শীতেও চাই সুন্দর চুল - Shajgoj

শীতেও চাই সুন্দর চুল

kapper

উত্তরের বাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রকৃতির সাথে রুক্ষ হয়ে উঠছে আমাদের ত্বক ও চুল। এ সময় ত্বক ও চুলের আর্দ্রতা রক্ষায় বিশেষ মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। শীতে বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস পায়, ফলে আমাদের ত্বক ও চুল প্রাকৃতিক আর্দ্রতা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই এ সময় ত্বক ও চুলকে সঠিক পুষ্টি দিতে আপনাকে নিতে হবে কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা। ত্বকের চেয়ে চুলের ভিন্নতা যাচাই করা কঠিন। তাই চর্চা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শীতে চুলের যত্ন নিতে আপনাকে তাই কিছু সাধারণ কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।

[picture]

  • চুলে তেল ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার পূর্বের রাতে তেল হালকা গরম করে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ম্যাসাজ করুন। যাদের তৈলাক্ত চুল তারা অল্প তেল অন্তত শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে ম্যাসাজ করুন। নারিকেল তেল, জলপাইয়ের তেল, বাদাম তেল, ভেষজ তেল ইত্যাদি বেশ উপযোগী। তেল আপনার মাথার ত্বক ও চুলকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রদান করবে যা চুলের আগা ফাঁটা প্রতিরোধ করে।
  • রাতে চুলে তেল দিলে সকালে চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। আঙ্গুলের ডগা দিয়ে চুলের গোড়া ও মাথার ত্বক ম্যাসাজ করুন, এর ফলে চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত তেল জমে থাকবে না এবং রক্ত সঞ্চালনও বৃদ্ধি পাবে। এরপর প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত গরম পানি মাথার ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে ফেলে, ত্বককে শুষ্ক করে ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। চুল পড়তে থাকে। তাই চুলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন।
  • মাঝে মাঝে চুলে গরম পানির বাষ্প (ষ্টিম) নিতে পারেন। শ্যাম্পু করার আধা ঘণ্টা আগে চুলে একটি গরম তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। ঘন ঘন শ্যাম্পু ও অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান যুক্ত শ্যাম্পুর অধিক ব্যবহার চুলের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত চুল ধোয়ার ফলে চুলের স্বাভাবিক তেল ( ন্যাচারাল অয়েল) নষ্ট হয়। ফলে খুশকি, আগা ফাঁটা প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়। শীতের সময় চুলে খুব ঘন ঘন শ্যাম্পু না করাই শ্রেয়।
  •  শীতে চুলের সব চেয়ে জরুরী হলো কন্ডিশনিং। অনেকেই শ্যাম্পু করার পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করেন না। চুলের বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য এবং স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য কন্ডিশনার অতি জরুরী। শীতে এমনিতেই চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। কাজেই শ্যাম্পু করার পরে অবশ্যই ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
  •  চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। চুল থেকে শুকনো তোয়ালে দিতে আলতো করে পানি ঝরিয়ে নিন, এবার ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে ফেলুন। ড্রায়ারের গরম বাতাস চুলকে আরও ভঙ্গুর ও রুক্ষ করে ফেলে। অনুষ্ঠান বা পার্টিতে চুল সাজানোর প্রয়োজন হলে ড্রায়ারের ঠান্ডা বাতাস ব্যবহার করুন। এতে সময় একটু বেশি লাগলেও চুলের ক্ষতি হবে না।
  • শীত ঋতুতে চুলের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল খুশকি। চুলের গোড়ায় ময়লা জমে খুশকি হয় আর শীতকালে চুলের গোড়ায় খুব তাড়াতাড়ি ময়লা জমে। এ জন্য খুশকির প্রবণতাও খুব বেশি দেখা যায়। খুশকি রোধে রাতে ঘুমাবার আগে লেবুর রস ও আমলকীর রস মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে সকালে শ্যাম্পু করতে পারেন। খুশকির জন্য পেঁয়াজ আদর্শ। এর রস মাথায় লাগিয়ে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে পারেন।
  • মোটা ব্রাশের চিরুনি ব্যবহার করুন। ভঙ্গুর, প্লাষ্টিকের তৈরি চিরুনি ব্যবহার না করাই ভালো। ভেজা চুলে চিরুনি ব্যবহার করবেন না। চুল শুকিয়ে গেলে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ব্রাশ করুন। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। ব্রাশ করার সুবিধার জন্য চুলে একটু পানি ছিটিয়ে (স্প্রে) নিতে পারেন। আঁচড়ানো শেষ হলে পরে পাতলা কাপড় দিয়ে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে নিন।
  • চুলকে শীতের হিমেল হাওয়া থেকে রক্ষা করতে ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় চুলে একটি রেশমি স্কার্ফ বা উলের টুপি জড়িয়ে নিন। বাজারে অনেক ফ্যাশানেবল টুপি, স্কার্ফ বা মাফলার পাওয়া যায়। রুচি, রঙ, চাহিদা অনুযায়ী বেছে নিন আপনার পছন্দনীয় জিনিসটি।

শীতে আপনার ত্বক ও চুলকে স্বাস্থ্যকর রাখতে যত্নের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক খাদ্যতালিকা। শীতের সবজিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। যা আপনার ত্বক ও চুলকে রুক্ষতা ও শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চুলকে ধূলোবালি মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখুন। দুশ্চিন্তামুক্ত সুস্থ জীবন যাপন করুন।

লিখেছেন – বৈশাখী

ছবি – আর্টিকেলস ডট টাইমসঅফইন্ডিয়া ডট ইন্ডিয়া টাইমস ডট কম

3 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...