শিশুর পরিপূরক খাবার কোনগুলো!

Sale • Creams, Lotions & Oils, Baby Care, Bath Time

    পরিপূরক খাবার যেমন হতে পারে

    ১. একটি পুরো বা আধা সেদ্ধ ডিম।

    ২. বিভিন্ন শাক ও সবজি যেমন- পালং শাক, লাল শাক, ডাটা শাক, পুইঁ শাক এবং অন্যান্য গাঢ রঙের শাক, শিম, পেঁপে, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি ইত্যাদি সেদ্ধ করে চটকিয়ে।

    শিশুর পরিপূরক খাবার শাকসবজি, মাংস, ফল - shajgoj.com

    ৩. আম, বাতাবি লেবু, আনারস, কমলালেবু অথবা যে কোনো দেশী ফলের রস।

    ৪. দুধ দিয়ে রান্না করা সুজি অথবা সাগু।

    শিশুর বৃদ্ধিতে নানান পরিপূরক খাবার - shajgoj.com

    ৫. নরম রুটি দুধ অথবা ডালে ভিজিয়ে চটকিয়ে।

    ৬. সেদ্ধ আলু ও ডাল চটকিয়ে।

    শিশুর পরিপূরক খাবার শিম, গাজর - shajgoj.com

    ৭. নরম ভাতের সাথে ডাল।

    ৮. কাটাঁ ছাড়া মাছ, মুরগীর কলিজা সেদ্ধ করে চটকিয়ে দেওয়া যায়।

    শিশুকে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করানোর পদ্ধতি

    ১) একটি খাবার এক বারে অভ্যাস করাতে হবে।

    ২) এক চামচ পরিমাণ দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।

    ৩) প্রথম অবস্থায় খাবারটি বেশি নরম ও সম্ভব হলে তরল করে দিন।

    ৪) খাবার অবশ্যই টাটকা ও তাজা হতে হবে।

    ৫) অতিরিক্ত মসলা ও ঝাল বর্জিত হতে হবে।

    ৬) সম্ভব হলে আকর্ষণীয় পাত্রে উপস্থাপন করুন।

    ৭) জোর করা ঠিক হবে না। শিশুর আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে।

    ৮) শিশুর বাটি, থালা, চামচ পরিষ্কার রাখতে হবে। যিনি খাওয়াবেন, তিনি অবশ্যই হাত ধুয়ে নিবেন।

    একথা বলাই বাহুল্য যে শিশুকে যখন নতুন খাবার দেয়া হবে তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সে নতুন খাবারটি পছন্দ করবে না। কিন্তু মায়েদের ধৈর্য হারালে চলবে না। অল্প অল্প করে প্রতিদিন চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে খেলনা বা অন্য জনের সহায়তা নিন। না খেলে বা অল্প খেলে বাকি খাবারটি রেখে দিয়ে তাকে দুধ দিন। মনে রাখবেন, শিশু যতই পরিপূরক খাবার খাক তাতে বুকের দুধের চাহিদা মেটে না। তাই দুই বছর পর্যন্ত তাকে মায়ের বুকের দুধ খেতে দিন। আপনার শিশু সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান হয়ে বেড়ে উঠুক, এটাই কামনা।

    ছবি- সংগৃহীত: health.clevelandclinic

    17 I like it
    1 I don't like it
    পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...