ব্রণ সমস্যা | কারণ, প্রতিকার ও এড়াতে ৭টি খাবার বর্জন করুন

ব্রণ সমস্যা | কারণ, প্রতিকার ও এড়াতে ৭টি খাবার বর্জন করুন

তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীদের একটি খুব সাধারণ সমস্যা হল ব্রণ। কেউ কেউ এই ব্রণ সমস্যা থাকার কারণে মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকে। অনেক কারণেই ব্রণ সমস্যা হতে পারে। তবে শরীরে হরমোন পরিবর্তনের সময় ব্রণের খুব প্রকোপ দেখা দেয়। চলুন জেনে নেই, ব্রণ হবার কারণ, প্রতিকার ও এড়াতে  চলতে কোন খাবারগুলো বর্জন করা প্রয়োজন!

ব্রণ সমস্যা হবার কারণ ও এড়াতে যে খাবারগুলো বর্জন করা উচিত

কারণ

১. অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক

২. হোয়াইট হেডস

৩. ব্ল্যাক হেডস

৪. বংশগত কারণ বা হেরিডিটারি ফ্যাক্টর

৫. অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন (androgen) হরমোনের কারণে

৬. ৭টি খাবার যা ব্রণ তৈরিতে সাহায্য করে

কিছু কিছু খাবারও ব্রণ তৈরিতে সাহায্য করে। যদি আপনার ত্বকে ব্রণের প্রকোপ হয় ,তাহলে নিচে বর্ণিত ৭টি খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ব্রণ সমস্যা থেকে বাঁচতে যে ৭টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

১.অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার

বর্তমান সময়ে ফাস্ট ফুড খাবার খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই খাবারগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এগুলোতে থাকে প্রচুর পরিমাণে তেল। যা ত্বকে ব্রণ তৈরি করতে সাহায্য করে। তাই এসব খাবার বাদ দেয়া উচিত। ভাজা খাবার যদি খেতেই হয় তবে স্বল্প পরিমাণে প্রাকৃতিক তেলে ভাজা খাবার খাওয়া যেতে পারে।

২.অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার 

একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে চিনি আমাদের শরীরে দরকার। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যেমন চকলেট, ক্যান্ডি, মিষ্টি বিস্কুট, এমনকি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যার কারণে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই শরীরে আক্রমণ করে। আর ব্রণ ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে।

৩.অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার 

কার্বোহাইড্রেট-এর মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল গ্লুকোজ। এটি নির্দিষ্ট পরিমাণে শরীরের জন্য ভালো হলেও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা যেমন, অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত, রুটি, পাস্তা ক্ষতিকর। কারণ, এই অতিরিক্ত গ্লুকোজ পরে ভেঙ্গে চিনি বা সুগার তৈরি করে যা ব্রণ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৪.দুগ্ধজাত খাবার 

অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার পরিমাণে বেশি খেলে সেবাম উৎপন্ন হয় যা ব্রণের কারণ।

৫.ক্যাফেইন 

অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে ব্রণ হয়। কারণ এইসব পানীয়তে রয়েছে ক্যাফেইন নামক পদার্থ যা সেবাম তৈরি করে। এই সেবাম ত্বকের পোর-গুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্রণ তৈরি হয়।

৬.লবনাক্ত খাবার 

লবনাক্ত খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়োডিন যা ব্রণ হতে সাহায্য করে।

৭.বাদাম 

এতে থাকে প্রচুর ফ্যাট বা চর্বি ও প্রোটিন বা আমিষ। এমনিতে বাদাম খাওয়া ত্বকের জন্য ভালো। কিন্তু যাদের ব্রণ হওয়ার প্রকোপ খুব বেশী তাদের এই খাবারটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

 ব্রণ সমস্যা প্রতিকার

ব্রণের কারণ সম্পর্কে অনেক জানা হল। এবার ব্রণ থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক কিছু উপায় জেনে নিন। ঘরে বসেই করুন ব্রণের মোকাবেলা!

১.কমলার খোসা

কমলার খোসা শুকিয়ে বেটে পানির সাথে মিশিয়ে পেস্ট করুন। এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে মেখে ২৫-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

২.ডিমের সাদা অংশ

ডিমের সাদা অংশ ভালোমতো ফেটে নিন। এই ফেটানো মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে থাকে হিলিং প্রোটিন যা ব্রণের জন্য অনেক উপকারী।

৩.বেকিং সোডা

বেকিং সোডা পানিতে মিশিয়ে নিন অথবা টুথপেস্ট আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৪.পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা বেটে রসটুকু মেখে ১৫ মিনিট রেখে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৫.মধু ও দারুচিনি গুড়া

মধু ও দারুচিনি গুড়া একসাথে মিশিয়ে রাতের বেলা মেখে পরের দিন হালকা গরম পানিতে সকাল বেলা মুখ ধুয়ে ফেলুন।

৬.জয়ফল ও কাঁচা দুধ

জয়ফল ও কাঁচা একসাথে মিশিয়ে মুখে ২ ঘন্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৭.হলুদ ও নিমপাতা

হলুদ ও নিমপাতা বেটে মুখে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাবেন।

৮.গোলাপ জল ও লেবুর রস

গোলাপ জল ও লেবুর রস  মিশিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

৯.লেবুর রস ও কাঁচা দুধ

লেবুর রস ও কাঁচা দুধ  মিশিয়ে লাগালে উপকার পাবেন।

১০.গোলাপ জল ও চন্দন

গোলাপ জল ও চন্দন মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

জানলেন তো ব্রণের সাতকাহন। তবে যাদের অনেক অনেক বেশী ব্রণের প্রকোপ , তাদের ক্ষেত্রে একজন ভালো ডার্মাটোলজিস্ট-এর সাথে যোগাযোগ করা ভালো।

 ছবি- সংগৃহীত: সাজগোজ; ইমেজেসবাজার.কম

38 I like it
5 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...