উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সিম্পল ফেইস ক্লিনআপ রুটিন - Shajgoj

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সিম্পল ফেইস ক্লিনআপ রুটিন

face clean up routine for teenagers

আজকাল প্রায়ই ‘সাজগোজ’ ইনবক্সে মেসেজ পাই যা অনেকটা এরকমঃ

      ‘’আমার বয়স ১৯/২০/২২, স্কিন ডাল হয়ে গেছে, আগের মত ব্রাইট নেই, কোন ফেসিয়াল করব???’’

আমাদের চারপাশে সবাই এত রুপসচেতন যে একজনকে একটু নিজের চর্চা করতে দেখলেই বাকিরাও না বুঝে চোখ বন্ধ করে ফলো করা শুরু করেন। টিনএজার’রাও তেমন। তারা জানে না নিজের ত্বকের সঠিক পরিচর্যা কেমন করে করতে হবে, আবার যখন তারা কাউকে জিজ্ঞাসা করে, কী করলে তাদের কিশোর ত্বকের উজ্জলতা ঠিক থাকবে? তারা পুরোপুরি সেন্সলেস কিছু জবাব পায়। যার ফলাফল ১৭ অথবা ১৮ বছর বয়সে পার্লারে গোল্ড ফেসিয়াল অথবা ফেয়ার পলিশ (??) করার জন্য অস্থির হয়ে যাওয়া।

[picture]

যেহেতু অনেক কথা বলে কোন লাভ নেই তাই সহজ ভাষায় বলে দিচ্ছি, ফেসিয়াল করার সর্বনিম্ন বয়স ২২ বছর। আর তৈলাক্ত, ব্রণযুক্ত, সেনসিটিভ ত্বকে ২৫ বছর বয়সের আগে ফেসিয়াল করার কোন দরকার নেই।

জানি না কতটুকু লাভ হল এত কথা বলে। একটা ছোট কাহিনী বলি, আমি একবার এক স্যালনে দেখেছিলাম ক্লাস ৯ এ পড়া এক মেয়ে তার মাকে নিয়ে এসেছে ঈদের আগে ফেয়ার পলিশ করাবে বলে। কিন্তু স্যালন ম্যানেজার ভদ্রমহিলা খুবই চেষ্টা করলেন প্রথমে মেয়েকে তারপর মাকে বোঝাতে, ১৪ বছর বয়সে এসব করে তার মেয়ে যেন স্কিন নষ্ট না করে ফেলে। তাদের কথা ছিল এরকম-

  ‘আপনাকে টাকা দেয়া হচ্ছে আপনি কাজ করবেন। ঈদের দিন ব্রাইট দেখানোর জন্য ফেয়ার পলিশ থেকে ভালো কিছু নেই সবাই বলে!!!’

ওকে, আমি যখন স্যালন থেকে বেরিয়ে আসছিলাম ১৪ বছরের মেয়ে তখন ফেয়ার পলিশ করছে!

এখন আপনারা বলবেন, এত কম বয়সে ফেসিয়ালও করব না, আবার ফেয়ার পলিশ করে একদিনে ফর্সাও হতে পারব না, তবে আমি একটা টিনএজ মেয়ে করবটা কী?

সহজ, ঘরে বসে সিম্পল ক্লিনআপ! আপনার ১৭-২২ বছর বয়সী কিশোর ত্বকের উপরের আস্তর কে মৃত কোষ আর ধুলাবালি, কেমিকেল থেকে মুক্ত রাখার জন্য এর থেকে জটিল কোন পন্থার দরকার নেই।

কী কী লাগবে ক্লিনআপের জন্য?

-আপনি রেগুলার যে ফেইসওয়াশ ব্যবহার করেন সেই ফেসওয়াশ

-একটা বড় বাটি/ গামলা ভর্তি গরম পানি ( স্টিম নেয়ার জন্য, কিন্তু মনে রাখবেন যাদের ত্বকে ব্রণ আছে তারা স্টিম নেবেন না। ব্রণ আরও ইনফেকটেড হয়ে ব্যথা শুরু হয়ে যাবে। তারা এই ধাপ বাদ দেবেন )

-ফেসিয়াল স্ক্রাব (কেনাও হতে পারে, আবার নিজে বানিয়েও নিতে পারেন। চালের গুঁড়া এক্ষেত্রে স্ক্রাব হিসেবে ভালো হবে)

-মধু ( যাদের মধু সহ্য হয় না তারা বাদ দেবেন )

-আপনার ত্বকের জন্য স্যুটেবল ফেইস প্যাক। যাদের ব্রণ আছে তারা নিম পাতা বাটার সাথে মুলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারেন )

-টোনার ( টোনার ব্যবহার না করতে চাইলে গোলাপ জল অথবা শসার রস ব্যবহার করুন )

-আপনি রোজ যে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন সেই ময়েশ্চারাইজার।

-বরফের টুকরা ২-৩ টা

কীভাবে ক্লিনআপ করবেন?

ক্লিঞ্জিং:

প্রথমে ভালো ভাবে আপনার ফেইসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।

স্টিমিং:

২-৫ মিনিট আপনার ত্বকে স্টিম দিন। গামলায় গরম পানি নিয়ে মাথার উপর তোয়ালে দিয়ে গামলার উপর মুখ ধরে রাখলেই হবে। বারবার বলে দিচ্ছি স্টিমে যত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারেন ততই নেবেন। বেশি উপকার হবে মনে করে আগুন গরম পানির উপর মুখ ধরে রাখলে পুরো মুখে র‍্যাস বের হবে। আর কয়েক বছর পর দেখবেন গালের ত্বক কমলার খোসার মত বড় বড় রোমকূপে এবড়ো থেবড়ো হয়ে আছে। সুতরাং সাবধান। স্টিম আপনার ধুলা ময়লায় আটকে যাওয়া রোমকূপ খুলে দেবে।

এক্সট্রাকশন :

আপনার দুই হাত অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। আপনার ত্বকে যে হোয়াইট হেড গুলো আছে তাতে দুই হাত দিয়ে হোয়াইট হেডের পাশের চামড়ায় একটু চাপ দিন। ১ চাপে ভেতরের পুজ বের না হয়ে আসলে ২ বার জোরাজুরি করবেন না। দাগ বসে যাবে। আর ভুলেও মুখে বড় একটিভ ব্রণ থাকলে তাতে হাত দিয়ে পুঁজ বের করার চেষ্টা করবেন না। একবার গর্ত হলে সারা জীবন সেটা মুখে চেপে বসে থাকবে।

আইসিং:

মনে রাখবেন এখন আপনার ত্বক খুবই  নাজুক এবং এই ধাপ বাদ দিলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি হবে। আপনার পুরো ত্বকে পর পর ২ টুকরা বরফ আস্তে আস্তে গোল গোল করে ঘুরিয়ে ম্যাসেজ করুন। এতে আপনার খুলে যাওয়া রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাবে। আবারো বলে দিচ্ছি এই ধাপ বাদ দিলে আপনার খুলে যাওয়া পোর আর হোয়াইটহেডের গর্ত থেকে ব্যাকটেরিয়া ভেতরে ঢুকে একদিনের মধ্যে স্কিনের সর্বনাশ করে ফেলবে।

স্ক্রাবিং:

ন্যাচারাল কোন স্ক্রাব দিয়ে ৫ মিনিট পোর স্ক্রাব করা শুরু করুন এবং সবসময় হাত গোল করে ঘুরান। ত্বক ধরে নিচের দিকে টানবেন না। ২ মিনিটের বেশি স্ক্রাব করবেন না।

মাস্কিং:

এবার ত্বকে আপনার পছন্দের মাস্ক দিন। ১৫ -২০ মিনিট রাখুন। এর বেশি রাখলে আপনার সদ্য পরিস্কার করা ত্বকের রোমকূপ আবার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মাস্ক স্কিনে কখনই ৩০ মিনিট এর বেশি রাখা উচিত না। এর পর ভালো ভাবে ঠাণ্ডা পানিতে মাস্ক ধুয়ে ফেলুন। মুখ শুকিয়ে নিন।

টোনিং:

এবার ত্বকে গোলাপ জলের হালকা একটা পরত বুলিয়ে নিন। ত্বক টোনার শুষে নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

ময়েশ্চারাইজিং:

আপনার পছন্দের ক্রিম ত্বকে হালকা করে মেখে নিন। ভুলেও ঘষবেন না। দুই হাতে নিয়ে ত্বকে আলতো করে চেপে চেপে লাগান।

ব্যাস, হয়ে গেল টিনএজার ত্বকের জন্য ক্লিন আপ। এটা অবশ্য অন্য যেকোনো বয়সের মানুষ করতে পারেন। আমি নিজে কখনও ফেসিয়াল করি না। আমি এখন ক্লিনআপটাই করি স্কিনের দরকার মত।

কখন করব? কয় বার করব?

জানি অনেকে বেশি লাভের আশায় সকাল বিকেল ক্লিন আপ শুরু করবেন। মনে রাখুন- ক্লিন আপ ১৫ দিনে একবার করলেই যথেষ্ট! আর চেষ্টা করুন রাত ৮-৯ টার দিকে করতে কারণ, ১০ টা থেকে আমাদের ত্বক নিজের ড্যামেজ সারার কাজ শুরু করে আর ক্লিন আপের পর স্কিন কিছুক্ষণের জন্য সেনসিটিভ হয়ে পরে তাই দিনের বেলা করে আবার সারা দিনে কয়েক বার মুখ ক্লিন করলে বাইরে গেলে, রোদে গেলে, ধুলাবালি লাগলে স্কিনে রিঅ্যাকশন হতে পারে।

তো, পাঠক, আজ বললাম ১৭-২২ বছরের তরুণ তরুণীদের জন্য সহজ একটি স্কিনকেয়ার মেথড। এর নিচের, যেমন ১৪-১৭ বছর বয়সী পাঠকও আছেন আমাদের সঙ্গে। আপনাদের জন্য খুব শীঘ্রি কিছু টিপস নিয়ে আসছি অন্য একটি লেখায়। ভালো থাকুন!

লিখেছেনঃ মীম তাবাসসুম

ছবিঃ আস্কমিঅনওয়েডিংস.কম

2 I like it
0 I don't like it
পরবর্তী পোস্ট লোড করা হচ্ছে...