গৃহবন্দি থাকতে হলে ঘরে কি কি খাবার মজুদ রাখবেন?

গৃহবন্দি থাকতে হলে ঘরে কি কি খাবার মজুদ রাখবেন?

খাবার মজুদ - shajgoj.com

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম নভেল করোনা ভাইরাস। ৩১শে ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান রাজ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি ঘুম কেড়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষ সহ বিশ্বব্যাপী সকল বিজ্ঞানীদের। অনেক কাঠ খর পুড়িয়েও বাঁধ মানাতে পারছে না মারণ এই ভাইরাসটিকে। করোনা ভাইরাস রোজই কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ। সেই সাথে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাতো বাড়ছেই। হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে আক্রান্ত রোগীদের। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস তার কালো থাবা ছড়িয়ে দিচ্ছে সর্বত্র। সংক্রমণটিকে ঠেকাতে বেশির ভাগ দেশই লক ডাউন করে রাখা হয়েছে। আমাদের দেশেও ছড়িয়ে যাচ্ছে ভাইরাসটি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ সংক্রমিত হচ্ছে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আগে থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শপিং মল ও অফিস আদালতও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে করোনা ভাইরাসের জন্য বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। লক ডাউন অবস্থায় চলছে এখন দেশ। বাসা থেকে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বের হতে পারবে না কেউই। গৃহবন্দি অবস্থায় থাকতে হবে বেশ কিছুদিন। এই সময়টাতে আমাদের নিত্যদিনের জন্য ব্যবহৃত কিছু জিনিসের প্রয়োজন পরতে পারে। প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলো শেষ হয়ে গেলে বিপদে পরে যেতে পারেন আপনি। তাই আগে ভাগেই কিছু খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

চলুন তাহলে জেনে নেই গৃহবন্দি অবস্থায় থাকার জন্য কী কী প্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করে রাখা যেতে পারে।

যেসব খাবার মজুদ রাখতে হবে পরিমিত পরিমাণে

১) নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার

খাবার মজুদ - shajgoj.com

শুকনো খাবার মজুদ করা অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া অন্যান্য খাবারের তুলনায় শুকনো খাবার মজুদ করে রাখা অনেক সহজও। এসব খাবার সহজে নষ্ট হয় না। চাল, ডাল, ঘি, মাখন, তেল, আটা, ময়দা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মসলা ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য ১ মাসের জন্য সংরক্ষণ করে রাখুন। এসব খাবারের পাশাপাশি মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, চানাচুর, নুডলস, চিপস ও শুকনো কেকের মতো খাবারও কিনে রাখতে পারেন। প্রোটিনের জন্য পরিমিত পরিমাণে ডিম কিনে রাখতে পারেন। ফ্রিজে সর্বদা চকোলেট রাখবেন। আর অবশ্যই কফি ও চা বানানোর সরঞ্জাম কিনে রাখবেন।

২) ক্যানড ফুড খাবার মজুদ

ক্যানড ফুড খাবার মজুদ - shajgoj.com

আজকাল বাজারে অনেক ভালো মানের কৌটা বন্দি খাবার পাওয়া যায়। এসব খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষেও বেশ ভালো এবং অনেকদিন পর্যন্ত টিকে বলে এসব ক্যানড ফুড মজুদ করে রাখার জন্য আদর্শ। গৃহবন্দি থাকাকালীন সময়ে ফল ও সবজি মজুদ করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেইক্ষেত্রে ক্যানড ফুডই হতে পারে আপনার ভরসা। তবে কেনার আগে অবশ্যই মেয়াদকাল দেখে কিনবেন।

৩) ফ্রোজেন ফুড

ফ্রোজেন ফুড - shajgoj.com

বাজারে প্যাকেটজাত মাছ মাংস খুব সহজেই পাওয়া যায়। বরফে এসব খাবার অনেক দিন পর্যন্ত টিকে। মাছ ও মাংসের পাশাপাশি আজকাল রুটি, পরোটা, সমুচা, সিঙ্গারা, লুচি ও রোলও পাওয়া যায়। অবসরে খাওয়ার জন্য এসব খাবারও মজুদ করে রাখতে পারেন।

৪) কাঁচা-বাজার খাবার মজুদ

কাঁচা-বাজার খাবার মজুদ - shajgoj.com

ভাইরাস মোকাবেলায় দেহে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। শাক সবজি শক্তির একটি বড় উৎস। তাই সবজি কিনে রাখাটা অতীব জরুরি। তবে ফ্রিজে খুব বেশি দিন সবজি টিকে না, পচে যায়। তাই পচনশীল নয় এমন সবজি যেমন- আলু, কাঁচা কলা, কুমড়ো, পেঁয়াজ ও কচুর মুখী ইত্যাদি কিনে রাখতে পারেন। তাহলে গৃহবন্দি থাকাকালীন সময়ে সবজী নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে হবে না।

৫) কার্টনের খাবার মজুদ

কার্টনের খাবার - shajgoj.com

কার্টনের খাবার বলতে ফলের রস, দুধ ও নানা রকম প্রোটিনের প্যাকেটজাত পানীয় বুঝায়। এসব খাবার খুব উপকারী। তাই কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন সময়ে কার্টনের খাবার রাখতে পারেন। তবে এসব খাবার খোলার তিন চার দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে। তাই প্রয়োজনের বেশি কিনবেন না। এক সপ্তাহ বা দশ দিনের মতো কিনে পরে লাগলে আবার কিনতে পারবেন।

৬) শুকনো ফল

শুকনো ফল - shajgoj.com

শুকনো কিশমিশ,কাজু, কাঠবাদাম, চিনা বাদাম ইত্যাদি খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব উপাদেয়। এসব খাবার মজুদ করে রাখা যায় খুব সহজে। এছাড়া শুকনো কুমড়োর বীজ, সুর্যমুখীর বীজ, খেজুর ইত্যাদিও সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এসব খাবার ভিটামিন সি এ পরিপুর্ন। তাই এসব খাবার মজুদ করে রাখা ভালো।

৭) শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবার মজুদ

শিশুদের প্রয়োজনীয় খাবার - shajgoj.com

শিশুদের দুধ, সেরেলাক, চকলেট, চিপস ইত্যাদি কিনে রাখতে পারেন। খাবার ছাড়া আরও জরুরি দ্রব্য ওষুধ ও ডায়পার এসব জিনিসও কিনে রাখতে পারেন।

৮) পশু পাখির খাদ্য 

পশু পাখির খাদ্য - shajgoj.com

অনেকেই কুকুর, বিড়াল, মাছ ও পাখির মতো প্রানী ঘরে পুষতে ভালোবাসেন। এই গৃহবন্দি থাকাকালীন সময়টাতে এসব প্রানীদের খাদ্য ও ওষুধও কিনতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন আপনার যেমন না খেয়ে কষ্ট হয় ওদেরও তেমন কষ্ট হবে। তাই আতংকে বা তাড়াহুড়ায় প্রিয় পশু-পাখির কথা যেন না ভুলে যান।

করোনাভাইরাস প্রকৃতপক্ষে সকলের মাঝেই একটি ভয়ের সৃষ্টি করেছে। সামনে যদি সময় অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হয় তাহলে অবশ্যই একে অন্যের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা করবেন। তাই একে অন্যের সাথে ফোনে কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কথা বলবেন। এতে মনোবল বৃদ্ধি হয়। ঘরে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রয়োজন পরে। রোগী থাকলে তো আর কথাই নেই। আগে ভাগেই কিনে ফেলুন এসব প্রয়োজনীয় ওষুধ। মনে রাখবেন বিপদ আপনার একার নয়। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কখনোই কিনবেন না। কেননা আপনি অতিরিক্ত জিনিস কিনে ফেললে অন্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই অন্যের কথা ভেবে প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিস পত্র মজুদ করে রাখেন।

ছবি সংগৃহীতঃ নিউইয়র্কটাইমস.কম; ইমেজেসবাজার.কম; মাইনিউজডেস্ক.কম; সাজগোজ

43 I like it
11 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...